ভারতবর্ষের ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে লেখা চারটা উপন্যাসিকা নিয়ে সাজানো বইটা পড়ে বেশ ভাল লাগলো।
প্রথম উপন্যাসিকাটাতে এক প্রধাণ চরিত্র হচ্ছে পিংকো, যে ছিলেন রাজপুত মহারানা। রাজপুতেরা রাজাকে রানা বলতো বুঝি। তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মুঘলের হাতে যুদ্ধে হেরে। কিন্তু মাথা নুইয়ে সন্ধি করবেন না। অমাত্যরা পরেছেন বিপদে। দেশ আগে না রাজা আগে, কার প্রতি দেখাবেন তারা আনুগত্য? এই নিয়ে গল্পটা।
দ্বিতীয় উপন্যাসিকা তুর্কির অসি রাজপুত মসি-ও বেশ অদ্ভুত। তুর্কি হচ্ছেন মুঘল সম্রাট আকবর। এক রাজপুত শাসককে প্রায় কব্জা করে ফেলেছেন। তবে রাজপুত গর্ব আর রাজনৈতিক জ্ঞান পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে দিচ্ছে না সেই শাসককে সন্ধি করতে। এখন বন্ধুকবির মসি অর্থাৎ কলমে চেপে কাব্যের লাইনে লাইনে উৎসাহ কি পারবে তাকে স্বিদ্ধান্ত নিতে উদবুদ্ধ করতে?
তৃতীয় উপন্যাসিকাটা আরো পরের কাহিনী নিয়ে। চিকিৎসক জন হ্যামিল্টন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে বাণিজ্যে আসেন ভারতবর্ষে, ভাগ্যের ফেরে দশম মুঘল সম্রাট ফরুখশিয়ারের একটা বিশেষ কাজে লেগে যান, তার বিরুদ্ধে হওয়া একটি ষড়যন্ত্র রুখে দেন। আর তাতেই ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অবস্থান শক্ত হয়। সেই বিশেষ কাজটা নিয়েই লেখা এই উপন্যাসিকাটি।
চতুর্থ উপন্যাসিকাতে উঠে এসেছে কালাপানির শের আলী আফ্রিদি নামক কয়েদির গল্প আর কী করে তিনি ভারতবর্ষের ব্রিটিশ ভাইসরয় রিচার্ড বুর্ক-কে, যিনি লর্ড মায়ো নামেও পরিচিত ছিলেন, হত্যা করেন। আফগান কয়েদি শের আলীর আততায়ী হয়ে ওঠার গল্প এখানে উঠে এসেছে। আন্দামান নিকোবারে দ্বীপান্তরিত কয়েদি হিসেবে বন্দীজীবন কাটানোর সময় তিনি হত্যা করেন পরিদর্শনে আসা লর্ড মায়োকে।
হিমাদ্রিকিশোর দাসগুপ্তের লেখার সাথে পরিচিত হয়ে ভাল লাগছে। তার লেখা আরো বই পড়ার আশা রাখি।
There are four novella in this book. The stories are historical fiction. All the stories are lesser known which makes this book a must read. The stories can be read by any anyone and the narrative is 'very to the point.' I liked 'Ekti chotto kanta' the best.
চারটি উপন্যাস অতুলনীয়। অসাধারণ লেখনশৈলীর গুনে হিমাদ্রিবাবু চরিত্র গুলো কে সেই কোন সুদূর অতীতের থেকে সময়ের ধুলো সরিয়ে পাঠকদের কাছে উপস্থিত করেছেন। আর চরিত্রগুলো অপরাজিত হয়েই আমাদের মননে বিরাজ করে গেলো।