Jump to ratings and reviews
Rate this book

এবার অরণ্যে

Rate this book
Collection of Two Mystery Novellas

79 pages, Paperback

First published August 15, 2019

24 people want to read

About the author

Debabrata Biswas

32 books3 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
6 (42%)
4 stars
1 (7%)
3 stars
6 (42%)
2 stars
1 (7%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 9 of 9 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 39 books1,870 followers
June 27, 2020
কিছুদিন পর-পরই নানা গ্রুপে পাঠকেরা একটা প্রশ্ন তোলেন— "হুমায়ূন আহমেদের মিশির আলি সিরিজ পড়ে আমি মুগ্ধ। এইরকম আরও লেখা পড়তে চাই। সন্ধান দিন।"
সত্যি বলছি, আমি নিজেও এইরকম লেখার সন্ধান করে চলেছিলাম দীর্ঘ-দীর্ঘদিন ধরে। অ্যাবনরমাল সাইকোলজি আর প্যারাসাইকোলজির অমন মিশ্রণ আর স্বাদু ভাষা যিনি পড়েছেন তিনিই ওইরকম লেখা আরও খুঁজবেন। সেটাই স্বাভাবিক।
পাইসি!
নবীন লেখক দেবব্রত বিশ্বাস-এর এই বইটি প্রায় 'নীরবে দূরে' প্রকাশিত হয়েছিল গতবছর। সুমিত রায়-এর করা প্রচ্ছদ দেখে ধারণা করাও অসম্ভব যে এই শীর্ণকায় বইটিতে এমন কিছু থাকতে পারে। তাই বইটা হাতে নিয়েও যদি কেউ রেখে দিয়ে থাকেন তাহলে তাতে কিছুমাত্র অস্বাভাবিকত্ব নেই।
ঠিক কী আছে এই বইয়ে?
পদার্থবিদ্যার শিক্ষক অরণ্য রায় নিভৃতচারী। ক্লাস নেওয়া, জটিল গণিতে ঠাসা বইয়ে ডুবে থাকা, আর বিকেলবেলা কৃষ্ণসায়রের চারপাশে দু'পাক হাঁটা— মোটামুটি এটাই তাঁর দিনলিপির বিষয়। একাকিত্বের সঙ্গে "তুমি একজনই শুধু বন্ধু আমার, শত্রুও তুমি একজন" সম্পর্কে আবদ্ধ অরণ্যের দুটি অদ্ভুত অভিজ্ঞতা নিয়ে এই বই।
প্রথম কাহিনি 'বেলাশেষের গান'।
অরণ্য'র বৈকালী ভ্রমণের সময় তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় একজনের। মানুষটি অসম্ভব ভালো গল্প বলেন। কিন্তু তাঁর আচরণ রহস্যময়। যে আখ্যানটি তিনি বলছেন সেও ভারি অবাক-করা। মানুষটি দাবি করেন, তাঁর লেখা গল্পরা নাকি সত্যি হয়ে যায়! এদিকে গল্প অসম্পূর্ণ থাকার মাঝেই অরণ্য'র সঙ্গে দেখা করতে আসে এক অপরূপা— যার কথা ও আচরণের অর্থ না বুঝলেও তাকে উপেক্ষা করতে পারে না। সব মিলিয়ে বোঝা আর না-বোঝার অদ্ভুত কুয়াশায় হারিয়ে যেতে থাকে অরণ্য।
কে এই লেখক, যাঁর নাম আগে কখনও শোনেনি অরণ্য? তাঁর বক্তব্য কি সত্যি? কী চান তিনি? আর... কে ওই মেয়েটি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা নিয়েই লেখা হয়েছে অত্যন্ত চমৎকার বড়োগল্পটি। এতে কিছু-কিছু বর্ণনার মেদুরতা, ন্যারেটিভের মাঝে নানা বৈজ্ঞানিক তথ্য, জীবনানন্দের কবিতা— সব পড়ে সত্যিই বড়ো বেশি করে মনে পড়ে মিশির আলি'র স্রষ্টাকে।
দ্বিতীয় কাহিনি 'মরণের এপার হতে'।
কোয়ান্টাম থিওরি দিয়ে কি অবচেতনের রহস্য ভেদ করা যায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অরণ্য যখন বিভ্রান্ত, সেইসময় এক চিকিৎসক অরণ্যকে আহ্বান জানান তাঁর বাড়িতে ক'দিন থেকে যাওয়ার জন্য। সেখানে গিয়ে বোঝা যায়, চিকিৎসা করতে গিয়ে ডাক্তারটি এমন বেশ কিছু রোগীর সান্নিধ্যে এসেছিলেন, যারা মৃত্যুর খুব কাছে গিয়েও ফিরে এসেছে। তাদের সেইসব নিয়ার ডেথ এক্সপিরিয়েন্স তিনি রেকর্ড করে রেখেছেন। তাঁর অনুরোধে অরণ্য সেই রেকর্ড বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এমন একটি প্যাটার্ন পায় যার অর্থ অত্যন্ত মারাত্মক। এরই মধ্যে তার সঙ্গে ঘটে যায় এক ব্যাখ্যাতীত ঘটনা।
কী হয় এরপর? অরণ্য কি খুঁজে পায় এ-সবের অর্থ?
এই কাহিনিতে মায়াবি বর্ণনা কম, কিন্তু রহস্য সেই শূন্যস্থান পূর্ণ করেছে৷ একরাতে ঘুম ভেঙে অরণ্য'র যে অভিজ্ঞতা হয় তা পড়তে গিয়ে আমার রীতিমতো গা-ছমছম করছিল— এ-কথা অকপটে বলি। গল্পের শেষে সমাধানটিও চমকপ্রদ। হয়তো 'বৃহন্নলা'-র উচ্চতায় উঠতে পারেননি লেখক। তবে তিনি সঠিক পথেই এগিয়েছেন।
আমার খুব-খুবই ভালো লেগেছে এই দু'টি লেখা। ভরসা রাখি, পাঠকের আনুকূল্য পেলে লেখক এই ধারায় আরও লেখা উপহার দিয়ে আমাদের 'অরণ্যচারী' করে রাখবেন।
Profile Image for বিমুক্তি(Vimukti).
157 reviews90 followers
August 18, 2021
বইটি দুটি গল্পের সংকলন। আলাদা আলাদা আলোচনা থাকল।

