Jump to ratings and reviews
Rate this book

দশচক্র

Rate this book
"দশটি আখ্যান, মানবমনের আলো-আঁধারির
দশটি অধ্যায়; দশচক্র!"

167 pages, Paperback

First published December 1, 2019

50 people want to read

About the author

Riju Ganguly

39 books1,877 followers
Minding the Gap, always.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
13 (35%)
4 stars
13 (35%)
3 stars
5 (13%)
2 stars
2 (5%)
1 star
4 (10%)
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
Profile Image for Tiyas.
473 reviews138 followers
June 11, 2023
গুডরিডসের এই সুবিশাল আঙিনায় আমার আগমন কেবলই আগের বছর। ইতিমধ্যেই বাংলা বইয়ের জগতে খানিকটা হেঁটে বেরিয়ে বুঝেছি, সমালোচক ঋজু গাঙ্গুলীর অগাধ প্রেসেন্স এড়ানো ভীষণ মুশকিল। তাই এমন একজন মানুষ যখন কলম ধরেন তখন সেটা পড়া আমার কর্তব্য বলেই মনে করি। অনেক আশা নিয়েই এই বইমেলায় এই বইটি কেনা। শেষমেষ দশচক্রে ভূতায়িত হতে পারলুম না, সেটাই যা আফসোস।

বইটির প্রচ্ছদ চমৎকার, মুদ্রণ-এ সামান্য কিছু ত্রুটি রইলেও সেটা চোখে লাগে না। গল্প সংখ্যা সব মিলিয়ে ১০। প্রাককথনে লেখকের প্রতিটি গল্পের একটা হালকা কনটেক্সট দেওয়া বেশ উপভোগ করলাম। এসবের মাধ্যমে লেখক নিজে পাঠকের দরবারে আরো ব্যক্তিগত ভাবে ফুটে ওঠেন।

প্রতিটি গল্পই যাকে বলে হাই অকটেন থ্রিলার। ব্যক্তিগতভাবে আমার অ্যাকশন, এসপিয়নাজ , ইন্টেলিজেন্স ঘরানার লেখা বিলকুল মুখে রোচে না। সেটা আমার নিজস্ব খামতি, লেখকের যে এই দিকে বিস্তর আগ্রহ সেটা দিব্যি বোঝা যায়। এই ধরনের কন্টেন্ট নিয়ে কাঁটাছেরা করাটাও বেশ সাহসী। তবে কিনা বেশ কিছু গল্পের সল্প কলেবর, অধীক চরিত্র, টেকনিকাল জারগণ মাঝে মাঝেই মাত্রাধিক পর্যায়ে এসে পৌছয়।

ভালো লাগার মধ্যে রয়েছে 'ধোয়া' গল্পটি। স্যানাল, বাবলি এবং সেলিমদের বেশ পছন্দ হয়। পরবর্তী গল্প 'দেওয়াল'-এও এই ত্রয়ীর উপস্থিতি। প্লটের দিক থেকে দুর্বল হলেও চরিত্রদের কেমিস্ট্রির জোরে গল্প দুটো বেশ উপভোগ্য। এছাড়াও বলতে হয়, 'দাগ' গল্পটির কথা। গল্পটি-র ভালো কনসেপ্ট এবং বুদ্ধিদীপ্ত স্টোরিটেলিং এই বইয়ের ইউ এস পি।

তবে কিনা সিংহভাগ গল্পের উপস্থাপনায় একটা বিশাল ত্রুটি রয়েছে। বেশ সিনেমাটিক পন্থায় গল্প গুলো লেখা হওয়াতে, গল্পের থ্রিল বা রহস্য বাঁধতে যে সময়টুকু দরকার, লেখক সেটা দিতে অক্ষম হয়েছেন। সিনেমায় যে ভিসুয়াল মিডিয়ামের সাহায্য পায় পরিচালক, লেখকের কাছে সেটা কোনোদিনই থাকে না। হালকা ধীর আঁচে তৈরি পটভূমিকার অভাব গল্পগুলোর দুর্বলতার মূল কারণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো চরিত্র মনে দাগ কাটে না। গল্পগুলোর হঠাৎ পরিসমাপ্তিও দারুন কিছু কনসেপ্টের প্রতি সুবিচার করতে পারে না।

