বাংলা ভাষায় ইন্সটিটিউশন বলতে প্রথমেই যদি রবীন্দ্রনাথের নাম মাথায় আসে তো এরপরের নামটি সত্যজিৎ রায়ের। এই বইটি সত্যজিৎ ছবি বানানোর সময় কী ধরনের ভাবনা করতেন তাঁর একটা স্কেচ বলা যায়। খেরোর খাতা আর নোটসের কিছু প্রতিলিপি রয়েছে। পাশাপাশি লেখকের বর্ণনা এবং বিশ্লেষণ চমৎকার যা সত্যজিৎকে আরো গভীরভাবে চিনতে, বুঝতে সাহায্য করে৷ সত্যি একটা দৃশ্যের পেছনে তাঁর যে খুঁটিনাটি ভাবনা কাজ করত, তা খুঁটিয়ে দেখে বোঝা গেলে এক বিশাল অনাবিষ্কৃত জগৎ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। একটি পাখি, একটি রঙ, একটি গান ও যে কত ব্যঞ্জনাময় হয়ে উঠতে পারে তা সত্যজিৎ এর কাজ দেখলে উপলব্ধি করা যায়। বেশ ভালো লেগেছে আমার বইটি। আর আলোচনার প্রতিটা ছবি দেখা বলে নিজের ভাবনার সাথে মেলাতেও সুবিধা হয়েছে।
সত্যজিৎ রায়ের উপরে, বা বলা ভালো সত্যজিৎ রায়ের কাজের উপরে বই পড়ছি গত কয়েক মাস ধরেই। এই বইটা কার থেকে পেয়েছিলাম মনে নেই, সম্ভাবত আরেক মানিক-প্রেমী বন্ধুর গুগল ড্রাইভ থেকে নিজের ড্রাইভে নিয়ে রেখেছিলাম।
সুনীত সেনগুপ্ত সম্পর্কে তেমন কোন তথ্যাদি পেলাম না গুগল করে, বইতে লিখেছেন সত্যজিতের সংস্পর্শে এসেছেন পরে সন্দীপ রায়ের কল্যাণে সত্যজিতের নোটবুকগুলোর কিছু দেখেছেন। লেখক সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে অনুগ্রহ করে দিতে অনুরোধ রইলো।
বইটা লেখা হয়েছে সত্যজিৎ রায়ের কিছু সিনেমা আর সেগুলো সম্পর্কে তার নিজের নোট করা টুকরোর উপর নির্ভর করে। বইতে সত্যজিতের রাফ খাতা থেকে তাঁর আঁকিবুকি, লেখা, কাটাকুটি তুলে দেয়া হয়েছে যা বিশেষ আকর্ষণীয়। বিশ্লেষণ করা হয়েছে কোন কোন ছবির কোন কোন বিশেষ দৃশ্যের দৃশ্যায়নের পেছনে সত্যজিতের নিজের ভাবনা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে৷ এই বিশ্লেষণ লেখকের নিজের এবং পাশাপাশি সত্যজিতের নিজের নানান সাক্ষাৎকারকে কাজে লাগিয়ে তুলে ধরা।
আমার নিজের বিশেষ পছন্দের তিনটি সিনেমা 'পথের পাঁচালী', 'পরশপাথর' আর 'গুপি গাইন বাঘা বাইন' -এর অংশগুলো বেশি ভালো লেগেছে পড়তে, স্বাভাবিকভাবেই।
বইতে উল্লেখিত কয়েকটা সিনেমা দেখা হয়নি এখনো, তাই তার কিছু অংশ আপাতত স্কিপ করে গেছি, কারণ অনেক বেশি বিস্তৃত করে বর্ণনা, তাই আগে থেকে দেখা না হলে সিনেমাগুলো প্রথমবার দেখার মজাটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছিলো। তবে ইচ্ছা আছে শিঘ্রই সিনেমাগুলো দেখে ঐ অংশগুলো আরেকবার পড়ে দেখার।
আমার নিজের আরও ভালো লাগতো যদি ক্যামেরার কাজ আর দৃশ্যায়ন নিয়ে আরো বেশি টেকনিকাল লেখা হতো, কিন্তু এই বইটাতে বরং দৃশ্যের ভাবানুরাগ বিশ্লেষণই মুখ্য মনে হয়েছে৷ তাও, খারাপ লাগেনি পড়তে।