মশিউল আলমের লেখার সাথে আমার পরিচয় ঘটে এই উপন্যাসটির মাধ্যমে, প্রথম আলোর ঈদসংখ্যায়। লেখকের বর্ণনার ধরন বেশ আকর্ষণীয়। পাঠককে ধরে রাখে। এই উপন্যাস পড়ার আগে আমি সরদার ফজলুল করিমকে জানতাম না, অবশ্য এটি পড়েও জানিনি; উপন্যাস হিসেবেই পড়ে গেছি। আরো কয়েক বছর পর বুঝতে পারি, উপন্যাসের 'সরদার' আসলে কে। বাবা-কে জীবনীভিত্তিক উপন্যাস হয়তো বলা যায় না, কারণ এটি পড়ে সরদার ফজলুল করিমকে জানা দুষ্কর। এতে কেবল তাঁর প্রৌঢ় বয়সের কিছু জাগতিক সংকট প্রাধান্য পেয়েছে, আর প্রসঙ্গক্রমে শৈশব বা যৌবনের অল্পকিছু বিষয় ছাড়া-ছাড়াভাবে এসেছে। উপন্যাসটি অবশ্য ব্যক্তি সরদারকে নিয়ে নয়, 'পিতা' সরদারকে নিয়ে, যিনি তাঁর সিজোফ্রেনিয়ায় ভোগা, অপ্রকৃতস্থ মধ্যবয়সী পুত্র 'আলো'-র ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
পুনশ্চঃ আলো-র বাড়িতে গিয়ে একটি ঝামেলায় পড়ে (বলে দেয়া উচিত হবে না, পাঠক পড়ে নিন) সরদার এক পরিচিত সাংবাদিককে ফোন দিয়ে ডেকে পাঠান। এই সাংবাদিক কি মশিউল আলম নিজে? সম্ভবত।