গল্প ১: বেলাশেষের গান

রেটিং: ২.৫/৫

অরণ্য রায়, ফিজিক্সের প্রফেসর। যেহেতু সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গীয় রহস্যগল্প, তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রোটাগনিস্টের একটু হোমড়াচোমরা টাইপ জ্ঞানী হওয়া উচিত। এবং অবশ্যই, অরণ্য রায় সেরকমই।
যদিও ওনার প্রধান কাজ ফিজিক্স পড়ানো, তবু মনোবিজ্ঞানের উপর ওনার বেশ ভালো দখল আছে। তাই, এক সন্ধ্যায় পার্কে বসে থাকা অবস্থায়, এক রহস্যময় বুড়ো নিজের এক ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে অরণ্য বাবুর কাছে এসে হাজির হয়। বুড়ো লোকটা একজন লেখক, এবং অদ্ভুত(এবং একইসাথে অসাধারণ) ভাবে তিনি লোকের ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করতে পারেন। তো, প্রোটাগনিস্ট অরণ্য বাবু সেই রহস্যের উত্তর খোঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, এবং দারুণ এক সল্যুশন নিয়ে হাজির হোন।

সত্যি বলতে কী, অনবদ্য প্লট। কিন্তু, পুরো গল্প জুড়ে লেখক এতো আনাড়িপনা দেখিয়েছেন যে বিরক্ত হবো কী, শেষপর্যন্ত হেসে ফেলেছিলাম(অবশ্যই করুণার হাসি :p)।
আসেন, ওনার লেখার নমুনা দেখাই আপনাদের।

