Daud Haider was a Bangladeshi poet who was forced into exile after writing a poem that "insulted" religion including Islam. American Center, International PEN have described him as "distinguished poet".
দাউদ হায়দার অভাজন। রাষ্ট্রের কাছে। পাঠকের কাছে নন। ১৯৭৪ সালে শেখ সাহেবের আমলে কবিতায় ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে কারাবাস। তারপর হঠাৎই জেলমুক্তি। সরকার কবিকে পাঠিয়ে দেন ভারতে। নির্বাসনে। কবির ভাষ্য,
' ১৯৭৪ মে'র ২২ তারিখ। দমদম এয়ারপোর্ট। ঢাকা থেকে বিবি (বাংলাদেশ বিমান) ছেড়েছে সকাল আটটায়। দমদমে পৌঁছুলুম সকাল আটটায়। সঙ্গে একটি ব্যাগ। কাঁধে ঝোলানো। ব্যাগে দুটি শার্ট, দুটি প্যান্ট। একজোড়া স্যান্ডেল। টুথপেস্ট। ব্রাশ। তোয়ালে। একটি পায়জামা। দুই কপি 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ '। পকেটে ভারতীয় ষাট পয়সা। '
ষাট পয়সা নিয়ে নেমেছিলেন ভারতে। সুখে নয়, শখে নয়। বাধ্য হয়ে। তারপর ১৯৭৪-১৯৮৭ পর্যন্ত জোব চার্নকের শহরে বাস। এই নিয়েই দাউদ হায়দারের আত্মকথার দ্বিতীয় ভাগ। যেখানে ব্যক্তি দাউদ হায়দারের কথা নেই। আছে খোকন। দাউদ হায়দারের ডাকনাম। অনেক ঘটন-অঘটনের সাক্ষী তিনি। কিন্তু সাক্ষীগোপাল নন। নানা অশৈলী কান্ডে এই বই এগিয়েছে, আছে রথী,মহারথীদের নিয়ে কিছু গসিপও। নিজেকে সাধুতম প্রমাণ করতে চান নি ; পত্রিকার অস্থায়ী সম্পাদক থেকে পতিতার দালাল - এমনই বৈচিত্র্য শ্লীল-অশ্লীতায় সমুজ্জ্বল দাউদ হায়দারের আত্মকথা। তাতে অবিশ্বাস করার মতো সুযোগ আছে। আছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্যও।
ষাট পয়সা নিয়ে খোকন নেমেছিল কলকাতার পথে। পরিচিত অনেকই আছে। আপনজন কেউ নেই। আশ্রয় জুটলো সাংবাদিক গৌরকিশোর ঘোষের বাড়িতে। খোকনকে দেখে-শুনে তাঁর উপদেশ,
' একটা দেশের অর্থনীতি জানতে হলে কীভাবে জানবি? বাজারে যাবি। বাজারে নানা রকম মাছ। ক্রেতা কারা। কোন মাছের কত দাম৷ কোন দামে কারা কিনছে। শ্রেণীটা দেখবি। পুঁটির ক্রেতা কত। ইলিশ-রুই দরদাম না করে কারা কিনছে। সংখ্যা কত। হিসেবটা কষলেই পেয়ে যাবি দেশের মানুষের আর্থিক সঙ্গতি।
বেশ্যাপাড়ায় গিয়েও দেশের অর্থনীতির হালচাল বোঝা যায়। যারা যায় কী তাদের পোশাক। চেহারাটাও দেখবি। বাজার ও বেশ্যাপাড়া একটি দেশের অর্থনীতির আয়না , বুঝলি? - জরিপ করার নামে খবরদার ঘন ঘন যাবি না। এক্সপেরিয়েন্সের জন্যে একবারই যথেষ্ট। বেশি গেলে সন্দেহ। '
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সাথে কবিতার মাধ্যমেই পরিচয়। দু'জনেই আনন্দবাজারে কাজ করছে তখন। শক্তি চাটুজ্যেকে নিয়ে কিছু ঘটনা লিখেছেন দাউদ।বেশ মজার।
আবু সয়ীদ আইয়ুবের সাথে পরিচয়। তাঁর পরিবারের সাথে সখ্যতা।
আবারও আনন্দবাজার। সেখানে খোকনের পরিচয় অনেক লেখক,সাংবাদিকের সাথে। এমনই একজন শিবশম্ভু পাল। কবিরুল ইসলামও সঙ্গী। চা খেতে খেতে দাউদকে জিজ্ঞেস করেন তারা,
' আলকে চিনলে না? আল মাহমুদ। ওকে আমরা আল বলি। '
এই আল ওরফে আল মাহমুদের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতাবাসের রটনা,
' আল মাহমুদের বহু কেচ্ছা প্রচারিত কলকাতায়। আফটার অল বৌ ছেড়ে কলকাতায় উদ্বাস্তু, দুঃখী মন, শরীর একটু হালকা করার জন্যে, অবসাদ থেকে রেহাই পাওয়ার তাগিদেই দুষ্টুমতি নারীর সোহাগে মাঝে মাঝে ঝরঝর হয়েছেন সোনাগাছির বেশ্যালয়ে।
শিবশম্ভু পাল: আল তো বিপ্লবী নয় । সমাজতন্ত্র, মার্কসবাদও বোঝে না। জানে না। হঠাৎ বিপ্লবী হওয়ার শখ হলো কেন? কলকাতায় সোনাগাছিতে নিয়ে গিয়েছিলাম। ফুর্তি করে বললে, 'আবার আসব। সমাজতন্ত্রের গন্ধ আছে এখানে।' '
দাউদ হায়দারকে বাংলাদেশের গুপ্তচর ভেবে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জেরা করে। কৌশলে তাঁকে বাসায় নিয়ে যায়। জেরার পর জেরা। প্রশ্নের পর প্রশ্ন। খোকন ক্ষুব্ধ হয়। ভাবে গোয়েন্দা ব্যাটাকে শিক্ষা দিতে হবে। বেচারা গোয়েন্দার বৌ নিয়ে টানাটানি! খোকনের জন্য পাগলপ্রায়!
দাউদ হায়দারের পুরো আত্মজীবনীতে এমন ধরনের ঘটনার বয়ান অহরহ আছে। শুধু খ্যাতিমানদের নিয়েই নয়। নিজের উদ্দাম জীবনের কথাও অকপটে লিখেচেন। একবার নয়। বারবার। তাঁর এই 'গসিপ'গুলোর সত্যাসত্যে অবিশ্বাসের ভার পাঠকের।
বারোবার ভারতের নাগরিকত্ব চেয়েছেন পাননি। অন্নদাশঙ্কর রায়, সত্যজিৎ রায়, সালমান রুশদী, সমর সেন, এম জে আকবর (তখনো মি টু তে আক্রান্ত হননি, বড় সাংবাদিক) এর মতো ব্যক্তিরা দাঁড়িয়েছিলেন দাউদ হায়দারের পক্ষে। কাজ হয়নি। অবশেষে জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ। গুন্টার গ্রাসের আপ্রাণ চেষ্টায়। সে আরেক মহাকাব্য। নিজেরাই না হয় পড়ে নিন৷
খুবই সুখপাঠ্য আত্মকথা। আত্মকেন্দ্রিক নয়। বরং আশেপাশের মানুষকে ঘিরেই বেশি আবর্তন। কিছু ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সংলাপধর্মী ভঙিতে লিখেছেন। ভালো লাগেনি সবসময়। নিজের মতো গুছিয়ে কথার ঢালি সাজাতে পারতেন। দিব্যি হতো। আর, সত্য লেখার সৎসাহস না থাকলে আত্মস্মৃতি লেখার চেষ্টা করা উচিত নয় - অন্তত এই কথায় দাউদ হায়দারের সায় নেই। শতভাগ সততার পরিচয় তাঁর কলম দেয়নি - আত্মকথা শেষ করে এমনটাই মনে হলো আমার।
