Jump to ratings and reviews
Rate this book

হসপিটাল

Rate this book

155 pages, Hardcover

First published January 1, 2019

Loading...
Loading...

About the author

Sanya Rushdi

2 books14 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
3 (20%)
4 stars
7 (46%)
3 stars
2 (13%)
2 stars
2 (13%)
1 star
1 (6%)
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
Profile Image for Farzana Sharmin.
26 reviews2 followers
September 18, 2019
কেউ কেউ মাথার মধ্যে একটা সমুদ্র নিয়ে ঘুরে। কল্পনার সমুদ্র। সমুদ্রে ভেসে থাকতে তাদের ভালো লাগে। অন্যদিকে, স্থলের মানুষেরা খটখটে বাস্তবে বাস করে। তারা সামুদ্রিক মানুষদের নাম দেয় 'স্কিজোফ্রেনিয়াগ্রস্ত'।

'হসপিটাল' সম্ভবত বাংলা সাহিত্যের প্রথম বই, যেখানে প্রেক্ষাপট পাশ্চাত্যের মানসিক হাসপাতাল এবং প্রধান চরিত্র কল্পনার সমুদ্রে ভেসে থাকা একজন নারী।

উপন্যাসটি পড়ার সময়ে, সানিয়ার চোখ দিয়ে চারপাশ অনুভবের চেষ্টা করছিলাম। যেই মুহূর্তে আপনি আত্মহত্যার চেষ্টা করবেন কিংবা কল্পনার সমুদ্রকেই সত্য জগত বলে ধারণ করতে চাইবেন, সেই মুহূর্তে স্থলের মানুষেরা ঠাণ্ডা মাথায় আপনার অস্তিত্ব কেড়ে নিবে। আপনি একটি মানসিক হাসপাতালের মধ্যে একজন চরিত্র হয়ে থাকবেন শুধু! ইন্ডিভিজুয়ালিজম কিংবা লিবার্টি এই সব কিছু আপনার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে।

সানিয়া প্রথাগত ওষুধ লিথিয়াম খায়। মুড স্ট্যাবাইলাইজার লিথিয়াম। হাসপাতালে তার বন্ধুত্ব হয়- প্রেম পায়। কিন্তু সে বিশ্বাস করে, একমাত্র ভাষাই পারে মানসিক জগতের গোলমালের গিঁট খুলতে। যখন সানিয়া খয়েরি রঙের কফিন আর মরা মরা পাতা দেখে ভয় পায়, লুনা তাকে খয়েরি রঙের তাজা রুটি আর চকলেটের কথা মনে করিয়ে দেয়। ভাষা এভাবে সানিয়ার ভয়ে মলম বুলিয়ে দেয়।

একটা কালেক্টিভিস্ট সমাজে মানুষের মুক্তি হয় না। একজন আরেকজনের উপরে নির্ভর করতে করতে একজনকে আরেকজন হয়ে যেতে হয়। যাদের চিন্তাভাবনা অনেক বেশি সৃজনশীল এবং ইন্ডিভিজুয়ালাইজড, এই সমাজ তাদেরকে শোষণ করে। তো এই সত্যিকার অর্থে 'ইন্ডিভিজুয়ালাইজড' মানুষদের জন্য সো কল্ড "কালেক্টিভ" সিস্টেম কি কিছু করে?- সানিয়ার এই প্রশ্ন আমাকে মনে করিয়ে দেয় ভুলে যাওয়া অসহায়ত্ব।

"এদিকে উইলোগুলো কানতেছে। তাদের কিছু বলার আছে। কিছু বলার নাই শুধু সারিবাঁধা অবিচ্ছিন্ন গাছগুলার। তাদের কথা হয় গোপনে শুধু নিজেদের সাথে।" আমার নিজেকে সেই সারিবাঁধা অবিচ্ছিন্ন গাছেদের একজন মনে হয়। উপন্যাসের শেষে আমার মনে হয়, আমার কিছু বলার নেই কাউকে। শুধু সানিয়ার সাথে আমার গোপনে কথা হবে।

শেষমেশ 'হসপিটাল' উপন্যাসের ডমিনিকের মতো বারবার সানিয়াকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করে, "ডু উই ডিসার্ভ টু বি হিয়ার, সানিয়া? "ডু উই ডিসার্ভ টু বি হিয়ার?"

