Jump to ratings and reviews
Rate this book

জাদুকরের কেবিন থেকে

Rate this book
তিন বন্ধু লেখক, তারা এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জায়গায় বেড়াতে যায়। তাদের নিজেদের মধ্যে রয়েছে বিবাদ। নতুন জায়গায় গিয়ে তারা জানতে পারে এই অঞ্চলে খুবই নৃশংস ভাবে খুন হয়েছে একটি লোক। নিজেদের মধ্যে কে শ্রেষ্ট, এটা নির্ধারণের জন্য তারা এই খুনের রহস্য উদঘাটনে নামে।

Hardcover

Published February 5, 2019

1 person is currently reading
44 people want to read

About the author

Muradul Islam

17 books154 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
4 (12%)
4 stars
12 (38%)
3 stars
12 (38%)
2 stars
2 (6%)
1 star
1 (3%)
Displaying 1 - 16 of 16 reviews
Profile Image for সালমান হক.
Author 67 books2,006 followers
May 1, 2020
বিশ্বাসে মেলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর

কিন্তু জাদুকরের কেবিন থেকে বইটিতে বহুদূরে অবশ্য যেতে হয়নি, তর্কে তর্কেই বই শেষ হয়ে গেল। আদ্যোপান্ত বইটি ভালো লেগেছে৷ মুরাদুল ইসলামের লেখালেখির সাথে যারা পরিচিত, তাদের ভালো লাগবে৷ অন্যদের কথা অতটা জোর দিয়ে বলতে পারছি না।

এ পর্যন্ত মুরাদুল ইসলামের যতগুলো বই পড়েছি সবগুলোতেই সাবলীল বর্ণনা এবং যুক্তিনির্ভর কথাবার্তার কোন অভাব ছিল না, এটিতেও নেই৷ তিন লেখকবন্ধু (যাদের ভেতরে তীব্র প্রতিযোগিতা) ঘুরতে যায় সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে। কে সেরা, সেই তর্কের চূড়ান্ত সমাপ্তি টানার জন্যে তারা বেছে নেয় এক খুনের ঘটনাকে৷ যে এই অদ্ভুত খুনের সমাধান করতে পারবে, যুক্তিতর্কের বিচারে সে-ই হবে সেরা৷ বলে রাখা ভালো, তিনজনই বেশ পরিচিত ক্রাইম ফিকশন রাইটার।

সীমিত ব্যপ্তির জন্যে তিনটি চরিত্রের মধ্যে কোনটিরই সেরকম প্রস্ফুটন ঘটেনি। বইটি চরিত্র নির্ভর নয়, কাহিনী নির্ভর৷ বরাবরের মতনই কথার ফাকে ফাকে উঠে এসেছে দর্শন, রাজনীতি এবং অন্যান্য তাত্ত্বিক আলোচনা৷ বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটির ফাঁকে ফাঁকে এই কথাগুলো ভালো লেগেছে৷ তবে প্রতিবারই লেখক এরকম ভারি বর্ণনার লাগাম টেনে ধরেছেন, যা যথার্থ মনে হয়েছে আমার কাছে। তবে সবথেকে অবাক হয়েছি শেষটুকুতে৷ একদম অপ্রত্যাশিত, জাদুবাস্তবতায় মোড়া এই এন্ডিংয়ের কারণেই তিন তারা থেকে চার তারা পাবে উপন্যাসটি৷

সর্বোপরি "জাদুকরের কেবিন থেকে" নিছক কোন থ্রিলার নয়৷ বরং থ্রিলারের মোড়কে একটি "ভাবনার খোরাক"। পাতায় পাতায় "থ্রিল" পাবার আশা করে বইটি হাতে নেয়াটা বোধকরি উচিৎ হবে না। বরং থ্রিলারের মধ্যে ভিন্ন কিছুর ছোয়া পেতে চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন।
Profile Image for Harun Ahmed.
1,689 reviews455 followers
June 16, 2021
৩.৫/৫
শেষের অদ্ভুত সুন্দর পরিসমাপ্তির জন্য এ উপন্যাসের কথা মনে থাকবে।
Profile Image for Shuhan Rizwan.
Author 7 books1,116 followers
May 22, 2021
রহস্য বা কল্প- গল্পের মোড়কে লেখক বিবিধ বিষয়ে তার ভাবনা প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। তবে যে আখ্যান তিনি তৈরি করেছেন, তার সাথে নানা বিষয়ের আলোচনাটা ঠিক সাযুজ্যপূর্ণ হয়ে ওঠেনি।

বাংলা ভাষায় এ ধারার কাজ খুব একটা দেখি না বলে তার প্রচেষ্টাকে সাহসী বলা যায়।
Profile Image for Shaon Arafat.
131 reviews31 followers
March 17, 2019
"Someday, somewhere - anywhere, unfailingly, you'll find yourself, and that, and only that, can be the happiest or bitterest hour of your life."
_ Pablo Neruda

"বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পিলারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে উন্মত্ত নদী জাদুকাটা। নদীর নামটি জাদুকাটা কিভাবে হলো, তার পেছনে এক গল্প আছে। এই অঞ্চলে জাদুর প্রচলন আছে। যাকে বাণ মারাও বলা হয়ে থাকে। এক ধরনের অনিস্ট করতে হলে অন্য কেউ তান্ত্রিক বা ওঝার সাহায্য নিয়ে এই বাণ মেরে থাকে। জাদুকাটা নদীর বিশেষত্ব হলো, নদীর একপাড় থেকে বাণ মারলে অন্যপাড়ে সেই বাণ পৌঁছাত না। নদী তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে বাণের বা জাদুর ক্ষমতা নষ্ট করে দিত। নদীর এই জাদুময় ক্ষমতার জন্যই এর নাম হয় জাদুকাটা নদী।"

যাইহোক, গল্পের শুরু জাদুকাটা নদীতে না। সুনামগঞ্জের এক প্রত্যন্ত হাওর অঞ্চলে। দেশের জনপ্রিয় তিনজন উদীয়মান ক্রাইম ফিকশন লেখক হাওর অঞ্চল ভ্রমণে বের হয়েছেন। তাদের তিনজনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আছে, দর্শন কিংবা পেশাগত আগ্রহের জায়গা থেকে মিলও আছে অনেক। কিন্তু শত্রুতাও নেহাৎ কম না, দেশের ক্রাইম ফিকশন জনরাতে সবার সেরা লেখক হিসেবে স্বীকৃতি লাভের চেষ্টায় তিনজনই বেশ মরিয়া।

অনেক পথ পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছায় তাহিরপুর নামের এক গ্রামে। থাকার জায়গা ঠিক হয় জেলাপরিষদ বাংলোতে। দর্শন, শিল্প, সাহিত্য নিয়ে তাদের পারস্পরিক আলোচনা-সমালোচনাসহ সবকিছু ঠিকই চলছিল। কিন্তু বাধ সাধলো একটি খুনের খবর। আগের রাতে বিভৎসভাবে খুন হয়েছে গ্রামের সবচাইতে ক্ষমতাবান তিনজন মানুষের একজন, মধুসূদন ধর। লাশের অবস্থা ভয়ংকর। কেউ যেন খুবলে খুবলে খেয়েছে সারা শরীরের মাংস।

এ অঞ্চলের সবকিছুই কেমন যেন ঘোলাটে মনে হচ্ছে লেখকত্রয়ীর কাছে। বুদ্ধিবৃত্তিক সুপিরিয়টি কম্পলেক্সে ভোগা তিনজন লেখকই আলাদাভাবে মাঠে নামলো ধর বাবুর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে। অতঃপর তাদের নিজেদের মধ্যেকার আরেকটি প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া যেতে শুরু করলো। একে একে দৃশ্যপটে অাবির্ভূত হতে থাকলো আরও কিছু সত্য, ইতিহাস, আবিস্কার, আর জাদুকাটা নদীর সাথে জাদুকরের কেবিনের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক।

মুরাদুল ইসলামের আরও তিনটি বই আগে পড়া হয়েছিলঃ 'কাফকা ক্লাব', 'গ্যাডফ্লাই' আর 'রহমান সাহেব এবং তিনটি রহস্য'। আগের গুলোর মতো এই বইতেও তার লেখা বেশ ভালো, সাবলীল মনে হয়েছে। তবে আগের লেখাগুলোর তুলনায় এবারের লেখায় তার বুদ্ধিবৃত্তিক, চিন্তা উদ্দীপক একটা ছাপ অধিকতর প্রবলভাবে চোখে পড়েছে। প্রগাঢ় দর্শনের সাথে মৃত্যু রহস্য উন্মোচন, বেশ ভালো এক্সপেরিমেন্ট! থ্রিলার হিসেবে খুবই ভালো কোন বই না, তবে যে সকল পাঠক গতানুগতিক ধারার বাইরের কিছু পড়তে চান, বইটা তাদের ভালোলাগার সম্ভাবনা আছে।

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ থ্রিলার হিসেবে যথেষ্ট থ্রিলের অভাব দেখা যেতে পারে পুরো বইতে। তবে এমনিতে পড়লে, একটি উপন্যাসিকা হিসেবে বেশ ভালো।
Profile Image for Adil Sifat.
4 reviews3 followers
February 22, 2019
আমি গত পরশু রাতের বাসে ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ গিয়েছিলাম জাদুকাটা নদীর তীরে শিমুল বাগান, নিলাদ্রি লেক এই জায়গাগুলো দেখতে। আজ সকালে ঢাকায় ফিরে বিকালে বই মেলায় গিয়েছিলাম। তখন আপনার লেখা নতুন বই "জাদুকরের কেবিন থেকে" কিনে নিয়ে বাসায় ফিরে একটু আগে পড়া শুরু করি। প্রথম লাইন পড়তে গিয়েই আমার গতকালের ভ্রমণ স্মৃতির অস্তিত্ব টের পাই। আমি গতকাল নো ম্যানস ল্যান্ডে একটা সীমান্ত পিলারের ছবিও তুলেছিলাম, যেটাতে পাকিস্তান ও ইন্ডিয়া নামের সংক্ষিপ্ত রূপ সম্বলিত নির্দেশনা ফলক ছিলো। আর জাদুকাটা নদীতে নৌকায় কর্মযজ্ঞের ছবিও তুলেছিলাম কাল।