লোকটি উঠে চলে গেলেন। দূরে হাঁটাপথের বাঁকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। যেমন হুশ করে এসেছিলেন, ঠিক তেমনি হুশ করে যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন।


অবস্থাটা দেখেন! তিনটি লাইন, এবং প্রতিটি লাইনের শেষ হয়েছে 'গেলেন' শব্দ দিয়ে। ক্লাস ফাইভের একটা বাচ্চার গদ্যও এতো খারাপ হবে না। কিন্তু, এই 'বেলাশেষের গান' বড়োগল্পটির পুরো অংশ জুড়েই ছিল এমন মনোটনাস সব লাইন। প্রায় সব লাইনের শেষ শব্দ একই বিভক্তির ছিল। হায় বাঙালি নবীন লেখক সম্প্রদায়, আপনারা ঠিক কোনদিন বুঝবেন যে লেখালেখি করতে বছরের পর বছরের প্রস্তুতি লাগে! ফেসবুকে দুটো স্ট্যাটাস টপাটপ পোস্টালেই কেউ বই লেখার যোগ্য হয়ে যায় না। এটা বাংলাদেশী এবং পশ্চিমবঙ্গীয় নবীন লেখকদের দ্রুত বুঝে নিতে হবে। বাংলা সাহিত্যের করুণ অবস্থা আজকাল।

প্লট এবং বুদ্ধিদীপ্ত রহস্যের বুননের জন্য আড়াই তারকা দিলাম।


গল্প ২: মরণের এপার হতে
রেটিং: ৩/৫

এ গল্পের প্লটও আগেরটির মতো দারুণ। এক ডাক্তার পুরো জীবনে অনেক রুগিকে সেবা দিয়েছেন। অনেকবার এমনও হয়েছে যে রুগী একদম মৃত্যুর দোয়ার থেকে ফিরে এসেছিল। তো, এসব নেয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স কেসগুলোর অভিজ্ঞতার কথা ডাক্তার নিজের ডায়েরিতে লিখে রাখেন। ডাক্তার বাবু এরপর অরণ্য রায়কে তার বাসভবনে আহবান জানান এই কেসগুলো স্টাডি করার জন্য। পরকাল বলতে আসলেই কী কিছু আছে? না এ সবকিছুই মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের কল্পনা?
প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দায়ভার অরণ্য রায়ের উপর।

এ গল্পকে আমি প্রথম গল্পটি থেকে আদ্ধেক তারা বেশি দিয়েছি, কারণ প্লটটাকে আমার আগেকার প্লটটি থেকে বেশি বাস্তবিক মনে হয়েছে আর লেখকের বর্ণনাভঙ্গিতে একটু ইম্প্রুভমেন্ট ছিল। একটুই কিন্তু! খুব বেশি না। এই গল্পে আগেকার মতোন একই শব্দ বা বিভক্তিতে বাক্য শেষ করছিলেন না, ভালো কথা। কিন্তু লাইনের রিপিটেশন হচ্ছিলো দু' তিন লাইন পরপর। এছাড়া, বাক্যের শেষে মনোটনি না থাকলে কী হলো! প্রতি বাক্যের মাঝে শব্দের রিপিটেশন রাখতে লেখক ভুলেন নি।

অথচ যেন বেঁকে যাওয়ার কথা ছিল না। বাঁকের কোনও শেষ নেই যেন। বাঁকের শেষে আবার নতুন করে বাঁক তৈরি হয়ে যাচ্ছে। দূরে একটা বড়ো পুরোনো বাড়ি আবছাভাবে দেখা যাচ্ছে। তাঁর মনে হচ্ছে কারা যেন নির্নিমেষ চোখে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। সেই চাহনি যেন পর্যায়ক্রমে বুভুক্ষু হয়ে উঠছে…

মনে হচ্ছে তাঁর বুকে যেন একটা বড়ো পাথর চাপা পড়েছে। শ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসছে। ঠিক এই মুহূর্তে কেউ যেন তাঁর গায়ে হাত রাখল এবং বলে উঠল, “কী রে এখনও হাঁটছিস?"


