প্রতিটি ব্যক্তির নির্মিত জগৎ তার ব্যক্তিগত। সমাজ ছাড়া ব্যক্তির অস্তিত্বের কল্পনা অর্থহীন। অথচ, ব্যক্তির চোখে ব্যক্তিগতই মূল, ব্যক্তিই প্রধান। ব্যক্তির সঙ্গে তাই ব্যক্তির দ্বন্দ্ব। পারস্পরিক চাওয়া-পাওয়ার কোনও শেষ নেই। লেন-দেনের কম-বেশি হয়েই যায়। কোথা থেকে এসে যায় আত্মগর্বী ক্ষমতার প্রকাশ। উর্ধ্বতন-অধস্তন, ধনী-দরিদ্র, ভাই-বোন, প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী, কোনও সম্পর্কই রেহাই পায় না ক্ষমতার গ্রহণ-লাগা থেকে। গড়ে উঠতে থাকে দুঃখ, অতৃপ্তি, হতাশা— এক শূন্যতাবোধ। জীবন তবু এগিয়ে চলে এই শূন্যতা ভরিয়ে তোলার আশায়। ওই যে শূন্যস্থান, যা বারবার ভরে উঠতে গিয়েও ভরে না, অথচ মনে হয় একদিন ভরে উঠবেই, সে থাকে মানুষেরই মনে অন্য কোনওখানে। মাস্টারমশায় হরেন্দ্রনাথ, রাজনীতি করা শিক্ষক তমুকবাবু, রহস্যময় সন্ন্যাসী অবিন মিশকিন, সমীর সাউ ও মিনতি সাউ— সকলেরই জীবন পরস্পরের কক্ষপথ ছুঁয়ে সামাজিক ও ব্যক্তিগত ছন্দে পাক খায়। এরই মধ্যে সৎ মানুষ দোষী সাব্যস্ত হয়, অসৎ উন্নতি করে। উপন্যাস জুড়ে ইরাবতী, জনা, দীপ্তার্ক, হ্যারিরা প্রেম করে, প্রেমে আঘাতও পায়। মেজর বাবর, স্কোয়াড্রন-লিডার নুরের মতো সোমদেবও লড়াই করে। যুদ্ধ চলতে থাকে একদিন যুদ্ধ শেষ হবে এই আশায়। আর সকলের মতো সকলের স্রষ্টাও হয়তো অনন্তের পথে পা বাড়িয়েছেন একই প্রত্যাশায়। তিনিও তো এক নির্মাণ, এক কল্পনা, এক অপরিসীম প্রত্যাশার প্রতীক। অন্য কোনওখানে উপন্যাসের বৃহৎ ক্যানভাসে ধরা পড়েছে জীবনের রহস্য, যা প্রকৃতপক্ষে অনিঃশেষ।
শেখর মুখোপাধ্যায়ের জন্ম অক্টোবর ১৯৬৫, রামপুরহাট, বীরভূম। রামপুরহাটের কাছাকাছি গ্রাম বেলিয়ায় পিতৃপুরুষের ভিটে। ঠাকুরদার উদ্যোগে হাতেখড়ি ও পড়াশোনার সূত্রপাত গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে।পিতার কর্মোপলক্ষে বাল্যকাল অতিবাহিত হয় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে। পরবর্তীকালে পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে শান্তিনিকেতন, লেখাপড়াও বেশির ভাগই সেখানে। অর্থনীতিতে এম এ। কয়েকটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার পর সরকারি কলেজে অধ্যাপনা— প্রথমে দার্জিলিং গভর্নমেন্ট কলেজ, গোয়েঙ্কা কলেজ অফ কমার্স অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, বর্তমানে ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজে কর্মরত।লেখালেখির সূত্রপাত ছাত্রজীবনে স্কুল-কলেজের ম্যাগাজিনে। পরে দীর্ঘ ছেদ। ছোটগল্প ‘প্রোমোটারের লোক’ সেপ্টেম্বর ২০০৫ দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর আবার নিয়মিত সাহিত্যচর্চায় রত।শখ: বই, রান্না, গান।
উপন্যাস টি তে কঠোর বাস্তবকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। হরেন্দ্রনাথ র মত আদর্শবাদী মানুষদের বেচে থাকা যে কত কঠিন তা পাতায় পাতায় বর্ণিত হয়েছে। বৈতান র অবিন মিশকিন প্রথম থেকেই রহস্যময়ী, তাকে ঘিরে কত কাহিনী , সবই যেনো আমাদের চারপাশে ঘটতে থাকা ঘটনা যার শিকার হয় দুর্বল জনগণ।অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র ইরাবতী সেই সকল নারীদের প্রতিনিধিত্ব করে যারা ছোট থেকেই শৈশব তথা কৈশোরের আনন্দ থেকে বঞ্চিত, জীবনে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য তথা মাথার ওপরে ছাদ বাঁচিয়ে রাখার জন্য সব সময় সংগ্রামে লিপ্ত। বাবর, কর্নেল সোনম, বনলতা, নির্মল, দয়ানন্দ প্রমুখ ব্যক্তি সকল সকলেই জীবন্ত হয়ে উপন্যাসটিকে এক অপরূপ সৌন্দর্য দান করেছে।
