, ইতু, নন্দিতা, অতীশ আর সোমনাথ এই পাঁচজন মিলে দীপকের সাথে তাঁর অ্যাম্বাসাডরে চেপে কলকাতা থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটা সুন্দর জায়গায় পিকনিক করতে যায়। মূলত রাখীর অনুরোধেই তাঁর প্রেমিক দীপক সেখানে পিকনিকের আয়োজন করার ব্যবস্থা করেছে। সেখানে পৌঁছে তাঁরা দেখে দুটো পরিবারও সেখানে পিকনিক করতে এসেছে। যথারীতি সেখানে সারাদিন সময় কাটানোর পর সন্ধ্যের সময় যখন তাঁদের বাড়ি ফেরার পালা, তখন দীপকের গাড়ি কিছুতেই স্টার্ট হতে চায় না। আর তাতেই সবার দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়, বিশেষত রাখী, ইতু আর নন্দিতার। এই অংশ থেকেই গল্প এক অপ্রত্যাশিত বাঁক নেয়।
রমাপদ চৌধুরীর জন্ম ২৮ ডিসেম্বর ১৯২২। কৈশোর কেটেছে রেল-শহর খড়গপুরে। শিক্ষা: প্রেসিডেন্সি কলেজ। ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ.। গল্প-উপন্যাস ছাড়াও রয়েছে একাধিক প্রবন্ধের বই, স্মৃতিকথা এবং একটি অত্যাশ্চর্য ছড়ার বই। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছেন সাম্মানিক ডি লিট, ১৯৯৮৷ ১৯৮৮-তে পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান জগত্তারিণী স্বর্ণপদক ১৯৮৭। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শরৎচন্দ্র পদক ও পুরস্কার ১৯৮৪। শরৎসমিতির শরৎচন্দ্র পুরস্কার ১৯৯৭। রবীন্দ্র পুরস্কার ১৯৭১। আনন্দ পুরস্কার ১৯৬৩৷ তাঁর গল্পসমগ্র বইটিও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃক পুরস্কৃত। হিন্দি, মালয়ালাম, গুজরাতি ও তামিল ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর বহু উপন্যাস ও গল্প। প্রকাশিত হয়েছে বহু রচনার ইংরেজি, চেক ও জার্মান অনুবাদ। তিনিই একমাত্র ভারতীয় লেখক, যাঁর গল্প সংকলিত হয়েছে আমেরিকা থেকে প্রকাশিত লিটারারি ওলিম্পিয়ানস গ্রন্থে, অনুবাদ করেছেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনটন বি সিলি৷ উপন্যাস খারিজ প্রকাশিত হয়েছে ইংরেজিতে।
রমাপদ চৌধুরী কাগজে কলমে সিনেমা রচতেন। তার লেখা উপন্যাসগুলোর আপেক্ষিক বাস্তবতা, পাঠকরুপি দর্শকদের কোনো শীততাপ নিয়ন্ত্রিত প্রেক্ষাগৃহের অনুভূতি দিয়ে যেতো বরাবরই। নইলে কেনই বা সত্তরের দশকে দাড়িয়ে লেখা সামাজিক উপন্যাস আজকের পরিপ্রেক্ষিতে এত আধুনিক?
পিকনিক বলতে কি বুঝি আমরা? শীতের বিকেল, চড়ুইভাতি, মোটর কার, মাংসের ঝোল। নিদেনপক্ষে একটি নদীর চড়, কি স্বর্ণাভ তুষারশৃঙ্গ। এই লেখাটিতেও সব রসদ মজুদ। গল্পের মধ্যমায় তিন কলেজ পড়ুয়া তরুণী। রাখী, ইতু ও নন্দিতা। ওরা একে অপরের বান্ধবী, পছন্দের মানুষ। তবে ব্যক্তি হিসেবে তিনজনেই ভিন্ন। স্বতন্ত্র চিন্তাধারার মালকিন। মিল বলতে, তারুণ্য, নিয়মভঙ্গের প্রগাঢ় ইচ্ছে এবং পুরুষতন্ত্রের দৃষ্টিকটু চোঁখ-রাঙানি, তিনজনকেই বেধে রাখে এক সুতোর ডোরে।
রাখীর কথায় মেতে উঠে, পরিকল্পিত হয় পিকনিক। গন্তব্য সেকালের কলকাতা পেরিয়ে, রূপনারায়ণ নদীর তীরে এক বেনামী স্পট। এই চড়ুইভাতির কান্ডারী ও নৌকো হিসেবে যথাক্রমে আভির্ভূত হয়, রাখীর বয়ফ্রেন্ড দীপক এবং তার মোটর গাড়ি। সঙ্গে, তার দুই বন্ধু - সপ্রতিভ, বাক্যবাগীশ অতীশ এবং লাজুক, মুখচোরা সোমনাথ। ছয় বন্ধুর এই অভিনব যাত্রা ঘিরেই লেখকের এই সুন্দর উপহাস।