আমি আর কিছু বলছি না, নিজেই দেখে নেন :)
এই অনুচ্ছেদের প্রায় প্রতিটি বাক্যের মাঝে 'যেন' শব্দটি ব্যবহার করার দরকার কী ছিল? গদ্যের অবস্থা মুমূর্ষু থেকে গেল এ গ���্পেও।

যাই হোক, এই গল্পের শেষ হয়েছিল ট্রেনের একটানা মনোটনিতে অরণ্য রায়ের ঘুম চলে আসার মাধ্যমে(ওই ঘুমন্ত অবস্থাতেই তিনি একটা দারুণ সূত্র আবিষ্কার করে ফেলেন!)।
দেবব্রত বিশ্বাসের বর্ণনাভঙ্গির মনোটনিতে আমারও তখন ঝিমুনি চলে এসেছে, সূত্র-টূত্র আবিষ্কার করতে পারি নি অবশ্য, কিন্তু অবচেতন মনে একজনের নাম ঠিকই বারবার ভেসে আসছিল।
Profile Image for Aishu Rehman.
1,114 reviews1,093 followers
August 24, 2021
সব মিলিয়ে একটু অন্য ধরনের বিজ্ঞানের কিছু অজানা বিষয় কে কেন্দ্র করে লেখা রহস্য কাহিনি দুটি পড়তে মোটামুটি ভালোই লেগেছে। বিজ্ঞান ভিত্তিক একটু অন্য ধরনের বিষয়কে রহস্যের মোড়কে পাঠকদের সামনে তুলে ধরার জন্য লেখকে সাধুবাদ দিতেই হয় । তবে বইটি বড্ড ছোট। আরো দু একটা গল্প হলে মন্দ হতো না।

যদিও বইটির প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার মূল কারণ ছিল মিসির আলির সাথে সাদৃশ্যতা। কিন্তু মিসির আলির মতো ওতো এফেক্ট ফেলতে পারে নি আমার উপর। মিসির আলিই এখন পর্যন্ত অনবদ্য।
Profile Image for ইমতিয়াজ আজাদ.
54 reviews52 followers
Read
February 24, 2023
হুমায়ূন আহমেদ মারা যাওয়ার পরে মিসির আলি ঘরানার লেখা আমি অনেক খুঁজেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যই বলতে হবে, সেরকম কিছুই পাইনি। তবে দেবব্রত বিশ্বাসের 'এবার অরণ্যে' কিছুটা হলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলো বোধহয়।

