এক সন্তান তার মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে । সেই মা বৃদ্ধাশ্রমকে সন্তান প্রদত্ত জেল হিসেবে বরণ করে নেয় । একদিন মায়ের মনে হলো - তার সন্তানকে বড় করতে অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে । সবকিছু সন্তান জানেনা । কোনওদিন বলাও হয়নি । কাগজ কলম নিয়ে সন্তানকে চিঠি লিখতে বসলেন । খোকা , তুমি কেমন আছো । তোমার প্রদত্ত জেলে আমি ভালো আছি ... । আশ্রয়হীনদের আশ্রম । হাসি - কান্নার জিবনে এখানে শুধু যৌবন অনুপস্থিত । এখানে সব আছে , তবুও কিসের যেন অভাব রয়েছে । বৃদ্ধাদের তপ্ত নিঃশ্বাসে এখানের বাতাস ভারী হয়ে উঠে । বাতাসে কান পাতলে কান্নার ধ্বনি শুনতে পাওয়া যায় । একজন মানুষ ৪৫ ইউনিট ব্যথা একবারে সহ্য করতে পারে । একজন মা সন্তান প্রসবের সময়ে ৫৭ ইউনিটের বেশি ব্যথা সহ্য করেন । তুমি কি ব্যথার মাত্রা বুঝতে পারছো ? তোমাকে সামান্য উদাহরণ দেই । এই ব্যথা ২০টি হাড্ডি একসাথে ভেঙে যাওয়ার চেয়ে বেশি । তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছো , তোমাকে জন্ম দিতে গিয়ে তোমার মায়ের কি পরিমাণ ব্যথা সহ্য করতে হয়েছে ... এক মায়ের অশ্রু জলে লেখা উপন্যাস ।
বইয়ের নাম:মায়ের চিঠি লেখক :পরিতোষ বাড়ৈ প্রকাশনা :অন্যনা ধরন:উপন্যাস মূল্য :১৫০ মুদ্রিত
মায়ের গল্প টি....
গল্পটি বৃদ্ধাশ্রমে এক মায়ের,, জীবনে শেষ পর্যায় এসে মা মনে করেন তার ছেলে কে জানাতে হবে তার জীবনী। তাই তিনি লেখা শুরু করেন একটি চিঠি।
চিঠিটা শুরু হয় এক ঝরের রাতে তখন ছেলের বয়স ৪০ দিন,, সেই রাতে মা হারায় তার স্বামীকে,,তারপর তার জীবনে নেমে আসে কালের অন্ধকার।একের পর এক বাধা মা অতিক্রম করে। প্রথমে তার জীবনে আসে তার স্বামীর ফুফু। তার প্রতিবন্ধী ছেলের সাথে তার বিয়ে ঠিক করে সেই প্রতিকূলতা অতিক্রম করে মা,, তারপর তার আশ্রয় হয় সবুর নামে তার কাজিন এর বাড়ি, কিন্তু রক্ষক যখন ভক্ষক হয় তখন আল্লাহ এর দিকে চেয়ে থাকা ছারা উপায় কি? তারপর সন্তান এর ভালো এর জন্য মা সন্তান কে টুকড়িতে করে মাথায় নিয়ে পায়ে হেটে নদী পার হয় ফলে মায়ে পা হয় পঙ্গু,, এবার তার ঠাই হয় কোন এক সাহেব এর বাড়ি। সাহেব এর সন্তান ছিল না সে তার সন্তান কে নিজের সন্তান হিসাবে নেয়, কিন্তু সাহেব যখন ১বছরের সন্তান কে শাশন করে তখন মা এর হৃদয়কি সহ্য করতে পারে? পঙ্গু মা তার পঙ্গুত্ব কে হার মানিয়ে সন্তান কে নিয়ে পলায়ন করে। কিন্তু যাবে কোথায়? ঠাই কই? তার পর কালক্রমে তার ঠাই হয় কোন এক ধর্ম ভাই এর বাসায়,, কিন্তু কিছু বছর পার হলে সেই ঠাইও চলে যায়,মা এবার একটি এনজিও তে আয়া চাকরি নিয়ে সন্তান কে মানুষ করার প্রত্যয় নেয় কিন্তু এক পর্যায় সেই চাকরিও যায়, যখন সন্তান এর ssc পরীক্ষা এর ফরম ফিল আপ এর সময় হয় তখন মা পরে কঠিন বিপদে,, মা কি পরে ছিল সেই বিপদ থেকে নিজেকে বাচাতে?? (আমি বলব না সেই বিপদ কি ছিল।) তারপর একদিন মায়ের স্বপ্ন সত্যি হয় সন্তান অনেক বড় মানুষ হয়।বর চাকরি পায়, বিয়ে করে।এবার মা ভাবে তার একটি ঠাই হবে, নিজের নাতিপুতি দের সাথে তাদের ছোটবেলা টাকে উপভোগ করবে কিন্তু তার ঠাই হল বৃদ্ধাশ্রম এ। মা ছেলে প্রদত্ত এই আশ্রয় কে জেল হিসাবে নিয়েছে, যেখানে আনন্দ বেদনা হাসি ফুর্তি সব থাকলেও যৌবন অনুপস্থিত। মা অপেক্ষায় থাকে তার সন্তান আসবে তাকে নিতে। ছেলে কি এসেছিল??
পাঠ প্রতিক্রিয়া : একজন মা নিজে না খেয়ে সন্তান কে খাওয়াবে এটা স্বাভাবিক, কিন্তু মা যখন বাচার জন্য খেতে হবে কিন্তু খাবার টাকা যা আছে তা ছেলের জন্য আর নিজে যখন কুকুর এর থেকে পাউরুটি নিয়ে খায় তখন একজন পাঠকের কেমন লাগে আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া তেমন। এমন হাজারো উদাহরন আছে মায়ে জীবনের। গল্পের মাঝে ছোট আরেকটি বাবা এর গল্প আছে যা গল্পকে প্রাণবন্দনা দিয়েছে। সো আমি নির্দিধায় বলতে পারি এই বইটি পড়ে যে কাঁদবে না সে মানুষ নয় রোবট।
আরো দুটি কথা: বইটা আমাকে সাজেসটেড করেছিলেন বাউন্ডুলে পথিক ভাই। ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনি বলেছিলেন টিসু নিয়া বসতে,, আসলেই চোখের পানি ধরে রাখা অসম্ভব ছিল না।।