"The oldest and strongest emotion of mankind is fear, and the oldest and strongest kind of fear is fear of the unknown." লাভক্র্যাফটের লিখে যাওয়া এই কথাটা যে সত্যি— তার অজস্র প্রমাণ ছড়িয়ে আছে আমাদের চারপাশে। ভালোবাসায়, ভক্তিতে, এমনকি ঘৃণা বা রাগের বশেও আমরা যা করার কথা ভাবি না, সেটাই করে ফেলি ভয়ে। এই সময়ে অলৌকিক তথা ভয়ের গল্প লেখায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেন শংকর চ্যাটার্জি। তাঁর আলোচ্য সংকলনটি গড়ে উঠেছে অজানাকে ভয় পাওয়ার এমন আটটা গল্প নিয়েই। একটি অতি-সংক্ষিপ্ত 'ভূমিকা'-র পর এই বইয়ে এসেছে: ১. মৃতদেহ ২. জলের গভীরে ৩. পিণ্ডদান ৪. গাছের প্রতিশোধ ৫. আত্মহত্যা ৬. অদ্ভুত ছবি ৭. ও কে? ৮. বৈদ্যুতিক চুল্লি গল্পগুলোর ভয় পাওয়ানোর ক্ষমতা অপরিসীম। রাতে শোয়ার আগে এগুলো পড়ার ভুল করলে লাইট জ্বালিয়ে শোয়াই নিরাপদ৷ কিন্তু এই বইটির সাংঘাতিক ক্ষতি করেছে প্রকাশকের অযত্ন। প্রথমত, গল্পগুলো ফেসবুকের মতো মাধ্যম থেকে বইয়ে স্থানান্তরিত হওয়ার সময় সেগুলো সম্পাদকীয় হস্তক্ষেপ দাবি করেছিল। তাতে কিছু অংশ বাদ যাবে, আবার কিছু ব্যাখ্যা সংযোজিত হবে— এটাই প্রত্যাশিত। এই বইয়ে সে-সব কিচ্ছু হয়নি। ধর-তক্তা-মার-পেরেক কায়দায় ফেসবুকের লেখাগুলো কপি পেস্ট করে দেওয়া হয়েছে। এতে গল্পগুলোর সঙ্গে সাংঘাতিক অবিচার করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বইটিতে অজস্র মুদ্রণ প্রমাদ আছে। পাতার শেষ লাইন সম্পূর্ণ না করেই পরের পাতায় অন্য লাইন শুরু হয়ে গেছে। অ্যালাইনমেন্ট আপাতভাবে জাস্টিফায়েড হলেও যতিচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বকমা আর এম-ড্যাশের যথেচ্ছ প্রয়োগে দস্তুরমতো নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। তৃতীয়ত, এমন মারাত্মক সব ভয়ের গল্পের সংকলনের নাম এত ঢ্যাবঢেবে হওয়া কোনোমতেই কাঙ্ক্ষিত নয়। সিসৃক্ষা থেকে প্রকাশিত লেখকের প্রথম সংকলন (কুহেলী) নামমাহাত্ম্যে সার্থক ছিল। তার তুলনায় এই বইয়ের নামকরণ এত ক্যাজুয়াল যে মাথা গরম হয়ে যায়। এই কারণগুলোর জন্যই একটি তারা খসালাম।
করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে এবং লকডাউন উঠলে আপনি নিশ্চয় নতুন করে আতঙ্কিত হওয়ার উপকরণ খুঁজবেন। তেমন আটখানা ডেঞ্জারাস রকম ভয়ের গল্প পাবেন এই বইয়ে— এ-ব্যাপারে মোটামুটি গ্যারান্টি দেওয়া যায়। সুযোগ পেলে অবশ্যই পড়ুন।
এই বইতে মোট আটটি গল্প আছে। এর মধ্যে শুধু 'গাছের প্রতিশোধ' এবং 'পিন্ডদান' গল্প দুইটা কিছুটা ভালো লেগেছে। সেজন্য ২ তারা দিলাম, তা না হলে একটাও তারা দিতাম না। এই ধরনের বই পড়া মানে সময়ের অপচয়।