'আজটেক' নামটি অনেকের কাছেই পরিচি্ত, তবে স্বভাবতই কেউ কেউ নাম দেখে চিন্তা করছেন, আজটেক কে বা কারা? কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের আগে আমেরিকা মহাদেশে সমৃদ্ধ তিনটি সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। ইনকা, মায়া এবং আরেকটি হলো আজটেক। তবে এই তিনটি সভ্যতাই এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। বইটি থেকে জানা যায় বর্তমান মেহিকো (মেক্সিকো) ছিলো আজটেক দের সূতিকাগার। আর বর্তমান মেহিকো সিটি (মেক্সিকো সিটি) ছিলো আজটেকদের প্রাণকেন্দ্র। আজটেক প্রার্থনা একক কোনো গ্রন্থ নয়, আজটেকদের আলাদা কোনো ধর্মগ্রন্থও ছিলো না। তবে প্রত্যেক দেবতার জন্য আলাদা করে প্রার্থনা ছিলো, এমনই ২০ টি প্রার্থনার সংকলন করা হয়েছে বইটিতে। বইটিতে ভূমিকার বদলে প্রথমেই রয়েছে প্রবেশিকা। এখানে আজটেকদের অবস্থান, নামকরণ, ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি ইত্যাদির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়া হয়েছে। সাথে আছে আজটেকদের বিষয়ে অবাক করা কিছু তথ্য। বইটি পড়ে পাঠকরা আরো জানতে পারবে আজটেকদের সমৃদ্ধ সভ্যতা সম্পর্কে। তাদের যেমন ছিলো নিজস্ব নগররাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারব্যবস্থা, তেমন সেনাবাহিনী, গোয়েন্দাবাহিনীও ছিলো। তাদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও সুশৃঙ্খল শাসনব্যবস্থা তাদের সামাজ্য আরো বৃদ্ধি করেছে। বইটিতে আজটেকদের লোককথাসমুহ, ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠান, দেবতা, মৃত্যু পরবর্তী জীবন ইত্যাদির কিছু চমকপ্রদ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে আজটেকদের সম্পর্কে আরো জানতে আগ্রহী করবে। আজটেক প্রার্থনার ২০ টি প্রার্থনাই খুব সাবলীল ভাষায় ভাষান্তর করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। টিকা- টিপ্পনীর মাধ্যমে পটভূমি ও শব্দার্থ দেয়া হয়েছে। যাদের ইতিহাস, ধর্ম, সভ্যতার ক্রমবিকাশ সম্পর্কে আগ্রহ, তারা বইটি পছন্দ করবেন বলে মনে হয়, তবে সাধারণ পাঠক হিসাবে বইটির সাবলীল ভাষা এবং অদ্ভুত চমকপ্রদ তথ্যের কারণে তাদেরও ভালো লাগবে। বাংলা ভাষায় আজটেকদের প্রার্থনা সংকলন বিষয়ে এই বইটিই প্রথম । অনেকেই বইটি সংগ্রহে রাখতে চাইবেন ।