Hasan Azizul Huq (Bengali: হাসান আজিজুল হক) is a Bangladeshi writer, reputed for his short stories. He was born on 2 February, 1939 in Jabgraam in Burdwan district of West Bengal, India. However, later his parents moved to Fultala, near the city of Khulna, Bangladesh. He was a professor in the department of philosophy in Rajshahi University.
Huq is well known for his experiments with the language and introducing modern idioms in his writings. His use of language and symbolism has earned him critical acclaim. His stories explore the psychological depths of human beings as well as portray the lives of the peasants of Bangladesh.
He has received most of the major literary awards of Bangladesh including the Bangla Academy Award in 1970.
৩.৫/৫ বাংলা সাহিত্যের প্রধান একজন কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে নিয়ে আরেকজন শীর্ষস্থানীয় কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের সব লেখা ও সাক্ষাৎকার যখন সংকলিত হয় তখন সেটা স্বভাবতই আমাদের মনোযোগ কাড়ে।কিন্তু পড়া শুরু করতেই মস্ত হোঁচট খেতে হয়। ইলিয়াসকে নিয়ে বইয়ের সংকলক চন্দন আনোয়ারের সাথে হাসানের দীর্ঘ একটি আলাপচারিতা আছে।চন্দন আনোয়ার এতো কাঠখোট্টা আর অবান্তর প্রশ্ন করেছেন যে হতবাক হয়ে যেতে হয়। যেমন -ইলিয়াসের স্ত্রীভাগ্য কেমন ছিলো? ইলিয়াসের মৃত্যুভীতি কেমন ছিল?শিশুদের প্রতি ইলিয়াসের ভালোবাসা কেমন ছিলো? একের পর এক গৎবাঁধা প্রশ্ন করে তিনি লেখককে জর্জরিত করেছেন। বইয়ের অবশ্যপাঠ্য দুটি প্রবন্ধ হচ্ছে "আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিষবৃক্ষ" আর "আ. ই. : সাহিত্যের নতুন সীমানা।" প্রথম প্রবন্ধটি অতিশয় বিখ্যাত।এটি ইলিয়াসের "অন্য ঘরে অন্য স্বর" গল্পগ্রন্থের সমালোচনা। হাসান প্রথমেই লিখেছেন- "অন্য ঘরে অন্য স্বর" তীরের মতো ঋজু, ধানিলঙ্কার মতো বদমেজাজি আর পরস্ত্রীর মত আকর্ষণীয়। হাসানের মতে এ বইতে ইলিয়াসের অন্বিষ্ট সমষ্টি হলেও ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার উর্ধ্বে উঠতে পারেনি গল্পগুলো। সমষ্টিকে ইলিয়াস তখনো চিহ্নিত করতে পারেননি। ইলিয়াসের গদ্যশৈলী নিয়ে আলোচনা আছে "সাহিত্যের নতুন সীমানা" প্রবন্ধে। বাংলা সাহিত্য রচনা করেছে মূলত মধ্যবিত্ত শ্রেণি। তাই নিম্নবর্গের মানুষদের নিয়ে লিখতে গেলেও লেখকরা নিজেদের শ্রেণিকে অতিক্রম করতে পারেননি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। এঁরা মূলত নিজের মধ্যবিত্ত ভাষায় দরিদ্রদের "দয়া" করেছেন। ইলিয়াস যা করেছেন তা হোলো- নিজের ভাষা থেকে মধ্যবিত্তের সব চিহ্ন ধীরে ধীরে মুছে ফেলেছেন। নিজের ভাষাকে কর্কশ, অপ্রীতিকর, "চোলাই মদের মতো মগজ নাড়ানো " করে তুলেছেন।ইলিয়াস কাউকে করুণা করেননি; ক্ষতবিক্ষত করেছেন,চাবুক হেনেছেন।অশালীন, অভদ্র, কাপালিক ভাষায় সাহিত্য রচনা করে নিজের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা গোত্র তৈরি করেছেন ইলিয়াস।
