এই উপন্যাসটি যে প্রকৃতির তা বাংলাসাহিত্যে প্রথম না হলেও বিরল। এটি ফিউচারিস্টিক উপন্যাস। তবে প্রচলিত অর্থে সায়েন্স ফিকশন নয়। এটাকে বলা যেতে পারে, সোস্যাল সায়েন্স ফিকশন। আরও স্পেসিফিক্যালি বললে, এটি একটি ডেস্টোপিয়ান ধাঁচের উপন্যাস। যেখানে ২০৩৫ সালে ঢাকা শহরকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের নতুন রাজধানীর নাম ভাওয়াল। গাজীপুর ময়মনসিং এবং কিশোরগঞ্জের কিছু উপজেলা নিয়ে ভাওয়াল নামে নতুন এই রাজধানী গঠন করা হয়েছে। ঢাকা এখন জলমগ্ন। ঢাকার চারপাশ বৈদ্যুতিক তার দিয়ে ঘেরা। ঢাকার মানুষদেরও এখন নাম লিখিয়ে হাতে ডিভাইস পড়ে ঢাকায় প্রবেশ করতে হয়। হঠাৎ করে আপরুটেড হওয়া ঢাকার মানুষদের জীবন বদলে গেছে। সমাজব্যবস্থা বদলে গেছে। বিশ্বায়নের প্রভাব আর পরিত্যক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা ঢাকার মানুষের জীবনে তৈরি করেছে নতুন নতুন ক্রাইসিস আর সম্ভাবনা - সেই ক্রাইসিস আর সম্ভাবনা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
মাসউদুল হকের জন্ম ১৯৭৪ সালে। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় পদচারণা করলেও তাঁর আগ্রহের জায়গা মুলত কথাসাহিত্য। তবে কথাসাহিত্যের নির্দিষ্ট কোন গণ্ডিতে নিজেকে আটকে রাখতে চান না। ফলে তাঁর প্রতিটি গল্প বা উপন্যাসের বিষয়বস্তু হয় ভিন্ন। কথাসাহিত্যের প্রতিটি শাখায় কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি লেখালিখি করেন। প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন নতুন সাহিত্যিক চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করানাে এবং সেই চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণের চেষ্টাই মাসউদুল হকের সাহিত্য রচনার মূল প্রেরণা। পড়াশােনা করেছেন কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিভিল সার্ভিস কলেজে। একাডেমিক পড়াশােনার বিষয় সমাজকর্ম এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক। তবে আগ্রহের বিষয় দর্শন, ইতিহাস এবং রাজনীতি। প্রথম উপন্যাস ‘দীর্ঘশ্বাসেরা হাওরের জলে ভাসে’র জন্য ২০১২ সালে পেয়েছেন এইচএসবিসি-কালি ও কলম তরুণ কথাসাহিত্যিক পুরস্কার। তাঁর গল্প অবলম্বণে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘ঘ্রাণ’ দেশের বাইরে একাধিক চলচ্চিত্র উৎসবের পাশাপাশি ২০১৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ স্বল্প দৈর্ঘ্য ছবির মর্যাদা পেয়েছে। মাসউদুল হক পেশায় সরকারি চাকুরে।
বড়জোর একটা বড়গল্প হতে পারতো, সেই উপাদান নিয়ে লেখা হয়েছে উপন্যাস!রবারের মতো টেনে টেনে গল্প লম্বা করার উদাহরণ হিসেবে এই বইয়ের কথা মনে থাকবে। চূড়ান্তভাবে হতাশ।