১) কোচির এক মন্দিরের মোহন্তের রহস্যময় মৃত্যু হল। সেই মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করার জন্য তথা ফরেনসিক অ্যানালিসিসের জন্য নিয়ে যাওয়া হল এক বাঙালি বৈজ্ঞানিককে, সেও সপরিবারে! ২) মোহন্তের মৃত্যুর কারণ খুঁজে পাওয়ার আগেই কাহিনির অ্যান্টাগনিস্ট সেই বৈজ্ঞানিকের ছেলেকে অপহরণ করে তদন্ত বন্ধ করাতে। ৩) সেই ছেলেটিকে সঙ্গে নিয়েই অ্যান্টাগনিস্ট এবার বেরিয়ে পড়ে গুপ্তধনের সন্ধানে। ৪) গুপ্তধন পাওয়া যায় না, তবে একটা সঙ্কেতবাহী বাক্স পাওয়া যায়। অপহৃত ছেলেটি ফিরে আসে সেই বাক্স নিয়ে। বাক্সটি খোলার জন্য পুলিশ, আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে, কেরালা সরকার বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখায় না। বেওয়ারিশ বাক্সটি আপন করে বৈজ্ঞানিক সপরিবারে, এবং অনুগত এক ছাত্র (অবধারিতভাবেই যে পরের কাহিনিতে বৈজ্ঞানিকের জামাই-এ রূপান্তরিত হয়েছে)-কে নিয়ে কলকাতা রওনা হন। ৫) পথে মৃত অ্যান্টাগনিস্টের প্রত্যাবর্তন ঘটে! ভীষণ ভয়ে বৈজ্ঞানিকের ছাত্র ও পুত্র কোচিতে ফিরে আসে!! আর বলতে হবে? মানে বইটা যে কী অকল্পনীয় রকমের গাঁজাখুরি তা বোঝাতে কি আরও কিছু লাগবে? সায়েন্স ফিকশন তথা বিজ্ঞানভিত্তিক রহস্যরোমাঞ্চের নামে এইসব বালখিল্য জিনিস চালিয়েই বাংলায় কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের সর্বনাশ করা হয়েছিল। আজও নতুন লেখকেরা মাটি থেকে এই নুন আর বালি সরিয়ে তাকে কর্ষণযোগ্য বানানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের সিসিফীয় সংগ্রাম সফল হবে কি না, এর উত্তর দেবে শুধু ভাবীকাল।