ক্রসেড—ইসলামকে ভূপৃষ্ঠ থেকে নিশ্চিহ্ন করার এক ভয়ংকর খেলা। সমগ্র খ্রিষ্টজগৎ নিজেদের মধ্যকার সব ভেদাভেদ ভুলে একজোট হয়ে মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হওয়ার এক লোমহর্ষক আলেখ্য। সালাহুদ্দিন আইয়ুবির হাত ধরে তাদের এসব আস্ফালনকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া এবং সম্মিলিত ইউরোপিয়ান শক্তিকে নাকানিচুবানি খাওয়ানো ও প্রথম কেবলা বাইতুল মুকাদ্দাসকে তাদের অপবিত্র হাত থেকে উদ্ধার করার এক রুদ্ধশ্বাস ইতিহাস। ক্রুসেড নিয়ে যুগে যুগে কলম ধরেছেন বিভিন্ন ঐতিহাসিক, ঔপন্যাসিক ও গল্পকারেরা। ইতিহাসের পাতা মন্থন করে এর ভাষ্যকে নিত্য-নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছেন পাঠকের সামনে। কোনো কালেই ক্রুসেডের ইতিবৃত্তের আবেদন ফিকে হয়নি। তাই সব যুগেই এই বিষয়ে রচনা ছিল চলমান প্রক্রিয়া। এই চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হয়েই ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আরব বিশ্বের অন্যতম কালজয়ী ও প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. রাগিব সারজানির অনবদ্য রচনা- ক্রসেড : খ্রিষ্টানদের হিংস্র যুদ্ধের ইতিহাস
ক্রুসেডের ইতিহাস নিয়ে যারা জানেন তারা মোটামুটি অনেক কিছুই জানেন।আর যারা জানেন না তারা মোটামুটি কিছুই জানে না। আমি দ্বিতীয় গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। কেবল মাত্র সালাউদ্দিন আইয়ুবির নাম ছাড়া অন্য কোন কিছু জানতাম না। ড. রাগিব সারজানির লেখা ক্রুসেড বইটি পড়ে কতটুকু জেনেছি তাও নিশ্চিত না। . মুসলিম ভূখণ্ডে ক্রুসেডারদের আগমন থেকে পরবর্তী ৫০ বছরের ঘটনা প্রবাহ বইটিতে লিপিবদ্ধ আছে। সেই সাথে আছে তখনকার সময়ের মুসলিম নেতাদের অবদান এবং তাদের ভূমিকা। সেলজুক সালতানাত, বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আর ক্রুসেডার রাজ্যগুলোর ঘটনা প্রবাহ লিপিবদ্ধ আছে সুন্দর করে। ক্রুসেডদের সাথে বিভিন্ন যুদ্ধ, সেই সকল যুদ্ধে মুসলিমদের জয় পরাজয়ের বিশ্লেষণ রয়েছে গোছানো ভাবে।আরো আছে কিছু বীর সেনানীর জীবনী। বইটির পূর্নাঙ্গ রিভিউ দিতে পারব না কারন আগেই বলেছি ইসলামের ইতিহাসে আমার দখল শূন্য। তবে বইটি পড়লে মওদুদ আর ইমাদুদ্দিন জিনকি রাহিমাহুল্লাহ নিয়ে যেমন একটা সুন্দর ধারণা পাবেন তেমনি সেই সব ইতিহাসের আরো গভীরে প্রবেশ করার আগ্রহ অনুভব করবেন।