গতকাল ভ্রমণ শেষ করে এসে আজকে বই কিনে প্রথম লাইনেই এমন বর্ণনা পেয়ে আমি নিজেই আমার স্মৃতিতে সংরক্ষিত তথ্যভাণ্ডারের আলোকে এডভেঞ্চার শুরু করেছি বইয়ের ঘটনা প্রবাহের সাথে সাথে। এমন অনুভুতি আর কখনো হবে কিনা জানি না।
Profile Image for Masum Billah.
1 review
February 22, 2019
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
জাদুকরের কেবিন থেকে; মুরাদুল ইসলাম

শুরু হয় টিলার উপরের বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত পিলারের উপর থেকে। তারপর বিভূতিভূষণ এর আরন্যকের মতো একটি প্রকৃতির বর্ননা, মহত্ত্ব কিংবা শ্রেষ্ঠত্বের জন্য অতিকাছের মানুষের সাথে কনফ্লিক্ট, আবার এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে নতুন মানুষদের কনফ্লিক্ট[ মানে লেখক এখানে গল্পের অন্য আরেক লেয়ারে প্রবেশ করেছেন]। কখনো মাজারের কাহিনী, আবার খুন, এনজিওতে চাকরি করা মহিলার চাকরি টিকিয়ে রাখা এরকম ‌প্রচলিত বিষয় থেকে বায়োরোবটের মতো সাইন্টিফিক সিরিয়াস বিষয়। আবার আছে পাবলিক টয়লেটে কাজ সেরে পানি না দেয়ার মতো বাঙালিয়ানাও। কথার মাঝে ফুকো নাকি জিরার্দ কে সেরা- এরকম তর্ক চলে আসে। আলোচিত হয় ইউজেনিক্স,এন্টি নাটালিজম নিয়ে। ক্ষণে ক্ষণে উঠে আসে কিছু লোকগল্প। শরীরে একটি কম্পন‌ দিয়ে বইটি শেষ হয় আবার ভারত বাংলাদেশের সীমান্ত পিলারের উপরেই।

যেখানে কাহিনীর শুরু আবার সেখানেই শেষ কিন্তু মাঝে একটি জগৎ। ফিলসফি, পলিটিক্স আবার থ্রিলিং কিছু পয়েন্ট সবই আছে এ বইয়ে।

আপনি বইটি পড়তে পারেন আশাকরি সময় এবং টাকা বৃথা যাবেনা।

এবারের বইমেলায় প্রকাশিত বই। লেখক পৃষ্ঠা সংখ্যা ৯৪।দাম ২১০ টাকা। পাওয়া যায় বৈভব প্রকাশনীর স্টলে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ৪২২ নং স্টল।
Profile Image for Tanzina Afrin.
13 reviews13 followers
February 17, 2019
উপন্যাসের শুরু থেকেই লেখক দৃশ্যমান প্রকৃতিকে নিজের উপলব্ধি দিয়ে বর্ণনা করে গেছেন,যেটা ভাল লেগেছে।আর বন্ধুদের সাথে খুনসুটিযোগে দার্শনিক আলাপচারিতা গুলো যথেষ্ট উপভোগ্য মনে হয়েছে।
মাঝে মাঝে খানিকটা বিরক্তির উদ্রেক করেছে এমন কিছু সংলাপ,যেগুলোর কোন প্রয়োজনীয়তা ছিল বলে মনে হয়নি।কাহিনীর স্বাভাবিক গতিতে ওইসব খুঁটিনাটি ব্যাপার পাঠকের সামনে আপনা আপনিই হাজির হতো।
তবুও ভাল লেগেছে কাহিনীর মৌলিকত্ব,যুক্তিবাদিতা আর বিজ্ঞানমুখীতা।
আর অদ্ভুত অপ্রত্যাশিত যে পরিসমাপ্তি উপন্যাসের শেষে পাঠকের জন্য ওঁৎ পেতে বসে আছে,তা একে থ্রিলার ছাড়িয়ে অন্য কোন ঘরানায় নিয়ে যায়...
সম্ভবত কোন উপন্যাসই বিশুদ্ধ কোন ঘরানার বাসিন্দা হয় না।
This entire review has been hidden because of spoilers.
2 reviews5 followers
February 18, 2019
তিন লেখক বন্ধু নিয়ে এক থ্রিলার যারা সবসময় মনে করে সে সবচেয়ে মেধাবী। এ নিয়ে তাদের প্রায়ই তর্ক হয়। তাও তারা ভাল বন্ধু৷ এরকম বিভিন্ন কনফ্লিক্ট সঙ্গে করেই ঘটনা এগোয়।
অন্যান্য থ্রিলার বা অন্যান্য গল্প থেকে এই গল্প আলাদা হয় তিন লেখক বন্ধুর দর্শন নির্ভর বিভিন্ন তর্কে। যে চিন্তাগুলো নিয়ে তর্কগুলো সাজানো হয়েছে তার কয়েকটার সাথে অবশ্য মুরাদুল ইসলামের লেখা নিয়মিত পড়ায় পরিচিত ছিলাম।।
লেখা কেমন হয়েছে সেই বিচার আমি করব না। করতে পারবও না। তবে আমার ভাল লেগেছে। সম্ভব হলে ৪.৫ দিতাম।
তবে আমি আশা করেছিলাম আরও লেখাটা আরেকটু বড় হবে৷
31 reviews
July 22, 2022
তিনজন বন্ধু ; জ্যাক, পামুক এবং তৃতীয় আরেকজন যাকে কথক বলা যেতে পারে। তারা সবাই পেশায় লেখক, লেখে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। তারা তিনজন বন্ধু হলেও লেখার মান এবং জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনজনের মধ্যে আছে তুমুল প্রতিযোগিতা। অবস্থা এমন যে আড্ডার সময় নিজ নিজ মত ও চিন্তায় তারা এমন গোঁড়া হয়ে পড়ে যে একে অপরের নাকও ফাটিয়ে ফেলে! কিন্তু সেই মুহূর্ত কেটে গেলেই তিনজনের মধ্যে গলায় গলায় মিল। তো এই তিন বন্ধু একবার ছুটি কাটাতে সুনামগঞ্জের হাওর দেখতে বের হয়। সেখানে গিয়েও যখন আরেকবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তর্ক বাঁধে তখন হাওর এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া খুনের মীমাংসা করার চ্যালেঞ্জ নেয় তারা। শর্ত থাকে যে আগে খুনের মীমাংসা করতে পারবে সেই সেরা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং বাকি দুইজন শ্রেষ্ঠত্ব মানার শর্ত হিসেবে নাকে খত দেবে। আপাতদৃষ্টিতে হিংস্র পশুর হামলায় মৃত মধুসূদন ধরের হত্যার রহস্যটা কি? কে পারবে চ্যালেঞ্জটা জিততে? কিভাবে খুলবে এই রহস্যজট?

শুরুতেই সার্বিকভাবে কেমন লাগলো বইটা সেই আলোচনাটা করা যাক, তারপর একে একে প্রতিটা পয়েন্ট আলোচনা করা যাবে । যদি পাঁচের মধ্যে রেটিং দিতে হয় তবে বইটা আমার কাছ থেকে পাবে তিন। কেন তিন? ভালো লাগার বিষয়গুলো হলো সম্পূর্ণ নতুন একটা কনসেপ্টের মাধ্যমে রহস্য উন্মোচন, শেষের সেই টুইস্ট যা বইটাকে রহস্য উপন্যাসের চেয়ে বেশি কিছু বানিয়েছে, প্লটের সাথে দারুণ সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রচ্ছদ, লেখকের দারুণ কিছু চিত্রকল্প নির্মাণ, প্রচুর বই, মুভি, বিখ্যাত ব্যক্তি ও কনসেপ্টের আলোচনা ইত্যাদি। আর খারাপ লাগার কথা বলতে গেলে ২-১ টা প্লটহোল, রহস্য উন্মোচনে তেমন কোনো কার্যকর কর্মপদ্ধতি না দেখানো, কিছু বাড়তি চরিত্র ও ঘটনা সৃষ্টি ইত্যাদি।

শুরুতেই প্লট নিয়ে কিছু বলি। প্লটটা তেমন আকর্ষণীয় কিছু মনে হয় নাই। প্রায় ১০০ পৃষ্ঠার একটা বইয়ের বলতে গেলে অর্ধেক অংশে তেমন কোনো ঘটনা নাই। এই সময়টা লেখক নিয়েছেন শুধু তিন বন্ধুর অবস্থা ব্যাখ্যা করতেই। এই অংশটুকু আরেকটু সংক্ষেপ করা যেত। এছাড়া তিন বন্ধুর রহস্য উন্মোচনের কোনো ঠিকঠাক পদ্ধতিও পাই নাই। মানে তাদের তেমন কোনো বুদ্ধিদীপ্ত কিছু করতে দেখি নাই, সবাই অনেকটা যেচে যেচেই তথ্য দিচ্ছিল। আবার কিছু বাড়তি চরিত্র ও ঘটনাও রয়েছে বইটাতে যার সাথে মূল রহস্যের তেমন কোনো সংযোগ নেই বললেই চলে। যেমন শ্রীপর্ণা ও জ্যাকের সম্পর্ক, মাজারের ছাগল নিয়ে কিছু কথাবার্তা, এক পাদ্রীর জীবনবৃত্তান্ত, মোরগ বা কাঁকড়া দিয়ে কালোজাদুর ইঙ্গিত। আবার কাহিনীতে দু-একটা বিষয় ঠিক মানতে পারি নাই। যেমন রহস্য উন্মোচন দিয়ে সেরা লেখক মানা বা বন্ধুদের বাজির কথা শুনে পুলিশ অফিসারের সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির সাথে পামুককে কথা বলতে দেওয়া।

রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে লেখক নতুন একটা (অন্তত আমার কাছে) বিষয় এনেছেন যেমনটা আমি আগে কখনও পড়ি নাই। সত্যি বলতে আমি ভাবতেও পারি নাই কাহিনীটা এভাবে মোড় নেবে। আর বইয়ের শেষ লাইনটা এমন একটা ধাক্কা দিয়েছে যে দাঁড়িয়ে যেতে হয়েছে! “আরেহ! এটা কি হলো?” ছাড়া আর কিছু বলার ছিল না তখন! ঐ এক লাইনের মাধ্যমে বইটা রহস্য কাহিনী থেকে ভৌতিক বা জাদুবাস্তবতা বা থ্রিলারের দিকে যাত্রা করেছে! আর এই শেষ লাইনটা পড়ার পরেই আমি প্রচ্ছদের মাজেজা ধরতে পেরেছি। তখন আপনাআপনি প্রচ্ছদ শিল্পীর জন্যও একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য হয়ে গিয়েছে!

তেমন কোনো চরিত্রই নিজেকে সম্পূর্ণ মেলে ধরতে পারেনি। ছোট একটা বইয়ে অসংখ্য চরিত্র এর একটা বড় কারণ। তিন বন্ধু ছাড়াও মধুসূদন ধর, ধনঞ্জয় সাহা, আবুল কাশেম, তালেব মাস্টার, ফণীশ, শ্রীপর্ণা ইত্যাদি চরিত্র এসেছে বই জুড়ে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিলো তালেব মাস্টার চরিত্রটা, চরিত্রটার আরও ভালো পরিণতি আশা করেছিলাম। শ্রীপর্ণা চরিত্রটাও কাহিনী আরও মসলা যোগ করতে পারতো কিন্তু তেমন কিছু হয়নি।

লেখনশৈলীর কথা বলতে গেলে লেখকের লেখার ধরণ এবং চিন্তাভাবনার মোটামুটি ভক্ত আমি। টাইমলাইনে সাম্প্রতিক নানা ঘটনার ভিন্ন আঙ্গিকের ব্যাখ্যা দেন নিয়মিত। বইটাতেও সেই ধারা তিনি অব্যাহত রেখেছেন। শুরুর দিকে তিন বন্ধুর তর্কের মাধ্যমে লেখক বিচিত্র সব বিষয় তুলে ধরেছেন। বিভূতিভূষণের আরণ্যক থেকে স্টিফেন কিংয়ের দ্য বুগিম্যান, ছফা, জীবনানন্দ ,বুদ্ধদেব, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, শ্রীচৈতন্যের মৃত্যু রহস্য থেকে ডকিন্সের স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা, চমস্কির ভাবনা নিয়ন্ত্রণ থেকে বেলায়েবের শেয়াল গবেষণা ইত্যাদি বিচিত্র বিষয় এসেছে বইয়ের পাতায় পাতায়। আবার অন্যদিকে যুগান্তকারী কিছু ধারণা যেমন সাইবর্গ, ইউজেনিক্স, অ্যান্টিনাটালিজম, হিব্রু ধর্মতত্ত্ব ইত্যাদিও এসেছে বইটাতে। কিন্তু শুরুর এত তর্কাতর্কি কিছুটা বিরক্তিরও জন্ম দিয়েছে কেননা বইয়ের মূল কাহিনীর সাথে এসবের তেমন কোনো সম্পর্কই নাই। অন্যদিকে দারুণ কিছু চিত্রকল্প ও সংলাপ আছে বইটাতে। প্রস্তাবনার বর্ণনাটুকু বা নারায়ণ সান্যালের মৃত্যুর বর্ণনা বা টাওয়ার থেকে সৌন্দর্য দর্শন নিয়ে ব্যাখ্যার অংশটুকু অসাধারণ।

প্রোডাকশন ও সম্পাদনার কথা কিছু বলা যাক। প্রচ্ছদ, পেজ বা বাইন্ডিং আপ-টু-দ্য-মার্ক। সম্পাদনায় কিছুটা খামতি দেখা গেছে অবশ্য ; বেশ কিছু বানান বা বাক্যের গঠনে ভুল চোখে পড়েছে।

পরিশেষে এটা বলা যায়, মোটামুটি ভালো একটা বই ছিল মুরাদুল ইসলামের জাদুকরের কেবিন থেকে। কিছু তথ্যের আধিক্য থাকলেও বা রহস্য উন্মোচন পদ্ধতি ততটা আকর্ষণীয় না হলেও দারুণ এন্ডিং এবং লেখনশৈলীর গুণে বইটা সমৃদ্ধ ছিল।

বই : জাদুকরের কেবিন থেকে
লেখক : মুরাদুল ইসলাম
প্রকাশনী : বৈভব
পৃষ্ঠা : ৯৫
মুদ্রিত মূল্য : ২৪০ টাকা
Profile Image for Shaon Arafat.
82 reviews4 followers
January 10, 2024
"Someday, somewhere - anywhere, unfailingly, you'll find yourself, and that, and only that, can be the happiest or bitterest hour of your life."
_ Pablo Neruda
"বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পিলারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে উন্মত্ত নদী জাদুকাটা। নদীর নামটি জাদুকাটা কিভাবে হলো, তার পেছনে এক গল্প আছে। এই অঞ্চলে জাদুর প্রচলন আছে। যাকে বাণ মারাও বলা হয়ে থাকে। এক ধরনের অনিস্ট করতে হলে অন্য কেউ তান্ত্রিক বা ওঝার সাহায্য নিয়ে এই বাণ মেরে থাকে। জাদুকাটা নদীর বিশেষত্ব হলো, নদীর একপাড় থেকে বাণ মারলে অন্যপাড়ে সেই বাণ পৌঁছাত না। নদী তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে বাণের বা জাদুর ক্ষমতা নষ্ট করে দিত। নদীর এই জাদুময় ক্ষমতার জন্যই এর নাম হয় জাদুকাটা নদী।"
যাইহোক, গল্পের শুরু জাদুকাটা নদীতে না। সুনামগঞ্জের এক প্রত্যন্ত হাওর অঞ্চলে। দেশের জনপ্রিয় তিনজন উদীয়মান ক্রাইম ফিকশন লেখক হাওর অঞ্চল ভ্রমণে বের হয়েছেন। তাদের তিনজনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আছে, দর্শন কিংবা পেশাগত আগ্রহের জায়গা থেকে মিলও আছে অনেক। কিন্তু শত্রুতাও নেহাৎ কম না, দেশের ক্রাইম ফিকশন জনরাতে সবার সেরা লেখক হিসেবে স্বীকৃতি লাভের চেষ্টায় তিনজনই বেশ মরিয়া।
অনেক পথ পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছায় তাহিরপুর নামের এক গ্রামে। থাকার জায়গা ঠিক হয় জেলাপরিষদ বাংলোতে। দর্শন, শিল্প, সাহিত্য নিয়ে তাদের পারস্পরিক আলোচনা-সমালোচনাসহ সবকিছু ঠিকই চলছিল। কিন্তু বাধ সাধলো একটি খুনের খবর। আগের রাতে বিভৎসভাবে খুন হয়েছে গ্রামের সবচাইতে ক্ষমতাবান তিনজন মানুষের একজন, মধুসূদন ধর। লাশের অবস্থা ভয়ংকর। কেউ যেন খুবলে খুবলে খেয়েছে সারা শরীরের মাংস।
এ অঞ্চলের সবকিছুই কেমন যেন ঘোলাটে মনে হচ্ছে লেখকত্রয়ীর কাছে। বুদ্ধিবৃত্তিক সুপিরিয়টি কম্পলেক্সে ভোগা তিনজন লেখকই আলাদাভাবে মাঠে নামলো ধর বাবুর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে। অতঃপর তাদের নিজেদের মধ্যেকার আরেকটি প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া যেতে শুরু করলো। একে একে দৃশ্যপটে অাবির্ভূত হতে থাকলো আরও কিছু সত্য, ইতিহাস, আবিস্কার, আর জাদুকাটা নদীর সাথে জাদুকরের কেবিনের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক।
মুরাদুল ইসলামের আরও তিনটি বই আগে পড়া হয়েছিলঃ 'কাফকা ক্লাব', 'গ্যাডফ্লাই' আর 'রহমান সাহেব এবং তিনটি রহস্য'। আগের গুলোর মতো এই বইতেও তার লেখা বেশ ভালো, সাবলীল মনে হয়েছে। তবে আগের লেখাগুলোর তুলনায় এবারের লেখায় তার বুদ্ধিবৃত্তিক, চিন্তা উদ্দীপক একটা ছাপ অধিকতর প্রবলভাবে চোখে পড়েছে। প্রগাঢ় দর্শনের সাথে মৃত্যু রহস্য উন্মোচন, বেশ ভালো এক্সপেরিমেন্ট! থ্রিলার হিসেবে খুবই ভালো কোন বই না, তবে যে সকল পাঠক গতানুগতিক ধারার বাইরের কিছু পড়তে চান, বইটা তাদের ভালোলাগার সম্ভাবনা আছে।
Profile Image for তানভীর রুমি.
119 reviews62 followers
March 31, 2021
অন্যতম সেরা জাদুবাস্তব থ্রিলার হয়ে রইবে বইটি৷

