আল-ফিকহুল আকবারের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করতে যেয়ে দেখলাম যে, মুসলিম উম্মাহর বিভ্রান্তির উৎস ও বিষয়বস্তু দ্বিতীয় শতকে যা ছিল বর্তমানেও প্রায় তা-ই রয়েছে। খারিজীগণের ‘তাকফীর’ ও জিহাদ নামের উগ্রতা, জাহমী-মুরজিয়াদের মারিফাত ও ঈমান বিষয়ক প্রান্তিকতা, শীয়াগণের অতিভক্তি ও বাতিনী ইলমের নামে অন্ধত্ব এবং মুতাযিলীগণের বুদ্ধিবৃত্তিকতার নামে ওহীর অবমূল্যায়ন বর্তমান যুগেও একইভাবে উম্মাতের সকল ফিতনার মূল বিষয়। এগুলোর সাথে বর্তমান যুগে যোগ হয়েছে তাওহীদ বিষয়ক অজ্ঞতা ও শিরকের ব্যাপকতা। এ সকল ফিতনার সমাধানে সে যুগে ইমাম আবূ হানীফা ও অন্যান্য ইমাম যা বলেছেন বর্তমান যুগেও সেগুলোই আমাদের সমাধানের পথ দেখাবে। এ জন্য এ সকল বিষয়ে ফিকহুল আকবারের বক্তব্য ছাড়াও ইমাম আবূ হানীফা ও আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্যান্য ইমামের বক্তব্য বিস্তারিত আলোচনা করেছি। স্বভাবতই এতে ব্যাখ্যার কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে। বইটি মাযহাবীদের জন্য যেমন সহায়ক তেমনি যে কোন মুসলিমের জন্যও সহায়ক।
ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর ছিলেন একাধারে ইসলামী চিন্তাবিদ, টিভি আলোচক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক আলেম, গবেষক ও লেখক ।
তিনি পিস টিভি, ইসলামিক টিভি, এটিএন ও এনটিভিসহ বিভিন্ন টিভিতে ইসলামের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। ফরেন টেলিভিশন চ্যানেল আইটিভি ইউএস-এর উপদেষ্টা ছিরেন তিনি । এছাড়াও তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সিম্পোজিয়াম, সেমিনার, মসজিদের খুতবায় ও টিভি আলোচনায় খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে দেশের সহজ-সরল মুসলমানদের ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়গুলো আলোচনা করে জনসচেতনতা তৈরি করে আসছিলেন।
এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বের জন্ম হয় ১৯৬১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের ধোপাঘাট গোবিন্দপুর গ্রামে। তার পিতা খোন্দকার আনওয়ারুজ্জামান ও মা বেগম লুৎফুন্নাহার।
তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করেন । এরপর একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৭৫ সালে আলিম এবং ১৯৭৭ সালে ফাজিল ও ১৯৭৯ সালে হাদিস বিভাগ থেকে কামিল পাস করার উচ্চতর শিক্ষার জন্যে সৌদি আরব গমন করেন। রিয়াদে অবস্থিত ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাঊদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৮৬ সালে অনার্স, ১৯৯২ সালে মাস্টার্স ও ১৯৯৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি উত্তর রিয়াদ ইসলামি সেন্টারে দাঈ ও অনুবাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
রিয়াদে অধ্যয়নকালে তিনি বর্তমান সৌদি বাদশাহ ও তৎকালীন রিয়াদের গভর্নর সালমানের হাত থেকে পর পর দু’বার সেরা ছাত্রের পুরস্কার গ্রহণ করেন। সৌদিতে তিনি শায়খ বিন বাজ বিন উসায়মিন, আল জিবরিন ও আল ফাউজান সহ বিশ্ববরেণ্য স্কলারদের সান্নিধ্যে থেকে ইসলাম প্রচারে বিশেষ দীক্ষা গ্রহণ করেন।
রিয়াদে অধ্যয়নকালে তিনি উত্তর রিয়াদ ইসলামি সেন্টারে দাঈ ও অনুবাদক হিসেবে প্রায় তিন বছর কর্মরত ছিলেন।
লেখাপড়া শেষ করে ১৯৯৮ সালে কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন।
১৯৯৯ সালে তিনি ইন্দোনেশিয়া থেকে ইসলামি উন্নয়ন ও আরবি ভাষা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
২০০৯ সালে তিনি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগে প্রফেসর পদে উন্নীত হন।
ঝিনাইদহ শহরের গোবিন্দপুরে আল ফারুক একাডেমি ও আস সুন্নাহ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন বরেণ্য এই ইসলামী ব্যক্তিত্ব। সেখানে ছেলেমেয়েদের হেফজখানা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব হিসেবে কাজ করেছেন শিক্ষা ও ঝিনাইদহের চ্যারিটি ফাউন্ডেশনে, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের।
এছাড়াও তিনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দারুস সালাম মাদ্রাসায় খণ্ডকালীন শায়খুল হাদিস হিসেবে সহীহ বুখারীর ক্লাস নিতেন। তিনি ওয়াজ মাহফিলের অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন আলোচক ছিলেন। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফর করে তিনি মানুষকে শোনাতেন শাশ্বত ইসলামের বিশুদ্ধ বাণী।