🎋🍁 বইয়ের নাম - অন্য কোনওখানে🍁🎋 ✍️লেখক - শেখর মুখোপাধ্যায় 🖨️প্রকাশক - আনন্দ পাবলিশার্স 🧾পৃষ্ঠা সংখ্যা - ৭০১ 💰মূল্য - 450₹
🎋🍁🍂সদ্য শেষ করলাম সাহিত্যিক শেখর মুখোপাধ্যায় এর লেখা “অন্য কোনওখানে”! যদিও লেখকের লেখা এটাই প্রথম বই পড়ছি এমনটা নয়,এর আগেও আমি ওনার লেখা উপন্যাস পড়ছি পূজাবার্ষিকী তে “অঝোর মৌসুমি” এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ছোট গল্প! এই উপন্যাস টি পাঠককে ভাবায়, অনেক কিছু জানায়, কিছু প্রতিষ্ঠিত ধ্যান ধারণাকে প্রশ্ন করতে শেখায়। স্বচ্ছ দৃষ্টি ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তুলেছেন এই উপন্যাস।ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনও সুন্দর ভাবে কাহিনীর পরতে পরতে সাজিয়েছেন। এককথায় খুব ভালো লেগেছে এই উপন্যাস! এবার আসি উপন্যাস এর কথায় - প্রতিটি ব্যক্তির নির্মিত জগৎ তার । ব্যক্তিগত। সমাজ ছাড়া ব্যক্তির অস্তিত্বের কল্পনা অর্থহীন। অথচ, ব্যক্তির চোখে ব্যক্তিগতই মূল, ব্যক্তিই প্রধান। ব্যক্তির সঙ্গে তাই ব্যক্তির দ্বন্দ্ব। পারস্পরিক চাওয়া-পাওয়ার কোনও শেষ নেই। লেন-দেনের কম-বেশি হয়েই যায়। কোথা থেকে এসে যায় আত্মগর্বী ক্ষমতার প্রকাশ। ঊর্ধ্বতন-অধস্তন, ধনী-দরিদ্র, ভাই-বোন, প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী, কোনও সম্পর্কই রেহাই পায় না ক্ষমতার গ্রহণ-লাগা থেকে। গড়ে উঠতে থাকে দুঃখ, অতৃপ্তি, হতাশা— এক শূন্যতাবোধ। জীবন তবু এগিয়ে চলে এই শূন্যতা ভরিয়ে তোলার আশায়। ওই যে শূন্যস্থান, যা বারবার ভরে উঠতে গিয়েও ভরে না, অথচ মনে হয় একদিন ভরে উঠবেই, সে থাকে মানুষেরই মনে অন্য কোনওখানে। মাস্টারমশায় হরেন্দ্রনাথ, রাজনীতি-করা শিক্ষক তমুকবাবু, রহস্যময় সন্ন্যাসী অবিন মিশকিন, সমীর সাউ ও মিনতি সাউ— সকলেরই জীবন পরস্পরের কক্ষপথ ছুঁয়ে সামাজিক ও ব্যক্তিগত ছন্দে পাক খায়। এরই মধ্যে সৎ মানুষ দোষী সাব্যস্ত হয়, অসৎ উন্নতি করে। উপন্যাস জুড়ে ইরাবতী, জনা, দীপ্তার্ক, হ্যারিরা প্রেম করে, প্রেমে আঘাতও পায়। মেজর বাবর, স্কোয়াড্রন-লিডার নূরের মতো সোমদেবও লড়াই করে। যুদ্ধ চলতে থাকে একদিন যুদ্ধ শেষ হবে এই আশায়। আর সকলের মতো সকলের স্রষ্টাও হয়তো অনন্তের পথে পা বাড়িয়েছেন একই প্রত্যাশায়। তিনিও তো এক নির্মাণ, এক কল্পনা, এক অপরিসীম প্রত্যাশার প্রতীক। ‘অন্য কোনওখানে' উপন্যাসের বৃহৎ ক্যানভাসে ধরা পড়েছে জীবনের রহস্য, যা প্রকৃতপক্ষে অনিঃশেষ!!🍂🍁🎋 🎋এই উপন্যাসের কিছু কথা আমার ভীষন ভালো লেগেছে সে গুলো নীচে তুলে ধরলাম 👇
🍁🎋‘জীবনকে বুঝতে কখনও কখনও ভুল হয়ে যায়। এমন কিছুকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে বসি আমরা, যার অতটা গুরুত্ব পাওয়ার কথা নয়। আমাদের চারপাশে কোনও কিছুরই এত মূল্য নেই মি. বাসু, যার জন্য নিজের জীবনটা তছনছ করে ফেলা যেতে পারে’!🎋🍁
🎋🍁‘পাহাড়ে সকালের রূপ বিচিত্র। কারণ সমতলের তুলনায় এর প্রকাশ ভিন্নতর। এখানে আকাশ যেমন নীল হয় এমন আর কোথাও না। ঝলমলে রোদে উজ্জ্বল দিনে পাহাড়ের রাস্তায় নিজেকে ঈশ্বরের সন্তান ভাবতেই ইচ্ছে হয়। হঠাৎ স্বপ্ন দেখতে চায় মন। মনে হয় কোথাও কোনও আশঙ্কা নেই, জীবনে কোনও ভয় নেই, কেউ কারও শত্রু নয়। ইচ্ছে হয় সকলের মঙ্গল কামনা করতে। সবাই ভাল থাকুক’!🎋🍁