সময় কাটানোর জন্য মোটামুটি চলে৷ বইটাকে হয়ত দুই তারাই দিতাম, তবে একেনবাবুর বিনয়ী নম্রভদ্র স্বভাবচরিত্রের চেহারাটা ভাবলে একটা সুক্ষ্ম আবেগ চলে আসে৷ তাছাড়া, আগেও৷ বলেছিলাম গল্পগুলো আসলে হালকা মেজাজের৷ আমার এক্সপেকটেশন লেভেলে ডাউন টু দা আর্থ৷ নিতান্তই ব্রেইনটা সচল রাখে জন্য অবসরে টুকটাক পড়ি৷ চারটা গল্পের সবকয়টাই ছিমছাম৷ শুধু শেষেরটা 'কর্মফল' অযথা লেগেছে! 'ম্যানহাটানের ম্যাডম্যান' কেসটা একেনবাবুর এখন পর্যন্ত লম্বাটে কাহিনী (আমার পড়া অব্দি)৷ তবে কেসটা এত না প্যাঁচালেও গল্পে খুব বেশি প্রভাব পড়ত না৷ অপ্রাসঙ্গিক বিষয়াদি অথবা ক্যারেক্টারের অত্যাধিক বর্ণনায় গল্পের খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম৷ শেষ পর্যন্ত সবকয়টা শাখা মিলিত হোল দেখে স্যাটিস্ফাইড।'হাউজবোটে নিখোঁজ' আর 'বেসুরো বেহালার পরে' দুটোই ছোট এবং গুছানো গল্প৷ হাউবোটে নিখোঁজ গল্পটাকেই বোধহয় বইয়ের সেরা বলব৷ লেখক ছোট পরিসরেও দারুণ কারবার সাজিয়েছেন৷ সবশেষে এটাই বলব, যদি পড়তে চান তাহলে আমার মত এক্সপেকটেশন কম রাখুন৷ ভারী বই পড়ার মাঝে অনায়েসে মেজাজ খোশ রাখতে একেনবাবু বেশ কার্যকরী৷ তবে সবার আগে 'ম্যানহাটানে মুনস্টোন' আর ' 'ম্যানহাটানে ম্যানহান্ট' পড়বেন অবশ্যই৷ ভালো লাগলেই নাহয় সামনের দিকে মার্চ করবেন৷
বাঙালি সাহিত্যে গোয়েন্দা গল্প মানেই হিট! কিন্তু একেন বাবু আলাদা।
তিনি সেই চিরচেনা ধোঁয়াটে গোয়েন্দা নন, সিগারেট হাতে কলকাতার গলি ঘুরে বেড়ানো কোন কঠিন চেহারার নায়ক নন। বরং একেবারে মেদবহুল, সাদামাটা এক বাঙালি বাবু – তবে বুদ্ধির ধার কিন্তু তীক্ষ্ণ।
এই গল্পগুলোতে তিনি থাকেন আমেরিকায়, এবং বেশিরভাগ কেসও নিউ ইয়র্কে। ওয়েব সিরিজে যা দেখানো হয়েছে, তা মূল চরিত্র থেকে অনেকটাই বদলে গেছে। সুজন দাশগুপ্তের লেখা এই সিরিজে রহস্যের পাশাপাশি উঠে এসেছে সাধারণ জীবনের রস এবং চরিত্রদের ব্যাক্তিগত গল্প। ৩য় খণ্ডেও সেই ধারাবাহিকতা বজায়।
এবারটা একটু দুর্বল। তবে ঐযে ইংরেজি তে একটা শব্দ আছে না soothing, ওরকম ফিল হয় আর কি। একেন বাবু পড়তে ভালো লাগে। তবে শেষের গল্পটা অর্থাৎ "কর্মফল" গল্পটা একেবারে ঘেঁটে গেছে। ওটা না থাকলে ভাল হত। তারপর ও বলবো যারা হালকা মেজাজের বই মাঝেমাঝে পড়ে মুড ঠিক রাখতে চান একেনবাবু তাদের জন্য। আমি দুর্দান্ত কোন এক্সপেক্টেশন রাখি না, তাই আমার বেশ ভাল লাগে।