Abdullah Abu Sayeed (Bengali: আবদুল্লাহ আবু সাইয়ীদ; born 25 July 1939) is a Bangladeshi writer, television presenter, organizer and activist. He is currently the Chairman of Bishwa Sahitya Kendra, a non-profit organization that promotes the study of literature, reading habits and progressive ideas.
Early life:
Sayeed was born in 1939 in Calcutta. His father was Azimuddin Ahmed, a teacher of both English and Bengali literature.He was also a playwright. Sayeed passed SSC exam from Pabna Zilla School in 1955 and HSC exam from Profollo Chandra College in 1957. He later earned the degree of BA and MA in Bengali from the University of Dhaka in 1960 and 1961 respectively.
Career:
Sayeed was a professor of Bengali language in Dhaka College.In mid-1970s he started presenting Shaptabarna (Seven Colors), a multidimensional TV show in Bangladesh Television. In 1978, he founded the Bishwa Sahitya Kendra.
AWARDS:
Sayeed was given the 97th Ramon Magsaysay Award in Journalism, Literature, and Creative Communication Arts for "cultivating in the youth of Bangladesh a love for literature and its humanizing values through exposure to the great books of Bengal and the world".
Bangla Academy Award (2011) for his essays. Ekushey Padak (2005) Mahbub Ullah Trust Award (1998) National TV award (1977)
স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর নব্বইয়ের দশক ও পরের দশকের ২০০৬ সাল পর্যন্ত গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত আওয়ামীলীগ ও বিএনপি সরকারের শাসনামলে কীভাবে ক্ষমতাসীনরা স্বৈরাচার হয়ে উঠেছিলেন এবং সেই স্বৈরাচারী আচরণের আগাগোড়া সুযোগ যে আমাদের সংবিধানের নির্দিষ্ট একটি অনুচ্ছেদই করে দিয়েছে এবং কেন এই ধারার সংষ্কার অতি জরুরী সেসব বিষয় বিশ্লেষণ করে অত্যন্ত সাবলিলভাবে ২০০৬ সালে “গণতন্ত্র ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতা” বইটি লেখেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। বইটি প্রকাশ হয় ২০০৯ সালে। ততোদিনে ক্ষমতার পালাবদলে আবারো ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকার। ক্ষমতাকে আরও বেশী পাকাপোক্ত করতে পরিকল্পনা চলছে সংবিধান থেকে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা বাতিল করার। সেই সময় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সমালোচনা করে প্রকাশিত এমন বই দেখে সরকারের উপরমহল বইটির বাজারজাতকরণে পরোক্ষভাবে বাধা দেয়। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালানোর কারণে (যে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রোগ্রামে সরকার থেকে ফান্ড নিতে হয়) বইটি নিয়ে আর উচ্চবাচ্য করেননি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। পাঠকমহলও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে এত অসাধারণ এক বই পড়া থেকে বঞ্চিত হয়।
আসলে কী আছে এই ৭০ অনুচ্ছেদে? কীভাবেই বা আসলো এই ৭০ অনুচ্ছেদ? আমরা অনেকেই জানি, ব্রিটিশ গণতন্ত্রকে অনুকরণ করে প্রণয়ন হয়েছিল বাংলাদেশের সংবিধান। দেশভাগের পর পাকিস্তান সংবিধানও সেভাবেই হয়েছিল। ব্রিটিশ গণতান্ত্রিক সংবিধানে ফ্লোর ক্রসিং নামে একটি টার্ম আছে। এই টার্ম অনুযায়ী সংসদে কোনো প্রস্তাব পাশের সময় ক্ষমতাসীন দলের সাংসদরা চাইলে নিজের দলের সিদ্ধান্তের বিপরীতে ভোট দিতে পারে। দলের চেয়ে স্থানীয় জনগণের মতামত গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে সহজেই তারা দলের বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারে। এতে করে দল থেকে তাদের সদস্যপদ বাতিল হয় না বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও উর্বর হয়।
