📚 বই নিয়ে আলোচনা
“ আমিই কী প্রথম শয়তান?
-- ধর্ম মতে তো, হ্যাঁ আপনিই প্রথম শয়তান।
- তাহলে আদম সন্তানের সকল অপকর্মের জন্য দ্বায়ী আমি?
-- জ্বি, আমরা তাই জানি।
- আমি যদি প্রথম হই, তাহলে আমার মধ্যে এসব শয়তানি প্রবেশ করালো কে?
--???!!! ”
শয়তান আসলে কি বা কে? তার জন্ম কোথায়? বিভিন্ন ধর্মে তার অবস্থান কি! আর কেনইবা তার পূজা করা হয়? কি লাভ তার পূজা করে? কেন তার নামে সারা পৃথিবীতে অনেক গুপ্ত সংঘ তৈরি হলো? সেইসব সংঘের কাজ কী?
এমনই অনেক অজানা প্রশ্ন ঘুরপাক খায় অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিক নির্ঝরের মনে। ছোট থেকেই সে তার মনে এক অসম্ভব ইচ্ছা পোষণ করে চলেছে। সে শয়তানের সন্ধান চায়। সাংবাদিকতার পাশাপাশি চলে এই অনুসন্ধান। একারনে তাকে ঘুরতে হয় দেশের আনাচে-কানাচে। হতে হয় পদে পদে প্রতারিত। তবু তার অনুসন্ধান থেমে থাকে না।
���ক সকালে হঠাৎ করেই তার এসিস্ট্যান্ট ‘বিল্লু’ ফোন করে তাকে অতি দ্রুত তৈরি হয়ে ময়মনসিংহ যেতে বলে৷
ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্ঝর বুঝতে পারে এটা এক সাধকের আস্তানা। সেই আস্তানার গুরু মা তাকে শয়তানের সাথে দেখা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এবং ঘটনার পরে নির্ঝর নিজেকে আবিষ্কার করে স্থানীয় এক হাসপাতালে। মানে তিনি আবারো প্রতারিত হলেন।
কিছুদিন পর এবার তিনি এবং বিল্লু বরিশালের এক অজপাড়া গ্রামে এসে হাজির হন। এখানকার এক লোক নাকি হদিস দিতে পারবেন শয়তানের। সেই কাঙ্ক্ষিত মানুষটির সাথে দেখা হবার পর নির্ঝর অবাক হন। কারন তিনি রীতিমতো বিজ্ঞ একজন মানুষ।
নির্ঝর, বিল্লু আর ড. অপু মিলে চললো তাদের কথোপকথন। কথোপকথন না বলে বলা ভালো তথ্য দান এবং গ্রহন করছেন।
ড. অপু তাদের শয়তানের খোঁজ দেয়ার আগে শয়তানের ইতিহাস সম্পর্কে জানান। তার সেই আলোচনায় উঠে আসে ফ্রিম্যাসন, ইলুমিনাতি, ট্যাম্পল নাইট দের মতো আরো কিছু গুপ্ত সংঘের প্রতিষ্ঠা, গঠন, কার্যপ্রনালী, এবং তাদের জনকদের ইতিহাস।
এসব গোষ্ঠী শয়তানকে উপাসনা করে আসছে বর্তমানেও।
নির্ঝর যত জানে তত বিস্মিত হয়। কট্টর বামপন্থী বিল্লু, সেও হতবাক হয় ডক্টরের আলোচনায়। আরো বেশি অবাক হয় তখন, যখন জানতে পারে আমাদের দেশেও ইহুদিদের তৈরী ফ্রিম্যাসনের শাখা রয়েছে। এবং এই ভারতবর্ষেও তাদের এজেন্ডা ছিলো। আর তিনি হলেন ‘স্বামী বিবেকানন্দ’। ড. অপু তাদের এসব প্রমান সহ দেখান।
বাংলাদেশে প্রথম এবং একমাত্র ইহুদি পরিবারের বসবাস সহ তাদের বিস্তারের কাহিনি উঠে আসে এই আলোচনায়।
সব শোনার পর নির্ঝর, বিল্লু অনেকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকে। অনেক প্রশ্নের উত্তর যেমন তাদের জানা হলো তেমনি আরো অনেক প্রশ্ন তাদের মনে জন্ম নিলো।
কিন্তু তারপরে কি তারা তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত শয়তানের সন্ধান পায়? আর যদিও বা পায় তাকে, তাহলে সে দেখতে কেমন হবে? আর তার থেকেও বড় কথা, কি নিয়ে তারা কথা বলবে?
★★★
শয়তানের জন্ম সেই হাজার বছর ধরে। তারও আছে না বলা গল্প। তার কারনে জন্ম নিয়েছে অনেক নতুন ধর্ম, গঠন হযেছে অনেক সংঘ।
সেইসব গল্পই লেখক ‘কাজী ম্যাক’ তার প্রকাশীত বই ‘হাজার বছরের অব্যক্ত শয়তানের গল্প’ বই খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছেন।
বইটাকে কোনো ধর্মীয়, বা প্রচলতি হরর গল্প, বা কোনো রহস্য উপন্যাসের কাতারে ফেলা যাবে না। বলা ভালো বইটিকে দর্শণ বা গুপ্ত তথ্য জনরার অনেকটা।
বইটি তার প্রচ্ছদ এবং নামকরণের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হলেও বইটি কোনো ধর্মকে অবমাননা বা ছোট করেনি বা প্রশ্নবিদ্ধ করেনি। তেমনি কাউকে কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে যেতেও উদ্বুদ্ধ করেনি। স্রেফ অজানাকে জানার এক মাধ্যম হিসেবে বইটি কাজ করেছে।
আমি অজ্ঞ মানুষ তাই সাহিত্যের অনেক অলিগলি আমার নিকট অপরিচিত। পাঠকরা ক্ষমা করবেন। তবে আমি আমার সরল অভিব্যক্তি দিয়ে বলতে পারি যে, বইটির বিষয়বস্তু যে কারো মনের চিন্তার খোরাক জোগাবে। আপনাকে চিন্তা করতে শেখাবে। মনের মাঝে ভাবনার নতুন জানালা খুলে দিবে।
লেখক কাজী ম্যাকের কোনো প্রথম বই পড়লাম আমি। তবে তাঁর লেখনশৈলী তেমন সুন্দর না হলেও তথ্যমূলক আলোচনা এবং তার উপস্থাপন আমাকে মুগ্ধ করেছে। এবং খুব খুশি হযেছি তার বক্তব্যের প্রমান সহ দেয়ার জন্য। আমি তার এই সিরিজটির পরবর্তী বইগুলো পড়ার আশা রাখি।
বইটি প্রকাশ করেছেন ‘‘বই পিয়ন প্রকাশনী’’।
আমার বইটি প্রথম মূদ্রণের, তাই কিছু বানান মিস্টেক আছে। বর্তমান মূদ্রণে কেমন তা আমার অজানা।
পোস্টের সাথে যুক্ত ছবিটি সম্পূর্ণ এডিট করা। আপনারা ভালো করে লক্ষ করলে বিষয়টি বুঝবেন। আমার ঘরে আদতে এমন কোনো বিতিকিচ্ছিরি মূর্তি নাই।
ধন্যবাদ।
©️ মোঃ কামরুল হাসান
তারিখ - ২৪/১১/২০২০
📚 বই হোক আপনার, আপনি বইয়ের 📚