৭০ খ্রীষ্টাব্দ। নিজেদের পূণ্যভূমি থেকে ইহুদিরা বিতাড়িত হল রোমানদের দ্বারা। আর তারপর... প্রায় দু'হাজার বছর ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উদ্বাস্তু হয়ে ঘুরেছে তারা, গড়ে তুলেছে বসতি। ভারতেও এসেছিল ইহুদিরা। মূলতঃ কোলকাতা, বোম্বাই এবং কোচিনে। কিন্তু নিজেদের পূণ্যভূমিতে আবার ফিরে যাওয়ার স্বপ্নকে ভোলেনি। বংশপরম্পরায় তারা জিইয়ে রেখেছে এই হাজার হাজার বছরের স্বপ্নকে। ইউরোপে, রাশিয়ায় জাতিবিদ্বেষী আক্রমণের মুখে বারবার অত্যাচারিত হতে হয়েছে ইহুদির দল। আর হলোকাস্টের বীভৎসতার কাহিনি কম বেশি সবারই জানা। ঘাত - প্রতিঘাত সয়ে সয়ে প্যালেস্টাইনের পাথুরে, অনুর্বর আর ক্যাকটাসের জঙ্গলে ভরা এলাকায় তারা গড়ে তুলেছিল তাদের দেশ - 'ইসরায়েল'। জন্মলগ্নেই প্রতিবেশী ইসলামিক দেশগুলো ইসরায়েলের অস্তিত্বকে মুছে দেওয়ার জন্য বারবার আক্রমণ চালিয়েছে। শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ইসরায়েল আরও শক্তিশালী করে তুলেছে নিজেকে। কয়েক দশকের মধ্যেই সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তিতে তারা এমন একটা জায়গায় নিজেদের উন্নীত করেছে যে তা রূপকথাকেও হার মানায়। আর এই রূপকথার কাহিনিই রয়েছে 'হ্যারেৎজ'-এ।
ধন্য বেন গুরিয়নের সেই অমর উক্তি - "In Israel, in order to be realist you must believe in miracles!"
ইসরাইলের সামরিক ইতিহাস লিখতে গিয়ে ধর্মীয় বিদ্বেষ, মিথ্যাচার ও তথ্যবিকৃতি করে লেখা বই 'হ্যারেৎজ'। ইসরাইলের পোষা সারমেয় না হলে কেউ এমনভাবে লিখতে পারে না। যে-কোনো কট্টর ইহুদিকে দালালিতে হারিয়ে দেবে এই সারমেয়। ইসরাইলিদের গুণপনা ও বিদ্যাবুদ্ধির বহর সারা পৃথিবীকে তাক লাগিয়েছে। খামোখা একচোখামি না করলে বইটা ভালো হতে পারতো। অভীকবাবু ভূমিকায় লিখেছেন,
"এখন প্রশ্ন হল, পাঠক কেন ভারতের সামরিক ইতিহাস ছেড়ে ইসরায়েলের সামরিক ইতিহাস নিয়ে পড়তে যাবেন?
উত্তর একটাই---- ভারত ইসরায়েল হতে চলেছে। "
মোদিজি যে দেশের রাজা এবং আপনার মতো মিথ্যুক ও দালাল কিসিমের সারমেয় লেখক যেখানে বসবাস করে, সেই দেশের ইসরাইল না হয়ে উপায় আছে?
