পৃথিবীর ইতিহাসে গণহত্যা অপরিচিত কোনো শব্দ নয়। আমরা মানব সভ্যতা নিয়ে অহংকার করি কিন্তু এই সভ্য মানব সমাজ কি অবলীলায় পৃথিবীতে কতোবার কতোভাবে গণহত্যা করে এসেছে সেই ইতিহাসটি জেনে গেলে হঠাৎ করে আমরা অসহায় অনুভব করি। মনে হয় সত্যিই কি আমরা পৃথিবীর বুকে টিকে থাকা একটি দায়িত্বশীল প্রজাতি? আমরা কি সবচাইতে বুদ্ধিমান প্রজাতি হিসেবে এই পৃথিবীকে, পৃথিবীর মানুষ, প্রকৃতি, জীবজন্তু সবাইকে রক্ষা করতে পারবো? উত্তর আমরা জানি না।
যারা পৃথিবীতে গণহত্যা সম্পর্কে সেভাবে জানেন না তারা নিঃসন্দেহে এই বইটি থেকে পৃথিবীতে গণহত্যা নামে নিষ্ঠুরতা সম্পর্কে একটি ধারনা পাবেন।
গনহত্যা নিয়ে যে ধরনের একাডেমিক গবেষণা এবং বইপত্র-জার্নালে লিপিবদ্ধ হতে দেখি সেগুলো অতিমাত্রায় একটা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকে সেখানে কোন মানবিক আবেদন পাওয়া যায়না হোক সেটা কোন এনজিও, গবেষণা সংস্থা অথবা কোন দুঁদে অধ্যাপক, সাংবাদিক বা লেখকের কাজ। গণহত্যার সংজ্ঞা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তার প্রয়োগ দেখি। গণহত্যা নিয়ে যেকোনো ডকুমেন্টেশনও যেন আদমশুমারী বা পাখিশুমারীর নামান্তর।
এই নির্লজ্জ বাস্তবতার এপিঠ আধুনিক বিশ্বে এসেও সভ্যতা ও মানবিক দাবিদার মানুষের দ্বারা রোহিঙ্গা এবং ফিলিস্তিনি গণহত্যা যখন নিজের চোখের সামনেই হতে দেখি তখন এই দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও রাজনৈতিক হয়ে যায়। এই বইটিও সেই বাস্তবতা আর দৃষ্টিভঙ্গির ব্যতিক্রম কিছু না।
বইটিতে কম্বোডিয়ার খেমারুজ শাসক পলপটের গণহত্যা, রুয়ান্ডার তুতসিদের ওপর চালানো হুতুদের গণহত্যা, আর্মেনিয়ানদের ওপর চালানো তুর্কীদের গণহত্যা এবং চীনের নানকিং শহরে চালানো জাপানি রয়েল আর্মির গণহত্যার বিবরণ রয়েছে।
সংক্ষেপে জানার জন্য বইটি ভালো তবে লেখকের শব্দ চয়ন ও ভাষাশৈলী খুব দুর্বল। তথ্যসূত্রঃ না থাকার কারনে পরিসংখ্যানের গ্রহণযোগ্যতা কম।