দিন শেষে বিজ্ঞানীরাও মানুষ, তাই তারাও প্রেমে পড়েন। কেউ একবার, কেউ বারবার। ডাকসাইটে বিজ্ঞানীরা যেমন প্রেমে পড়েছেন, সাধাসিধে ভালো মানুষ গোছের বিজ্ঞানীরাও বাদ যাননি। শুধুই কি প্রেম, অবাধ যৌনাচার, পরকীয়ার কলঙ্কেও বিষিয়ে উঠেছে বিজ্ঞানীদের জীবন। বিজ্ঞানীদের গোপন জীবনের সুলুক-সন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে ইতিহাসের কানাগলিতে গুমরে মরা অনেক অবিশ্বাস্য কাহিনী। প্রেম - ভালোবাসার বাইরেও বিজ্ঞানীদের জীবনে রয়েছে অনেক অজানা কালো অধ্যায়।
বিজ্ঞানীদের মত মহৎ হৃদয়ের মানুষগুলো ঈর্ষা-হিংসায় অনেক সময়য় অতি হিংসুককেও হার মানিয়েছেন। হিংসার বশবর্তী হয়ে পদে পদে কাটা বিছিয়ে দিয়েছেন তরুণ বিজ্ঞানীদের সাফল্যের পথে। অনেক সময় বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বিরোধিতা আর জিদের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে সম্ভাবনাময় নবীন বিজ্ঞানীদের জীবন। অনেক বিজ্ঞানী আবার তাদের ক্ষুরধার বুদ্ধি দিয়ে এমন সব হাস্যকর কান্ড করেছেন, যেগুলো হয়ত অতি সাধারণ বোকারাও করবেন না।
বিজ্ঞানীদের গোপন জীবনের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়েছে এই বইয়ে।
বইটির মূল উপপাদ্য বিষয় বিজ্ঞানীদের অদেখা জীবন। গোপন জীবন বললে আসলে একটু ভুল বুঝায় কারণ গোপন শব্দটার সাথে ঋনাত্বক ধারণার প্রভাব বেশি। যদিও এই বইয়ে বিজ্ঞানীদের অনেক কর্ম দেখানো হয়েছে যা সাধারণ সমাজের চোখে খারাপ। আবার এমন কিছু গল্প বলা আছে যেগুলো আসলে খুব একটা ইতিহাসের সমাদৃত নয় অথবা বলা যেতে পারে ইতিহাস বিস্মৃত।
আমরা বিজ্ঞানী বলতে সাধারণত ধরে নিও অন্য গ্রহের কোন প্রাণী যাদের চরিত্র সাধারণ মনুষ্য চরিত্রের সাথে অনেকাংশে মিলে না। প্রখ্যাত বিজ্ঞানীদের সাধারণ মনুষ্য প্রবৃত্তিবিষয়ক ঘটনাগুলি এই বইয়ে প্রাধান্য পেয়েছে। যেমন বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের প্রেমের জীবন, তাদের পরকীয়ার কাহিনী, নিজেদের একগুঁয়ে জীবন, খ্যাপাটে চিন্তাভাবনা, আবিষ্কারের পিছনের কাহিনী, ভুল সময়ে সঠিক আবিষ্কারের কারণে সমাজের কাছে অপদস্ত হওয়ার কাহিনী,একজন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার আর একজন বিজ্ঞানীর চুরি করে ফেলার ইতিহাস ইত্যাদি। প্রতিটি গল্পই অনেক বেশি চিত্তাকর্ষক এবং আমার কাছে অধিকাংশ গল্প ছিল নতুন। আমার ধারণা পাঠকের কাছে অধিকাংশ গল্প নতুনই মনে হবে। কারন আমি আগেই বলেছি লেখক এখানে এমন ইতিহাস গুলো তুলে এনেছেন যেগুলো সাধারণত আমরা আলোচনা করি না বা বলা যায় ইতিহাস বিস্মৃত। এজন্যই আমার মনে হয়েছে বইয়ের নামটি বিজ্ঞানীদের গোপন জীবন না হয় বিজ্ঞানীদের অদেখা কাহিনী বা অদেখা জীবন হলে ভালো হতো। বইটি এত ভালো লাগার পরও আমি বই এর রেটিং দিয়েছি ৩.৫/৫.০। কারণ আমার কাছে বইয়ের লেখা টি খুব একটা সরলীকরণ মনে হয়নি কারণটা আমার কাছে ঠিক পরিষ্কার নয়। এর আগে আমি এই ধরনের আরো কয়েকটি বই পড়েছি যেমন বিজ্ঞানীদের কাণ্ডকারখানা। ওই বইগুলোতে লেখাটা অনেক বেশি প্রাঞ্জল মনে হয়েছে। আমি যদিও লেখক নয় তাই আমার হয়তো মন্তব্য করাটা উচিত না। তারপরও আমার মনে হয়েছে এই বইটি পড়তে গেলে আমি থেমে থেমে যাচ্ছি; জানিনা কেন এমন হয়েছে।এইজন্যই বইয়ের রেটিং একটু কম দেওয়া কিন্তু বইটি সংগ্রহে রাখার মত। #ধূসরকল্পনা
বইটার নামের সাথে ভেতরের কন্টেন্টের খুব মিল নেই। বিজ্ঞানীদের কাজের অবদানগুলো কমবেশি সকলেই জানেন। তা হলে গোপন বিষয় আর কী থাকতে পারে? সত্যি বলতে, তেমন কোন গোপন কাহিনীই এখানে বলা হয় নি। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের যা যা স্ক্যান্ডাল তা মোটামুটি অনেকের জানা। বর্ননাও যে খুব আহামরি তা নয়। পাশাপাশি, দৃষ্টিকটুভাবে বেশ কিছু তারিখে ছাপার ভুল। যেমন ১৯৪৫ কে ১৪৪৫ লেখা ইত্যাদি। এসব পরবর্তী সংস্করণে ঠিক করে নিলে ভাল হয়।