অ্যাজটেকদের প্রাচীন পিরামিড মন্দির। যেখানে দেবতার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয় নরবলি… আফ্রিকার জনহীন এক পর্বতকন্দরে নাকি রয়েছে হাতিদের কবরখানা। রাশি রাশি হাতির দাঁত পড়ে থাকে সেখানে। সেই কবরখানার দ্বাররক্ষীরা কি প্রেতহস্তি… কালিম্পং-এর পাইন বনের গভীরে রয়েছে এক প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ। সে মন্দিরের ভীষণ দর্শন তিব্বতি অপদেবতার মূর্তি কি নরঘাতক… আমাজন অরণ্যের গভীরে প্রাচীন ইনকাদের এক বাসস্থান। সেখানকার মন্দিরে পোষ মানানো হয় কালো বাঘকে। হিংস্র নখরের মৃত্যুদূতেরা আকাশ থেকে নেমে আসে… বিচিত্র পৃথিবীর অজানা-ভয়াল পটভূমিতে লেখা ৪টি রুদ্ধশ্বাস অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস এক মলাটে।
তেজকাৎলিপোকার পিরামিড ম্যামথের খোঁজে প্রেত লামার মন্দির সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত'র হাতে অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি যে এক আলাদা মাত্রা পায়— এ-কথা বলাই বাহুল্য। এই সংকলনের চারটি কাহিনিতেও রয়েছে ইতিহাস, রোমাঞ্চ, আতঙ্ক, আর মানবতা ও বন্যপ্রাণের সমন্বয় চাওয়ার এক অস্তিবাদী ভাবনা। প্রথম কাহিনিটি হল 'তেজকাৎলিপোকার পিরামিড'। বাংলা সাহিত্যে অপেক্ষাকৃত অনালোচিত এক পটভূমিতে লেখা এই বড়োগল্পটি পড়তে দারুণ লাগে। জুয়ান আর দীপাঞ্জনের প্রথম দেখা এই কাহিনিতেই— এও এর অন্যতম বিশেষত্ব। দ্বিতীয় কাহিনিটি হল 'ম্যামথের খোঁজে'। শারদীয়া শুকতারায় প্রকাশের সময়ই লেখাটা পাঠকের প্রশংসা পেয়েছিল। ক্রিপ্টোজুলজিস্ট হেরম্যান ও তার সঙ্গী সুদীপ্ত'র এই অ্যাডভেঞ্চারে মিশে গেছে অনেক কিংবদন্তি, জীবজগতের অজানা কথা, আর একটা দারুণ ট্যুইস্ট। তৃতীয় কাহিনিটি হল 'প্রেত লামার মন্দির'। জুয়ান ও দীপাঞ্জনের এই অ্যাডভেঞ্চারের পটভূমি একেবারে 'ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া' একটি জায়গা। কিন্তু সেখানেই যে দুর্ধর্ষ রহস্যের সম্মুখীন হয় তারা, তা বিরল। গল্পটা পড়তে সলিড লাগল। চতুর্থ কাহিনিটি হল এই বইয়ের তথা লেখকের অন্যতম সেরা রচনা 'সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী'। ইতিহাস, মিথ, এক শ্রেণির মানুষের রক্তপিপাসা, হিংসা আর প্রতিহিংসায় ভরা এই রুদ্ধশ্বাস কাহিনি বাংলায় অদ্বিতীয়। সব মিলিয়ে এই বইটিকে আনপুটডাউনেবল ছাড়া আর কিছু বলতে পারছি না। হাতে পেলেই পড়ে ফেলুন। শুধু দে'জ একটু যত্ন নিয়ে বইয়ের বানান ও মুদ্রণ যে কেন সংশোধন করায় না, বুঝি না!