অনিকেত আর লোপামুদ্রার দাম্পত্যজীবনে ঘুণ ধরাচ্ছে নিস্তরঙ্গ সম্পর্কের শৈত্য। সেটাকেই উপড়ে ফেলতে সতেরোতম বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রীকে নিয়ে অনিকেত রওনা দেয় কালিম্পংয়ের উদ্দেশে। দমদম এয়ারপোর্টে হঠাৎই সে মুখোমুখি হয় প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার চিন্ময় মিত্রের। তাঁকে দেখেই জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলের নামী হোস্ট অনিকেতের মাথায় ঘুরতে থাকে প্রশ্ন, কেন সময়ের আগেই পদ থেকে সরে গিয়েছিলেন চিন্ময় মিত্র? আসল ঘটনাটা কী? এদিকে লোপার সঙ্গে আলাপ জমে ওঠে এই পুলিশ কমিশনারের। শেষ পর্যন্ত কোন সত্য আবিষ্কার করে অনিকেত? আর লোপার সঙ্গে সম্পর্ক, তাতে কি আদৌ উষ্ণতা ফিরে আসে?
কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৬৪, ব্যারাকপুরে। প্রথম জীবন কেটেছে শ্যামনগরে। ইছাপুর নর্থল্যান্ড বয়েজ হাইস্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা। স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখির সূত্রপাত। প্রথমে অনিয়মিতভাবে কিছু লিটল ম্যাগাজিনে লিখতেন। ২০০৫ থেকে নিয়মিতভাবে আনন্দবাজার পত্রিকার বিভিন্ন প্রকাশনায় ছোটগল্প লিখছেন। ‘খেজুর কাঁটা’ গল্পটি নিয়ে হয়েছে শ্রুতিনাটক। ছোটগল্প ‘ছবির মুখ’ আকাশবাণীতে বেতারনাটক হয়ে সম্প্রচারিত হয়েছে। লেখকের ‘ব্রহ্মকমল’ গল্পটি ২০০৬-এ ‘দেশ রহস্যগল্প প্রতিযোগিতা’য় প্রথম পুরস্কার লাভ করেছে। ২০০৭-এ ‘পূর্বা’ শীর্ষক একটি কল্পবিজ্ঞান গল্পের জন্য ‘দেশ গল্প প্রতিযোগিতা’য় দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন। রাধিকা লেখকের প্রথম উপন্যাস।পেশাদারি জীবনে ইঞ্জিনিয়ার, বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে কর্মরত। সাহিত্য ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে প্রবন্ধ লেখেন। ভারতীয় মার্গ সংগীতের প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত।
লেখা যত সুখপাঠ্যই হোক না কেন, ছোটোগল্পকে লম্বা করে উপন্যাস বানালে তা ভালো লাগে না। টিভিতে শো-হোস্ট করা অনিকেত স্ত্রী লোপা'র সঙ্গে সম্পর্কের শৈত্য ঘোচাতে সারপ্রাইজ হনিমুনে এল পাহাড়ে। পথে দেখা হল প্রাক্তন কমিশনার চিন্ময় মিত্রের সঙ্গে৷ কৌতূহলী অনিকেত খুঁচিয়ে বের করতে চাইল সেই ইতিহাস, যার সূত্র ধরে অনিকেতকে কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপর কী হল? এই অবধি পড়ে যদি আপনার মনে হয় যে এটা একটা রুদ্ধশ্বাস মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার কি নিদেনপক্ষে একটা রহস্য উপন্যাস হতে চলেছে, তাহলে হতাশ হবেন। অন্তত আমি হলাম, কারণ প্রফেশনাল ও পার্সোনাল সম্পর্কের নানা গ্যাজর-গ্যাজর এবং কারণে-অকারণে সেন্টিমেন্টের বন্যা বাদ দিলে এই কাহিনিতে কিচ্ছু নেই। পোষাল না।