যাপিত জীবনের নানা নেতিবাচক ও ইতিবাচক দিক, কি সুন্দর করে একে অপরের সাথে মিলে গিয়ে জটিল বিক্রিয়া তৈরি করে, তার এক ঝলক দেখানোর চেষ্টা করেছেন লেখক তার এই উপন্যাসে। নারীর প্রতি সহিংসতা, অসম্মান, অবহেলা যদিও নতুন কোনো বস্তু নয় এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তবে নারীর অবলা হতে সবল হয়ে উঠা, আত্মপক্ষ সমর্থণে সজাগ হয়ে ওঠা, নিজের সম্মান নিজেই রক্ষা করতে শেখা এই বিষয়গুলো ও যে ধীরে ধীরে সমাজে প্রবেশ করছে সেই বিষয়ে শোষকশ্রেণিকে বেশ ভালো রকমের আভাস দিয়েছেন লেখক তার লেখনীর মাধ্যমে। নারী যেমন মমতাময়ী, স্নেহময়ী, সন্তানকে পরম যত্নে আগলে রাখেন, সন্তানের কল্যাণে নিজ জীবন পর্যন্ত বাজি ধরতে পারেন আবার নিজ সম্মান রক্ষায় নিজেকে সেই স্নেহসুধা হতে দূরেও রাখতে পারেন তা দেখাতে চেয়েছেন লেখক । নারী কখনো মা, কখনো বোন, কখনো প্রমিকা, নানারূপে নিজেকে যেমন আপনজনের কল্যাণে উজাড় করে দেন সেই আপনজনকেই আবার দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন নিজ সম্মান রক্ষার্থে। রক্তের সম্পর্ক ছাড়াও যে, "মা" হয়ে ওঠা যায়, মনের সম্পর্কই যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তার এক উদাহরণ লেখক সাবলীলভাবে প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া,
আমাদের সমাজ বড় অদ্ভুত! গুণের কদর এ সমাজ করতে পারেনা, গুণের বিচার এখানে অবয়ব, শারীরিক সক্ষমতা, পোশাক আর বেশভূষায় সীমাবদ্ধ থেকে যায়। তবে, গুণী যদি "একদিন" অনেক অবহেলা পাড়ি দিয়ে নিজের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে পারে তবে আবার পুষ্পমাল্য নিয়ে সেই অবহেলার পাত্রকেই এক মুহূর্তে সিংহাসনে বসায় এই সমাজ তাও প্রকাশ পেয়েছে এখানে ।
বড় অদ্ভুত এ মানবজীবন, বড় অদ্ভুত এ সমাজ, বড় অদ্ভুত তার নীতি!
শ্রীকৃষ্ণ গোপাল বসাক ! পাঠকমহলে লেখক কতটুকু পরিচিত তা আমার জানা নেই। তবে তার এই বই খানা পড়ে তাকে বাংলার শেক্সপিয়ার বল্লে খুব একটা অত্যুক্তি হবে বলে মনে হয় না। বলছিলাম রিক্তের বেদনের কথা, কোনো মিলনাত্মক পথে না হেটে বাস্তব জীবনের এক খন্ড চিত্র বর্ণনা করা হয়েছে, মৃত্যুর হাতে আমাদের সমর্পিত হতেই হয় শেষ পর্যন্ত। মাঝে খানিকটা মেলোড্রামা মনে হতে পারে বৈকি !