যারা শিল্পকলার ছাত্র নন, প্রথাগত শিল্পবোদ্ধা নন, তাঁদের জন্য পেইন্টিং নিয়ে এই বই। পেইন্টিঙের প্রধান প্রধান ধারা, চিত্রকলার নানা আন্দোলন, কাল, পর্ব নিয়ে সরল ভাষায় মনোহর ভঙ্গিতে আলাপ করা হয়েছে বইটিতে। কখনো এসেছে সমাজ, রাজনীতি, দর্শন সামাজিক দ্বন্দ্ব। সবকিছুর মধ্যে পেইন্টিংকে বসিয়ে শিল্পরস ব্যাখ্যা করেছেন লেখক। এই ব্যাখ্যা চূড়ান্ত নয়, শিল্পের ক্ষেত্রে তা হতেও পারেনা। কিন্তু একটা ব্যাখ্যাতো বটেই। পৃথিবীর ইতিহাসে যেই পেইন্টিংগুলো কালকে অতিক্রম করেছে, ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে, তার অধিকাংশই এখানে আলাপ করা হয়েছে। বইটি এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মতোই।
"মন ভ্রমরের কাজল পাখায়" বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। পশ্চিমা দেশের বিখ্যাত ও যুগ শ্রেষ্ঠ কিছু চিত্র ও ভাস্কর্য উঠে এসেছে এই বইয়ের আলোচনাতে।
ছবি দেখে শুধু চোখের শান্তি, সৌন্দর্য টুকুকে অন্তরে ধারন করা এটার জন্য ছবিকে চুলচেরা বিশ্লেষণের প্রয়োজন পড়ে না, ছবির দিকে এক পলক তাকালেই হয়। কিন্তু ছবিও কথা বলে। তাই ছবি দেখা শিখতে হয়, সে শিল্প হোক বা না হোক। অনের শিক্ষিত মানুষ আছে যারা পৃথিবী বিখ্যাত পেইন্টিং দেখে এক পলক তাকিয়ে চলে যান। অথচ সেই ছবিটা হয়তো পৃথিবী তোলপাড় করা বিখ্যাত ছবি। পৃথিবীতে বিখ্যাত ছবির সংখ্যা অনেক কিন্তু সেই ছবি দেখতে শেখা বা বুঝতে পারার মত বা ধারনা লাভের কোন বই বাংলাতে খুব একটা নাই। ইংরেজিতে থাকলেও তার হয়তো অনুবাদ হয়নি, যার ফলে ছবির ব্যপারে এতো অজ্ঞতা। ছবি বুঝতে হয় চোখ বা ইন্দ্রিয় দিয়ে নয় বুদ্ধি দিয়ে। ছবি এখন দৃষ্টিনন্দনের বিষয় নয়, বুদ্ধি দিয়ে বিচারের বিষয়।
তবে অতীতের তুলনায় বর্তমানে পেইন্টিং এর প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে। মর্ডান পেইন্টিং এর মূল বিষয়, কী আঁকা হচ্ছে তা নয়, কিভাবে আঁকা হচ্ছে এটাই বিষয়।
পেইন্টিং দেখতে ভালো লাগে তবে এতে যে বোঝার মত কিছু আছে তা এই বইটা না পড়লে কোন দিন বুঝতের পারতাম না। এক বিখ্যাত মোনালিসা ছবিটা যে তিনজন ব্যক্তির আঁকা এবং এতো রহস্য লুকানো বইটা না পড়লে জানাই হতো না।
ছবি দেখে কখন এর স্থান কাল বুঝতে চেষ্টা করি নাই, তবে বইটা পড়ার পর ছবির ব্যপারে নিজের মাঝে আগ্রহ তৈরি হলো। ১৩২ পৃষ্ঠার বইয়ে ১১১টা ছবি দেওয়া। বেঝার সুবিধার জন্য একই ছবির দুই /তিনটা ছবি দেওয়া আছে। তাছাড়া লেখক প্রতিটা ছবি ধরে ধরে তার বিশ্লেষন করেছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন ছবির পেছনে থাকা মানুষটা ব্যপারে নানা তথ্য।