দাউদ হায়দার অভাজন। রাষ্ট্রের কাছে। পাঠকের কাছে নন। ১৯৭৪ সালে শেখ সাহেবের আমলে কবিতায় ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে কারাবাস। তারপর হঠাৎই জেলমুক্তি। সরকার কবিকে পাঠিয়ে দেন ভারতে। নির্বাসনে। কবির ভাষ্য,
' ১৯৭৪ মে'র ২২ তারিখ। দমদম এয়ারপোর্ট। ঢাকা থেকে বিবি (বাংলাদেশ বিমান) ছেড়েছে সকাল আটটায়। দমদমে পৌঁছুলুম সকাল আটটায়। সঙ্গে একটি ব্যাগ। কাঁধে ঝোলানো। ব্যাগে দুটি শার্ট, দুটি প্যান্ট। একজোড়া স্যান্ডেল। টুথপেস্ট। ব্রাশ। তোয়ালে। একটি পায়জামা। দুই কপি 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ '। পকেটে ভারতীয় ষাট পয়সা। '
ষাট পয়সা নিয়ে নেমেছিলেন ভারতে। সুখে নয়, শখে নয়। বাধ্য হয়ে। তারপর ১৯৭৪-১৯৮৭ পর্যন্ত জোব চার্নকের শহরে বাস। এই নিয়েই দাউদ হায়দারের আত্মকথার দ্বিতীয় ভাগ। যেখানে ব্যক্তি দাউদ হায়দারের কথা নেই। আছে খোকন। দাউদ হায়দারের ডাকনাম। অনেক ঘটন-অঘটনের সাক্ষী তিনি। কিন্তু সাক্ষীগোপাল নন। নানা অশৈলী কান্ডে এই বই এগিয়েছে, আছে রথী,মহারথীদের নিয়ে কিছু গসিপও। নিজেকে সাধুতম প্রমাণ করতে চান নি ; পত্রিকার অস্থায়ী সম্পাদক থেকে পতিতার দালাল - এমনই বৈচিত্র্য শ্লীল-অশ্লীতায় সমুজ্জ্বল দাউদ হায়দারের আত্মকথা। তাতে অবিশ্বাস করার মতো সুযোগ আছে। আছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্যও।
ষাট পয়সা নিয়ে খোকন নেমেছিল কলকাতার পথে। পরিচিত অনেকই আছে। আপনজন কেউ নেই। আশ্রয় জুটলো সাংবাদিক গৌরকিশোর ঘোষের বাড়িতে। খোকনকে দেখে-শুনে তাঁর উপদেশ,
' একটা দেশের অর্থনীতি জানতে হলে কীভাবে জানবি? বাজারে যাবি। বাজারে নানা রকম মাছ। ক্রেতা কারা। কোন মাছের কত দাম৷ কোন দামে কারা কিনছে। শ্রেণীটা দেখবি। পুঁটির ক্রেতা কত। ইলিশ-রুই দরদাম না করে কারা কিনছে। সংখ্যা কত। হিসেবটা কষলেই পেয়ে যাবি দেশের মানুষের আর্থিক সঙ্গতি।
বেশ্যাপাড়ায় গিয়েও দেশের অর্থনীতির হালচাল বোঝা যায়। যারা যায় কী তাদের পোশাক। চেহারাটাও দেখবি। বাজার ও বেশ্যাপাড়া একটি দেশের অর্থনীতির আয়না , বুঝলি? - জরিপ করার নামে খবরদার ঘন ঘন যাবি না। এক্সপেরিয়েন্সের জন্যে একবারই যথেষ্ট। বেশি গেলে সন্দেহ। '
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সাথে কবিতার মাধ্যমেই পরিচয়। দু'জনেই আনন্দবাজারে কাজ করছে তখন। শক্তি চাটুজ্যেকে নিয়ে কিছু ঘটনা লিখেছেন দাউদ।বেশ মজার।