ক্রোধ মেশানো করুণ দৃষ্টিতে আমি পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে থাকি।
Profile Image for Suchona Hasnat.
260 reviews364 followers
January 13, 2022
বইয়ের কাহিনীতে ঢুকব, পাঠ-প্রতিক্রিয়াও লিখব। কিন্তু শুরুটা করি একদম শুরু থেকে, কেমন?

বইটা হাতে পাবার পর, বাদামী কাগজ খুলে পাতা ওল্টাতে গিয়ে প্রথম যে জিনিসটা খেয়াল করি সেটা প্রচ্ছদ স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু প্রচ্ছদটা কে করেছে দেখতে গিয়ে একটু চমকাই। প্রচ্ছদ করেছেন লেখক নিজে। এই প্রচ্ছদ গল্পের একটা অংশকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছে। কি সেটা না হয় বই পড়লে জানবেন। ফিরে যাই লেখকে। যেহেতু আমি একজন খুব ডিটেইল ওরিয়েন্টেড মানুষ, নিজে প্রতিটা কাজ না করলে খুঁতখুঁতে এক ভাব থেকে যায়, লেখকের প্রচ্ছদ করা বিষয়টা লেখক নিয়ে আগ্রহী করে তোলে। লেখককে নিয়ে জানতে গিয়েই জানতে পারি এটা তার প্রথম উপন্যাস। বড় হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়, পড়ালেখা করেছেন জৈব বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান নিয়ে। বই নিয়ে বলতে গিয়ে লেখকের বিত্তান্ত বলাটা খেজুরে আলাপ মনে হলেও বইটা শেষ করে হুট করে বিষয়টা আর ���ুব একটা খেজুরে আলাপ মনে হয়নি।

মনে হয়নি কারণ গল্পের মূল চরিত্র এক নারী। পিএইচডি করতে করতে এই নারীর সাইকোসিস হয়, তাকে ভর্তি করানো হয় এক হাসপাতালে। এই নারীর নাম সানিয়া। লেখক নিজের নাম কেন ব্যবহার করেছেন, কারণ অজানা। তবে গল্পের সানিয়ার মতো এই কাকতালীয় ঘটনা উড়িয়ে না দিয়ে বরং আমার চিন্তার জাল আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

চিন্তার জাল বড় করেছে ভাষার ব্যবহার। কথিত ভাষায় লেখাটা কেমন যেন ইঙ্গিত দিচ্ছিল সানিয়ার মানসেরই। যেন আমাদেরকেও নিয়ে যেতে চাচ্ছিল অচেনা-অপরিচিত-অনভ্যস্ত এক পরিবেশে!

এই বইটা ভীষণ ভাবায়। কেন ভাবায় লেখাও মুশকিল। খুব শিগগিরই একটা ভিডিও করব বলে ভাবছি। যদি করি চেষ্টা করব সেই ভাবনা তুলে ধরার।
Profile Image for Wasim Mahmud.
367 reviews29 followers
January 28, 2024
হসপিটাল। এ শব্দ বেশিরভাগের মনে ভয়, বিষণ্নতা এবং দুঃখের স্মৃতি জাগিয়ে তুলে। আবার অনেকের মাঝে নিজ নবজাতকের আগমনের সুখস্মৃতিও উঁকি দিয়ে যায়। সানিয়া রুশদীর 'হসপিটাল' মূলত তীব্র মানসিক রোগে আক্রান্ত এক নারীর গল্প বলে।

উপন্যাসটি সম্ভবত সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত। সানিয়া রুশদী, তাঁর মা-বাবা এবং বোন লুনা রুশদীর উপস্থিতির কারণে এরকম মনে হয়‌। সানিয়ার সাইকোসিস অ্যাটাক তাঁর পিএইচডি সম্পন্ন করতে দেয় না‌। নানা রকম চিকিৎসার পর সানিয়াকে ভর্তি হতে হয় এক মানসিক চিকিৎসার হসপিটালে।

প্রচ্ছদের দিকে ভালো করে তাকালে কিছু ব্যাপার বুঝা যায়। প্রচ্ছদকার লেখক নিজেই‌। কালেক্টিভ সমাজে ব্যক্তির 'ব্যক্তি' হয়ে না ওঠার ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ বাঁধা ও মেডিসিন ব্যবহারের কুফল এবং সব মানসিক রোগীর জন্যে প্রায় এক‌ই প্যাটার্নের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীন সানিয়ার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সারকথা পাওয়া যায় এ উপন্যাসে।

যেকোন মানসিক রোগের উদ্ভব এবং সমাধানে ভাষার ভূমিকার কথা চলে এসেছে 'হসপিটাল'এ। মানুষ তাঁর অন্যান্য বৃহৎ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের তুলনায় নিজ ব্রেইনের ক্ষেত্রে অনেকাংশে কম জানে। যে কারণে মানসিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে হসপিটাল কিংবা নিকটজনেরা অনেক সময় অনেক কিছু বুঝে উঠতে পারেন না।

কথ্য ভাষায় উত্তম পুরুষে বলা এ আখ্যানের গদ্য হয়তো একটু ফ্ল্যাট তবে বাংলা ভাষায় মেন্টাল ইস্যু নিয়ে এরকম মনস্তাত্ত্বিক জনরার ফিকশন আমার মতে গুরুত্ব রাখে‌।

আরেকটি বিষয় হলো যেহেতু ফার্স্ট পার্সন বয়ানে একজন মানসিক রুগী সবকিছু বলছেন, তাই তাঁর এ ন্যারেটিভ পাঠকের জন্যে অনেক ক্ষেত্রে বিস্বস্ত নয়। সানিয়া হসপিটালে যেমন বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন ঠিক তেমনি স্বল্প সময়ের জন্য দেখা পেয়েছেন প্রেমের-ভালোবাসার। বিভিন্ন ঘটনা ও হ্যালুসিনেশনের মধ্যে সানিয়া যে মিল এবং বিন্যাস খুঁজতে খুঁজতে একটা অন্তহীন চক্রে ঢুকে পড়ে যান এবং এক‌ইসাথে বেশ কিছুটা সাহসের সাথে স্বীয় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ সন্ধান করেন তা সানিয়ার মধ্যকার উদ্যমের সাথে পাঠকের পরিচয় করিয়ে দেয়।

আমার জানামতে 'হসপিটাল'এর অনুরাভা সিনহার করা ইংলিশ অনুবাদ অস্ট্রেলিয়ায় সমাদৃত হয়েছে। নন-ফিকশনের চেয়ে ফিকশন মানবমনকে বেশি নাড়িয়ে দেয়‌। সত্য ঘটনা অবলম্বনে এ সাইকোলজিক্যাল ফিকশন মানসিক রোগ সম্পর্কে পাঠককে নতুন করে ভাবাতে পারে।

ব‌ই রিভিউ

নাম : হসপিটাল
লেখক : সানিয়া রুশদী
প্রচ্ছদ : সানিয়া রুশদী
প্রথম প্রকাশ : এপ্রিল ২০১৯
প্রকাশক : বহিঃপ্রকাশ
জনরা : সাইকোলজিক্যাল ফিকশন
রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
Profile Image for Fayezur Shoikot.
9 reviews
January 11, 2022
হোয়াট ইফ, সানিয়ার হসপিটাল আসলে বাস্তবিক কোন হসপিটাল না। এইটা মেবি কোন কাল্পনিক জগত যেইখানে একটা কমন গ্রাউন্ডে সবাইরে একরকম আচরণ করতে হয়। সেইখানে ট্রিটমেন্টের নামে মানুষের ভিন্নতারে জোর কইরা এক রকম বানাইয়া দেওয়া হয়। সানিয়া সেইসব ট্রিটমেন্টরে সন্দেহ করে। তার ধারণা ভাষা তারে মুক্তি দিতে পারে। তবে সেই ভাষা কোন জ্ঞান বিচার করা ধরণের ভাষা না যেইটা হসপিটালে সচরাচর চর্চা হয়। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে অপরকে বুঝতে চাওয়ার মাধ্যমে মুক্তির ভাষা তৈরি হয়। হসপিটাল থিকা সানিয়া একসময় বাইর হইলেও নিজের ভাবনার বিভিন্ন জগত থিকা পুরাপুরি বাইর হইতে পারে না। উপন্যাস শেষ হইয়া যায় কিন্তু সানিয়ার জীবন হয়ত চলতে থাকে এইভাবে।

সানিয়া রুশদীর লেখা এই উপন্যাসটা গতমাসে উপহার পাইছি ব্রাত্য রাইসুর কাছ থিকা। তিনি এর প্রকাশক। বইটার কথা অনেক দিন আগে শুনছিলাম তবে এর গল্পের ব্যাপারে কোন ধারণা ছিল না। যদিও লেখক সম্পর্কে মোটামুটি জানাশোনা ছিল। যেমন, ওনারা দুই বোন আর বাপ-মা মিলা অস্ট্রেলিয়া দেশে থাকেন। সেইখানে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হয়। আবার গরমও পড়ে খুব। ওনার আম্মার বাগান আছে সেইখানে বিভিন্ন রঙের সুন্দর সুন্দর ফুল হয়। নিজের কম্পিউটারে ওনি মাঝেমধ্যে আঁকাআঁকি করেন। কখনো ওনি কবিতা লেখেন আর সকালে হাঁটতে বাইর হন।

উপন্যাস পইড়া মনে হয় লেখকের ব্যক্তিগত জীবন আর হসপিটাল গল্পের সানিয়ার জীবনের মাঝে পার্থক্য নাই যেন। এর ফলে গল্পটা আরও ইন্টারেস্টিং লাগতে থাকে। কারোর জীবনী পইড়া যেই আরাম এই উপন্যাসেও সেই আরাম লাগে। এক বসাতে অর্ধেক বই পড়া শেষ হইয়া যায়। বাকী অর্ধেক আরেক বসায়। এমনই সহজ সাবলীল ভাষায় লেখলেন তিনি।

ঢাকায় আইসা কিছুদিন থাকার পরে আমার খেয়াল হইল এইখানকার অনেক ইয়াং ছেলেমেয়ে ইন্ডিভিজ্যুয়ালাইজড জীবন যাপন করে। বেশিরভাগ সময় তারা একলা থাকতেই পছন্দ করে। তাদের এই স্বতন্ত্র জীবন ভাবনারে তাদেরই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি সঙ্গীরাও মাইনা নিতে পারে না। হসপিটাল উপন্যাসে সানিয়া সমাজের ইন্ডিভিজ্যুয়ালাইজড ব্যক্তিত্ব নিয়া নিজের ভাবনা লিখা রাখে ব্যক্তিগত ডায়েরিতে। ব্যক্তির থিকা দলের প্রাধান্য অধিক এমন মেডিসিন বেইজড একটা সো কল্ড কোলাবোরেটিভ কালেক্টিভিস্ট সিস্টেমের প্রতি তার অনাস্থার কথা জানায়।

এই উপন্যাসের পুরা গল্প জুইড়া সানিয়ার মাঝে একটা মানসিক দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। তার কাছে মনে হয় চারপাশের সবকিছু খয়েরি রঙ ধারণ কইরা তারে ঘিরা ধরতেছে। হসপিটালের ফ্রেন্ডরা তার মনের কথা শুনতে পায়। আরও মনে হয় দুইটা ম্যাগপাই তারে ফলো করে, নেইবারের বিড়াল তারে দেইখা ফ্রিজ হইয়া দাঁড়াইয়া থাকে, একটা ঘুঘু ঠিক দশটা বাজলে ডাইকা উঠে। তার পরিবারের লোকেরা তার সাথে সন্দেহজনক আচরণ করে। এইভাবে উপন্যাসের মজা ধইরা রাখে লেখক।

হসপিটাল উপন্যাসে পশ্চিমের হাসপাতাল সংস্কৃতির চিত্র ফুইটা উঠে। রোগীর সাথে আলাপচারিতার পূর্বে তার সম্মতি নেওয়া যে একটা নিয়ম তা দেখা যায়। দুঃখজনক এই কাজটা অনেক ডাক্তারই করেন না। আজকে সকালে আমি ডাক্তারের সাথে কথা বলতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়া দেখি ডাক্তারের রুমে একদল ইন্টার্ন শিক্ষার্থী বইসা আছে। কোন রোগী বা যেকেউ সেই ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হইলে তাদের সামনেই বলতে হইতেছে। সেই জন্য কোন সম্মতি নেওয়া হইতেছে না। ব্যাপারটা অস্বস্তিকর লাগায় সেই ডাক্তারের সাথে কোন কথা না বইলা ফিরা আসছি। তাছাড়া ডাক্তার সহকারী আর বেশিরভাগ নার্সরাও আন্তরিক হইয়া কথা বলতে চায় না। এইটা আসলে দুঃখজনক।

হসপিটাল উপন্যাস পড়ার সময় লেখক সানিয়া রুশদীর কোন ফ���সবুক স্ট্যাটাস দেখলে মনে হইত উপন্যাসের চরিত্র সানিয়াই বুঝি পোস্ট লেখছে। এইভাবে নিজেও সেই উপন্যাসে ঢুইকা গেছি এমন লাগতেছিল। হাহা।
19 reviews9 followers
Read
March 18, 2022
একজন মানসিক রোগীর ন্যারেটিভে বলা পুরো গল্পটা। বিদেশের পটভূমিতে। তার হসপিটাল বা ঐরকম জায়গায় থাকার অভিজ্ঞতা বলা তার দৃষ্টিকোণ থেকে।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র একজন মহিলা। মানসিক বিকারগস্ত মহিলা। যিনি অনেক বিষয়েই খুবই আল্ট্রা সেনসেটিভ এবং ওভার থিংকার আর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ বলে মনে হয়েছে যে খুবই ইমোশনাল এবং যেকোনো বিষয়ে অতিরিক্ত বাজে বকে। লেখিকা খুবই সুচারুভাবে এনার চরিত্রটি এঁকেছেন মানতেই হবে কারণ পড়তে পড়তে চরিত্রটার ওপর প্রায়ই ক্ষেপে উঠছিলাম আমি। যারা মানসিক রোগকে গুরুত্ব দেয়ার প্রশ্নে কিছুটা ব্যাকডেটেড এবং মানসিক রোগ বলতে সোজা বাংলায় পাগলামী বা আদিখ্যেতা বা আধুনিক জীবনের ফালতু অনুষঙ্গকেই বোঝেন যারা, আমি তাদেরই দলে পড়ি। তাই গল্পের এ চরিত্রটির প্রায় সকল কাজ-কর্ম, কথা এবং চিন্তা আমার কাছে খুবই অ্যাননোয়িং লাগছিলো। মনে হচ্ছিলো অযথা ঢং বা নখড়ামো করছে সস্তা দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। গল্প যতই এগিয়েছে এই বিরক্তিভাবটা ধীরে ধীরে কমে আসছিলো চরিত্রের ভেতরে ঢুকতে থাকার কারণে, তাকে বুঝতে থাকার কারণে কিন্তু একেবারে ছেড়ে যায়নি এবং আমার মনে হয়েছে এখানেই লেখিকার কারিশমা বা হাতযশ। ডাক্তারদের সাথে তার সংঘর্ষের জায়গাগুলো যেমন মেডিসিন বেইজড চিকিৎসা পদ্ধতির সম্পর্কে সন্দেহের বিষয়গুলোও চিন্তা উদ্রেককারী। আবার বলছি চরিত্রটা খুবই দক্ষতার সাথে অংকন করা হয়েছে।
এছাড়া মেন্টাল পেশেন্টদের হাসপাতাল জীবনের টুকরো টুকরো ছবি চোখের সামনে ভাসছিল বর্ণনাগুলো পড়ার সময় এবং এই ছবিগুলোকে জোড়া দিয়ে মোটামুটি একটা ইমেইজ তৈরী হয়েছে মনের মধ্যে।
সাইকোলজিক্যাল টার্মগুলোর কিছু কিছু বুঝতে কিছু বেগ পেতে হয়েছে তবে একটু ঘাঁটলেই বিষয়গুলো পরিস্কার হয়ে উঠবে হয়তো। এ লেখাটা যতদূর মনে হল স্ট্রিম অফ কনশাসনেস গোছের। এ ধরণের লেখা একটু ছাড়া ছাড়া ধরণের মনে হলেও সুখপাঠ্য। এর আগে মার্ক হ্যাডনের "দ্য কিউরিয়াস ইন্সিডেন্ট অফ দ্য ডগ ইন দ্য নাইট টাইম" বা হুমায়ূন আহমেদের "কে কথা কয়" পড়া ছিল যেগুলোতে মানসিক রোগীদের পয়েন্ট অফ ভিউয়ের জায়গা থেকে বোঝা যায় কিন্তু সেগুলো এতোটা ডিটেইলড ছিল না।
সবশেষে বলবো মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের নির্ভেজাল স্বাদ নিতে এ উপন্যাসটি অবশ্যপাঠ্য।
6 reviews
February 7, 2022
যে ব্যাপারটা আমাদেরকে আমাদের ফিজিক্যাল এন্টিটির বাইরেও একটা অস্তিত্ব দেয়, যে ব্যাপারের কারণে আমাদের সাইকোলজিক্যাল স্টেইটগুলা হয়তো শুধুমাত্র হরমোনাল থাকে না, সেইটা নিয়ে ভাবতে গেলে আসে ইন্ডিভিজুয়ালিজম । এই ইন্ডিভিজুয়ালি লাইফ দেখার সার্বক্ষণিক প্রবণতা নিয়ে আগাইছেন সানিয়া । সাইকোলজি নিয়া বিস্তর পড়াশোনা থাকায় লেখক এই ব্যাপারে শক্তিশালী টার্গেট করেছেন । দুঃখজনক হলেও সত্যি, সাইকোলজিস্টরা কাউকে এই ইন্ডিভিজুয়ালাইজড ওয়েতে দেখেন না । একটা প্রিডমিনেন্ট কারণ বলে দেন যে, আমাদের ত এত সময় নাই যে আলাদাভাবে সবাইরে ট্রিট করা যাবে । অথচ এখানেই মূল সমস্যাটা তৈরি হয় ।

সানিয়ার পারিবারিক আবহ যথেষ্টরকমের কেয়ারিং, তাই উনি উনার অসুস্থতার সময়ে পারিবারিক একটা হেলদি সাপোর্ট পেয়েছেন নিরন্তর । এমনটা সবাই পায় না বলে ব্যাপারগুলো আরো ক্রিটিকাল হয়ে যায় ।

একটা বায়বীয় ক্লাসিফিকেশন করি আলোচনার সুবিধার্থে । পৃথিবীতে দুই রকমের মানুষ আছে । এক হলো, নিজের সাথে কী হচ্ছে সে ব্যাপারে কনসার্ন্ড না । ভাবার মতো সময় অথবা এবিলিটি নাই। দুই হলো, এইসব ব্যাপারে যারা কনসার্ন্ড ওয়েতে ডিলিং করতে চায় । একজন মানুষ যখন নিজের উপরে এক্সটার্নাল যত রেস্পন্সের ইফেক্ট সম্পর্কে সচেতন হয়ে যায়, তখন তার মধ্যে নতুন অনেক বোধগম্যতা তৈরি হয়; সেটাও ইন্ডিজুয়ালি ভেরি করে, পার্থক্য থাকে ।

সানিয়া ভাষা নিয়ে যে ডিলিং-টা করেছেন সেটা নিয়ে কিছু বলি । আন্তরিকভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় আমাদের আইডেন্টিটির পুরোটা জুড়েই ভাষা জড়িত । যে যেই ভাষায় কথা বলি, সেই রকমের একটা বাহ্যিক অভিব্যক্তি মানুষের মধ্যে তৈরি হয় । জার্মান ভাষা শিখতে গিয়ে দেখেছি, সব বস্তুতে মাস্কিউলিন, ফেমিনাইন অথবা নিউটার একটা আইডেন্টিটি দিয়ে দেওয়ার প্রথা রয়েছে, যা জার্মানদের চিন্তায়ও নিশ্চই প্রভাব ফেলে । যেমন, জার্মানে চাঁদকে পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যক্ত করা হয়, আর সূর্যকে স্ত্রীলিঙ্গ । এটা আমার কাছে একটা সিগনিফিক্যান্ট উদাহরণ হিসেবে মনে হয় ।

সুতরাং ভাষার এই প্রভাব কাজে লাগিয়ে মানসিক বিভিন্ন ট্রিটমেন্টে আগানো যায় বলে লেখকের বিশ্বাস । সকল রোগীকে মেডিসিনের প্রেস্ক্রিপশন না দিয়ে কাউন্সিলিং এর উপরে জোর দিয়েছেন । ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং অসাধারণ বিশ্লেষণ দক্ষতায় এই সিদ্ধান্তে এসেছেন উনি । এই ইন্ডিউভিজুয়াল কাউন্সেলিং এর সাথে রিলেটেড একটা টিভি সিরিজ আছে, 'দ্যা সোপ্রানোস' । ভাষা এবং এক্সপ্রেশন কীভাবে আমাদের মেন্টাল স্টেইটে প্রভাব ফেলে সেটা এই সিরিজটাতেও প্রাঞ্জল ।
Displaying 1 - 6 of 6 reviews