পটভূমিকার ওপর জোর না দিয়ে, এক অজানা পৃথিবীর, এক রাশ অজানা চরিত্রদের মাঝে পাঠকদের ফেলে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে ফ্র্যাঙ্ক হার্বার্ট লিখেছিলেন 'ডিউন'। স্টিভেন এরিকসন আবার তার থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের 'ম্যালাজান এম্পায়ার' সিরিজ ছকলেন একই ধাঁচে। মাঝে মাঝে সফল হলেও, এই ধরনের লেখা বেশিরভাগ সময়ই পাঠকদের বিভ্রান্ত করে থাকে। ওই উক্ত বইগুলোর ফ্যানবেস আজও যথেষ্ট বিখন্ডিত এই একই কারনে।

সবশেষে বলব, আর কিছু না হলেও, 'দৌড়' গল্পটি অবশ্যই পড়ুন। বইটির শ্রেষ্ঠ এবং দীর্ঘতম গল্প। টানটান, উত্তেজনাপূর্বক এক যারপরনাই অ্যাকশন-ধর্মী থ্রিলার, যা শেষ করলেই আপনার মনে হতে বাধ্য, রণধীর কে নিয়ে আর একটা গল্প হলে হতো না? একটি ফ্র্যাঞ্চাইজ শুরু করবার আদর্শ মালমশলা এতে মজুদ রয়েছে সেটা আর বলে দিতে হয় ন।

হতাশা এবং ভালো লাগা গুলো জমিয়ে রেখে আপাতত দুটি তারা ব্যয় করলাম। নিন্দে-অভিযোগ নয়, বরঞ্চ খানিকটা গঠনমূলক সমালোচনা করতে চেয়েই আজ অনেক কথা লিখে ফেললাম, মাফ করবেন।

এপ্রিল ৬, ২০২১
Profile Image for Preetam Chatterjee.
7,474 reviews441 followers
October 22, 2020
এই বইটা কিনেছিলাম মূলতঃ দুটো কারণে…প্রথমত, গুডরিডসে বাঘা বাঘা লেখকদের ঘোল খাইয়ে দেওয়া রিভিউয়ার ঋজু গাঙ্গুলীর বিভিন্ন জঁর সম্পর্কে অসাধারণ পাণ্ডিত্য আমাকে মুগ্ধ করেছিল…

আর দ্বিতীয়ত তাঁর অনুবাদে 'রোমাঞ্চকর ১০' আর 'পয়েন্ট ব্র‍্যাভো' আমায় বেবাক কাঁপিয়ে দিয়েছিলো।

একজন চাঁচাছোলা রিভিউয়ার যখন নিজের সৃষ্টির জন্য কলম ধরেন তখন তাঁর থেকে কিছু অতিরিক্ত প্রত্যাশা রয়েই যায় আমাদের। সেটা কখনও কখনও সফল হয় আবার কখনও একেবারেই হতাশ হতে হয়।

ঠিক যেমন বক্তা চন্দ্রিলের স্পষ্টবাদি বক্তব্যে মুগ্ধ হলেও তাঁর পরিচালিত ছবি বা তাঁর লেখা লিরিক আদৌ আমাকে কোনোদিন টানতে পারেনি। যাই হোক…

ঋজুবাবু সেই জায়গাটায় দাঁড়িয়ে পুরো অংশে সফল। আম্ফান পরবর্তী কলকাতায় ভয়ে ভয়েই অর্ডারটা করেছিলাম; আর ভগবানের দয়ায়(পড়ুন বইচইয়ের) boichoi.com দিন পনেরোর মধ্যেই ওই প্রতিকূল মুহূর্তে আমাকে বইটা ডেলিভারি করে আশ্বস্ত করেছিল।

অ্যাদ্দিনে শেষ হল সে বই।

মুদ্রণপ্রমাদ প্রায় নেই বললেই চলে(সেটাই স্বাভাবিক, যিনি এত ভাল পাঠক; নিজের বইয়ের ক্ষেত্রে আপোষ করবেন কেন?); সুন্দর মুদ্রণ, ফন্ট, স্পেসিংও চোখের পক্ষে আরামদায়ক। প্রচ্ছদ যদিও তেমন চোখ টানে না।

এবার গল্পের কথায় আসি; ঋজু গাঙ্গুলীর অন্যন্য বেশিরভাগ বইয়ের মতই এই বইটিও দশটি গল্পের সংকলন। প্রথম গল্প 'নজর'; একেবারে অন্য রকমের অন্য মেজাজের অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী…যা বাংলা ভাষায় আমরা খুব একটা পড়ে অভ্যস্ত নই, এক্কেবারে অভিনব প্লটের সঙ্গে ঝরঝরে গদ্য টানটান গতি আর সাসপেন্স ধরে রেখেছে শেষ অব্ধি।