আবু সয়ীদ আইয়ুবের সাথে পরিচয়। তাঁর পরিবারের সাথে সখ্যতা।
আবারও আনন্দবাজার। সেখানে খোকনের পরিচয় অনেক লেখক,সাংবাদিকের সাথে। এমনই একজন শিবশম্ভু পাল। কবিরুল ইসলামও সঙ্গী। চা খেতে খেতে দাউদকে জিজ্ঞেস করেন তারা,
' আলকে চিনলে না? আল মাহমুদ। ওকে আমরা আল বলি। '
এই আল ওরফে আল মাহমুদের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতাবাসের রটনা,
' আল মাহমুদের বহু কেচ্ছা প্রচারিত কলকাতায়। আফটার অল বৌ ছেড়ে কলকাতায় উদ্বাস্তু, দুঃখী মন, শরীর একটু হালকা করার জন্যে, অবসাদ থেকে রেহাই পাওয়ার তাগিদেই দুষ্টুমতি নারীর সোহাগে মাঝে মাঝে ঝরঝর হয়েছেন সোনাগাছির বেশ্যালয়ে।
শিবশম্ভু পাল: আল তো বিপ্লবী নয় । সমাজতন্ত্র, মার্কসবাদও বোঝে না। জানে না। হঠাৎ বিপ্লবী হওয়ার শখ হলো কেন? কলকাতায় সোনাগাছিতে নিয়ে গিয়েছিলাম। ফুর্তি করে বললে, 'আবার আসব। সমাজতন্ত্রের গন্ধ আছে এখানে।' '
দাউদ হায়দারকে বাংলাদেশের গুপ্তচর ভেবে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জেরা করে। কৌশলে তাঁকে বাসায় নিয়ে যায়। জেরার পর জেরা। প্রশ্নের পর প্রশ্ন। খোকন ক্ষুব্ধ হয়। ভাবে গোয়েন্দা ব্যাটাকে শিক্ষা দিতে হবে। বেচারা গোয়েন্দার বৌ নিয়ে টানাটানি! খোকনের জন্য পাগলপ্রায়!
দাউদ হায়দারের পুরো আত্মজীবনীতে এমন ধরনের ঘটনার বয়ান অহরহ আছে। শুধু খ্যাতিমানদের নিয়েই নয়। নিজের উদ্দাম জীবনের কথাও অকপটে লিখেচেন। একবার নয়। বারবার। তাঁর এই 'গসিপ'গুলোর সত্যাসত্যে অবিশ্বাসের ভার পাঠকের।
বারোবার ভারতের নাগরিকত্ব চেয়েছেন পাননি। অন্নদাশঙ্কর রায়, সত্যজিৎ রায়, সালমান রুশদী, সমর সেন, এম জে আকবর (তখনো মি টু তে আক্রান্ত হননি, বড় সাংবাদিক) এর মতো ব্যক্তিরা দাঁড়িয়েছিলেন দাউদ হায়দারের পক্ষে। কাজ হয়নি। অবশেষে জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ। গুন্টার গ্রাসের আপ্রাণ চেষ্টায়। সে আরেক মহাকাব্য। নিজেরাই না হয় পড়ে নিন৷
খুবই সুখপাঠ্য আত্মকথা। আত্মকেন্দ্রিক নয়। বরং আশেপাশের মানুষকে ঘিরেই বেশি আবর্তন। কিছু ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সংলাপধর্মী ভঙিতে লিখেছেন। ভালো লাগেনি সবসময়। নিজের মতো গুছিয়ে কথার ঢালি সাজাতে পারতেন। দিব্যি হতো। আর, সত্য লেখার সৎসাহস না থাকলে আত্মস্মৃতি লেখার চেষ্টা করা উচিত নয় - অন্তত এই কথায় দাউদ হায়দারের সায় নেই। শতভাগ সততার পরিচয় তাঁর কলম দেয়নি - আত্মকথা শেষ করে এমনটাই মনে হলো আমার।