কতিপয় সাম্প্রদায়িক কীটকে দেখলাম এই অখাদ্য পুস্তক নিয়ে মাতামাতি করছে। এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা করো।
এই বই এক বিজয়গাথা। কার? ইজরায়েলের সেনাবাহিনীর, মোসাদের, ইজরায়লের, ইহুদিদের... হাজার-হাজার বছর ধরে লাঞ্ছিত আর নির্যাতিত মানবতার। তেমন বিজয়গাথা হয়তো অনেকের জন্যই লেখা যায়। কিন্তু "ভুলিও না, ক্ষমাও করি না" নীতি নিয়ে যারা শত্রু-নিপাত করাটাকে একটা শৈল্পিক রুটিনে পরিণত করেছে, তাদের জন্য এমন বই লেখা হলে তা অতি বিশেষ হয়ে ওঠে, তাই না? 'কথামুখ'-এ এই বই লেখার পটভূমিটি বলার পর লেখকদ্বয় আলোচনা বিন্যস্ত করেছেন এই ক'টি অধ্যায়ে~ ১. রিটার্ন টু জায়ন; ২. গোড়ার কথা; ৩. অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স; ৪. যারা বেঁচে ফেরেনি; ৫. এ লড়াই বাঁচার লড়াই; ৬. কোথা কোথা খুঁজেছি তোমায়; ৭. অপারেশন য়াহলোম; ৮. যার কেউ নেই, তার ড্রোন আছে; ৯. আমরা ভুলিনি, ক্ষমাও করিনি; ১০. আয়রন ডোম; ১১. আপনার টুথপেস্টে কি বিষ আছে; ১২. একটি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে; ১৩. ফর ইউ, গ্র্যান্ডপা ১৪. বাঘের নখ, সাপের চোখ; ১৫. সুহা, আই লাভ ইউ; ১৬. মারে মোসাদ রাখে কে; ১৭. অপারেশন প্লাজমা স্ক্রিন; ১৮. জেহাদ এবং মোসাদ; শেষে রয়েছে তথ্যঋণ— যা কৌতূহলী পাঠককে প্রচুর পড়ার খোরাক জোগাবে। এই বইয়ের ভালো দিক কী-কী? প্রথমত, বাংলায় এই বই আজ থেকে কয়েক বছর আগেও অচিন্ত্যনীয় ছিল। না, মোসাদ বা ইজরায়েলি বাহিনীর দক্ষতা তখনও সর্বজনবিদিত ছিল। কিন্তু ভারতে, বিশেষত বাংলায় ইজরায়েল তথা ইহুদিদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্বেষ ছিল মারাত্মক। তার পেছনে কী বা কারা দায়ী, তা আজ আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন রাখে না। তবে সে-সময় নিকটপ্রাচ্য বা মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বাংলায় বই লেখা হলে তাতে নায়ক হত আরবরা, আর অবধারিত খলনায়ক হত আয়তনে ও জনসংখ্যায় তাদের তুলনায় ভগ্নাংশ-স্থানীয় ইউজরায়েল। নিরপেক্ষতার নামে সেই ভয়ংকর পক্ষপাতের অচলায়তন ভেঙে দেওয়া এই বই একঝলক টাটকা বাতাস। দ্বিতীয়ত, তথ্য আহরণ, চরবৃত্তি এবং শত্রুর বুকে চেপে দাড়ি ওপড়ানোকে চড় খেয়ে গাল পেতে দেওয়ার তুলনায় নির্দ্বিধায় শ্রেষ্ঠতর বলে দাবি করা হয়েছে এই বইয়ে। তাই এই বই শুধুই ইজরায়েলের দুই ফ্যানবয়ের মুগ্ধতার প্রকাশ নয়। বরং রণকৌশল এবং প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষার নানা খুঁটিনাটি তুলে ধরা হয়েছে এখানে। তৃতীয়ত, লেখকেরা যথেষ্ট আবেগের সঙ্গে ইজরায়েলের 'পক্ষ' নিলেও তথ্যের সঙ্গে আপোষ করেননি। তাই বেশ কিছু ব্যর্থতা এবং ত্রুটির কথাও উল্লিখিত হয়েছে স্পষ্টভাবেই। এই বইয়ের খারাপ দিক কী-কী? প্রথমত, কূটনৈতিক ও কৌশলগত কারণে সাতের দশকে ইজরায়েল দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায় এবং আফ্রিকায় একের পর এক অত্যাচারী, স্বৈরতান্ত্রিক এবং দুর্নীতিপরায়ণ শাসককে উৎসাহ ও সমর্থন জুগিয়েছিল। এগুলো ইজরায়েলের পক্ষে গর্বের বিষয় নয়। কিন্তু একাত্তরের যুদ্ধজয়ীই যে পঁচাত্তরের স্বৈরতন্ত্রী— সেটা যেমন আমরা