'পাথর' গল্পটিতে সাসপেন্স অ্যাডভেঞ্চারের সঙ্গে 'মিথ' সংযুক্ত হয়েছে সুন্দর ভাবে।

'সুর' গল্পটিও ঘটনার ঘনঘটায় আর ঋজুচিত টানটান সাসপেন্সে জমজমাট।

'ধোঁয়া' গল্পটি স্লিম, শার্প লেখনীতে স্মার্ট আধুনিকত্বের পরিচায়ক।

'দেওয়াল' গল্পটা বেবাক চমকে দ্যায় ক্লাইম্যাক্সে এসে! একই গল্পে দু দুটো ক্লাইম্যাক্স!! তবে এই গল্পের আরেকটি দিক হল…থ্রিলার সাসপেন্সে যে কলমটি সাবলীল ভাবে হেঁটে চলে, সেই কলমটি অবলীলায় মায়াজড়ানোও হয়ে উঠতে পারে সম্পর্কের কথা লিখতে গিয়ে সেটা বোঝা গেল দিব্যি।

'দাগ' গল্পটি ঋজুচিত অভিনব বিষয়বস্তু আর অভিনব চরিত্রচিত্রণ ছাড়াও লেখার গুণে দিব্যি সুখপাঠ্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু তদসত্ত্বেও লেখক গল্পের ফাঁকে আরেকটি লেয়ার অনায়াসে বুনে দিয়ে নিজের অভিনবত্ব বজায় রেখেছেন।

'দৌড়' গল্পটাকে এই বইয়ের সেরা গল্প বললেও অত্যুক্তি হয়না। শুরু থেকে এমনভাবে টেনে নিয়ে যায়…এমন এক চরিত্রের সঙ্গে আলাপ করায় যে অজান্তেই আমাদের প্রিয় চরিত্র হয়ে ওঠে।

'ছল' গল্পটা আমাদের চেনাজানা পৃথিবীটাতেই এক অজানা আশ্বাসের গল্প শুনিয়েছে; প্রচলিত ধ্যান ধারণাগুলোর বাইরে এসে এক অন্য রক্ষাকর্তা দেখা দ্যায় যেখানে।

'জোর' এ সেই মিথোলজি আর আধুনিকত্বের দ্বন্দ্বের টানটান ক্লাইম্যাক্স অব্ধি টেনে টানা প্লট পাই।

আর শেষ গল্প 'মায়া'…সেই মিথোলজির সঙ্গেই কল্পবিজ্ঞানের মিশ্রণ ঘটিয়ে আরও একবার সেই মায়া ফিরে আসে লেখকের কলমে। শেষ করার পর ভীষণ মনখারাপ ছুঁয়ে থাকে, আর অদ্ভুত এক সৌন্দর্য মিশে থাকে সে মনখারাপে।

এই বইটা শেষ করেছি দিন পাঁচেক হয়ে গেল; তাও অ্যাদ্দিন স্রেফ ঘোরে ছিলাম এই দশটা গল্পের তাই আর চাইলেও রিভিউ লেখার কথা মাথায় আসেনি।

ঋজু গাঙ্গুলীর বাকি বইগুলোও শিগগিরি জোগাড় করে পড়ে ফেলতে হবে; নইলে যা বুঝছি…এই কলম সহজে স্বস্তি দেবে না।

ধন্যবাদ ঋজু গাঙ্গুলীকে; এমন অসাধারণ লেখাগুলো আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য। ধন্যবাদ অরণ্যমনকে, বারবার এমন অভিনব সব বই প্রকাশ করার জন্য। আর সব শেষে ধন্যবাদ বইচই'কে…আম্ফানের পরেও যাঁরা মাত্র দিন পনেরোর মধ্যে বই পৌঁছে দিয়েছিলেন আমার দোরগোড়ায়।

Profile Image for Poulami Ghosh.
13 reviews2 followers
April 19, 2020
বেশ আশা নিয়ে বইটা শুরু করলেও বেশ নিরাশ হতে হল শেষে। ছোটো ছোটো দশ টি থ্রিলার ধাঁচের গল্প দিয়ে সাজানো বইটার প্রচ্ছদ নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। কিন্তু অলৌকিক রহস্যের জাল বুনতে বোধয় একটু তাড়াহুড়ো করেছেন লেখক। আসলে থ্রিলার গল্প শুরু হওয়ার আগে যেমন একটা পটভূমি তৈরি করতে হয় সেরকমটা করার আগেই হুড়মুড় করে শুরু হয়ে যায় গল্প আর শেষও হয়ে যায় চট করে, অপ্রত্যাশিত ভাবে। যদিও ক্লাইম্যাক্সে এসে শেষটা আন্দাজ করতে পারা যায়না বেশীর ভাগ গল্পের ক্ষেত্রেই। যথেষ্ট কন্টেন্ট ও মৌলিক বিষয় থাকা সত্ত্বেও গল্প গুলোর দ্রুত সমাপ্তি হতাশ করেছে আমায়। সব শেষে দশ চক্রে ঠিক ভূতায়িত করতে পারলেন না লেখক।
Profile Image for Anushtup.
47 reviews53 followers
August 24, 2020
#বইপড়া_অনুষ্টুপ

#পড়া_বই_২০২০

রহস্য রোমাঞ্চ যে আমার নিজস্ব বিশেষ পছন্দের বিষয় এ হয়তো আর নতুন করে বলে দিতে হবে না। লোকে প্রথম চাকরি পেয়ে নিজস্ব উপার্জনে ভাল ভাল খায় দায় দামী জামাকাপড় গয়নাগাটি জুতো টুতো কেনে, আমি সেসবের ধারেকাছেও না গিয়ে আগাথা ক্রিস্টির কালেকশন কমপ্লিট করেছিলুম (হোমস, ফাদার ব্রাউন আর ব্যোমকেশ ছিল বাড়িতে)। একইসঙ্গে এও বলব আমি নিজেকে এ ঘরানার আনাড়ি পাঠকই বলি, গোগ্রাসে পড়ি কিন্তু মোটেই বিশ্বসাহিত্যে রহস্য রোমাঞ্চের ক্রমবিবর্তন বা একবিংশ শতকে রহস্যের নবনির্মাণ গোছের কিছু নিয়ে কথা বলতে হলে একবর্ণও বলতে পারব না। থাক মশাই! আমি পাতি পড়ুয়া। পড়ে সুখ পাই, সেই বেশ।

আলোচ্য বইটি দশটি এই ঘরানার গল্পের সংকলন। গল্পগুলিতে যাওয়ার আগে বাকি বিষয়গুলি বলে নিই। বইটি সুমুদ্রিত, ফন্ট ও স্পেসিং খুব সুন্দর, বানানের গণ্ডগোল সেইরকম কিছু চোখে পড়েনি। প্রচ্ছদের ঘন নীল আর কালচে লালের কম্বিনেশনটা বিশেষভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। নামের লিপিটা দুর্দান্ত। চাকাটা ততটাই বিচ্ছিরি দেখতে আর বোরিং, পছন্দ হয়নি।

এবার গল্পগুলো।

প্রথম গল্প 'নজর' এক ধাক্কায় বুঝিয়ে দেয়, যে ধরণের অ্যাডভেঞ্চার আমরা সাধারণত বাংলায় পড়ে অভ্যস্ত, এ গল্পগুলি তার চেয়ে একটু আলাদা হতে চলেছে। অভিনব প্লট এবং স্লিম, ট্রিম, শার্প লেখনী একইসঙ্গে গতি আর সাসপেন্স ধরে রাখতে পূর্ণমাত্রায় সক্ষম হয়েছে।

'পাথর' গল্পে এগুলির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মিথ, যা সম্ভবত লেখকের আরেক প্রিয় বিষয় কারণ তাঁর লেখায় এটি আমি ফিরে ফিরে আসতে দেখি।

'সুর' যেমন ঘটনাবহুল, তেমনি টানটান। যদিও ব্যক্তিগতভাবে এটি আমার কিছু অংশে কিঞ্চিৎ অন্যরকম হলে পছন্দ হত।

'ধোঁয়া' একটা চমৎকার, আধুনিক যুগোপযোগী, স্মার্ট গল্প। স্মার্ট ছাড়া কিছু বিশেষণ মানায় না এটার সত্যিই।

'দেওয়াল' গল্পে এসে বোঝা যায় লেখক শুধুই অ্যাডভেঞ্চার লেখেন না। মানবিক সম্পর্কের মায়ামমতাগুলিও দিব্যি তাঁর কলম বেয়ে নেমে এসেছে গল্পের ভাঁজে ভাঁজে। ভালো কথা, এক গল্পে দুটো দুরকম ক্লাইম্যাক্স থাকলে পাঠকের জন্য ডাবল স্কুপ বটে, কিন্তু কোথাও গিয়ে যেন গল্পটাকে একটু দুর্বল করে দিল মনে হল। লেখক কি ভেবে দেখবেন?

'দাগ' একটা অসাধারণ লেখা। শুধু অতি চেনা বিষয় আর সাধারণ চরিত্ররাও লেখার গুণে কতটা সুখপাঠ্য হয়ে ওঠে এ গল্পটা তার নিদর্শন হিসাবেই চমৎকার বলতুম হয়তো, কিন্তু গল্পের ফাঁকে আরেকটি যে লেয়ার তিনি অনায়াসে, নির্দ্বিধায় বুনে দিয়েছেন সেটির জন্য সাব্বাশ, স্যালুট, টেক লাভ ম্যান!

এর পরের গল্পটায় পরে আসব।

'ছল', চেনা পৃথিবীর চেনা জটিলতায় এক অচেনা আশ্বাসের গল্প, যেখানে প্রচলিত ধারণা বদলে বাঁধা গতের বাইরে এক অন্য কেউ হয়ে ওঠে রক্ষাকর্তা।

'জোর'এ আমরা আবার ফিরে আসি মিথোলজি আর আধুনিক সভ্যতার হিংস্রতার দ্বন্দ্বের এক শ্বাসরুদ্ধকর আখ্যানে। এ গল্পের শেষটা বড় সুন্দর।

এ বইয়ের শেষ গল্প 'মায়া' মিথোলজিতে ভর দিয়ে, কল্পবিজ্ঞান ছুঁয়ে এমন এক জায়গায় পৌঁছে যায় যা শুধু অসম্ভব মনখারাপেরই নয়, শুধু সত্য আর সুন্দরই নয়, শাশ্বত।

এই বই কেন পড়বেন, তার আরেকটা কারণ দর্শাই। প্লট, টানটান লেখা, স্পীড এ তো রয়েছেই। কিন্তু সবের মধ্যে, দুটি জিনিস বড় ভাল লেগেছে আমার। এক, লেখনীর সংযমবোধ। ভায়োলেন্স হোক, বিপদ হোক, প্রেম হোক - উগ্র চটুল বিস্তারিত বর্ণনা বিন্দুমাত্র ব্যবহার না করেও নিখুঁত পরিবেশ, আবহ বা মুড নির্মাণের সূক্ষ্মতা আয়ত্তে আনা সহজ কথা নয়। আর দুই, লেখাগুলির ছত্রে ছত্রে মিশে থাকা শুভবোধ। এ লেখনী শিশু, নারী, বৃদ্ধ বৃদ্ধা, দুর্বল - বিপন্ন মানুষদের, অত্যাচারিত মানুষদের পক্ষে কথা বলে, শুধুই চমকদার ঘটনা নয়, সব পেরিয়ে লেখকের মানুষের প্রতি ভালবাসাটা, 'ভালো হোক' এই কামনাটুকু চুপি চুপি ছুঁয়ে যায় পাঠককে।

এইবার বাকি রাখা গল্পটায় আসি। 'দৌড়' এর কথা ইচ্ছা করেই শেষে বলব বলে রেখেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমার সবচেয়ে পছন্দের গল্প এটা। শুরু থেকে এমন গেঁথে রাখে, টেনে নিয়ে যায়, এমন উত্তেজনার নাগরদোলায় ঘুরপাক খাইয়ে দেয় বলে শুধু নয় - এ গল্প আমাদের এমন এক চরিত্র উপহার দেয় যাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখা যায়।

'রণধীর' এর পরের গল্পটা যদি জলদি না পাই মিস্টার গাঙ্গুলী, আপনার কপালে প্রচুর দুঃখ আছে। 😃

বই : দশচক্র
লেখক : ঋজু গাঙ্গুলী
প্রকাশনা : অরণ্যমন
মুদ্রিত মূল্য : ১৯০/-
Profile Image for Swastika.
18 reviews5 followers
May 30, 2021
|| পাঠ প্রতিক্রিয়া ||

বই - দশচক্র
লেখক - ঋজু গাঙ্গুলী
অরণ‍্যমন প্রকাশনী
মুদ্রিত মূল্য - ২০০

(দীর্ঘ হয়েছে বলে এবং হালকা স্পয়লারও দিতে হয়েছে বলে ক্ষমাপ্রার্থী)

'দশচক্র' মূলতঃ দশটি গল্পের সংকলন। গল্পগুলির নাম এবং সেগুলি পড়ে আমার কেমন অনুভূতি হয়েছে, তা নীচে লিখলাম। সাধারণ পাঠক হিসেবে একান্ত ব‍্যক্তিগত মতামত এগুলি আমার। অন‍্য কারুর সঙ্গে আমার মতামত নাও মিলতে পারে।

১) নজর - প্রধান চরিত্র জুলেখা এবং তার বোনের অন্তর্ধান দিয়ে গল্পটি শুরু হয়। প্রথমার্ধে বেশ রহস‍্যের গন্ধ আছে, ঐ অংশটি ভালো লাগলেও শেষের দিকটা কেমন যেন জোর করে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে মনে হল। ক্লাইম্যাক্স আর একটু পোক্ত হতে পারত হয়তো। মোটের ওপর গল্পটি খারাপ নয়।

২) পাথর - একটি রহস্যময় পাথর এবং তাকে নিয়ে কিছু বৈজ্ঞানিকের গবেষণা এবং পাথরটির দরুণ ঘটা কিছু অপার্থিব ঘটনার সমারোহ নিয়ে গল্প এটি। খুব একটা ভালো লাগেনি গল্পটি।

৩) সুর - গল্পের প্রধান চরিত্র অনির্বাণ। তার দাদু তৈরী করেন এক অনন্য সুর যার মাধ‍্যমে বিশ্বনাশক শক্তির নিখুঁত উপাসনা করে তন্ত্রসিদ্ধ হওয়া যায়। এই সুরের দখল নেওয়া এবং অজেয় হওয়ার স্বপ্ন দেখা এক ব‍্যক্তি কীভাবে অনির্বাণকে ভুলিয়ে তার দাদুর রচনা হাতিয়ে নিতে চায় এবং তার ফল কী হয়, সেই নিয়েই গল্প। গল্পটা আমার ব‍্যক্তিগতভাবে বেশ ভালো লেগেছে।

৪) ধোঁয়া - ইন্সপেক্টর সেলিম, সত‍্যান্বেষী সান‍্যালবাবু এবং তাঁর মেয়ে বাবলি প্রধানতঃ গল্পের প্রধান চরিত্র। গল্পটি আবর্তিত মূলতঃ একটি টি-পার্লার এবং সেখানকার একজন কাস্টোমার এর খুনের তদন্ত নিয়ে। রহস্যের মোড়কে তদন্তের কিনারা করতে গিয়ে যে দিকগুলো দেখানো হয়েছে, বেশ নতুনত্ব আছে তাতে। গল্পটি মোটের ওপর আমার বেশ ভালো লেগেছে।

৫) দেওয়াল - এখানেও প্রধান চরিত্র আগের গল্পের মতোই। কিছু ঘটনার ব‍্যাখ‍্যা করে সেখানে দেওয়াল কীভাবে প্রতীকী হয়ে উঠছে, কীভাবে ইহলোক এবং পরলোকের সংযোগমাধ‍্যম হয়ে উঠছে, নাকি পুরোটাই শুধু হ‍্যালুসিনেশন - সেই নিয়েই গল্প। মোটামুটি লেগেছে।

৬) দাগ - একটা নির্দিষ্ট প্রজাতির প্রাণীর কিছু বৈশিষ্ট্য যদি কোনো মানুষের মধ্যে চলে আসে, কেমন হতে পারে তার চরিত্রায়ণ, স্বভাব, রোজনামচা? ঠিক তেমনই এই গল্পের প্রধান চরিত্র খুরিয়া। তাকে ঘিরে পুলিশী তদন্ত, পাড়ার পুরোনো বাসিন্দা এক মহিলার কিছু অতীতের খোঁজ পাওয়া এবং শেষে ঐ খুরিয়ার পরিণতি জানতে পারা - সব নিয়েই গল্পটি। মোটের ওপর খারাপ নয়।

৭) দৌড় - জেল খাটা এক কয়েদি রণধীরের সঙ্গে মা হারানো এক শিশু, রিয়া এবং তার গভর্নেস, অনুরাধা'র রাস্তায় সাক্ষাৎ দিয়ে গল্প শুরু হয়। শিশুটির কাকা তাকে হত্যা করে তার সমস্ত সম্পত্তি দখল করতে চাইছে যেখানে শিশুটির বাবা হাসপাতালে বন্দী, সেই পরিস্থিতিতে তার গভর্নেস তাকে কীভাবে উদ্ধার করে এবং প্রাক্তন গাড়িচালক সেই কয়েদি তাদের সাহায্য করে - এই নিয়েই গল্প। গল্পটি লেখার ধরন ভীষণ ভালো লেগেছে আমার। প্রতি পাতায় উত্তেজনা রয়েছে। মোটের ওপর গল্পটি খুব ভালো লাগল।

৮) ছল - দুই ব‍্যক্তি, রজত সাহা এবং রূপেশের একদিন রাস্তায় যাতায়াত সূত্রে আলাপ দিয়ে গল্পের শুরু। তারপর ধীরে ধীরে একে অপরকে জানতে চাওয়ার চেষ্টায় রূপেশবাবু জানতে পারেন রজতবাবুর পাড়ায় দুর্নীতিবাজ কিছু ছেলের জন্য কীভাবে ওনার মেয়ে এব‌ং আরও অনেকে হেনস্থা হয়েছে। প্রথমে আমল না দিলেও ঐ এলাকাতেই বহুদিন পরে নতুনভাবে বাস করতে আসা রূপেশবাবু পরবর্তীতে কীভাবে ঐ ছেলেদের শায়েস্তা করেন, এই নিয়েই গল্প। তাঁর আরও পরিচয় পাওয়া যায় গল্পের শেষে‌। গল্পটি মোটামুটি লেগেছে। আরও ভালো হতে পারত, শেষটা খুব একটা মনঃপূত হয়নি।

৯) জোর - পাহাড়ের অধিবাসীদের ওপর গবেষণা করতে আসা এক পাকিস্তানী বৈজ্ঞানিক খুঁজে পেতে চাইছেন কোনো মানুষের জীন এবং দৈহিক শক্তি, যা তাঁর গবেষণার মতে আদিযুগের দেবতা ভীমের সঙ্গে মিলতে পারে। সেই গবেষণা এবং খোঁজ পাওয়া যায় কিনা সেই নিয়েই গল্প। গল্পটি মোটামুটি লেগেছে।

১০) মায়া - মহাভারতের চরিত্র ইরাবন এবং দেবী হিড়িম্বাকে নিয়ে এই গল্প গড়ে উঠেছে। সেনাবাহিনীত কর্মরত এক ব‍্যক্তির অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে বেরিয়ে আসা সেই গল্পের ছোঁয়ায় গল্পের শিশুরাও যেমন মুগ্ধ, আমার মধ্যেও ভালো লাগা এসেছে বৈকি।

সব শেষে, যেটা বলার, তা হল, 'দশচক্র' পড়ে বেশ লেগেছে। আপনারাও পড়তেই পারেন।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Kaushik Roy.
27 reviews8 followers
August 20, 2021
'দশচক্র'। দশটি গল্প। রহস্য, থ্রিল, ফিল, অলৌকিক, ফ্যান্টাসি, মাইথোলজি সব কিছু দিয়ে সাজানো দশটা গল্প। বইয়ের ভূমিকা অংশের পরে পর পর যে গল্পগুলি এসেছে সেগুলি যথাক্রমে-
●নজর
●পাথর
●সুর
●ধোঁয়া
●দেওয়াল
●দাগ
●দৌড়
●ছল
●জোর
●মায়া
সবথেকে ভালো লেগেছে-'পাথর', 'দৌড়', 'জোর' ও 'মায়া'। সেভাবে ভালো লাগেনি- 'নজর' ও 'দেওয়াল' । বাকি কয়খানা মোটামুটি লেগেছে।
'দৌড়' গল্পটার মধ্যে একটা চেনা সিনেম্যাটিক ফিল আছে। তারপরেও গল্পটা খুব ভালো লেগেছে গল্পটার কন্সেপ্টটার জন্য। আমরা ভুল করি, অন্ধকারের পথে হারিয়ে যাই। কিন্তু আমাদের প্রত্যেকের কাছেই হয়ত আবার আলোর পথে ফিরে আসার একটা সুযোগ আসে। আমরা নেবো কী নেবো না, সেটা হয়ত আমাদের উপরেই বর্তায়। অনেক খারাপ মানুষটার মধ্যেও হয়তো কোথাও গিয়ে একটু ভালো থেকে যায়। শুধু সুযোগের অপেক্ষা তার ফিরে আসার। এই গল্পটা সেই হেরে-যাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গল্প।
'জোর' আর 'মায়া' গল্প দুটো পুরাণের প্রেক্ষাপটে লেখা বেশ ভালো বিনির্মাণ। ভারতীয় পুরাণের উপর নির্ভর করে যে বেশ নতুন ধরনের গল্প পাঠকদের উপহার দেওয়া যেতে পারে এই দুটি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এই শেষ দুটি গল্প আমার কাছে অন্তত এই বইয়ের সেরা প্রাপ্তি।
খারাপ লাগা বলতে, বেশ কিছু গল্পের উপস্থাপন আমার বেশ অমসৃণ লেগেছে। প্রত্যেকটা গল্পের শেষেই একটা দারুন টুইস্ট বা চমক আছে। আর সেটা ধরে রাখতে গিয়েই বেশ কিছু গল্পের দৃশ্যান্তর যেন ভীষণ অমসৃণভাবে ঘটেছে। 'নজর' গল্পটি ঠিক সেই কারণেই একটা ভালো প্লট হয়েও মন জয় করতে পারেনি। দ্বিতীয় খারাপটা প্রকাশকের অযত্নের ফল। বাংলা বইয়ের পৃষ্ঠার ক্রম ইংলিশে দৃষ্টিকটু লেগেছে।
তবে বই খানার ভিতরের অলঙ্করণগুলো জাস্ট দুর্ধর্ষ। এর জন্য স্বপন চন্দ মহাশয়কে নতমস্তক প্রণাম জানাই।
দশটা ভিন্ন স্বাদের বেশ শেষ পাতে টুইস্ট পছন্দ যাঁদের, তাঁরা নির্দ্বিধায় বইটি তুলে নিতে পারেন। আর একটা কথা না বলেই নয়। প্রত্যেকটা গল্পের স্পিড জাস্ট ফাটাফাটি রকমের। কোথাও নূন্যতম স্টপগ্যাপ নেওয়ার সময় দেয় না। পড়তে শুরু করলে গল্পটা শেষ না হওয়া অবধি ছুটতে থাকতে হয়।
34 reviews1 follower
January 21, 2024
ঘোষিত থ্রিলার গল্পের বই এই প্রথম পড়লাম, এবং দশচক্রের শেষে এসে তৃপ্তির ভাগই বেশি।

প্লট ও গভীরতা – এই দুই অক্ষ বরাবর মাপতে গেলে দুটো গল্প মূলবিন্দু থেকে বেশি দূরে যায়নি অর্থাৎ একটু টসকেছে মনে হলো; পড়ার সময়ে অবিশ্বাসটাকে পুরোপুরি মুলতুবি করতে দেয় না ()। একখানায় প্লটই প্রধান এবং প্রবল ()। আরেকটা পুরোপুরি জমেনি ()। বাকি ছ'টা নিটোল এবং নিখাদ।

পুরাণের সঙ্গে বর্তমানের সংযোগস্থাপন এবং বিভিন্ন মিথ-এর আত্তীকরণ তথা বঙ্গীকরণ চমৎকারভাবে করা হয়েছে। সেরা প্লটগুলো এতটাই চিত্তাকর্ষক যে সেগুলোর প্রত্যেকটার জগৎনির্মাণ বিস্তৃত করে আলাদা আলাদা কাহিনীমালার সূত্রপাত করা যায়।

তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার মনে হয় বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রেমের প্রতি লেখকের সমানুভূতি (নিছক সহানুভূতি নয়) ও পুরোদস্তুর থ্রিলারের মধ্যেই সেই সকল প্রেমের সুতো বুনে দেওয়া। শ্রেণি, জাতি, প্রজাতি ও গ্রহের পার্থক্য এবং লিঙ্গ পরিচয়ের সমতাকে অতিক্রমকারী পরিণয় ও ভিন্নতর বাৎসল্যের সহজাত চিত্রণ দশচক্রে রয়েছে।

অলৌকিক ও কল্পবিজ্ঞানে নিতান্ত অনীহা না থাকলে অবশ্যই পড়ুন। আর অনীহা থাকলেও হয়তো এই বই সেই অনীহা কাটিয়ে দিতে পারে, আমার যেমন থ্রিলারে অনীহা কাটালো।
Profile Image for Saubhik Sarkar.
60 reviews2 followers
March 26, 2020
Prokhyato boi somalochok Riju Ganguly er lekha boi prothom porlam. Golpogulo ak kothai med hin. Budhiman pathokder jonye jotota information deoa dorkar, tototai diechen lekhok.
Boi ti te kichu golper akta specific theme ache.
Puran r adhunik er mishel e lekha ache, 2 ti golpo, Jor r Maya. Valo.
Nekre manob/daanob der nie lekha 3 ti golpo, Pathor, Daag r Chhol. Valo.
Baki 5 te golper theme alada alada.
Valo legeche pore. Ami lekhoker voi er golper opekhai thaklam.
Displaying 1 - 8 of 8 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.