পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ রাজকীয় বাহিনীর মেজর করনেইলির একগুচ্ছ পত্র নিয়ে লন্ডন থেকে ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে 'Journal of my Services in India'। এই বিবরণ এখন পর্যন্ত কোনো বাংলা ইতিহাস গ্রন্থে ব্যবহৃত হয়নি। করনেইলির বিবরণীর মূল বিষয়গুলো নিয়ে তৈরি বর্তমান গ্রন্থটি পলাশীর যুদ্ধ ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসন এবং তৎকালীন বৃহত্তর বঙ্গের জীবনধারা সম্বন্ধে নতুন আকর গ্রন্থ। ২৫ টি চিত্র ও ৫টি মানচিত্র পাঠককে পলাশী, ইংরেজ শাসন ও বঙ্গের তৎকালীন জনজীবন সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারণা দেবে।
বেনিয়াদের লেখা উপমহাদেশের ইতিহাস বিষয়ে আমি বরাবরই একটু নাক-উঁচু। পারতপক্ষে পড়তে চাইনা, কিংবা পড়লেও তাদের চোখ দিয়ে বাংলাকে দেখার ক্ষেত্রে আমি 'কভি নেহি' টাইপের। এ বই অনেকটা সেরকমই, সাদার চোখে বাদামির কীর্তিকলাপ।
কোনো এককালে পরিব্রাজক ইবনে বতুতা বঙ্গকে বলেছিলেন 'ভালো জিনিসে পরিপূর্ণ দোজখ', এ বইয়ে লেখক কর্নেইলির চোখেও বাংলা অনেকটা তাই-ই।
তিনি পাশ্চাত্যের মানুষ, পাশ্চাত্যে কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলাতে তিনি দেখেছেন। আর এদেশে মাটির এত গুণ, এত সহজে সবকিছু ফলছে, সর্বত্র খাবারের প্রাচুর্য; কিন্তু তারপরেও সাধারণ মানুষ সুখে নেই দেখে তিনি খানিকটা বিস্মিত।
তবে তার পেছনের যে কারণটা তিনি ধরতে পেরেছেন, সেটা হলো, 'শাসকদের প্রজার ওপর অত্যাচার'। আজ, তার আড়াইশো বছর পরেও, কারণটা বোধকরি সমানতালে প্রাসঙ্গিক।
বইয়ের বড় পাওনা ষোল পৃষ্ঠাব্যাপী অনেকগুলো পেইন্টিং, আর বেশকিছু মানচিত্র।
বইয়ের নাম দেখে মনে হয় যেন এটা পলাশীর যুদ্ধে অংশ নেওয়া কোন ইংরেজ সৈনিকের ডায়েরি। কিন্তু পড়তে গিয়ে কি পেলাম.... বইয়ের প্রায় অর্ধেকটা জুড়ে রয়েছে ভূমিকা। বিশ্বাস করেন বাকেরভাই এই ভূমিকা পড়লে আর বইয়ের বাকিটুকু পড়ার দরকার পরবে না। যাহোক বাকিটুকুতেও লেখক সাহেব তারিখ ধরে ধরে যুদ্ধের পূর্বাপর বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ দিয়েছেন। আর তার মাঝে মাঝে উল্লেখ করেছেন বইয়ের টাইটেলে দেওয়া ইংরেজ সৈনিক করনেইলির নাম। করনেইলির লেখা থেকে বুঝা যায়.... করনেইলিও এই বিষয়টা লিখেছেন.... করনেইলিও সন্দেহ করেছিলেন....... এট বইটা মুটেও করনেইলির মূল লেখাটা না। তার ডায়েরি থেকে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে লেখক নিজের ভাষায় লিখেছেন। তাতে আমার কোন আপত্তি নাই। আপত্তি হচ্ছে বইয়ের নাম নিয়ে। প্রথমার মতো দেশের প্রথম সারির প্রকাশনীর কাছে এমন পাঠক ঠকানো টাইটেল আশা করিনি। পলাশীর যুদ্ধ নিয়ে জানতে চাইলে এই বই পড়তে পারেন। দিনপঞ্জি হিসেবে পড়তে চাইলে বিরক্তই হবেন।
ক্রাউন সাইজের খুব ছোট একটা বই। কিছু তৈলচিত্র রয়েছে। একজন বৃটিশ শাসক হিসেবে যতটুকু নিরপেক্ষতা বজায় রেখে পড়া যায়, ততটুকু আছে বলেই মনে হয়েছে। আরেকটু বিশদ লিখলে ভালো হতো।