না, জাদুবাস্তব বলা হয়তো উচিত হচ্ছে না, কিন্তু কোথাও না কোথাও একটা প্রভাব থেকে যায়।

মুরাদুল ইসলাম এর ন্যারেটিভ আমার কাছে তার সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা এবং ভালো লাগার বিষয়। পড়তে সময় লাগে, কিন্তু শেষ করে কখনোই মনে হয় না যে লস হয়ে গেল।

জাদুকরের কেবিন থেকে তিন লেখক বন্ধুর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্রমণের গল্প। যেখানে অদ্ভুতভাবে খুন হয়েছে একটি লোক। তারা এই রহস্য উদঘাটন করতে শুরু করে।

মাত্র ৯৬ পৃষ্ঠার থ্রিলার, সবসময়ই টানটান ছিল। কিন্তু এই টানটান কিন্তু চেনাপরিচিত থ্রিল ব্যাপারটা না, বরং মোর দ্যান দ্যাট। একটা অদ্ভুত অনুভূতি, এরপর কি হবে না, এইটা কেন হচ্ছে প্রশ্ন আসে। কাহিনি এগিয়েছে খুব সুন্দর ভাবে— ফিলোসোফি আর চিন্তাকরার রসদ নিয়ে। আর শেষটা একেবারেই আলাদা। পুরো থ্রিলারটাই অন্যান্য থ্রিলারের চেয়ে একদম আলাদা।

পার্সোনালি, রেকমেন্ডেড।
Profile Image for Loknath Dhar.
4 reviews
February 22, 2019
পাঠক হিসেবে কখনোই নিজেকে অতি উচ্চমানের মনে হয় নি। তাই রিভিউ দিতে গেলেও ভয় ভয় কাজ করে। তার উপর মুরাদুল ইসলাম ভাইয়ের প্রতি আমি মুগ্ধ, কারণ তিনি প্রতিনিয়ত আমাকে চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছেন। মুগ্ধতা রেখে একটা মানুষের সবকিছুই ভালো লাগে। বিচার করতে গেলেও তার উপর প্রভাব পড়ে। এজন্য রিভিউ লিখবো না ভেবেও দুয়েকটা লাইন লিখতে বসা। মুরাদুল ইসলামকে চিনেছি অল্প কয়েকদিন হল, মুগ্ধতা থেকেই তার বইটা পড়ার জন্য বেশ আগ্রহী ছিলাম। পড়া শেষে মনে হল - মোটেও মন্দ বলা যাবে না। ভালো বই। কেমন ভালো?

তার লেখা কথোপকথন। সুন্দর। এমন সুন্দর যে, তিনি কয়েকটা মানুষের কথার ভেতর দিয়ে দারুণ কিছু পয়েন্ট, ভাবনা (দর্শন বলা চলে?), মতামত তুলে এনেছেন এবং তার লেখার ভঙ্গিতে সেগুলো সম্পর্কে জানতে আমাকে বেশ আগ্রহী করে তুলেছে। আমার সবচেয়ে মজা লেগেছে এইজন্য - কথোপকথনগুলো তর্ক করতে করতে এগিয়ে গেছে! যেটা সাধারণত কথোপকথনে এমন করে দেখা যায় না! অন্তত আমি দেখি নাই, যতদূর মনে পড়ে। যেহেতু তার ছোট ছোট লেখা, ব্লগ পড়ার সাথে কিছুটা পরিচিত - আমার কেবলই মনে হচ্ছিল, তিনি আসলে তার চরিত্রদের দিয়ে নিজেকে ভেঙ্গে দেখার চেষ্টা করছেন, নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়া যেন! আমি জানি না আমি ঠিক কি না, কিন্তু এটা বুঝতে পারলে (এবং যদি আসলেই এমন হয়) ব্যাপারটা দারুণ মজার! এদের সাথে সাথে আপনার নিজের একটা মত গড়ে উঠবে, হয়েও যেতে পারে সেটা শক্তিশালী। সত্যি বলতে এসবই বইয়ের দারুণ সব দিক!