না ভুল পড়েন নি। 'পিকনিক' এক উপন্যাস রুপি উপহাস-ই বটে। রমাপদ চৌধুরী তার ট্রেডমার্ক স্ক্যাল্পেলটি নিয়ে আরো একবার তার হাতের কাজের সূক্ষ্ম নিদর্শন দিলেন। ছ-জন যুবক যুবতীকে চিরে দেখলেন ঠিক যেইভাবে একমাত্র উনিই পারেন। কখনও অসাধারণ সংলাপের দ্বারা উপস্থাপন করলেন গূঢ় দর্শন, আবার কখনো কলম জোরে ছুয়ে গেলেন শ্রেণীগত বৈষম্যের সংবেদনশীল প্রসঙ্গ। মাত্র এক দিনের হৈ-হুল্লোড়, স্বাধীনতা এবং নিরাবরণ মেলামেশা। তারই মাঝে রোপিত স্বার্থের বীজ। দোসর হিসেবে হিংসা ও সন্দেহ। তরুন মনে যা আরো উগ্ররূপে প্রকাশ পায়। তাদের ভালোবাসার ধরন সর্বগ্রাসী, আবার তাদের বিদ্বেষটাও।
"আমরা নিজেরাই একটা চক্রান্তের মধ্যে পড়ে গেছি। আমরা সকলেই বোধহয় কিছু একটা খুঁজতে চাই। কি তা নিজেরাই জানি না। তাই অকারনেই আমরা ভালবাসা খুঁজছি। তাও আমরা খুঁজে পাই না।"
ভেবে দেখুন তো পিকনিক শেষে পড়ে থাকা এলোপাথাড়ি মাদুরটার কথা, আধখাওয়া সামগ্রী, বা ইতি উতি ছড়িয়ে থাকা ব্যবহৃত বাসনটা, যার লোভে ঘুরঘুর করে রাস্তার কুকুরগুলো। গান বাজনা, হাসি ঠাট্টা, সব মিলিয়ে আসে পড়ন্ত বিকেলের হিমের পরশে। মনে হয়, যেন সেটাই আমাদের রোজকার শ্রীহীন জীবনের প্রকৃত রূপ। কিছুক্ষণ পূর্বের সেই চড়ুইভাতিটা সেখানে রূপকথা। এই রুপকথা পরবর্তী আঁধারটাও যে চারিত্রিক মনস্তত্ত্ব বোঝার ক্ষেত্রে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, সেটাই লেখক দেখিয়েছেন যত্ন সহকারে। সাহায্য নিয়েছেন, সংলাপের। অসাধারণ, সহজ কিছু ভীষন আধুনিক সংলাপ। যেথায় কান পাতলে শোনা যায়, আপাতদৃষ্টিতে রঙীন এক চড়ুইভাতির কোলে মাথা রেখে উচ্চারিত প্রেমের ফাঁপা প্রতিশ্রুতি - সাকুল্যে এক ব্যাগ করুন আত্মকেন্দ্রিক উপহাস।
"কোথাও যাবার নেই বলেই আমাদের একটিমাত্র যাবার জায়গা - প্রেম। কিন্তু সেখানেও আমরা পৌঁছতে পারি না। ঠোঁটের উষ্ণতায়, বুকে হাত ডুবিয়ে, রক্তের উত্তেজনায় যেটুকু সুখ তাকেই প্রেম বলে ভুল করি।"
রমাপদ চৌধুরীর লেখা ভালো লাগে তার বিষয়বস্তুর অনন্যতার কারণে। যেমন এই উপন্যাসটার কথাই ধরা যাক। এখানে রমাপদ চৌধুরী চেয়েছেন তিনজোড়া যুবক-যুবতীর ভাবনা আর মনস্তত্ত্বকে সময়ের প্রেক্ষায় ধরতে এবং সেটায় সফলও হয়েছেন। একটা ব্যাপার ভেবে দেখলাম। এরকম প্রেক্ষাপটে উপন্যাস এই ২০২০ এ এসে লেখা যেত না, ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল বলেই তখন লেখা সম্ভব হয়েছিল।
তৎকালীন কলকাতা শহর ছাড়িয়ে রূপনারায়ণ নদীর ধারে ছয় যুবক যুবতীর সম্পর্কের রসায়ন প্রতিমুহূর্তে বদলে যেতে থাকে। একটা সময় তিন সহপাঠী বন্ধু ইতি-রাখী-নন্দিতা অনুভব করতে পারে, কেবল একটা দিন কয়েক ঘন্টার মধ্যে কোনো গূঢ় মানবিক সম্পর্ক বা বিনিময় তৈরী হয় না। প্রশ্ন জাগে সম্পর্কের মুখোশের পেছনে লুকোনো স্বার্থ নিয়ে। আসলেই কি এই ধরাধামে দিন শেষে সবাই একেকটি বিছিন্ন দ্বীপে রূপ নেয়?
