Buddhadeva Bose (also spelt Buddhadeb Bosu) (Bengali: বুদ্ধদেব বসু) was a major Bengali writer of the 20th century. Frequently referred to as a poet, he was a versatile writer who wrote novels, short stories, plays and essays in addition to poetry. He was an influential critic and editor of his time. He is recognized as one of the five poets who moved to introduce modernity into Bengali poetry. It has been said that since Tagore, perhaps, there has been no greater talent in Bengali literature. His wife Protiva Bose was also a writer.
Buddhadeva Bose received the Sahitya Akademi Award in 1967 for his verse play Tapaswi O Tarangini, received the Rabindra Puraskar in 1974 for Swagato Biday(poetry) and was honoured with a Padma Bhushan in 1970.
"আমি চঞ্চল হে"র শুরুটাই কি অদ্ভুত সুন্দর! "যেটা ও অনভ্যস্ত বলে কখনো অদ্ভুত কখনো আশ্চর্য, তার সম্বন্ধে মনের প্রতিক্রিয়া স্বভাবতই প্রবল। বাইরে গেলেই, সেইজন্যে, মনের ও ইন্দ্রিয়ের সচেতনতা অনেকগুণ সূক্ষ্ম হয়ে ওঠে; আমাদের দেখাতে অনেক বেশি দেখা, শোনাতে অনেক বেশি শোনা; আমাদের অনুভূতিতে অনেক বেশি অনুভব।" কেন ঘুরতে যাই আমরা? ঘরে বসে ছুটির দিনে বই পড়া, কফি খাওয়া, আর ইচ্ছেমতো ঘুমানো যেখানে অনেক বেশি লোভনীয় সেখানে এতো কষ্ট করে কেন ভ্রমণ করি আমরা? প্রকৃতি দেখতে? নিজের বোঝার ও জানার পরিধি বাড়ানোর জন্য? ভ্রমণের বর্ণনার পাশাপাশি এসবেরই উত্তর খুঁজেছেন বুদ্ধদেব বসু।
নিজের কথা বলি। বাসে দীর্ঘসময় বসে থাকতে ভালো লাগে না, পথে বাথরুমে যাওয়া নিয়ে বিরাট যন্ত্রণা হয়, কাজের সাথে ঘোরার সময় মেলে না, ভ্রমণে প্রচুর খরচ হয়ে যায় স্বভাবতই, আর প্রকৃতি আমার প্রতি চিরকাল বিরূপ। তারপরও ঘুরতে যেতে ইচ্ছে হয়। নিজের পরিচিত, চিরঅভ্যস্ত গৃহকোণ থেকে দুই পা ফেলে নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশে যেতে ইচ্ছে করে। কেন? "আমি চঞ্চল হে" তে এর উত্তর দিয়েছেন বুদ্ধদেব। অভূতপূর্ব সুন্দর কোনো পাহাড়, নদী, প্রান্তর, বন, ঝর্ণা দেখে আমরা অভিভূত হই, আপ্লুত হই কিন্তু সেটাই শেষকথা নয়। ভ্রমণপথে হঠাৎ খুব ছোট কোনো লগ্ন আমাদের মধ্যে তীব্র আবেগের সঞ্চার করে। সে লগ্নটা হয়তো কিছুই নয়, বুদ্ধদেবের ভাষায় "হয়তো শুধু বৃষ্টির পর রোদ উঠেছে, কি একটা রেলগাড়ি ছুটে গেছে ঊর্ধ্বশ্বাসে হা-হা করে - হঠাৎ মনে হলো এই তো, এই তো দেখলুম, মনে হলো বিশ্বের রহস্য উন্মোচিত হলো বুঝি। এই মুহূর্তগুলিই আমাদের জীবনের চিহ্ন, এদের দিকে না তাকালে বুঝতে পারিনে যে বেঁচেছি।"
