একজন আদর্শ স্বামী পারে নিজের স্ত্রীকে স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতে। একজন আদর্শ স্বামী পারে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ পরিবার গড়তে। একজন আদর্শ স্বামী পারে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে সুন্দর একটি পরিবার গড়তে। তাই একজন মুমিন কীভাবে একজন আদর্শ স্বামীর চরিত্রে চারিত্রবান হতে পারেন—সে বিষয়ে ‘রুহামা পাবলিকেশন’-এর এবারের পরিবেশনা পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তম ও সর্বোত্তম আদর্শ স্বামী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাংসারিক জীবনচিত্র নিয়ে লিখিত একটি অনন্য সাধারণ গ্রন্থ ❝মুহাম্মাদ ﷺ একজন আদর্শ স্বামী❞।
বইয়ের ৬৪ পৃষ্ঠা হতে কিছু অংশ তুলে দিচ্ছি, " নারীতো স্বভাবগতভাবে একটু ভিন্ন রকম; তাই পুরুষের উপর কর্তব্য হলো, নারীর পক্ষ থেকে আসা কষ্ট সহ্য করা। অন্যথায় নারীর স্বভাবগত এ ভিন্নতা দূর করতে গেলে সংসার ভাঙ্গার উপক্রম হবে।তাই মান অভিমানে নারীর ক্ষেত্রে ধৈর্য্য ধারণ করাই যৌক্তিক। রাসূল (সা:) নারীদের প্রতি পুরুষদের কঠোর না হওয়া এবং তাদের বক্রতা ঠিক করার চেষ্টা না করতে নির্দেশনা দিতেন। এমনকি বিদায় হজ্বের খুতবার একটি অংশ জুড়ে ছিলো স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য নিয়ে"।
বইটা শুধু স্বামীদের জন্য নয়, স্ত্রীদের জন্যও অবশ্যই পাঠ্য। আমরা যার যার অবস্থান থেকে যার যার কর্তব্য ঠিকভাবে পালন করলে সমস্যা অনেক কমে যাবে। বেশিরভাগ সময়ই পরিবারে সমস্যা হয় অনেক ছোট ছোট ব্যপার নিয়ে। অথচ জাস্ট ধৈর্য্য ধরলেই সে সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব। আমার মনে হয় যারা আল্লাহর রাসূল (সা:) কে নিয়ে কটুক্তি করে, মন্দ কথা বলে, তারা যদি জানতো রাসূল (সা:) তার পবিত্র স্ত্রীগণের সাথে কেমন আচরণ করতেন, তাদের কতটা ভালোবাসতেন- তাহলে তারা তার ভক্ত হয়ে যেতো। এমনকি তাদের স্ত্রীরাও তাদেরকে বলতো, তুমি কেনো আমার সাথে রাসূলের (সা:) মতো আচরণ করো না, যেমনটা তিনি তার স্ত্রীদের সাথে করতেন?
যাই হোক, বইটা আকারে ছোট কিন্তু গুরুত্বের দিক দিয়ে মাপলে অনেক বড়। এই বইয়ের সংকলক, প্রকাশক এবং পাঠক- সকলকেই আল্লাহ তা'য়ালা উত্তম প্রতিদান দান করুন।
ইবনে মাজাহ-এর ১৮৫১ নং হাদিসের অনুবাদটি ভুল হয়েছে। যা বইয়ের ৬৪-৬৫ নং পৃষ্ঠায় আছে। যেটা শুধরানো জুরুরি।
তাছাড়া বইটি খুব সুন্দর। দাম্পত্য জীবন সুখ-সাচ্ছন্দ্য ও সুন্নাহ মোতাবেক কাটাতে সহায়তা দিতে পারবে এই বইটি ইন শা আল্লাহ। যার ফলে একদিকে আপনি দুনিয়ায় যেমন সুখী হবেন, তেমনি আখিরাতেও পাবেন বিপুল সওয়াব। স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবন থেকে কুড়িয়ে নেয়া হয়েছে দাম্পত্য জীবনের মূল্যবান বিভিন্ন শিক্ষা ও উপদেশ। যিনি প্রেরিতই হয়েছেন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানব জাতিকে সঠিক পথ দেখানোর জন্যে।
সকল প্রশংসা এই বিশ্বজাহানের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর।