নুড়ি পাথরের মতোই চারপাশে ছড়িয়ে থাকে দিন। অগোছালো, আনমনা। এই কাহিনি তেমন কিছু মানুষের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দিনের গল্প। কখনও দিনের আলো পড়ে ঝকঝকে, শাণিত। কখনও স্নিগ্ধ, কোমল। আহিরী নামের এক বুদ্ধিদীপ্ত শিক্ষিত মেয়েকে ঘিরে কাহিনি শুরু হয়েছে। তাকে ঘিরে তিন পুরুষ। তাদের আলাদা চরিত্র, আলাদা বিশ্বাস। আহিরী কার কাছে যাবে? এদিকে আহিরীর বাবা কমলেশ রায় আর মানবনীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আর এক ন্যায়-অন্যায়ের জীবন কথা। তারই বা শেষ কোথায়?
Prachet Gupta(alternative spelling Procheto Gupta or Prachet Gupta or Procheta Gupta; Bengali: প্রচেত গুপ্ত, porocheto gupto) born 14 October 1962) is a Bengali writer and journalist. In 2007, his work Chander Bari has been adapted into a Bengali film by director Tarun Majumdar. In 2011, director Sekhar Das made film on Gupta's story Chor-er bou ("Wife of a thief"), the film was named Necklace. One of the front runners in contemporary Begali literature, few of his stories have been translated into Hindi, Oriya and Marathi language. He is a key writer of the magazine Unish-Kuri, Sananda, Desh.
Early Life: Gupta spent his childhood in Bangur Avenue and studied in Bangur Boys school. He started writing from his childhood. His first story was published in Anandamela when he was only 12 years old. Later his literary works were published in many more magazines. He completed his graduation from Scottish Church College, Kolkata.
Awards: Bangla Academy's Sutapa Roychowdhury Smarak Puraskar (2007) Shailajananda Smarak Samman (2009) Sera Sahityik Puraskar by Akash Bangla(2209) Ashapurna Devi Birth Centinary Literature Award (2009) Gajendra Kumar Mitra O Sumathanath Ghosh Smarak Samman (2010) Barna Parichay Sharad Sahitya Samman(2010) Most Promising Writer Award By Publishers and Bookseller's Guild (Kolkata Book Fair)-2011
ট্রেনে উঠলেই হালকা কোনো বই নিয়ে বসাটা অভ্যাস হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নানাবিধ কলরব, বিশৃঙ্খল হকার এবং রঙ বেরঙের সহযাত্রীদের মাঝে, কোনো ভারিক্কি বইতে মনোনিবেশ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। সাহিত্যিকদের দেখি, এরূপ ট্রেন-জার্নি থেকেই কত্ত অনুপ্রেরণা নিয়ে গল্প-উপন্যাস-মেমোয়ারের রসদ জুটিয়ে ফেলছেন। কিন্তু দুঃখের কথা, আমি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় নই। কোনো গেরুয়া-বসন সন্ন্যাসী কামরায় উঠে আমায় সঙ্গ-টঙ্গ দেয় না। আমার কলমে যে একখানা 'সেই অজানার খোঁজে' জন্মাবে না, তা বলাই বাহুল্য।
তবে বাঁচলামো মাফ করলে, প্রচেত গুপ্তকে নিয়ে দু-একটা কথা বলতে পারি। কেউ যদি, লেখকের সাথে প্রাথমিক পরিচয় সারতে চান। তবে 'নুড়ি পাথরের দিনগুলি' দিয়ে শুরু করলে কোনো ক্ষতি দেখি না। ঐ যে বললাম, হালকা বই। গতানুগতিক ধারার সামাজিক উপন্যাস। এ ধরনের গল্প, আনন্দবাজারী পত্রিকাদের পাতা ভরিয়ে আসছে, বছরের পর বছর। সুদে আসলে অনেকটা ফেরত পাবেন, সেই হিসেবে এগোলে হতাশা প্রযোজ্য। নইলে, প্রেম ও সম্পর্কের সমীকরনে সময়টুকু কেটে যাবে, এইতো।
উপন্যাসের প্রধান কুশীলবেরা কম-বয়সী। বিশেষত, আহিরী। এই গল্পের ঋজু মেরুদণ্ড। স্বাধীনচেতা তরুণ কলেজ প্রোফেসর, এই আহিরীর ট্র্যাকেই মেলে উপন্যাসের চোরা উপভোগ্যতা। তবে দুঃখের কথা, এটা স্রেফ শুরুর কটা অধ্যায়েই বিদ্যমান। এরপরেই সামাজিক উপন্যাসের স্বাভাবিক ধর্মে, লেখক আনেন বেশ কয়েকটি চরিত্র। বাধ্য হন, একই গল্পে, অনেক স্বতন্ত্র গল্পকে জায়গা করে দিতে। প্রচেত গুপ্ত পাকা লিখিয়ে। তার গল্প এগোয় তরতরিয়ে। সহজ লয়ে সবটা লিখতে উনি অনেকদিনের পারদর্শী। তবে স্রেফ লেখনীর কাঁধে হাত রেখে এই উপন্যাসটি পার পেলো না।
নতুন, পুরনো, চেনা, অচেনার বাকবিতণ্ডায় না গিয়ে বলবো, এই উপন্যাস থেকে আমি আদতে কিছু পেলাম না। ভালো, খারাপ, কিছুই না। ফিল-গুড এন্ডিংয়ের চক্করে কোনো ডিজনি ছবির ন্যায় অতিসরলীকরণের পন্থা বেছে নিয়েছেন লেখক। শেষ পাতা উল্টে হঠাৎ মনে হলো, একটি চরিত্রের সাথেও একাত্ম হতে পারলাম কই? পড়লাম সবটাই, কিন্তু এ জিনিস মনে রাখবো কি?
শুনেছিলাম, লেখকের লেখায় প্রভূত পরিমাণে হুমায়ূনী ছায়া। এটা পড়তে গিয়ে অবশ্য সেই জিনিসের দেখা পাচ্ছিলাম না... যতক্ষণ না গল্পে বিতানের আগমন ঘটল। উসখো-খুষকো চুল-দাড়ি। বোহেমিয়ান স্বভাব। কোনো চাকরিতেই বেশি দিন টিকতে না পারা। হাসতে হাসতে কঠিন কথা বলা। কথা ঘুরিয়ে মানুষ বিভ্রান্ত করাতে অলিখিত ওস্তাদি। চেনা চেনা লাগে কি? বলাই বাহুল্য, সুন্দরী নায়িকার প্রেমও কেন্দ্রীভূত হয় বিতানের কাছেই। এবারে, যার যা বোঝার, সে বুঝে নিক। ভবিষ্যতে এই ছায়াবাজির উৎস খুঁজতে লেখকের অন্য কোনো উপন্যাস পড়বার ইচ্ছে রইল।
ওহ, ভুলে যাচ্ছিলাম। আহিরীর মায়ের নাম এখানে নবনী। জাস্ট সেয়িং।
প্রচেত গুপ্তের লেখা আগে বিশেষ পড়িনি। স্বাচ্ছন্দ্যে পড়ার মতো ঝরঝরে গদ্য। জটিল কোনো কাহিনি নয়। নেই কোনো উচ্চমার্গীয় জীবনদর্শন। সাদাসিধা প্রেমকাহিনি। পড়তে মন্দ লাগেনি।
🍁🍂আনন্দবাজার পত্রিকা রবিবাসরীয়তে ধারাবাহিক ভাবে এই উপন্যাস প্রকাশিত হয় । ৩১ টি পর্বে চলেছে এই উপন্যাস, সময় ০৭ জানুয়ারি ২০১৮ ! উপন্যাসের শুরু হয় কলেজের যুবতী ফ্ল্যামবয়ান্ট প্রফেসর আহিরীকে নিয়ে। যোগ্যতা আর দক্ষতার সঙ্গে সঙ্গে আরো বড় একটি গুণ তার আছে। খুব সহজেই মিশে যেতে পারে যে কোন স্তরের মানুষের সঙ্গে। শিক্ষা, পেশা অথবা অর্থনৈতিক বৃত্তের উর্দ্ধে গিয়ে মানুষকে সে আপন করে নিতে পারে। তাই হয়ত ছাত্র ছাত্রীদের প্রিয় শিক্ষিকা হতে সময় লাগে না বেশি। আহিরীর সবচেয়ে কাছের মানুষ তার বাবা। যিনি কখনো কোন ভুল করতেই পারেন না। কিন্তু তিনিও কি ভুল করেননি কখনো? আর যদি করেই থাকেন, তাহলে আরো ভুল করার জন্য সেটা কোন লাইসেন্স নয়।সম্পর্ক গড়লেও সারা জীবন তাকে না চাইতেও বয়ে বেড়ানো একরকম শাস্তি। ব্রেক আপ তাই আজকের দিনে সমাদৃত। কিন্তু কেমন হওয়া উচিত ব্রেক-আপ? তা ভাল না মন্দ তা নিয়ে কোন কথা বলেননি লেখক। যাকে ছেড়ে চলে আসা হয় তিনি পোড়েন। যিনি ছেড়ে চলে আসেন তাঁরও কি হয় না অন্তর্দাহ?ক্রমে আরো চরিত্র যোগ হয় আহিরীকে ঘিরে। আসে বাবা কমলেশ, মা নবমী, বিতান। কমলেশের কর্মক্ষেত্র থেকেও উঠে আসে কয়েকটি চরিত্র। দেখা যায় কমলেশের অফিসের অধস্তন কর্মী সৌহার্দ্য। নুড়ি পাথরের মতোই চারপাশে ছড়িয়ে থাকে দিন। অগোছালো, আনমনা। এই কাহিনি তেমন কিছু মানুষের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দিনের গল্প। কখনও দিনের আলো পড়ে ঝকঝকে, শাণিত। কখনও স্নিগ্ধ, কোমল। আহিরী নামের এক বুদ্ধিদীপ্ত শিক্ষিত মেয়েকে ঘিরে কাহিনি শুরু হয়েছে। তাকে ঘিরে তিন পুরুষ। তাদের আলাদা চরিত্র, আলাদা বিশ্বাস। আহিরী কার কাছে যাবে? এদিকে আহিরীর বাবা কমলেশ রায় আর মা নবনীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আর এক ন্যায়- অন্যায়ের জীবনকথা। তারই বা শেষ কোথায় ? জানতে হলে অবশ্যই উপন্যাস টি পড়তে হবে!🍂🍁