মনে পড়লো বৃষ্টিবিঘ্নিত রাতারগুল ভ্রমণের কথা। সিলেট যেতে না যেতেই ভয়াবহ বৃষ্টি সেদিন। থামেই না। সুলতান আর জিহাদের সাথে গেছি রাতারগুল। পুরো বৈরি পরিবেশ। এরই মধ্যে নৌকায় চড়ে রাতারগুল ঘুরছি প্রথমবারের মতো। ভালো লেগেছে। এর বেশি কিছু না। ঝটপট ছবি তোলা হলো। নৌকা তীরের দিকে ভিড়তে শুরু করলো। আমি একদম সামনে বসা। পেছনে সুলতান আর জিহাদের কথা শোনা যাচ্ছে। মাথায় ছাতা, নৌকার দুলুনি, চারদিকে বৃষ্টিপাতের অবিশ্রান্ত শব্দ, চোখের সামনে শুধু জল - আমার কেমন ঘোর লেগে গেলো যেন! সারারাত বাস ভ্রমণের ক্লান্তি, অনিদ্রা নিমিষে দূর হয়ে গেলো। মনে হলো - "কী অপরূপ এই বেঁচে থাকা!" সেই ক্ষুদ্র মুহূর্তটি আমার জীবনে অক্ষয় হয়ে রইলো।
গতবছর শীতে কৃষ্ণ'র সাথে গিয়েছিলাম গাজীপুর। সারাদিন ঘুরেছি। নয়নাভিরাম সব জায়গা দেখে খুশি হয়েছি। অথচ এসব জায়গার কিছুই চোখ বন্ধ করলে স্মৃতিতে ভাসে না। আমার শুধু মনে পড়ে - রাতে বাসায় ফেরার সময় নির্জন ধানক্ষেত, তার মাঝের সরুপথ, কুয়াশা, তার মাঝে "আমরা হেঁটেছি যারা নির্জন খড়ের মাঠে" আবৃত্তি করার রোমাঞ্চিত অনুভব।
এবারের রাঙামাটি ভ্রমণে যেয়ে কাপ্তাই লেক, ঝুলন্ত সেতু, ফুরোমোন পাহাড় ঘুরে ভীষণ ভালো লেগেছে। অথচ সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ক্ষণ এলো অপ্রত্যাশিতভাবে, রাজবনবিহারে যেয়ে। চাকমা রাজার বাসা দেখতে গিয়েছি, ঘোরাঘুরি শেষ, সজীব আর আমি ঢালু রাস্তা বেয়ে খেয়াঘাটের দিকে যাচ্ছি, চুপচাপ চারিদিক, দুই একটা পাখির কলকাকলি, মাথার উপর গাছ, শান্ত প্রকৃতি, গাছের ফাঁক বেয়ে আসা পড়ন্ত সূর্যের আলো - কত সাধারণ অথচ যেন অলৌকিক, যেন ক্লান্তিহরা, যেন তুরীয় আনন্দময় এক পল। যখন মনে হয় আরেকটু বেঁচে থাকি, আরেকটু! ঠিক এই মুহূর্তগুলো, যা জীবনকে নতুনভাবে ভালোবাসতে শেখায়, তার লোভেই সব বিপত্তি ঠেলে ঘুরতে যাই সম্ভবত।
"বিক্ষিপ্ত সময়ে নিজেকে শান্ত করার জন্য বুদ্ধদেবের শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে" ভেবে শুরু করার পর দেখলাম তিনি শান্ত করতে পারলেন কোই! মনটাকে চঞ্চল করে দিলেন আরো!
তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরুর দিকের রচনা এটি। নামের মতোই চঞ্চল। কোন একটা স্থির বিষয়ের উপর লেখা নয়। এসেছে লেখকের নিজস্ব ভাবনা, সাথে টুকরো টুকরো ভ্রমণকথা। পুরী, ভুবনেশ্বর, চিল্কা, কোনারকে ভ্রমণের কিছু কিছু গল্প আর সমুদ্র দেখে আবেশিত হয়ে কিছু চমৎকার কবিতা। প্রথমদিকের লেখা হলেও ভীষণ আধুনিক। কিছু কিছু ভাবনা ভাবায়। বুদ্ধদেবের লেখা দারুণ সাবলীল সেই শুরু থেকেই, একই সাথে প্রকৃতি এবং মানবমনের রহস্যময়তার তাৎপর্যপূর্ণ বিবরণে গ্রন্থটি যেন প্রাণ পেয়েছে। বেশ লাগলো এই ছোট্ট বইটা।