"অস্বীকার করতে পারবেন না যে সমগ্র বাংলা সাহিত্য মধ্যবিত্তশ্রেণীর সৃষ্টি এবং সেই শ্রেণীরই দৃষ্টিভঙ্গি, আবেগ-চিন্তা-দর্শন দিয়ে লালিত । উপনিবেশে দেশীয় উচ্চশ্রেণীর অবস্থান সংকুচিত, ঊনবিংশ ও বিংশ শতকে বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণীই সাহিত্য সৃষ্টি করেছে, নানারকম চারু এবং কারুশিল্প নির্মাণে হাত দিয়েছে, এই শ্রেণীরই মানসিকতা সর্বত্র দাপটের সঙ্গে শাসন চালিয়েছে। এই বৃত্তের মধ্যেই বেড়ে উঠে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে গেছেন এবং বলা যায় মধ্যবিত্তের সংস্কৃতি থেকে অবতরণ করে নিম্নকোটির মানুষের মধ্যে গিয়ে হাজির হয়েছেন। প্রশ্নটা যখন সাহিত্যের, তখন ইলিয়াস, বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত কাঠামোই ভেঙে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন বলতে হবে।"
হাসানের মতে, এভাবে বাংলা সাহিত্যের সীমানা প্রসারিত করে ইলিয়াস নিজেকে বাংলাসাহিত্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।হাসান "অন্য ঘরে অন্য স্বর" এ ইলিয়াসের ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা থেকে সরে এসেছেন পরবর্তীতে।ইলিয়াস ব্যক্তিকে ছেড়ে তার রচনায় জনতার কাতারে অবলীলায় দাঁড়াতে পেরেছেন। বইয়ের অন্যান্য প্রবন্ধ সুখপাঠ্য কিন্তু ঠিক অবশ্যপাঠ্য ধরনের না। তবে ভালো যেটুকু আছে তা গভীর তাৎপর্যবাহী ও অনন্য।
প্রিয় লেখক ইলিয়াসকে নিয়ে জানার আগ্রহ থেকেই মূলত বইটা পড়া। বইটিতে হাসান আজিজুল হকের সঙ্গে দুটো আলাপচারিতা আছে ইলিয়াসকে নিয়ে।এখানে ইলিয়াস এর বাইরেও ওই সময়ের কিছু কথা উঠে এসেছে।কিন্তু ইলিয়াসের লেখা পড়ে যেমন মনে হয় হাসানের বর্ণনার সাথে মিলাতে কষ্ট হয়।এর আগে মিহির সেনগুপ্তের অন্তরঙ্গ ইলিয়াস বই এর বর্ণনা গ্রহণ করা সহজ হয়েছিল। এছাড়াও এখানে আছে ইলিয়াসকে নিয়ে হাসানের লেখা ৫ টি প্রবন্ধ।আর হাসানকে লেখা ইলিয়াসের ৪ টি চিঠি। বই এর প্রচ্ছদটা আমার সবচেয়ে প্রিয়।কোনো দিন বুকশেলফ হলে এই বইটা একদম সেন্টারপিস হয়ে থাকবে শুধু প্রচ্ছদের জন্য। আমার ইলিয়াস🖤
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কে নিয়ে লেখা হাসান আজিজুল হকের ৫ টি প্রবন্ধ ও দুটি দীর্ঘ আলাপচারিতা নিয়ে সাজানো দূর্দান্ত এই বইটি ! ইলিয়াসকে নিয়ে হাসান আজিজুল হকের প্রথম প্রবন্ধ ' আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিষবৃক্ষ৷' থেকে শুরু করে উনার উপর শেষ প্রবন্ধ ' আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিষবৃক্ষের অমৃতফল ' এই জার্নি টা চমৎকার! বইটা তে অলস্টার দিতে পারলাম না নিজের দোষে!! কারণ ইলিয়াসের সব গল্প পড়া না থাকায় বিভিন্ন প্রবন্ধে সে সম্পর্কে আলোচনার রসাস্বাদন করা যায় নি!