৩.৫/৫
2 reviews
June 30, 2020
সৃষ্টিসুখ থেকে প্রকাশিত তরুণ লেখক দেবব্রত বিশ্বাসের নতুন বই ‘এবার অরণ্যে’ আসলে দুটি ছোট উপন্যাস ‘বেলা শেষের গান’,ও ‘মরণের এপার হতে’র সংকলন।আকর্ষণীয় পরিবেশ সৃষ্টিতে লেখকের দক্ষতা প্রশংসনীয়।তার সাথে ছোট ছোট বাক্যে সাবলীল গদ্যের সাথে পরিমিত হিউমারের ব্যবহার এ বইকে সুখপাঠ্য করে তুলেছে।এ তুলনা করার সময় যদিও আসেনি তবুও এ লেখায় যেন হুমায়ুন আহমেদের স্বাদ মেলে।’বেলাশেষের গান’এ তাসানন্দ খেলা যেন মিসির আলির ESP টেস্ট কে মনে করায়। অরণ্য রায়ের নোট নেওয়া বা paranormal ঘটনার ব্যাখ্যাও মনে করিয়ে দেয় মিসির আলিকে।তাইবলে অরণ্য রায় মিসির আলি নন।’মরণের এপার হতে’তে দেখি সে যেন মিসির আলির মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণী ক্ষমতার সাথে ফেলুদার মগজাস্ত্রের রহস্যভেদী ক্ষমতার অধিকারী।এই দুয়ের সাহায্যে সে গণেশ সমাদ্দারের Near Death Experience পরীক্ষা থেকে নিজেকে রক্ষা করে পাঠককে ভরসা জোগায় যে অদূরে বাংলা সাহিত্যে হয়তো এক আইকনিক চরিত্র হতে চলেছে অরণ্য রায়।যদিও অনেক পথ চলা বাকি।
ধরুন আপনি সাহিত্য অনুরাগী কিন্তু বর্তমানে আপনার প্রথম প্রেম মোবাইল,ইন্টারনেট-সেক্ষেত্রে চিন্তা নেই এ বই আপনাকে আপনার প্রথম প্রেম থেকে দূরে পাঠাবে না,বরং আপনার অনুসন্ধিৎসু মনের খিদে মেটাতে বারবার গুগল করতে হবে ট্রানজিসন ফেজ,ইনফিনিটি লুপ, রায়টার্স ব্লক বা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাই এর ব্যাপারে।অথবা আপনি স্ট্রিং থিওরি নিয়ে একটু জানতে চাইবেন যা আপনাকে জানাবে শ্রোডিংগারের সেই বন্ধ বাক্সের কথা যেখানে নাকি একটা বিড়াল একই সাথে জীবিত বা মৃত অবস্থায় আছে,কিংবা হয়তো আপনি মাল্টিভার্সে মজে গেলেন।
আসলে আপনি যদি সাহিত্য রসিক হন তো এ বই আপনাকে বিজ্ঞান পিপাসু করে তুলবে,আবার আপনি বিজ্ঞানের ছাত্র হলে এ বইয়ের নান্দনিকতায় আপনার সাহিত্যে অনুরাগ আসবেই।লেখকদের প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয় -এ আপনারা লেখেন কিভাবে?সৈয়দ মুজতবা আলী এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন,”আমি আমার সন্তানদের দেখাতে পারি,কিন্তু সন্তান উৎপাদনের পদ্ধতি দেখাতে পারি না।”কাজেই এ প্রশ্ন পাঠকের মনেই থাক।এ রহস্য লেখকের নিজস্ব।কয়েক স্থানে একই বাক্য পুনঃ ব্যাবহার আর কিছু বিশেষণের বেঠিক প্রয়োগ ছাড়া ত্রুটিহীন এ লেখা।মোটকথা আধুনিক পাঠকের মনের রসনা তৃপ্তিতে সম্পূর্ণ সফল এ বই।
বইটিতে মুদ্রণপ্রমাদ প্রায় নেই।লেখার ফন্ট,পাতার কোয়ালিটি চোখের আরাম দেয়।প্রচ্ছদের ছবিতে কনট্রাস্ট রঙের ব্যবহার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।ছবিটিও কৌতূহল জাগায়।তবে ছবির মান আরও একটু ভালো হতে পারতো।আর মাত্র দুটি ছোট কাহিনীর সংকলনে মন ভরলো না,আরও কয়েকটির অন্তর্ভুক্তি হলে ভালো লাগতো।
18 reviews1 follower
August 21, 2020
অরণ্য রায় পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক-গবেষক। পদার্থবিদ্যা ছাড়া তিনি আকৃষ্ট মনস্তত্ব ও মনোবিদ্যার ব্যাপারেও, এ বিষয়ে তাঁর যে পারদর্শিতা রয়েছে সেটা তাঁর চেনা-পরিচিত মহলের বাইরেও বিদিত, পার্কের বেঞ্চে বসে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত-পরিচয় ব্যক্তি যেভাবে নিজের জীবন-কাহিনী বলতে শুরু করে দেন - সে থেকে সেই অনুমানই করা যায়।

