সমাজের মানুষদের আরোপিত রীতি নীতি, কুসংস্কার আর কুপ্রথার হাজার বৃত্তের শৃঙ্খলে আমরা বন্দী। সমাজ কী বলবে, লোকে কী বলবে, সেই ভয়ে আর এই অন্ধকারের বলয় ভাঙা হয়ে উঠে না। তবুও স্রোতের বিপরীতে হাঁটা কিছু মানুষ এই বলয় ভাঙতে চেষ্টা করেন। এই সমাজের মানুষের আরোপিত রীতি, প্রথা, কুসংস্কার, বিভিন্ন অসংগতি, পুঁজিবাদ, ভোগবাদিতা, ভারসাম্যহীনতা, অবিচার, ভিন্ন সংস্কৃতি সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর গল্পের মাধ্যমে আঘাত হানা হয়েছে।
মানুষের জীবনের দুঃখ-কষ্ট, হাসি-আনন্দ আর টানা-পোড়নের কাহিনীগুলো গদ্যশিল্পীর তুলির ছোঁয়ায় হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত।প্রতিটি গল্প শেষে টীকা আকারে কুরআন আর হাদিসের কোটেশন গল্পগুলোকে শিক্ষণীয় করে তুলেছে। একেকটি গল্প একেক ধরনের বার্তা বহন করেছে।
প্রতিটি গল্প পড়া শেষে মনে দাগ কাটবে, নিজের ভিতরেও জেগে উঠবে বলয় ভাঙার প্রয়াস। ‘বলয় ভাঙার গল্প’ এই গল্পগ্রন্থ পড়ার মাধ্যমে আপনিও এই বন্দী বলয় ভেঙে বেরিয়ে একজন আলোকিত মানুষ হতে পারেন।
বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে পড়তে মাঝেমধ্যে ধর্মীয় বই পড়ার চেষ্টা করছি।
বর্তমান সময়ের বস্তুবাদী জীবনধারা থেকে মানসিক শান্তির বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করার বিষয়টি আমাদের মাথায় থাকে না। পারিবারিক বন্ধন বা সামাজিক বন্ধন যে দিন দিন শিথিল হয়ে যাচ্ছে তার অন্যতম কারণ নৈতিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় শিক্ষার অভাব।
স্পিরিচুয়াল বিষয়টা এখন গৌণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু আমাদের চলার পথে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বইতে লেখিকা অনেকগুলি গল্পের মাধ্যমে আমাদের সামাজিক এবং পারিবারিক সমস্যা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন প্রতিটি গল্পের শেষে তিনি উত্তরণের পথগুলি সুন্দরভাবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি যে পথগুলির কথা উল্লেখ করেছেন তা মানতে পারলে আমাদের জীবন সুখী এবং সুন্দর হয়ে উঠবে।
এই বইতে ধর্মের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার বিষয়ে অনেক গল্প রয়েছে প্রতিটা গল্পই আমাদের এক একটি পরিবারের প্রতিচ্ছবি ।