কিন্তু থ্রিলার হিসেবে একে খুব আলাদা ক্যাটাগরিতে রাখা যাবে? বোধহয় না। চরিত্রগুলো খুব দারুণভাবে গড়ে উঠেছে অবশ্যই বলা যাবে না। গল্পের কাহিনী বেশ দুর্বল। তবে তার বর্ণনার ভঙ্গি অনেক ভালো, তবে সামনে যে "দারুণ" হয়ে উঠবে, এই নিয়ে আমি আশাবাদী অনেক!! আমার পছন্দ হয়েছে। তার আরও লেখা পড়ার জন্য আগ্রহী হয়েছি। আজ তার গ্রিক উইট বইটা সংগ্রহ করেছি।

প্রথম পাঠে লেখা এই রিভিউ। আমার মনে হচ্ছিল, আরও একবার ভালো করে পড়ে দেখা উচিত। কিছু মিস করে গিয়েছি কি না। কারণটা বলা যাবে না। -_-

এখন, কেন এই বই পড়া উচিত? যদি কাহিনী সত্যিই দুর্বল হয়?

কিছু ইনসাইট পাবার জন্য। এই যে তর্কে তর্কে কাহিনী এগিয়ে চলা - আমি সত্যিই এমনটা দেখি নাই। এটা একদমই নতুন আমার কাছে এবং এটা আসলেই আমার কাছে ভালো লেগেছ খুবই! ধরেন, আপনার তিনটা এমন বন্ধু আছে, যাদের সাথে খালি বকবক করতে করতে আপনার একটা শক্ত মতামত গড়ে উঠে। আপনি কিছু ইনসাইট পান। আপনি মানুষ হিসেবে একটু বেটার হয়ে উঠেন। এই বইটা তেমনই। এটারে, এমন লেখার ভঙ্গিরে স্বাগতম জানাই।
Profile Image for Fayezur Shoikot.
9 reviews
October 30, 2019
মুরাদুল ইসলামের উপন্যাস জাদুকরের কেবিন থেকে পড়ে শেষ করলাম। গল্পটা আমার কাছে বিশেষ হইবার কারণ হইল আমিও বন্ধুদের নিয়ে সুনামগঞ্জের হাওরে ঘুরতে গেছিলাম৷ আমরা গেছিলাম টাঙ্গুয়ার হাওরে। সেইখানে হাওরের পানিতে সবাই আমরা সাঁতার কেটেছি, ওয়াচটাওয়ারের উপর থিকা হাওর দেখেছি, মোটর বাইকে করে গ্রামের আঁকাবাঁকা রাস্তায় চড়েছি, নদী দেখেছি। মুরাদুলের গল্পটি পড়ার সময় এইসব দৃশ্য চোখে ভাসতেছিল। বন্ধুদের কথা মনে পড়তেছিল৷

এর আগে মুরাদুলের আরো দুইটি উপন্যাস পড়েছি। অন্য গল্পগুলোর মতো এটিও ছিল তার রহস্য গল্প। মুরাদুলের লেখার ধরনটি হলো তিনি তার গল্পটি সহজ করে সাবলীল ভাবে লিখেন। তার গল্পে অনেক চরিত্র থাকে। এটি দারুণ। কিন্তু শেষপর্যন্ত চরিত্রগুলিরে তিনি ঠিকঠাক জায়গা করে দিয়েছেন কি? জাদুকরের কেবিন থেকে গল্পে রহস্যের খাতিরে কয়েকটি চরিত্র বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ধন্দে ফেলানোর জন্যে এই চরিত্রগুলো দরকারী। কিন্তু রহস্যের কিনারা খুঁজে বের করার পরে তারা হঠাৎ নাই হয়ে গেল। তাদের ঠিকঠাক জায়গা করে বিদায় দিলে বেশ হইতো। পাঠক মন তৃপ্ত হইত আরকি। তবে সব মিলিয়ে মুরাদুলের এই গল্পটি বেশ এঞ্জয়িং। শেষ হইল একেবারে শান্ত নিরিবিলি দৃশ্য তৈরি করে। নদীর নীল জল মোহগ্রস্ত করে ফেলে। সৌন্দর্যের ভেতরে বন্দী হয়ে থাকি। সারাজীবন থেকে যেতে ইচ্ছে করে। এই ইচ্ছা এত তীব্রভাবে হয় যে সেখানে মরে গেলেও কিছু আসে যায় না।
Profile Image for Abu Talha Nafe.
6 reviews2 followers
February 19, 2019
থ্রিলার হিসেবে এইটা আমারে তেমন মুগ্ধ করে নাই। তবে পিউর ফিকশন হিসেবে চরিত্রগুলির গভীরতা, ডিটেলস, ঘটনা, স্থান, ব্যক্তিত্বের প্রকাশ, ইনসাইটগুলি বেশ দাগ কাটছে। মূলত লেখকের এইসকল ব্যাপারগুলি সাবলীল, সুন্দর ও প্রায় নিঁখুতভাবে প্রকাশের অসাধারণ বৈশিষ্টের প্রতিই আমার আকর্ষণ ছিল।

সাধারণ উপন্যাসের মত ধইরা নিলে 'জাদুকরের কেবিন থেকে' আমার কাছে অসাধারণ লাগছে।
Displaying 1 - 16 of 16 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.