এই বই-এর প্রথম গল্প “বেলাশেষের গান”-এর কালিকাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর জীবনের কিছু আপাত অতীন্দ্রিয় ঘটনার ব্যাখ্যার খোঁজে দ্বারস্থ হয়েছেন অরণ্য রায়ের। যদিও প্রথম আলাপেই তিনি খোলসা করেননি তাঁর নিজের পরিচয়, ঠিকানা , কোনও কিছুই। তা প্রকাশ পেয়েছে ধীরে ধীরে, গল্পের স্রোত বেয়ে। গল্পের শেষের দিকে সেইসকল রহস্যময় ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন অরণ্য রায়। গল্পের এই মূল ঘটনাপ্রবাহ ছাড়াও রয়েছে স্বপ্ন, ভয়, এবং নানা মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের রেফারেন্স, যা গল্পের মূলপ্রবাহকে কমপ্লিমেন্ট করতে থেকেছে।
তবে এই গল্প পড়তে গিয়ে হোঁচট খেয়েছি বেশ কয়েক জায়গায়ঃ

অরণ্য রায়, কালিকাপ্রসাদবাবুর সাথে দেখা হওয়ার প্রথম দিনেই উল্লেখ করেছেন, কালিকাপ্রসাদবাবুর গল্প বলার ক্ষমতা অতুলনীয়, অথচ, কালিকাপ্রসাদবাবুর, অন্তত প্রথম দিনের গল্প/জীবনকাহিনী শুনে, গল্প-কথক হিসাবে তাঁকে অসাধারণ বলে মনে হয় না।

রহস্যময়ী এক নারীর যে আকস্মিক আবির্ভাব রয়েছে গল্পে, গল্পের শেষে এসে সেই ঘটনার জাস্টিফিকেশনটা একেবারেই কনভিন্সিং মনে হয় নি।

লেখার মধ্যে রয়ে গেছে কেমন একটা আড়ষ্টভাব। পার্কের বেঞ্চ থেকে সূর্য অস্ত যাওয়ার দৃশ্যের যে বিবরণ লেখক একাধিকবার দিয়েছেন, তা রিপিটেটিভ মনে হয়েছে, প্রতিবারের বিবরণে আগেরবারের থেকে নতুন কিছু পাইনি। অরণ্য রায়, কালিকাবাবুর আচরণ ও পরিচয় দুই নিয়েই বেশ রহস্যময়তার আভাস পেয়েছেন। কিন্তু, তাঁর সাথে পার্কে কথোপকথনের কোনও পর্যায়েই অরণ্য রায়কে সেই রহস্যের জাল ছিঁড়ে ফেলার জন্য খুব বেশী তৎপর হতে দেখিনি। আবার কোথাও কোথাও মনে হয়েছে কিছু ঘটনার বিবরণ-এ আরও ডিটেইল আনা যেত। যেমন একজায়গায় কালিকাপ্রসাদবাবু বলছেন, “বিশেষ ধরনের চরিত্র খুঁজতে রাতের বেলা ঘুরে বেড়াতাম; সেরকম এক রাতেই আমার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। সেরাতে আমি কালীবাড়ির পাশ দিয়ে যেতেই আমাকে দেখেই তিনি বলে ওঠেন,…”। এই জায়গায় কমলাকান্ত কালীবাড়ির পুরোহিত সদানন্দ ঠাকুরের সঙ্গে কালিকাপ্রসাদবাবুর দেখা হওয়ার অংশটা কিছুটা দায়সারা লেগেছে, বিশেষ করে লেখক যেখানে বারবার প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছেন “ভদ্রলোকের (কালিকাপ্রসাদবাবুর) কথা বলার মধ্যে এমন একটা অসাধারণ আকর্ষণ রয়েছে যে চুপ করে শুনতে হয়”।
মোটের উপর, প্রথম গল্পটি আমার মনঃপুত হয়েছে - তা বলতে পারিনা।

দ্বিতীয় গল্প “মরণের এপার হতে”তেও আছে এরকম কিছু হোঁচটের জায়গা।

লেখক বলেছেন, “আমাদের চারপাশে যেসব ঘটনা ঘটছে সেগুলো সবই মোটামুটিভাবে তাৎক্ষণিক,… তারা কেবলমাত্র বর্তমান সময়ের উপরেই নির্ভরশীল। অতীতের কোনও প্রভাব তাদের উপর নেই।” - এটা মানতে পারিনি।