একই সুযোগ সেসময় পাকিস্তানের সংবিধানেও ছিল। কিন্তু আমাদের সাংসদদের রাষ্ট্রসম্পর্কিত ভাবনায় অপ্রতুলতা, আত্মমর্যাদাবোধ, বিবেক বা জাতীয় কল্যাণের অঙ্গীকার নিম্নমানের ছিল বলে এবং প্রায় মোটামুটি সবাই সুবিধাবাদী ছিলেন বলে এর ফল হয়েছিল আত্মঘাতী। নিজ সিদ্ধান্তে দল ত্যাগের ক্ষমতা থাকায় অর্থ বা মন্ত্রিত্ব পাওয়ার লোভে তারা দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিতেন। এভাবে একদল থেকে সাংসদদের অন্যদলে ভাগিয়ে নেয়ার ইংরেজি নাম হর্স ট্রেডিং। পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে ও পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে এই হর্স ট্রেডিং এমন ব্যাপকভাবে শুরু হয় যে সরকারগুলোর স্থিতিশীলতা পুরো বিপন্ন হয়ে পড়ে। ঘন ঘন সরকারের পতনও হতে থাকে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এমন নৈরাজ্যের সুযোগেই সেসময় আইয়ুব সরকার ক্ষমতা দখল করে। স্বাধীনতার পর যখন নতুন করে সংবিধান প্রণয়ন করা হয় সেময় সরকারের স্থিতিশীলতার ব্যাপারটি মাথায় রেখে ফ্লোর ক্রসিং নিষিদ্ধ করা হয়। এখানে যুক্ত হয় ৭০ অনুচ্ছেদ।
কিন্তু কি আছে এই ৭০ অনুচ্ছেদে? - “৭০। (১) কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে। ব্যাখ্যা: যদি কোনো সংসদ সদস্য, যে দল তাহাকে নির্বাচনে প্রার্থীরূপে মনোনীত করিয়াছেন সেই দলের নির্দেশ অমান্য করিয়া – ক) সংসদে উপস্থিত থাকিয়া ভোটদানে বিরত থাকেন খ) সংসদের কোনো বৈঠকে অনুপস্থিত থাকেন তাহা হইলে তিনি উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।”
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলছেন, “এই বিধানের পর গণতন্ত্র বলে আর কিছু থাকে না কেননা কার্যত এখানে জনপ্রতিনিধিরা (এক কথায় দেশের জনগণ) রাজনৈতিক দলের (বিশেষত দল প্রধানের) ভৃত্যে পরিনত হচ্ছে এবং সারা জাতি রাজনৈতিক দলের আগাপাশতলা জিম্মি হয়ে যাচ্ছে।”
শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের ডামি ভোটেরও আগে আমরা যদি আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থার দিকে তাকাই, দেখতে পাবো সেখানে জনপ্রতিনিধিরা বিপুল অংকের টাকা ঘুষ মনোনয়ন কিনেছেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার ডামি ভোটের সময় সেই মনোনয়নের দাম বেড়েছে হাজারগুন। ফলে দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, মাদকব্যবসায়ী, ঋণখেলাপিরা অতি সহজেই দুর্নীতির টাকা দিয়ে সাংসদ হয়েছেন, পকেটে ঢুকে গেছেন রাষ্ট্রপ্রধানের। একই সাথে প্রশাসন, আইন, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সব স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানও হিরক রাজার পকেটে ঢুকে গেছে। ফলে মহারাণীর একক সিদ্ধান্তের কাছে টু শব্দটি করে দ্বিমত পোষন করার সাহস কারোরই হয়নি। যার কারণে দলীয়করণে গোটা দেশ জিম্মি হয়ে পড়েছিল।
সংবিধানসম্মতভাবে গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র যে সামরিক একনায়কতন্ত্রের চেয়ে বহুগুনে ভয়ংকর তার বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন লেখক। বলেছেন, সামরিক একনায়কতন্ত্রে ক্ষমতার কেন্দ্র ক্যান্টনমেন্ট, যেখানে কোনো জনসমর্থন থাকে না। তাই কিছুটা হলেও জনগণের জন্য ভালো কাজ করার তাগিদ থাকে। কিন্তু সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্রে সরকারপ্রধানের পাশে তার দলের সমর্থকরা থাকে। এই শক্তিবলে জনগণের অধিকারকে তোয়াক্কা না করে ধীরে ধীরে তারা ফ্যাসিবাদী রূপ ধারণ করে। যেটা হাসিনা সরকার করেছে পরবর্তী ১৫ বছরে। আর একচ্ছত্র ক্ষমতার