যারা নিজেদের ব্যস্ততার অনুযোগ করে থাকেন, তাদের জন্য এ বইটি হবে অতি উত্তম পাথেয়। কেননা, এ বইতে থাকছে ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব বয়ান থেকে শুরু করে সালাফের ইলমের প্রতি আগ্রহের কথা, নিজের পার্থিব ব্যস্ততার ওপর ইলম অর্জনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। আছে সময়ের সঠিক ব্যবহার করে ইলম অর্জনের উপায় বিশ্লেষণ। আছে ইলম অর্জনে সহায়ক পথ-পদ্ধতি এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইলম অর্জনের সহজ পন্থার বর্ণনা।
দ্বীনি ইলমের গুরুত্ব,শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও সালাফরা কেমন গুরুত্ব দিতেন ইলম অর্জন করার বিষয়টিকে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং বস্তুবাদী ও ভোগ-বিলাসিতার এই যুগে কিভাবে আমরা নিজেদের সময় নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যয় করতে পারি। এই সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই ছোট্ট এই বইটিতে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার ভাষা খুব সুন্দর ও সংক্ষিপ্ত। অনুবাদের মানও খুব ভালো।
আল্লাহ শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদকে হেফাযত করুন ও শীঘ্রই কারামুক্তি দান করুন।
সকল প্রশংসা এই বিশ্বজাহানের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর!!
ব্যস্ততার এই যুগে ইলম অন্বেষণ বইটি পড়ে নিজের প্রতি খুব অপরাধবোধ জাগতেছে। কত সময়ই না অযৌক্তিক ব্যস্ততায় ব্যয় করেছি। আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিক, এবং সময়ে বারাকাহ দান করুক। ইলমের প্রতি সালাফ এবং সাহাবীদের আগ্রহ, দুনিয়াবি ব্যস্ততার মাঝেও ইলম অর্জনে তাদের সময় বের করে নেওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্যে অনুপ্রেরণার ইন শা আল্লাহ। ব্যস্ততা থাকা সত্যেও প্রতিদিন কু'র'আনের অন্তত এক পাতা পড়া, এক আয়াত মুখস্ত করা, একটি আয়াতের তাফসির দেখা ইত্যাদির ধারাবাহিকতা রাখার বিষয়ে বলা হয়েছে। এটা আমার কাছে ফলফ্রসু মনে হয়েছে।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস শিখলাম হচ্ছে - পাঁচ প্রকার ইলম নিয়ে। যেখানে চতুর্থ এবং পঞ্চম প্রকারের ইলমকে বলা হয়েছে রোগতোল্য এবং ক্ষতিকর। অথচ আমরা দেখা যায় চতুর্থ প্রকার ইলম নিয়ে ব্যস্ত থাকি। অনেক সময় উলামাদের গাল মন্দ করি। আল্লাহ আমাদেরকে এসব ফিতনা থেকে মুক্ত রাখুক। পরিশেষে শায়খ উসাইমিন রাহিমাহুল্লাহ এর নসিহা দিয়ে - পাঠ-ক্রমধারাটা ও পাঠপদ্বতিটি ভালো লেগেছে। যেখানে প্রথম নসিহা ছিলো - আল্লাহর কালাম হিফজ করার সংকল্প করা। আলহামদুলিল্লাহ, এটা পড়ার পর আমি দৃঢ় সংকল্প করলাম আল্লাহর কালাম হিফজ করবো। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করুক এবং তাউফিক দিক। আমি প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট অংশ মুখস্ত করার চেস্টা করবো, এবং যখন সময় সুযোগ পাবো কোনো কোনো উস্তাদের তত্বাবধানে শিখবো ইন শা আল্লাহ।
দ্বিতীয়ত, সাধ্যমতো হাদিস মুখস্ত করা। এটাতেও জোর দিবো, ইন শা আল্লাহ। উনি এখানে উমদাতুল আহকাম নামে একটা হাদিসের কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন চেস্টা করবো সংগ্রহ করার এবং পড়ার । আল্লাহ তাউফিক দিক।
ইলম অর্জনে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ থাকা এবং অবিচলতা থাকা, ছোট কিতাব দিয়ে শুরু করে অতঃপর বড় কিতাবের বা উঁচু স্তরের কিতাবের দিকে অগ্রসর হওয়া, কোনো শায়খের সাথে অথবা তালিবে ইলম ও দ্বীনদার কোনো ভাইয়ের সাথে শেখা বিষয়গুলো, মাস'আলা-মাসায়েল ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে শেষের দিকে।