'মালটা কে?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম। ‘শশশ!’ আফরীন ঠোঁটে আঙুল চাপা দিয়ে রাগ রাগ গলায় বলল, ‘আপনার কি বুদ্ধিশুদ্ধি কোনোদিনও হবে না? আর এগুলো কেমন ভাষা? শুনে ফেলে যদি ও?’ ‘শোনার প্রশ্নই আসে না। অতোটা জোরে বলিনি, আর বাতাস এদিক থেকে ওদিকে যাচ্ছে না, ওদিক থেকে এদিকে আসছে।’ আফরীন কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, ‘আপনি কি কথাটা বলার আগে আসলেই বাতাসের হিসেব নিকেশ করে দেখেছিলেন?’ ‘নাহ। বলার পর লক্ষ্য করলাম তোমার কপালের ডানদিকের চুলগুলো উড়ে এসে মুখে পড়ছে, সেটা দেখেই বললাম।‘
... অভ্র সিরিজের এই উপন্যাসের কোনো কাহিনি সংক্ষেপ নেই। এক প্লেবয়ের সাথে আফরীনের প্রেমে জড়িয়ে পড়া, জসিম ভাই ও তার ভাঙা গাড়ি, শওকতের হারিয়ে যাওয়া ভালবাসা এবং এক রহস্যময়ী-সব মিলে মিশে জট পাকিয়ে গেছে। এই উপন্যাসে সেসব জট খোলারই চেষ্টা করা হয়েছে। অভ্র'র মায়াময় জগতে আপনাকে আরো একবার স্বাগতম।
বইয়ের শেষ লাইন এটি।আমি শুধু এই লাইনটাকেই উপলব্ধি করতে চাই,অনুভব করতে চাই।
অনেকদিন পর এরকম মায়াকারা একটা বই পড়লাম।হুমায়ূন আহমেদের লেখার স্পস্ট ছাপ আছে বইটিতে।
কেন্দ্রীয় চরিত্র অভ্র।প্রথমে ভেবেছিলাম হিমু অথবা শুভ্র'র মত হবে হয়তো।কিন্তু না, অভ্র'র হিমুর মতো হন্টন ব্যাধি থাকলেও সে খামখেয়ালি বা ভবঘুরে নয়।আবার শুভ্র'র মতোও নয়।অভ্র বাস্তবতা বোঝে,ভালোবাসতে জানে,ভালোবাসার মানুষকে ভালো রাখতে সে ভালোবাসে!
এই বইয়ের যে দিকটা সবথেকে ভালো লেগেছে আমার সেটা হচ্ছে ভালোবাসা!ইশ,কী স্বাভাবিক সুন্দর ভালোবাসা!পুরোপুরি মানসিক ভালোবাসাকে জোড় দিয়েছে লেখক।একটা সমকালীন রোম্যান্টিক বইকে ভালো লাগার জন্যে এর থেকে বড় কারণ আমার মতো নগন্য পাঠকের আর কী-ই বা হতে পারে!