যাদুর কাহিনীই দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো কাহিনী, আর ঈশ্বরই হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর। তারই যাদুতে অনস্থ শূন্যের বুকে সৃষ্ট হয়েছিল বিস্ময়ে ভরা এই বিশ্ব। ঈশ্বর-সৃষ্ট বিস্ময়গুলো যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে ক্রমে বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল মানুষের চোখ থেকে আর মন থেকে। ঈশ্বরের যাদু ভূলে মানুষ তখন মানুষের যাদুতে মুগ্ধ হতে শুরু করল।
মানুষের সমাজে প্রথম যাদুকরেরা ছিলেন পুরোহিত, পূজারী, ‘প্রফেট' বা গুরুজাতীয় অ-সাধারণ ব্যক্তি। সাধারণের অনধিগত বিশেষ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ লৌকিক উপায়েই এরা যে-সব রহস্যময় ক্রিয়াকলাপের অনুষ্ঠান করতেন, সে-সব কিছুই সাধারণ মানুষ ভীতি এবং শ্রদ্ধা-মেশানে। বিস্ময়ের চোখে দেখে ভেবে নিত এরা অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন, ঐশ্বরিক যাদু-ক্ষমতার অংশীদার । এই যাদুকরদের যাদু প্রদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল মনোরঞ্জন বা চিত্তবিনোদন নয়, অলৌকিক রহস্যময় শক্তির অভিনয়ে অভিভূত এবং বশীভূত করে সাধারণ মানুষদের ওপর আধ্যাত্মিক বা অন্যপ্রকার প্রভাব বিস্তার করা। তারপর যাদুবিদ্যা ক্রমে ক্রমে অলৌকিকতার এলাকা ছাড়িয়ে চলে এসেছে লৌকিক মনোরঞ্জনের এলাকায়। যাদুবিদ্যার ইতিহাস এই ক্রমবিবর্তনেরই ইতিহাস।
সূচী- একজন যাদুকরের কথা অদ্বিতীয় হ্যারি হুডিনি যাদুকর গণপতি শয়তান ও ম্যাসকেলিন একটি অভিশপ্ত খেলা চুং লিং সূ ডেভিড ডেভান্ট আদালতে যাদুকর উত্তর দেশের যাদুকর যাদুজগতের আষাঢ়ে গল্প আসল ও মেকি ফরাসী যাদু সম্রাট উদ্যাঁ কাউন্ট ক্যালিওস্ট্রো দুটি অলৌকিক কাহিনী খেয়ালী যাদুকর বেকায়দায় যাদুকর কয়েকটি যাদু-খেলার কথা কয়েকটি কথা বিদেশীদের দৃষ্টিতে পি.সি. সরকার যাদু-সম্রাটের মৃত্যু