ফেসবুকে ভূতের তথা ভয়ের মৌলিক গল্প অনেকেই লেখেন। তবে তাঁদের মধ্যে শঙ্কর চ্যাটার্জি, অর্থাৎ আলোচ্য বইয়ের লেখককে আমি একটু বেশিই শ্রদ্ধা-ভক্তি করি। কেন বলুন তো? কারণ, নিতান্ত ঘরোয়া উপাদান ও চেনা-জানা পরিবেশে এমন ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টি করেন ভদ্রলোক যে গল্প শেষ হলেও ভয়টা থেকেই যায়। সেটা আরও অনেক করে থাকে, কারণ গল্পগুলো পড়লেই মনে হয়, এ-জিনিস আমার সঙ্গেও হতে পারে। এই বইয়ের দশটা গল্পের মধ্যে আটটা সেইরকম। তাদের পড়লে গলা শুকিয়ে যায়, বুক ঢিবঢিব করে, শোয়ার আগে বাথরুমে যাওয়া চাপ হয়ে যায়, সর্বোপরি আলো নেভানোর ব্যাপারটা প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। প্রারম্ভিক 'কৃতজ্ঞতা' ও 'ভূমিকা'-র পর যে-সব গল্প এই বইয়ে এসেছে তারা হল: ১. কালো ছায়া ২. কে তুমি? ৩. নদীর অভিশাপ ৪. সেনবাড়ির সে ৫. ফ্রিজ ৬. মিডিয়াম ৭. বিদেহীর টান ৮. ক্যান্সার ৯. জীবন সেনের ভূতের গল্প ১০. সন্দেহের গভীরে যাঁরা ছোটোবেলায় মানবেন্দ্র পালের লেখা গল্প-উপন্যাস পড়ে ভয় পেয়েছেন এবং এখন তেমনই লেখা খুঁজে বেড়ান, তাঁদের জন্য এই বই একদম কাস্টমাইজড। শুধু... (১) এই বইয়ের দাম ২৮০/- টাকা কোন উন্মাদ নির্ধারিত করেছে, জানতে ইচ্ছে করে। (২) বানানের ক্ষেত্রে কেন সংসদ বা আকাদেমি অনুসরণ করা হয়নি, কেন বইটিতে সামান্যতম সম্পাদকীয় হস্তাবলেপও নেই, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতেও মন চায়। এই বইটির অবিলম্বে একটি পেপারব্যাক ও সুলভ সংস্করণ হওয়া দরকার। বাঙালিকে ডি.এ থেকে বঞ্চিত করা যায়, কিন্তু পৈশাচিক প্রাইসিঙের মাধ্যমে তাকে এমন উৎকৃষ্ট ভয়ের গল্পগুলো পড়া থেকে বঞ্চিত করলে মহাপাতক হবে।