"রমাপদ চৌধুরীর লিখনশৈলীও সময়ের প্রেক্ষাপটে আদ্যন্ত আধুনিক। এমন স্বচ্ছন্দ চলিত গদ্যের ব্যবহার, অথচ সেই রীতিরই মধ্যে দিয়ে ব্যঞ্জনাগর্ভী ও লিরিকধর্মী বাক্যবিন্যাস বিস্মিত করে। চরিত্রের সংলাপ রচনায় তাঁর সিদ্ধি প্রায় অতুলন। পড়তে পড়তে মনে হয়, এ যেন নাটকের অথবা চলচ্চিত্রের সংলাপ।"- পুরোপুরি একমত।
কত, কতদিন আগে লেখা এই উপন্যাস। অথচ কী ভীষণ সমসাময়িক এই লেখার ভঙ্গি, এই চরিত্ররা, এই গল্প... বা তার জায়গায় থাকা কিছু সংলাপ আর কিছু ভাবনার সমষ্টি। এই তিনটি নারী ও তিনটি পুরুষকেই কী ভালোভাবে চিনি আমরা! তাদের হাসি, কথা বলার ভঙ্গি, তাদের ভাবনারা— সব আমাদের কত চেনা! শুধু চেনা, নাকি আমাদেরই কথা লিখেছেন লেখক? যা চেয়েছি, যা চাইনি, যা হতে পারিনি, কিন্তু আখেরে যা আমাদেরই কথা, সেগুলোই কি তিনি লিখে দিয়েছেন? উপন্যাসটা আমাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে সুধীন দাশগুপ্তের সুরে মান্না দে এবং আশা ভোঁসলের অসামান্য কিছু গানের জন্য। আমাদের আগের প্রজন্ম হয়তো শমিত ভঞ্জ, আরতি ভট্টাচার্য, রঞ্জিত মল্লিক, জয়শ্রী রায়, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় এবং অর্চনা গুপ্ত অভিনীত সিনেমাটিকেও মনে করতে পারবেন। তবে উপন্যাসটা পড়লে বুঝতে পারবেন, ওইসব দুর্ধর্ষ অভিনেতাদের ভুলে গিয়েও ছবির পর ছবি, দৃশ্যের পর দৃশ্য চোখের সামনে এমনিই ভেসে ওঠে। তারই সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এমন অনেক অনুভূতি যারা মুখটা তেতো আর কান গরম করে দেয়, আবার কখনও শ্বাসকে উষ্ণ করে হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। তবে শেষ বিচারে এ কিছু খণ্ডচিত্রের সমষ্টিমাত্র— যারা আলো আর আশা দিয়ে শুরু হয়েও অদ্ভুত এক অন্ধকারের মধ্যে শেষ হয়। চরিত্ররা ফিরে যায় নিজদের প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির বৃত্তে। পিকনিক শেষে পড়ে থাকা আবর্জনার মতো করে পড়ে থাকি শুধু আমরা। পয়েন্টলেস লেখা; কিন্তু প্রাইসলেসও বটে— ঠিক আমাদের চেপে দেওয়া অনুভূতিগুলোর মতো, তাই না?
রমাপদ চৌধুরীর লেখা পড়ি, আর অবাক হই। প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ বছর আগের লেখা, কিন্তু এরপরেও লেখাগুলোকে সমসাময়িক বইয়ের কাতারে ফেলা যায়। এই যেমন 'পিকনিক' উপন্যাসের কথাই বলি। রাখী, ইতু, নন্দিতা তিন বান্ধবী। কথায় আছে, "Two is company, three is none", এখানেও তাই। রাখী, ইতু, নন্দিতা তিন বান্ধবী। তিনজনের মধ্যে যদিও উপরে উপরে গলায় গলায় ভাব, তবুও নন্দিতা ওদের সাথে পুরোপুরি খোলামেলা ভাবে মিশতে পারে না। নিজেকে ওদের থেকে বড্ড আলাদা মনে করে সে। না, অহংকার দেখিয়ে নয়, সংকোচে। কারণ একে তো তাদের পরিবার বাকি দুজনার থেকে একটু অস্বচ্ছল, তার উপর নন্দিতার গোটা পরিবারই বেশ গোঁড়া মানসিকতার। এই ভয়ে নন্দিতা অন্যদের মত বাড়িতে না বলে ঘুরতে যেতে পারে ��া, একটু সিনেমা হলে বসে সিনেমা দেখতে পারে না, প্রেম তো দূরের কথা। বাকিদের বাড়িতেও যে এসব নিয়ে সেকটু-আধটু সমস্যা নেই, তা কিন্তু না। আসলে মানুষ যতই নিজেদের আধুনিকমনা প্রমাণ করতে যাক না কেন, ভেতরে ভেতরে নিজেদের মেয়েদের নিয়ে গোঁড়া থেকেই যায়। আধুনিকতা তাদের কাছে সমাজের অন্যদের মাঝে মিশে যাওয়ার একটা মুখোশ মাত্র। বাড়িতে এলেই সে মুখোশ খসে পড়ে যায়। আর সে বাড়িতে যদি মেয়ে থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। কখন কার সাথে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, দেরি করে কেন বাড়ি আসছে, হাতখরচার জন্য এত বেশি টাকা লাগবে কেন, প্রশ্নের শেষ নেই।
তো যাই হোক, তিন বান্ধবী মিলে ঠিক করে এবার অনেক হয়েছে পরিবারের গ্যাঁড়াকলে ভালো মানুষের মত বসে থাকা, এখন একটু ঘুরতে যাওয়ার সময়। একদিন রাখী তার প্রেমিক দীপককে অনুরোধ করে তাদেরকে পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এখন প্রেমিকার অনুরোধ তো ফেলে দেওয়া যায় না। তাছাড়া বন্ধুদের সামনে নিজের প্রেমটা জাহির করার আর প্রেমিকার বান্ধবীদের সামনে নিজের শৌর্য দেখানোর সুযোগ তো আর প্রতিদিন মেলে না। তাই দীপক রাজি হয়ে যায়। তাদের সাথে আরো থাকে তার দুই বন্ধু অতীশ আর সোমনাথ। তো এই ৬ জন মিলে দীপকের অ্যাম্বাসাডরে চেপে কলকাতা থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটা সুন্দর জায়গায় পিকনিক করতে যায়।
সেখানে যেয়ে আমরা দেখতে পাই দীপকদের ফ্রেন্ড সার্কেলেও একই কাহিনী। একজন আরেকজনকে সূক্ষ্মভাবে অপমানিত করার চেষ্টা করে মেয়েদের সামনে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার জন্য। আর এ নিয়ে মেয়েদের মধ্যে আড়ালে চলে ছেলেদের নিয়ে ভুল ধরা, আবার ভালো লাগা। এভাবে সারাদিন সময় কাটানোর পর সন্ধ্যের সময় যখন তাঁদের বাড়ি ফেরার পালা, তখন দীপকের গাড়ি কিছুতেই স্টার্ট হতে চায় না। আর তাতেই সবার দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়, বিশেষত রাখী, ইতু আর নন্দিতার। এই অংশ থেকেই গল্প এক অপ্রত্যাশিত বাঁক নেয়। যাদের বাসায় সন্ধ্যা ছটায় বাড়ি ফেরা মানেই বিশাল দুঃসাহসিক কাজ, তাদের কাছে গাড়ি স্টার্ট না নেওয়া টেনশনেরই ব্যাপার। সময়ের সাথে তিন বান্ধবীর মনের ধুকপুকানিও পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। সেদিনের শেষ ট্রেনটাও মিস হয়ে যায়, মেকানিকও দেখাতে পারে না কোনো আশার আলো। গাড়ি নষ্ট হওয়া থেকেই শুরু হয় একে-অন্যের চরিত্রের পরিবর্তন।
শুরুতে যা বলছিলাম, রমাপদ চৌধুরীর লেখা আসলে যত আগে লেখা হোক না কেন, তা বর্তমান সময়ের সাথেও চমৎকারভাবে খাপ খাইয়ে নেয়। ভিন্ন পরিস্থিতিতে একেক মানুষের একেক মনস্তত্ব, একেক চিন্তাভাবনা। বাস্তবে যেমন ঘটনাভেদে মানুষের প্রায়োরিটি বদলে যায়, এটা তিনি খুবই সূক্ষ্মভাবে দেখাতে পেরেছেন। বলব না যে বইয়ের প্লট খুবই চমৎকার কিছু, তবে পড়তে খারাপ লাগবে না। সংলাপগুলো পড়লে মনে হয় যেন সিনেমার স্ক্রিপ্ট পড়ছি। এমনিও বেশ ছোট কলেবরের বই এইটা। মনে রাখার মত প্লট না হলেও, বইটা পড়ার পর মনে হবে এই চরিত্র আর ঘটনাগুলো আপনার খুব চেনা। কে জানে, এই চরিত্রগুলোর একটা আপনি নিজেই?