অরণ্য রায়, গণেশ সমাদ্দারের চিঠি পড়ার পর “বেশ কিছু লজিক সাজিয়ে” ফেলতে গিয়ে লিখেছেন, “তিনি তাঁর চিঠিতে তাঁর বাসভবনের নাম “কুমুদকুঞ্জ” বারবার উল্লেখ করেছেন। অথচ, গণেশ সমাদ্দার তাঁর চিঠিতে (চিঠির শেষে ঠিকানা বাদ দিয়ে) “কুমুদকুঞ্জের” উল্লেখ করছেন মাত্র একবারই।

গণেশ সমাদ্দার তাঁর ডায়রিতে ১৩ এপ্রিল, ১৯৯৬ তে লিখছেন, “আমি গত সপ্ত দিবস ব্যাপী রাখহরি ধীবর নামক এক রোগীর চিকিৎসা করিতেছিলাম।” আবার তার পরক্ষণেই লিখেছেন, “অসীম প্রচেষ্টার ফলে রোগী সপ্তম দিবসে বিপন্মুক্ত হইয়া মৃত্যুমুখ হইতে ফিরিয়া আসিল। কতিপয় দিবস অতীত হইলে সে সম্পূর্ণ সুস্থ হইয়া উঠিল।” সুতরাং, রাখহরির চিকিৎসা চলেছিল “গত সপ্ত দিবস ব্যাপী” নয়, তার বেশী সময় ধরেই।

তবে “মরণের এপার হতে” প্রথম গল্পের তুলনায় বেশ সাবলীল। এ গল্প অবচেতনের গল্প, অবচতনের চেতনার জগতে ভেসে ওঠার গল্প। এগল্পেও আগেরটির মতো রয়েছে, মূল ঘটনাপ্রবাহ বাদেও অবচেতন-কার্যকলাপের রেফারেন্সেস। লেখক এ গল্পে মৃত্যুর নিকটবর্তী অভিজ্ঞতা আর অবচেতনের সাহায্যে বুনেছেন এক থ্রিলার। গল্পের একেবারে শেষের দিকে গিয়ে ঘুরে গেছে গল্পের মোড়। উপরে উল্লিখিত, কয়েকটি হোঁচট বাদ দিয়ে গল্পটি বেশ সুখপাঠ্য।

