বহুযুগ আগে 'সন্দেশ'-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত এই উপন্যাস তথা বড়োগল্পটিকে রোমাঞ্চকর সায়েন্স ফ্যান্টাসি বলা চলে। লেখাটা পড়তে প্রথমদিকে মন্দ লাগছিল না। কিন্তু ক্রমে তাতে এমনই অলীক ব্যাপারস্যাপার ঢুকতে শুরু করল যে চাপ হয়ে গেল। বেশ কিছু মূল্যবান বৈজ্ঞানিক তথ্য থাকলেও ভূরিভূরি আজগুবি জিনিসের চাপে সেগুলো 'অরণ্যে রোদন' হয়ে হারিয়ে গেল। হাতে এলে, তাও আবার মুদ্রিত মূল্য চল্লিশ টাকায়, পড়ে ফেলুন। আদারওয়াইজ, এ এমন কিছু নয়।
সত্যি বলতে খুবই কম দাম দেখেই (৪০ টাকা) বইটা কিনেছিলাম। খুব একটা আশা ছিল না। কারণ, এর আগে সংকর্ষণ রায়ের দু-একটা ছোটগল্প পড়ে মনে হয়েছিল ওঁর লেখালিখির একমাত্র বিষয় খনির খচখচানি। অন্যদিকে ভূগোল আমার বরাবরই না-পসন্দ।
কিন্তু এই বইটা পড়ে মন্দ লাগল না। খনি বিষয়ক কাহিনি হলেও ভৌগোলিক তথ্যের সমাহার নেই। আদতেই এটি একটি অলৌকিক রহস্যের কাহিনি।
ভারতের এক ইউরেনিয়াম খনি ও তার সংলগ্ন কারখানা থেকে ইউরেনিয়াম পাচারের খবর রটে যায়। তারই খোঁজ করতে গিয়ে কারখানার রক্ষী-প্রধান লতিফ ও স্থানীয় এক ব্যক্তি হারিয়ে যায়। সেই রহস্যের তদন্তে আসে ফরেন্সিক এক্সপার্ট ড. সিনহা ও তার পত্নী। অন্যদিকে এই খনি এলাকাতেই রয়েছে দুইটি রহস্যময় পাহাড় এবং সেই পাহাড় ঘিরে নানা কিংবদন্তী। ড. সিনহা এবং তার সাথীরা সেই পাহাড়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে কী পান? সেই নিয়েই রহস্য।
বেশ ভালোভাবেই গল্পটা এগোচ্ছিল। প্রথমে মনে হচ্ছিল কোন দুষ্টচক্রের ষড়যন্ত্র সবটা কিন্তু সেটা শেষে অলৌকিক মোড় নেয়। তবে অলৌকিক পরিসমাপ্তিটা খুব একটা খারাপ নয় (অন্তত আরো অনেক বিজ্ঞানমিশ্রিত কাহিনি রচনার প্রচেষ্টার তুলনায়)। কিছু গোঁজামিল অবশ্যই রয়েছে।
কল্পবিজ্ঞান বলা সমীচীন না হলেও বিজ্ঞানের গারনিশিং করা অতিলৌকিক রহস্য কাহিনি হিসেবে বেশ ভালোই, একবার পড়ার জন্য।