গণআজাদী লীগের প্রতিষ্ঠাতা, রাষ্ট্রদূত এবং আওয়ামী লীগ নেতা কামরুদ্দীন আহমদের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থের আদলে রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনবদ্য দলিল 'স্বাধীন বাংলার অভ্যুদয় এবং অতঃপর'।
যারা লেখকের বাঙালি মধ্যবিত্তের আত্মবিকাশ এবং তার আত্মস্মৃতির প্রথম খণ্ড পড়েছেন, তারা হয়তো পাকিস্তান আমলের অনেক ঘটনাই তার জবানিতে পড়ে ফেলেছেন। তবে এই বইয়ের চৌম্বকঅংশ হলো আইয়ুবের পুরো শাসনকালের বিশ্লেষণ আর বঙ্গবন্ধুর শাসনকালের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বয়ান। কিছু ঘটনার সাক্ষী তো কামরুদ্দীন আহমদ নিজেই ছিলেন।
বাকশাল কী? কেন বাকশাল হলো? এই দুইটি লাখ টাকার প্রশ্নের পরোক্ষ জওয়াব পাবেন কামরুদ্দীন আহমদের লেখায়। বাকশালের আগে সংসদে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণটির পুরোটাই তুলে দিয়েছেন লেখক। তাতে বাকশাল নিয়ে কৌতূহল কিছুটা নিবৃত হবে।
খুবই নিরপেক্ষ লেখনী, চমৎকার পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষুরধার বিশ্লেষণী ক্ষমতার এক অপূর্ব নিদর্শন 'স্বাধীন বাংলার অভ্যুদয় এবং অতঃপর'।
রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে আগ্রহীদের জন্য পড়া অতিঅবশ্য উচিত।
বরাবরের মতই আকর্ষণীয় লেখনী এবং ক্ষুরধার বিশ্লেষণ। নামের মতই বইয়ের ঘটনার আবর্তন, মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব ও পরবর্তী ঘটনাবলী ঘিরেই। লেখক চেষ্টা করেছেন নিজ চোখে দেখা ঘটনাবলী ও নিজের মতবাদের যোগসূত্র ঘটাতে এবং বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি সফল হয়েছেন।
স্বাধীনতা লাভের পরের অ্যানার্কিক অবস্থা এবং জুলাই, ২৪ এর পরবর্তী অবস্থার এত এত মিল দেখে এবার আর তেমন অবাক হইনি; স্থান, কাল, পাত্রভেদে হয়তো বিপ্লবের পরিণতি চিরকালই একরকম।
বইয়ের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর শেষ দুটো অধ্যায়ঃ “মুজিববাদ থেকে বাকশাল” ও “জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান”। কিছু পক্ষপাতদুষ্টতা থাকলেও অত্যন্ত আকর্ষনীয় আলোচনা।
তিন খন্ডের মধ্যে আমার কাছে প্রথম খন্ডই সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সেটায় লেখককে পুরোমাত্রায় পাওয়া গেলেও পরবর্তী দুটোয় তার ছায়া কমে এসেছে। অবশ্য, বিষয়বস্তু এবং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তিনটি বইই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।