Abney Golam Samad (Bengali: এবনে গোলাম সামাদ) is a Bangladeshi famous sociologist, writer and columnist. He was a professor of Rajshahi University.
He is well known for Columnist in Bangladesh. He is very fond of writing in politics and society. He acted as a columnist for many years in The Daily Inkilab, The Daily Noya Digonta and The Daily Amar Desh newspaper. Besides he has many curriculum based books as well as many extra-curriculum publications.
In 1948, Samad passed B. Course from Shiksa Sango Bishnupur that was equivalent to Secondary at that time. Then he passed higher secondary in 1949 from Rajshahi College. Taking an honors degree in Agriculture from Tejgaon, he went to England for his research work on plant disease. He had been doing research on plant virus in France for four years.
Samad came back to Bangladesh in 1963. He was a professor of Rajshahi University on 11th November, 1965.
'রাষ্ট্র থাকলে রাজনীতিও থাকবে। একদল বেশি দিন ক্ষমতায় থাকলে দুর্নীতি বাড়ে । তাই প্রয়োজন ক্ষমতার ক্ষেত্রে দল বদলের। আর কেবল ভোটের মাধ্যমেই সম্ভব শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতার হস্তান্তর। ভাবভোলা বিরাট আদর্শবাদী হয়ে লাভ নেই কিছু। যারা বলেন, রাজনীতি একটা নোংরা ব্যাপার এবং সরে থাকতে চান তা থেকে, তারা কার্যত নোংরামীকে বাড়তেই সহায়তা করেন, কমাতে নয় । গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন জনমত, রাজনৈতিক দল এবং সুষ্ঠু ভোট দান ব্যবস্থা। এর যে কোন একটার অভাবেই গণতন্ত্র অকার্যকর হয়ে উঠতে পারে। ' - এবনে গোলাম সামাদ
২০২২ সালের মাঝামাঝিতে পড়তে শুরু করি অধ্যাপক এবনে গোলাম সামাদের কলামসংকলন 'বাংলাদেশ: সমাজ সংস্কৃতি রাজনীতি প্রতিক্রিয়া'। প্রায় সাড়ে ৪ শ পাতার এই বইটির প্রকাশক মজিদ পাবলিকেশন। বিচিত্র রকমের বিষয়ে লিখেছেন অধ্যাপক সামাদ। তাতে তার রাজনৈতিক মতাদর্শে যেমন গোপন থাকেনি, তেমনি লেখার পরতে পরতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল তার পাণ্ডিত্য ও চিন্তার গভীরতা।
সলিমুল্লাহ খান তাঁর পাণ্ডিত্য ও বাকপটুত্বের জন্য জনপ্রিয়। তাঁর জানার পরিধি অনেককেই মুগ্ধ করে। এবনে গোলাম সামাদের তুলনা নির্দ্বিধায় হতে পারতো সলিমুল্লাহ খানের সাথে। কিন্তু হবে না। কারণ যে কোনো ঘটনাকে রক্ষণশীল মনোভাব, উগ্রজাতীয়তাবাদী দৃষ্টিতে দেখলে পাণ্ডিত্যের সৌষ্ঠব বিনষ্ট হয়। এবনে গোলাম সামাদ ভূয়োদর্শী এবং জ্ঞানের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে তিনি স্বাচ্ছন্দে বিচরণ করতে পারেন না। তবুও তাঁকে আদরণীয় মনে হয়নি৷ কেননা তিনি অত্যন্ত সচেতনভাবে 'তথ্যসন্ত্রাসের মাধ্যমে' উগ্রজাতীয়তাবাদকে সমর্থন করছিলেন। ভারতকে অপছন্দ করার ১০১ টি কারণ বাংলাদেশের নাগরিকদের রয়েছে। আবার, মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য। এই দুই সত্যকে বিবেচনায় রেখে লেখেননি জনাব সামাদ। তিনি জামাতপন্থি। তাই নিজের জ্ঞানের পরিধি সবটা ব্যয় করেছেন মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করে তুলতে৷ একাত্তরে জামাতসহ স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থন জোগাতে এবং এসব করতে গিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হাজির করেছেন। করতে চেয়েছেন মীমাংসিত ইস্যুকে অমীমাংসিত। যেমন : আদালতের রায়ে এটি সুস্পষ্ট স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু। কিন্তু তিনি জিয়ার কথা লিখে খামোখা বিতর্ক তৈরি করলেন। এছাড়াও হিন্দুবিদ্বেষ তার লেখায় সুস্পষ্ট। একইসাথে বুঝতে পারা যায় পাকিস্তানের প্রতি লেখকের নেক নজর আছে।
এই বইয়ের প্রতিটি লেখার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। তা হলো বিদ্যমান দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে একেবারে আলাদা মন নিয়ে বিষয়টিকে দেখা। মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা, সমাজব্যবস্থা ও বিজ্ঞানকে আলাদা লেন্সে দেখেছেন এবনে গোলাম সামাদ। যা প্রচলিত মতের অনেকটাই বাইরে। আর, এজন্যই ওনার মতাদর্শের ঘোরতর বিরোধী হয়েও তাঁর লেখা অন্যরকম একটা মুগ্ধতা নিয়ে পড়ি।
প্রয়াত জামাতপন্থি বুদ্ধিজীবী এবনে গোলাম সামাদের লেখা অনেকেই হজম করতে পারব না, হবো না একমত। তবুও পড়তে বলবো। কারণ কিছু ক্ষেত্রে অযৌক্তিক ও রক্ষণশীল ভিন্নমত হলেও তাতে থাকতে পারে চিন্তার খোরাক।