হয়তো নবীন-তরুণ লেখক বলেই প্রথম গল্পে আড়ষ্টতা থেকে গেছে, তবে দ্বিতীয় গল্প পড়ে সেটা মাফ করে দেওয়া যায়। সব মিলিয়ে, গতানুগতিক থ্রিলারের বাইরে বেরিয়ে একটু অন্যরকমের স্বাদ পেতে, এই বইটা একবার পড়া যেতেই পারে।
3 reviews
June 30, 2020
সৃষ্টিসুখ থেকে প্রকাশিত তরুণ লেখক দেবব্রত বিশ্বাসের নতুন বই ‘এবার অরণ্যে’ আসলে দুটি ছোট উপন্যাস ‘বেলা শেষের গান’,ও ‘মরণের এপার হতে’র সংকলন।আকর্ষণীয় পরিবেশ সৃষ্টিতে লেখকের দক্ষতা প্রশংসনীয়।তার সাথে ছোট ছোট বাক্যে সাবলীল গদ্যের সাথে পরিমিত হিউমারের ব্যবহার এ বইকে সুখপাঠ্য করে তুলেছে।এ তুলনা করার সময় যদিও আসেনি তবুও এ লেখায় যেন হুমায়ুন আহমেদের স্বাদ মেলে।’বেলাশেষের গান’এ তাসানন্দ খেলা যেন মিসির আলির ESP টেস্ট কে মনে করায়। অরণ্য রায়ের নোট নেওয়া বা paranormal ঘটনার ব্যাখ্যাও মনে করিয়ে দেয় মিসির আলিকে।তাইবলে অরণ্য রায় মিসির আলি নন।’মরণের এপার হতে’তে দেখি সে যেন মিসির আলির মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণী ক্ষমতার সাথে ফেলুদার মগজাস্ত্রের রহস্যভেদী ক্ষমতার অধিকারী।এই দুয়ের সাহায্যে সে গণেশ সমাদ্দারের Near Death Experience পরীক্ষা থেকে নিজেকে রক্ষা করে পাঠককে ভরসা জোগায় যে অদূরে বাংলা সাহিত্যে হয়তো এক আইকনিক চরিত্র হতে চলেছে অরণ্য রায়।যদিও অনেক পথ চলা বাকি।
ধরুন আপনি সাহিত্য অনুরাগী কিন্তু বর্তমানে আপনার প্রথম প্রেম মোবাইল,ইন্টারনেট-সেক্ষেত্রে চিন্তা নেই এ বই আপনাকে আপনার প্রথম প্রেম থেকে দূরে পাঠাবে না,বরং আপনার অনুসন্ধিৎসু মনের খিদে মেটাতে বারবার গুগল করতে হবে ট্রানজিসন ফেজ,ইনফিনিটি লুপ, রায়টার্স ব্লক বা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাই এর ব্যাপারে।অথবা আপনি স্ট্রিং থিওরি নিয়ে একটু জানতে চাইবেন যা আপনাকে জানাবে শ্রোডিংগারের সেই বন্ধ বাক্সের কথা যেখানে নাকি একটা বিড়াল একই সাথে জীবিত বা মৃত অবস্থায় আছে,কিংবা হয়তো আপনি মাল্টিভার্সে মজে গেলেন।
আসলে আপনি যদি সাহিত্য রসিক হন তো এ বই আপনাকে বিজ্ঞান পিপাসু করে তুলবে,আবার আপনি বিজ্ঞানের ছাত্র হলে এ বইয়ের নান্দনিকতায় আপনার সাহিত্যে অনুরাগ আসবেই।লেখকদের প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয় -এ আপনারা লেখেন কিভাবে?সৈয়দ মুজতবা আলী এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন,”আমি আমার সন্তানদের দেখাতে পারি,কিন্তু সন্তান উৎপাদনের পদ্ধতি দেখাতে পারি না।”কাজেই এ প্রশ্ন পাঠকের মনেই থাক।এ রহস্য লেখকের নিজস্ব।কয়েক স্থানে একই বাক্য পুনঃ ব্যাবহার আর কিছু বিশেষণের বেঠিক প্রয়োগ ছাড়া ত্রুটিহীন এ লেখা।মোটকথা আধুনিক পাঠকের মনের রসনা তৃপ্তিতে সম্পূর্ণ সফল এ বই।
বইটিতে মুদ্রণপ্রমাদ প্রায় নেই।লেখার ফন্ট,পাতার কোয়ালিটি চোখের আরাম দেয়।প্রচ্ছদের ছবিতে কনট্রাস্ট রঙের ব্যবহার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।ছবিটিও কৌতূহল জাগায়।তবে ছবির মান আরও একটু ভালো হতে পারতো।আর মাত্র দুটি ছোট কাহিনীর সংকলনে মন ভরলো না,আরও কয়েকটির অন্তর্ভুক্তি হলে ভালো লাগতো।
1 review
June 30, 2020
‘এবার অরন্যে’র দুটি গল্প‌ই আমার বেশ লেগেছে। দুটি গল্পের‌ই plot গুলির মধ্যে নতুনত্বের স্বাদ পাওয়া গেছে। পরিবেশ সৃষ্টি ও যথাযথ সংলাপের জন্য লেখক যথেষ্ট কৃতিত্বের দাবী রাখে। রহস্য মুক্তির জন্য বিজ্ঞান এবং মনস্তত্ত্বের নতুন নতুন তথ্য পাঠককে সমৃদ্ধ করবে। আসা রাখি, ভবিষ্যতে রহস্য আরো ঘনীভূত হবে এবং অরন্য রায় নিজেকে বিকশিত করার আরো সুযোগ পাবে।
2 reviews
August 4, 2020
Vinnyo swader lekha.. science o psychology r misron.. Porte besh laglo...
Displaying 1 - 9 of 9 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.