উল্লেখ করি, তেমন ভাবেই এগুলোও উল্লেখ করা উচিত ছিল। দ্বিতীয়ত, ইজরায়েল রাষ্ট্র পত্তনের পর প্রথম কয়েকটা বছর সেখানে নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে মজবুত করে তোলা হয়েছিল, সেটা সামান্য হলেও উল্লেখ করা উচিত ছিল। তৃতীয়ত, এই বইয়ে মানচিত্র ছিল একান্ত আবশ্যক। প্রায় প্রতিটি অধ্যায়েই ওই বস্তুটির অভাব বড্ড বেশি করে অনুভব করেছি। আশা রাখি যে এই বইয়ের পরবর্তী খণ্ডে এই বিষয়গুলো আসবে। তারই সঙ্গে আসবে অপারেশন এন্টেবে এবং আরও বেশ কিছু মিশনের রোমহর্ষক বিবরণ। একসময় ভারতকে সাহায্য করতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছিল মোসাদ, সেটাও হয়তো তাতে বলা থাকবে— যাতে মিশে যাবে অজস্র ভারতীয় যোদ্ধার হাহাকার, যাদের মোরারজি দেশাই নিপুণভাবে বলি দিয়েছিলেন। বইটির এই প্রথম সংস্করণে বেশ কিছু মুদ্রণ প্রমাদ আছে। আশা করি পরবর্তী সংস্করণগুলোতে তা শুধরে নেওতয়া হয়েছে। এ-বই তো নিছক বিনোদনের বস্তু নয়, বরং এ এক প্রামাণ্য রেফারেন্স। তাই সেই সম্মান এর প্রাপ্য। যদি পেট্রোডলার-পুষ্ট প্রচারের বাইরে গিয়ে নিকট ও মধ্যপ্রাচ্যের আসল হিরো আর ভিলেইনদের চিনে নিতে চান, তাহলে এই বইটা পড়ুন প্লিজ। শুধু বিড়ালের বাঘ হয়ে ওঠার কাহিনিই নেই এতে। বরং এতে আছে এক ক্ষতবিক্ষত ও দর্শকদের করুণার বিষয়ে পরিণত হওয়া বাঘের হৃতগৌরব ফিরে পাওয়ার রূপরেখাও। আর সেজন্যই এই বইটা পড়া আজ এত প্রয়োজন।
আমার এক ভারতীয় বন্ধু বইটা উপহার দেয়, বইটা পড়ার শুরুতেই বুঝতে পারছিলাম বাংলাদেশকে নিয়ে বিদ্রূপের স্বর, না না শুধু বাংলাদেশ না পুরো মুসলিম জাতিকেই টেনে এনেছে। পুরো বইয়ের ভেতর ছিলো লেখকের অগণিত ভাঁড়ামি। মাঝেমধ্যে মনে হচ্ছিলো ফেসবুকের স্ট্যাটাস পড়ছি, এই রকম জঘন্য বই লিখতে হলে আলাদা ধরণের প্রতিভা লাগে, এই বইয়ের লেখকের সেই প্রতিভা আছে। লেখার ভেতরে ভেতরে কিছু জায়গায় ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করে লেখক মার্কেটিং করার চেষ্টা করেছে কিন্তু এটা তো বই না এসব করে এটাকে খিচুড়ি বানিয়ে ফেলেছে।
এই বইয়ের লেখক বাংলাদেশের হিন্দুদের সংখ্যালঘু বলে সংজ্ঞায়িত করে তাদের উপর মিথ্যা অত্যাচারের কথাকে তথ্যসূত্র হিসাবে ব্যবহার করে নিজেদের খুব মানবিক এবং মহান হিসাবে প্রমাণ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে, লেখক মনে হয় ভুলে গিয়েছে গুজরাটে মুসলিম গণহত্যার কথা। এখনো রক্তের দাগ শুকিয়ে যায়নি, উলঙ্গ করে মুসলিম নারীদের গণধর্ষণ এবং গণহত্যার কথা ভুলে যাইনি আমরা, আমরা ভুলে যাইনি কতো মুসলিম বাবা, মা, ভাই, বোনকে গণহত্যার কথা। লেখক মনে করেছে এই বর্বরতা মুসলিম জাতি ভুলে যাবে, হাস্যকর! ইন শা আল্লাহ এই অপরাধের বিচার আল্লাহ করবেন।
আর রইল লেখকের ইজরাইলের গোলামি মনোভাব, ফিলিস্তিনের উপর অত্যাচারের বিষয়টা কিছু মাস আগে যখন বিশ্বের সামনে আসে তখন কিছু ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ দিয়ে বলে ❝StandWithIsrael❞ কই তখন কোথায় গেলো আপনাদের মানবিকতা? সে যায় হোক, যাদের পাশে দাঁড়ালেন তার�� কী বলেছিলো মনে আছে? ❝আমরা ইজরাইল, আমাদের গোমূত্র পানকারীদের Support এর দরকার নেই, আমরাই যথেষ্ট আমাদের জন্য❞ নিজেরা উন্নত হয়ে উঠুন, নিজেদের গল্প বলুন, বিড়াল থেকে যতোই বাঘ হয়ে যাক সে কিন্তু বিড়ালই থাকে। আপনার এইসব প্রেরণামূলক কথাবার্তা হলো সেক্সের উত্তেজনার মতোই ক্ষণস্থায়ী, আর বই যে লিখেছেন বইয়ে প্রচুর বাংলা ব্যাকরণে ভুল আছে তবে গণহত্যা আর গণধর্ষণ ছেড়ে কলম দিয়ে লড়াই করাকে প্রশংসা করি।