লোভে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংষ্কার করার উদ্যোগ হাসিনা-খালেদা কোনো সরকারই নেই নি। আর এর সাথে যুক্ত হয়ে আছে পরিবারতন্ত্র। অথচ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বলা হয়, দেশ শাসন করবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা। কিন্তু দুই পরিবারের বাইরে কেউ-ই নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পায়না । আর যদি বা কখনো নেতৃত্ব দিতে আসে তাহলে কারা আসবে? বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান আসলে কারা? কারা আমাদের জনপ্রতিনিধি? মাদকব্যবসায়ী বদি, হাজি সেলিম, ইলিয়াস মোল্লা, ঋণখেলাপী এস আলম গ্রুপ, দরবেশ বাবারা । এরাই তো। এদের মতো মানুষকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে সংবিধানের ঐ ৭০ অনুচ্ছেদবলে পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা। সেই ক্ষমতাকেই শিথিল করার জোর দাবি নিয়ে ২০০৬ সালে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ লিখেছিলেন বইটি।
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ নন ফিকশন লেখেন ভীষণ সুললিত গদ্যে। এমন অসাধারণ গদ্যশৈলীর রাজনৈতিক প্রবন্ধ খুব বেশী পড়া হয়নি। আর ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর বইটি পড়ার সময় মনে হচ্ছিল এতদিন পড়ি নাই কেন এই বই? অথচ বইটি পড়ার সময় তো কোনো কিছুই নতুন মনে হয়নি। সবই আমাদের জানা। সবই আমরা বুঝি। কিন্তু এমন একটি ইস্যু নিয়ে বুদ্ধিজীবীরা স্পষ্ট ভাষায় তো ১৫ বছরে লেখার সাহস পায়নি। এই ১৫ বছরে এমন নির্ভয়ে লেখার সুযোগ পেলে কি না কি সব বর্বর ফ্যাসিজমের চিত্র আমরা এমন অসাধারণ গদ্যে পেতাম। তবে আবার সময় অনুকূলে এসেছে। বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিজম নিয়ে লিখতে শুরু করেছেন অনেকেই। ১৫ বছর ধরে যে আবদ্ধ শব্দমালা জমে ছিল আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের মনে, তা বেরিয়ে আসুক এমন সহজ ভাষার স্পষ্ট গদ্যে। অধীর হয়ে আছি পড়ার জন্য। আগস্ট ২০২৪
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়নি এমন মানুষ পাওয়া যাবে কীনা সন্দেহ। শিল্প-সাহিত্য নিয়ে সুদীর্ঘকালের যে সংগ্রাম তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন এটাও প্রশ্নাতীত। তার বইগুলোও প্রাণকে জাগিয়ে দেয়, অনুভুতিকে সক্রিয় করে বোধের উন্মেষ ঘটায়। এরকম কাঠখোট্টা বিষয়ের বইতে তার নাম দেখে না পড়ে পারলাম না।
৫৩ পৃষ্ঠার ছোট্ট একটা বই, প্রকাশিত হয়েছিল ফেব্রুয়ারী ২০০৯ এ। এ বইতে দেশের রাজনীতি নিয়ে লেখকের হতাশা ফুটে ওঠেছে, দার্শনিকের বিশ্লেষণ ক্ষমতা আর কবির বেদনা দিয়ে তিনি সন্ধান করার চেষ্টা করেছেন আমাদের গণতন্ত্রের ব্যর্থতার কারণসমূহ। লেখকের মতে, একটি জাতি পরিচালনার মূল দায়িত্ব কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদদেরই। কিন্তু তারা কী সেই দায়িত্ব পালন করছেন? লেখক বিশ্লেষণ করে দেখাতে চেয়েছেন যে, এদেশে যে গণতন্ত্র অনেকদিন ধরে চলছে তা আসলে প্রশ্নহীনতার, আনুগত্যের ও দাসত্বের। এর কারণ হিসেবে তিনি দায়ী করেছেন সংবিধানের ৭০তম অনুচ্ছেদকে, যেখানে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করলে সংসদে আসন হারানোর কথা বলা হয়েছে। লেখকের মতে, এই অনুচ্ছেদের কারণে ক্ষমতার এককেন্দ্রিতা তৈরী হয়েছে, রাজনীতিবিদরা হয়ে পরেছেন পরাধীন, এমনকি এর কারণে দেশের শ্রেষ্ঠ মানুষদের শীর্ষে যাবার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে বলেও লেখক অভিমত দিয়েছেন।
লেখকের বক্তব্যের বিপক্ষে হয়তো অনেক যুক্তিই রাজনৈতিক দলগুলো তুলে ধরবে। তবে, লেখকের যাতনার মূল জায়গাটা অস্বীকার করার মতো নয়। বইটা পড়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি...