দ্যুতিময় চেহারায় মিম্বারে দাঁড়িয়ে আছেন নবিজি । আনন্দ বিচ্ছুরিত নয়নে রাহমানি জ্যোতিতে দেখছেন ভবিষ্যতের এক মহামধুর ক্ষণের দৃশ্যপট। তার পাশে দাঁড়ানাে স্বপ্ন দীপ্ত এক বাড়ন্ত বালক হাসান ইবনু আলি । সামনে উপবিষ্ট পরম সহযোগী সাহাবিদের উদ্দেশ্যে নবিজি বললেন, "আমার এই ছেলে নেতৃত্ব দেবে, আল্লাহ অচিরেই তার মাধ্যমে সমঝোতা করাবেন মুসলিমদের বৃহৎ দুটি দলের মাঝে। এরপর সময় বয়ে গেছে। এক স্বপ্নীল পৃথিবী নির্মাণে ইসলামি খিলাফাহ এগিয়েছে বহুদুর। বিশ্ব মানচিত্রে অংকিত হয়েছে মানবতাপূর্ণ শান্তিময় এক সুগীয় চিত্র। কিন্তু হঠাৎ করেই খিলাফাতের শুদ্র-ধবল আঙিনায় পড়ে যায় নিজেদের রক্তের দাগ। উৎক্ষিপ্ত ধুলিময় বিসংবাদের এমনই এক আবিল মুহূর্তে নেতৃত্ব আসে হাসান -এর হাতে। বিদ্যমান হয় লালিত স্বপ্ন। বাস্তবায়নের মাহেন্দ্রক্ষণ। রক্তের দাগ মুছে দিতে নেতৃত্বের হাতছানি ভুলে তিনি বেছে নেন ঐক্যের পথ। ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে স্থাপন করেন সন্ধি। মুসলিম জাতি আবার সংঘবদ্ধ হয়। ফিরে আসে বিজয়ের ধারা। ইতিহাসের মােড় ঘুরিয়ে দেয় তিনি এক মহানায়ক, হাসান ইবনু আলি । বক্ষ্যমাণ এই গ্রন্থটি তারই জীবনী। এখানে পাতায় পাতায় রচিত হয়েছে তার সুবাসিত, বর্ণিল, দৃষ্টান্তময় জীবনধারা। তার অবিস্মরণীয় অনন্য কীর্তি অনন্ত পথ দেখাবে সমগ্র মানব জাতিকে।