বিড়ালের বাঘ হয়ে ওঠার গল্প.. ----------------------------------------------------নমস্কার,খবর পড়ছি তরুন চক্রবর্তী.....।"..তারপর খবর পড়া শুরু হতো।যতবার খবর পড়া হতো বহু পুরোনো 'সন্তোষ' রেডিও বেজে উঠতো ঠিক ঠিক সময়ে।সাধারণত এই নিয়মের ব্যতিক্রম হতো না।আমাদের বাড়িতে টি.ভি ছিল না বহুদিন পর্যন্ত।সেটা ১৯৯০ এর শুরুর দিক।গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সবে ভর্তি হয়েছি।প্রতিদিন পাল্টে যাওয়া খবরের মধ্যে কিছু কিছু শব্দ ফিরে ফিরে আসতো।ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন-গাজা ভূ-খন্ড। আরও কিছুদিন পর কয়েকটি নাম -সিমন পেরেস,অ্যারিয়েল শ্যারন,ইহুদ অলমার্ট, ইয়াসের আরাফত,সাদ্দাম হোসেন....।শুধু শব্দগুলিই জানা ছিল আর বিশেষ কিছু নয়....এর বহু পরে ন্যাশনাল বুক এজেন্সির একটা বই পড়েছিলাম মূলত ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন সমস্যা ও তার ইতিহাস সম্পর্কিত। এখন ও মনে আছে বইয়ের শেষদিকে একটি ছবি ছিল -ইয়াসের আরাফতের হাত ধরে আছেন জ্যোতি বসু। ********************************অনেকদিন পর আবার এই বিষয় নিয়ে পড়লাম অভীক মুখোপাধ্যায় ও চন্দ্রনাথ সেনের লেখা 'হারেৎজ'।এমন একটা সময় পড়তে শুরু করলাম এই বই যখন প্যালেস্তাইন -ইজরায়েলের বাতাসে বারুদের গন্ধ।মুহুর্মুহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেই বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা।'হারেৎজ' এর অর্থ 'দি ল্যান্ড অফ ইজরায়েল'।বলা ভালো 'দি প্রমিসড ল্যান্ড অফ ইজরায়েল'।৩০০০ বছর আগে নিজেদের দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল তারা।অত্যাচারিত হয়েছে বিভিন্ন দেশে।হিটলারের ইহুদি নিধন তো সবারই জানা।অথচ ইহুদীদের বিদ্যাবুদ্ধি প্রবাদপ্রতিম।আইনস্টাইন,ফ্রয়েড,উডি অ্যালেন,কার্ল মার্কস..।বিখ্যাত ইহুদীদের তালিকাটা দীর্ঘ।বিখ্যাত তাদের জেদ ও।বইটি শুরু হয় ইহুদী জাতি ও তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস,জায়নিজম, সংস্কৃতি ইত্যাদি নিয়ে নাতিদীর্ঘ ধারণা দিয়ে।১৯৪৮ এ ইজরায়েল প্রতিষ্ঠা হবার পর থেকেই একাধিক বার একাধিক আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে।নিরন্তর উন্নত করে গেছে লড়াইয়ের প্রকৌশল।ইসরায়েলী গুপ্তচর সংস্থাগুলির কীর্তি কলাপ পরিণত হয়েছে মিথে।সেগুলি কোন থ্রিলার উপন্যাসের চেয়ে কম চমকপ্রদ নয়।এই হিসাবে দেখলে অভীক মুখোপাধ্যায়ের বইটিকে 'নন-ফিকশন থ্রিলার' বলা যায়।তবে একটি একাধিক চমকপ্রদ অভিযানের সমাবেশ ঘটেছে বইটিতে।হত্যা-গুপ্তহত্যা-আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ যুদ্ধ আর ছায়াযুদ্ধে ভরা মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েলের হার -না-মানা মানসিকতা আর লড়াইয়ের রূদ্ধশাস বিবরণ রয়েছে বইটিতে।