উত্তরবঙ্গের পার্বত্য নদী তিস্তার সঙ্গে লেখকের আত্মার আত্মীয়তা আজন্ম। এই নদীর সান্নিধ্যে তাঁর শৈশব, কৈশোর অতিবাহিত হয়েছে। তিস্তা তাঁর কাছে শুধু এক দূর-বিস্তৃত জলপ্রবাহিণী নয়, এ-নদী তাঁর জীবনজিজ্ঞাসার প্রতিরূপ। নদীর স্রোতের মধ্যে লেখক, জীবনের ভাঙাগড়ার তরঙ্গভঙ্গ দেখেছেন।এ-উপন্যাস যেমন লেখকের জীবনালেখ্য নয়, তেমনি কাল্পনিক কোনও বিচরণক্ষেত্রের আখ্যানও নয়। তিস্তার জলের দর্পণে যে-মুখগুলির ছবি প্রতিবিম্বিত হয়েছে সে-মুখগুলি তাঁর শৈশব আর কিশোরকালেরই পরিচিত মুখ।উত্তরবঙ্গের শান্ত সমাহিত জীবনযাত্রার মতোই এ-উপন্যাস সহজ, সরল ভাষায় ঋজু গতিতে বহমান। এই কাহিনিতে লেখকের অন্তর্লোকের আলোছায়ায় একটা স্বপ্ন যেন দীর্ঘ হয়ে, নদীর স্রোতের সঙ্গে যেতে যেতে এক অচিন সময়ের মধ্যে মিশে যায়। ইচ্ছেপূরণের দাবিটা কোনও উজ্জ্বল আগামী দিনের অপেক্ষায় থেকেই যায়। সমস্ত উপন্যাসকে ছায়াচ্ছন্ন করে রেখেছে এক মেঘলা আকাশ। নদীর সঙ্গে জীবনকে সম্পৃক্ত করে, একটি ছেলের জীবনের গতিপথ প্রবহমান থাকার এক মেদুর কাহিনি এই উপন্যাস।
অশোক বসুর জন্ম ১৯৩৬, জলপাইগুড়ি শহরে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যের স্নাতক। প্রথম গল্প ‘দেশ’ পত্রিকায় ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত। বড়দের জন্যে লেখার পাশাপাশি ছোটদের জন্যেও প্রচুর লেখেন। এ ছাড়া বেতারনাটকও লিখেছেন। ১৯৯৭ সালে সর্বভারতীয় বেতার নাটক। প্রতিযোগিতায় বাংলা হাস্যরসাত্মক নাটকে প্রথমস্থান লাভ। রাজ্য সরকারি অফিসে চাকরি করতেন। অবসরজীবন কাটে লেখালেখি করেই।
গল্পের বিষয় আলোচনা :- 🌟পড়া যখন শুরু করি, কয়েক পাতা পড়ে মনে হলো থাক আর পড়বো না ভীষণ বোরিং লাগছে. কিন্তু মাঝপথে বই ছেড়ে দেওয়ার অভ্যাস নেই দেখে পুরোটা শেষ করলাম একটু slowreading হয়েছে বটে, তবে শেষ করার পর এটাই মনে হলো শেষ কেনো হলো !! আরও চললে বেশি ভালো হতো. 🌟এই লেখক নতুন আমার "অশোক বসু র" পড়া প্রথম বই. বলা বাহুল্য ভীষণ ভালো লেখক. সহজ ভাষায় গল্প লেখেন. কোথাও কোনো জটিলতা নেই. বাস্তবে চলা মানুষের জীবনের একটি গল্প. এটি শুধু গল্প আমি বলবো না, এই গল্পের ঘটনা বাস্তবে কম বেশি প্রত্যেক বাড়িতে ঘটছে. 🌟 গল্পে অনেক গুলি চরিত্র আছে, তবে প্রধান চরিত্র বিজু , একান্ন বত্তি পরিবার মা,বাবা,কাকা কাকিমা, ভাই বোন সবাই কে নিয়ে বিজুর বড় হওয়া. সচারচল যেই ধরনের পরিবার আমরা দেখতে পাচ্ছি কারুর সাথে কারুর সম্পর্ক নেই, বাবা কাকা আলাদা সেই ধরনের পরিবার বিজুর নয়. একজনের খারাপ অবস্থার কথা শুনলে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে. বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন. মা হচ্ছে সব. 🌟 হঠাৎ মা কে হারানো, বাবার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাওয়া, বোন কে বিয়ে দেওয়ার পরও সুখে থাকতে না দেখা. প্রিয় মানুষকে কাছে না পাওয়ার যন্ত্রণা. সব মিলিয়ে বিজুর জীবন এর কাহিনী. 💛আমার কেমন লেগেছে:- গোটা গল্পটা শেষ করে এটাই বুঝেছি এটা গল্প নয় এটা বাস্তব ঘটনা. আশেপাশে দেখা বাস্তব পরিস্তিতি. আমার বেশ ভালো লেগেছে. এর রেশ বেশ কিছুদিন আমার থাকবে বুঝতেই পারছি. একদম ব্যাক্তিগত মতামত. আমি চাইব এই ছোট উপন্যাসটি আপনারাও পড়ুন. আশা করবো ভালোলাগবে. 💛আমি রেটিং দিলাম :- ৪.৫/৫ 🌟