একদিকে তন্ত্র,অন্যদিকে প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত রহস্য উন্মোচনের ক্ষমতা। একদিকে ভয়,অন্যদিকে সম্পর্কের টানাপোড়েন। হাড় হিম ভয়ের আবহে যুক্তি ও প্রগাঢ় মেধার সংমিশ্রণে ভৌতিক রহস্য উদঘাটনের আলেখ্য এই বই আপনাকে যে কাছে টানবে এ কথা বলাই বাহুল্য।
তন্ত্র আর অপতন্ত্র নিয়ে আমাদের মনে কৌতূহল থাকেই। রাস্তার দু'ধারে হোর্ডিং থেকে বিভিন্ন 'তন্ত্রসিদ্ধ' দাবি করেন যে তাঁরা ভালো ও মন্দ— যজমানের জন্য দু'রকম কাজই করার ক্ষমতা রাখেন। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়েও আমরা ভাবি, "সত্যি কি এমন কিছু হয়?" এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজি বলেই আমরা নানা বই পড়ি। তন্ত্রের 'সাধনা' অংশটা আমরা উপেক্ষা করি। তার বদলে আমরা সেখানেও দেখতে চাই 'দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন'। আলোচ্য বইটি সেই ধারাতেই লেখা। এই বইয়ের প্রথম কাহিনি 'মাহেন্দ্রানী'। এতে বেশ কিছু রহস্যময় ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের সঙ্গে আলাপ হয় মাহেন্দ্রানী'র। আমরা জানতে পারি তাঁর জন্ম-পরিচয়। তাঁর ক্ষমতার সম্বন্ধেও আমাদের একটা ধারণা তৈরি হয়। দ্বিতীয় কাহিনি 'ছবি কথা বলে'। এতে তন্ত্র আর অলৌকিকের প্রয়োগের পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চার খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তৃতীয় কাহিনি 'সংরক্ষিত মৃতদেহ'। এতে আমরা অপশক্তি প্রয়োগের একটি মারাত্মক ঘটনার সম্মুখীন হই। এই লেখাগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে লিখলে সিরিয়াসলি ভালো লাগত। কিন্তু স্রেফ বর্ণনা দেওয়ার মতো করে লেখার ফলে বইটা পড়া কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। যদি তন্ত্র ও অপতন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে রোমাঞ্চকর উপাখ্যান পড়তে চান, তাহলে এই বইটা পড়ে দেখতে পারেন।