এই তথ্য বিস্ফোরণের যুগে তথ্যের অভাব হয়তো নেই।কিন্তু আশংকা আছে তথ্যের গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাবার।সেই চ্যালেন্ঞ্জটাই জিতেছেন লেখক।লেখা হয়ে উঠেছে টানটান,নির্মেদ,উপভোগ্য।ইজরায়েলের 'চোখের বদলে চোখ' নীতি কেউ সমর্থন করতে নাই পারেন তাতে ইতিহাস পাল্টে যায় না।মিথ্যা হয়ে যায় না পাঁচ পাঁচটি ইসালামিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি সদ্যজাত দেশের মরণপন লড়াইয়ের গাথা।মাত্র ছয়দিনের লড়াইয়ে নিজের ক্ষেত্রফল চারগুণ বাড়িয়ে নেবার বীরগাথা ও মিথ্যা হয়ে যায় না।না, একটি বইতে সবকথা বলা বা সবদিক বলা সম্ভব নয়।আরো বহু সত্য,বহু রহস্য উদঘাটন বাকি রয়ে গেল।লেখক নিজেই সে কথা জানিয়েছেন 'কথামুখ'এ।তাই আমরা পাঠকরা আর কিছু এরকম লেখার আশাতেই থাকলাম।(প্রকাশক:ক্যাফে টেবল/মূদ্রিত মূল্য:350)
কিন্তু আমার বইটি শুরু থেকেই একপেশে লেগেছে। যেন লেখক ইহুদীদের পক্ষ নিয়েই বইটা লিখেছেন।
লেখকের পক্ষপাত থাকতেই পারে, কিন্তু সেটার প্রভাব নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাসের উপর পড়লেই মুশকিল। তাহলে আর আবুল ফজল বা বারাউনি বা সন্ধ্যাকর নন্দীর সাথে লেখকের তফাৎ কি হল? 😊
আরেকটা জিনিস।
ইহুদীদের ঘর ছিল না। তারা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্দান্ত সাফল্য পেলেও সব জায়গায় persecuted হোল কেন? সেটা কি তাদের ghetto কালচারের জন্য? এ বিষয়ে আলোকপাত করলে বইটি ইহুদী ইতিহাসের উপর একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ হয়ে উঠতে পারত। কনটেক্সট নেই বলে বইটার শুরুটা আমার আকস্মিক লেগেছে।
এই বই পড়তে পড়তে প্রত্যেক অধ্যায়ে পাওয়া যায় একটি সর্বহারা, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া জাতীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। রয়েছে ইসরায়েল সামরিক ও গুপ্তচর বিভাগের রোমাঞ্চকর এক একটি অভিযান। হিটলারের ইহুদি নিধনযজ্ঞের কান্ডারীকে হত্যা থেকে শুরু ইয়াসের আরাফাতের মৃত্যু রহস্যের মত একাধিক রুদ্ধশ্বাস বিবরণ। ইহুদি জাতী যে ইতিহাসে বারবার তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমান দিয়েছে তা মনে করিয়ে দেয় এই বই। আর আছে ইসরায়েলের গুপ্তচর বিভাগ মোসাদের এক একটি রোমহষর্ক বিবরণ। নিজের দেশের মাটিতেই হোক বা শত্রু দেশ মিশর, প্যালেস্টাইন, সিরিয়া বা ইরাকের মাটিতে হোক, মোসাদের হাতে জঙ্গি-জিহাদিদের শেষ করার যে নিখুঁত বর্ণনা লেখকদ্বয় দিয়েছেন তা যেকোনো হলিউড বা বলিউড সিনেমার গোয়েন্দা বা এজেন্ট কাহিনীকে হার মানায়। আছে মোসাদ চিফ মীর ডাগানের ক্যারিশমাটিক চরিত্র, আছে ইসরায়েলের ড্রোন আবিষ্কার, আয়রন ডোমের সফলযাত্রা আর আছে বর্তমানের বহুচর্চিত মিসাইল অ্যাটাক।
একবারের জন্যও একঘেয়েমি আসেনা ঝরঝরে লেখা আর তথ্য সমৃদ্ধ বিবরণের জন্য।
এই বই আসলেই বিড়ালের বাঘ হয়ে ওঠার গল্প, পাঁচটি ইসলামিক দেশের শত্রুতা দ্বারা বেষ্টিত সদ্যোজাত একটি দেশের আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে অন্যতম বিশ্বসেরা সামরিক শক্তিতে পরিনত হওয়ার গল্প।
