দীপান্বিতা রায়ের ছোটবেলা কেটেছে শিল্পশহর বার্নপুরে। স্কুলের পাঠ সেখানেই। তারপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা। দীপান্বিতা লেখেন নিজের চারপাশের জগৎ নিয়ে। দৈনন্দিন জীবনের কঠিন বাস্তব, অভ্যস্ত খুঁটিনাটিই তাঁর উপজীব্য। শিশুদের জন্য লেখায় তিনি পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। এ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী পুরস্কার, গজেন্দ্রকুমার মিত্র সুমথনাথ ঘোষ স্মৃতি পুরস্কার, নীল দিগন্ত পুরস্কার, দশভুজা পুরস্কার এবং সাধনা সেন পুরস্কার।
বাংলায় কল্পবিজ্ঞান দীর্ঘদিন ধরে লেখা হয়েছে শুধু ছোটোদের জন্যই। সেই ধারাতেই, একেবারে কঠোরভাবে শিশুপাঠ্য চেহারায় লেখা পাঁচটি সায়েন্স-ফ্যান্টাসি নিয়ে গড়ে উঠেছে এই বইটি। এতে আছে: ১. রুকুর অষ্টদাদু (গল্প) ২. সুপর্ণ সেনের শ্যুটিং (গল্প) ৩. মিঠাইপুরে মহাকাশযান (গল্প) ৪. কেলো গুন্ডা উধাও (গল্প) ৫. সন্দীপন স্যারের পুডিং (উপন্যাস) গল্পগুলো ভূরি-ভূরি লজিক্যাল লুপহোলে ভরা, নয়তো বাংলা কল্পবিজ্ঞানের গতে-বাঁধা রোবট, ভিনগ্রহী, অদ্ভুত প্রযুক্তি আর অবিশ্বাস্য আচরণের কম্বিনেশনে ঠাসা। কিন্তু উপন্যাসটা কিছুটা প্রাপ্তমনস্ক থিম নিয়ে লেখা বলেই পড়তে ভালো লাগে। মহম্মদ জাফর ইকবাল নির্দ্বিধায় তাঁর লেখায় এমন প্রাপ্তমনস্ক থিম ব্যবহার করেন বলেই সেই লেখাগুলো এত ভালো লাগে। আলোচ্য বইয়ের লেখকও যদি আড় ভেঙে ওই শিশুপাঠ্য ছকের বাইরে বেরোতেন, বইটা সত্যিই ভালো হত। তা হল না। যদি কল্পবিজ্ঞান পড়তে চান, তাহলে এটি আপনার জন্য নয়। যদি ছিমছাম ক'টি শিশুপাঠ্য গল্প চান, তাহলে এটি অবশ্যই পড়ুন।