বাংলা ইংরেজি ও আরবি ভাষায় সমাজ সংস্কার, গবেষণা ও শিক্ষামূলক প্রায় পঞ্চাশের অধিক গ্রন্থের রচয়িতা তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- এহয়াউস সুনান, তরিকে বেলায়েত, হাদিসের নামে জালিয়াতি, ইসলামের নামে জঙ্গীবাদ ইত্যাদি।
ফুরফুরা শরীফের পীর আবদুল কাহহার সিদ্দীকির মেয়ে ফাতেমার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ, একটু একটু করে অবশেষে শেষ করলাম আল ফিকহুল আকবার বইটি। একটু একটু করে শেষ করতে হয়েছি বইটির জন্য নয়, নিজের পড়ার এ বোঝার সুবিধার্থেই। একে তো ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর লেখা, তার সাথে ড. খোন্দকার জাহাঙ্গীর রহঃ এর অসাধারণ বর্ণণা ও বিস্তর ব্যাখ্যা, বুঝতে একটু সময় লেগেছেই বটে। কারণ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহঃ কোনোকিছু নিয়ে ব্যাখ্যা করলে সেটা নিয়ে আগাগোড়া বলে দেন। এই বইয়ের প্রায় ১৫০ পাতা জুড়ে তিনি ইমাম হানিফা রহঃ এর সম্বন্ধে বিভিন্ন ফকীহ, মুহাদ্দিস, আলীমদের মতামত ও যুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি খন্ডন করেছেন। কারণ, আমাদের সমাজে ইমাম হানিফা রহঃ কে ছোট করা হয়, বলা হয় তিনি হাদিস বর্ণণা করেননি একদমই। আদতে তিনি ছিলেন ফকীহ, ইসলামিক আইন নিয়ে বিস্তর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে তিনি প্রসিদ্ধ হাদিস বর্ণণাকারী ছিলেন না। ফিকহ শাস্ত্রের জনক বলা হয়ে থাকে তাকে, বিভিন্ন ফিরকা অনুসারীগণ তার বিরুদ্ধাচরণ করে থাকে। এসবেরই যুক্তি খন্ডন করেছেন ড. জাহাঙ্গীর রহঃ বইটির প্রথম দিকে। আকীদা বিষয়ক প্রথম মৌলিক রচিত গ্রন্থ এটি, বইটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রিয় শায়খ প্রায় ৩০০টিরও মত বই এর সাহায্য নিয়েছেন! যা হোক, সারকথা ইসলামের অন্যতম ভিত্তি আকীদা। এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান লাভের জন্য প্রত্যেক মুসলিমের উচিত এ সম্বন্ধে অনুসন্ধান করা। ইমাম হানিফা রহঃ মতে কেউ কোনো বিষয়ে না জানলে বা আটকে গেলে তার উচিত সেটি নিয়ে অনুসন্ধান করা বা আলীমকে জিজ্ঞেস করা। কিন্তু কেউ যদি বিরত থাকে, তাহলে তা কুফরী হিসেবে গণ্য হবে। আর এ বিষয়ে জ্ঞান লাভের জন্য এই বইটি নিঃসন্দেহে একটি দারুণ উপায়! আল্লাহ সুবহানাল্লাহ আমাদের সবার ওপর রহমত বর্ষণ করুন, আমীন
আকিদা নিয়ে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর মতামত চমৎকার ভাবে ব্যাখ্য করেছেন ড. খন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহ)।
➡️ মুসলিম বিশ্বে বিভিন্ন ভ্রান্ত আকিদার দল নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এসব বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর অবস্থান বা বিশ্বাস কি তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই বইটিতে।
বইটির প্রথম অংশে ইমাম আবু হানিফার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা খন্ডন করা হয়েছে।
তারপর দ্বিতীয় অংশে ইমাম আযম এর আকিদা বিষয়ক মতামতকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমাদের বর্তমান সমাজে আকিদা বিষয়ক বিভিন্ন বিভ্রান্তি দেখা যায়।এমনকি আমাদের স্কুল কলেজের বই গুলোতেও আকিদার বিষয়ে বিভিন্ন ভুল জিনিস শেখানো হয়। তাই এসব থেকে বাঁচতে এবং আকিদা সহীহ করতে এ বইটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
Every Muslim (not just the followers of Imam Abu Hanifa) should read this book. Clearly explained the basic theology of Islam and the core believes of ahlus sunnah wal jamaah. May Allah have mercy on the author.
An amazing book for any Muslim. If he or she wants to know the basics of Islam and Hanafi fiqh, then this book should be his or her first choice. Author explained the main theme of this book outstandingly. www.islamicpdfbook.com has its pdf version. Should be helpful for everyone.
ইমাম আবু হানিফা রচিত আল-ফিকহুল আকবর বইয়ের ব্যাখ্যা। লিখেছেন শায়খ খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর। মূল বইটা আসলেই আবু হানিফার কিনা সেটা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বইয়ের কনটেন্ট মূলত মকবুল। তাছাড়া বইটির ভূমিকা ও ব্যাখ্যায়ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা এসেছে। যেমন: আসমা-সিফাত, কুল্লাবি, আশয়ারি ও মাতুরিদি মাযহাবের উপর আলোচনা।