বইঃ হ্যারেৎজ লেখকঃ অভীক মুখোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সেন দি ক্যাফে টেবিল প্রকাশনী Bought from: Book Look
Truth has a remarkable quality about it. It reverberates loud and clear even when it is whispered. It can travel a long way even when it is feeble. Truth never gets tired, it never rests nor does it ever die. In fact, you can smell truth from the distance. If I had to describe Avik mukherjee n chandranath sen book 'HAARETZ ’ in one word it would be ‘Truth’. Truth that has been silenced again and again and yet like a phoenix rises from the ashes to tell the story.💚 A trustworthy research work..Great effort of authors duo Take 💛
ইসরায়েল এবং মোসাদ আমার বরাবরের প্রিয় বিষয়. অনেক পড়েছি তবে বাংলায় খুব ই কম. এক পড়েছিলাম সমৃদ্ধ দত্তের ব্ল্যাক করিডোরে , আরেক এই হ্যারেৎজ. এককথায় এই বিষয়ের ওপর বাংলায় লেখা সেরা বই, অন্তত আমার পড়াশোনায়. অধীর অপেক্ষায় রইলাম কবে পরবর্তী বই আসবে.
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার দূরের একটা দেশে এক বছর ছয়-সাতের মেয়ে যখন প্রতিদিন খবরের কাগজ হাতে নিয়ে গাজা, প্যালেস্টাইন, ইজরায়েল, ইয়াসের আরাফত, শ্যারন- এই শব্দগুলো পড়তো, সে বুঝতো না কিছুই, কিন্তু শব্দগুলো তার মনে দাগ কেটে যেত৷ তারপর জর্ডন আর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। মেয়েটাও ভুলে গেছিল অবচেতনের শব্দগুলো।
তারপর একদিন বিয়ের গিফটের গাদা থেকে বেরোলো 'মোসাদঃ দ্য গ্রেটেস্ট মিশন অফ দ্য ইজরায়েলি সিক্রেট সার্ভিস'। রুদ্ধশ্বাসে পড়া হল। কিন্তু মন ভরল না৷ খোঁজ চলল আরো বইয়ের। তখনি চোখে পড়ল 'হ্যারেৎজ- বিড়ালের বাঘ হয়ে ওঠার কাহিনি'।
প্রথমেই লেখকদ্বয়ের মুখবন্ধ থেকে ধার করে বলি, এই বইয়ের বিষয়বস্তু ইহুদিদের জাতিগত ইতিহাস নয়, তাদের সামরিক ইতিহাস৷ সামরিক ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে, অন্ততঃ ইহুদিদের ক্ষেত্রে, কিছুটা জাতিগত ইতিহাস আসবেই৷ কারণ, ইজরায়েলের জন্মই জাতি হিসেবে ইহুদিদের পায়ের তলায় মাটি যোগান দেওয়ার জন্য। সেই ইতিহাস প্রয়োজনমত ছুঁয়ে যাওয়া হয়েছে৷ একটা প্রাচীন জনজাতির ইতিহাসের সব অংশই এতটাই ফ্যাসিনেটিং হয়, যে এই ব্যালেন্সটা বজায় রাখা খুবই কঠিন হয়ে যায়৷ অভীকবাবু ও চন্দ্রনাথবাবু সেই কাজটা সুচারুভাবেই করেছেন।
প্রথম পাঁচটি অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে ইজরায়েল কী, কেন, কীভাবে। ১৮৮০ তে জায়নিস্ট মুভমেন্ট থেকে শুরু করে তিলে তিলে কিভাবে ১৯৪৮ এ ইজরায়েলের আত্মপ্রকাশ, তৎপরবর্তীতে নানা ঘাত প্রতিঘাত, আক্রমণ ও যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে এক সদ্যোজাত দেশের মহাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ তা খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে৷ এই অংশটা বেসিক্যালি ভীষণভাবে নীরস ইতিহাস৷ তবে লেখকেরা খুবই চেষ্টা করেছেন যতটা সম্ভব মনোগ্রাহী করে তুলতে৷ এই অংশটা পড়ার সময় যদি পাঠক নিজেকে সেই সময়ের ইহুদিদের সঙ্গে একাত্ম বোধ করাতে পারেন, তবে এর রোমাঞ্চটা পুরোপুরি অনুভব করতে পারবেন।
'কোথা কোথা খুঁজেছি তোমায়' থেকে 'জেহাদ এবং মোসাদ' এই তেরোটি অধ্যায়ে কভার করা হয়েছে ইজরায়েলের কিংবদন্তি হয়ে ওঠার যাত্রাপথ। মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, এত এত রাষ্ট্র, এত এত গুপ্তচর সংস্থা, কেন ইজরায়েল ও মোসাদ নিয়ে এত মাতামাতি? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ইজরায়েলের ইতিহাসে। সামরিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী এবং ধর্মীয় দিক থেকে ইহুদিদের সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করা একগুচ্ছ দেশের মাঝখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের দেশ ছিনিয়ে নেওয়ার ইতিহাস ইহুদিদের। আর ছিনিয়ে নেওয়াতেই শেষ নয়। উপর্যুপরি আক্রমণ প্রতিহত করে শত্রু এলাকা অধিকার করে নিজের সীমানা রাতারাতি বাড়িয়ে নেওয়ার মত অসাধ্যসাধন ও করে ফেলেছে এই দেশ। জঙ্গলে বুনো কুকুরের পালকে সিংহ ও একটু এড়িয়ে চলে। ইজরায়েল নামক সিংহ শুধু বুনো কুকুরের পালের মুখ থেকে খাবার ছিনিয়ে নিয়েছে, তাই নয়, সেখানে গ্যাঁট হয়ে বসেই আছে৷ আজ যখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশ মৌলবাদী সন্ত্রাসের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে লড়তে উদয়াস্ত মাথার ঘাম পায়ে ফেলছে, সেখানে ইজরায়েল সেই সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘরে বসে রাজত্ব করছে৷ ঠিক এই কারণেই ইজরায়েল নামটা মানুষের মনোযোগ দাবী করে৷
ইজরায়েল ও মোসাদের ইতিহাস কিন্তু শুধুই সাফল্য ও বিজয়ের ইতিহাস নয়। বিভিন্ন সময় মারাত্মক কিছু ভুল করেছে মোসাদ। কখনো নিয়তি ও ভাগ্যের হাতেও মার খেয়েছে। সেই অধ্যায়গুলোও এই বইতে তুলে ধরা হয়েছে, কোনোরকম সুগারকোটিং ছাড়াই। এটা একটা বড় প্রাপ্তি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লেখক তাঁর সাবজেক্টের প্রতি এতটা fascinated হয়ে যান, যে তার দোষ ত্রুটিগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন৷ এই বিষয়ে লেখকেরা প্রশংসার দাবী রাখেন।
তবে কি এই বইয়ের কিছুই খারাপ নেই? আছে। তবে সামান্যই। ১. বইটাতে ইজরায়েল ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর একটা রাফ ম্যাপ থাকলে ভালো হত৷ ২. ২৪৫ পাতার লাস্টের বাক্যে সার্জেন্ট নয়, সার্জেন হবে।
দ্য ক্যাফে টেবিলের বইয়ের পাতা, ছাপার কোয়ালিটি এসব নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই৷ বইয়ের শেষে রেফারেন্স বইয়ের লিস্টটা বাকী লেখার মত সেম ফন্টে ও সাইজে ছাপাটা বেশ সুবিধাজনক হয়েছে। শেষের ছবির অ্যালবামটিও চিত্তাকর্ষক।
এই বই লড়াইয়ের কথা বলে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষের দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে ফিরে আসার গল্প বলে। আর সর্বোপরি বলে দেশ ও জাতির জন্য যেকোনো দূরত্ব অবধি যাওয়ার গল্প। অধ্যায়গুলো পড়তে পড়তে মনে হয় যেন হলিউডের কোনো ছবি চলছে। কিন্তু হলিউড ছবির সাথে পার্থক্য হল, এখানে অভিনয়ের কোনো জায়গা নাই, সবটাই আসল। তবে অতিরিক্ত একপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গি বইটার অভিজ্ঞতায় কিঞ্চিৎ হলেও খেদ সৃষ্টি করেছে।