আজকের এই শ্রমসমতার যুগে কেন শুধু ব্রাহ্মণরাই পুজো করবেন? কেন পুজোয় পৌরোহিত্যের ক্ষমতা শুধু পুরুষদেরই হাতে? ভেবে দেখেছেন কখনো?
তবে আজও কি বর্ণাশ্রমের বীজ লুকিয়ে আছে আমাদের মনের ভেতরে?
জানেন কি, বৈদিক যুগে নারীদেরও উপনয়ন হত? যা ধীরে ধীরে খর্ব করা হয়েছে পুরুষতান্ত্রিক অপভ্রংশে?
কি হবে যদি কোনো সুযোগ্যা তরুণী অব্রাহ্মণ, তায় নারী হিসেবে পৌরোহিত্য করতে চান এই যুগের দুর্গাপুজোয়?
আমাদের সমাজ কি মেনে নেবে তাঁকে? সাদরে বসাবে শ্রদ্ধাসনে? নাকি রে রে করে তেড়ে আসবে সনাতনী নিয়মের ভয় দেখিয়ে?
এমনই এক ব্যতিক্রমী কাহিনী নিয়ে দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের এই প্রেমের উপন্যাস দিওতিমা। রয়েছে দিওতিমা আর মঙ্গলরূপের এক মিষ্টি প্রেমকাহিনী, রয়েছে পুজোর গন্ধ মাখা শিউলি ফুল, ঢাকের কাঠি, আর্মেনিয়ান ঘাট আর হলুদ ট্যাক্সি। রয়েছে উত্তরবঙ্গ, পাহাড়ভেজা বৃষ্টি, মন ভাল করা আমেজ।
Debarati Mukhopadhyay is presently one of the most popular and celebrated authors of Bengali Literature and a TED Speaker having millions of readers worldwide.
A young Government Officer by profession and awarded with several accolades like Indian Express Devi Award 2022, Tagore Samman, 2022, Literary Star of Bengal etc, she has written 25+ bestselling novels in West Bengal from leading publishing houses. Global publishers like Harper Collins, Rupa Publication have published her English works worldwide.
A no. of novels are already made up into movies starting Nusrat Jahan, Mithun Chakraborty, Dev etc by big production houses like SVF, Eskay etc. Her stories are immensely popular in Sunday Suspense, Storytel etc.
Her Novel ‘Dasgupta Travels’, has been shortlisted for ‘Sahitya Akademi Yuva Pursakar, 2021’.
Her Novel ‘Shikhandi’ created a history when it was acquired for film by SVF within 24 hours of it’s publication. Beside this, she contributes in Bengal’s prominent literary magazines and journals regularly.
She has been selected as Country's only Bengali Literature Faculty for the esteemed Himalayan Writing Retreat.
An excellent orator, Debarati motivates people through her way of positive thinking, voluntarily guides aspirants for Government job preparation in leisure.
She’s a regular speaker in eminent institutions like Ramakrishna Mission and other educational seminars and often considered as youth icon of Bengal. She’s extremely popular in Bengal and having more than 5,00,000+ followers in Social media.
দেবারতি মুখোপাধ্যায় এপার বাংলায় রহস্য-রোমাঞ্চ সাহিত্যে গত বছর দুয়েক ধরেই দেদীপ্যমান। তথ্য ও রোমাঞ্চের মেলবন্ধন ঘটিয়ে পাঠককে মুগ্ধ করার ক্ষমতা তিনি রাখেন, এ-কথা সবাই জানেন। কিন্তু সামাজিক গল্প লিখতে বসে সমকালীন চোরাস্রোতের বাঁকেও যে তিনি ভালোবাসার ফুল ফোটাতে পারেন, তার যৎসামান্য পরিচয় পেয়েছিলাম "পনেরো ফোঁটা বৃষ্টিতে" নামক গল্প-সংকলনটি পড়তে গিয়ে। সেই দক্ষতারই বিস্তৃততর পরিচয় পাওয়া গেল এই চমৎকার উপন্যাসে। কী নিয়ে এই বই? দিওতিমা বিশ্বাস নামে একটি মেয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করল আদালতে। তার দাবি, নারী এবং অব্রাহ্মণও যেন যোগ্যতার ভিত্তিতে দুর্গাপূজা তথা অন্যান্য পূজার অধিকার পায়। স্বাভাবিকভাবেই দিওতিমা'র ওপর নেমে এল হাজার রকম আক্রমণ। তাদের নেতৃত্ব দিল অল বেঙ্গল পুরোহিত অ্যাসোসিয়েশনের কিছু লোক। কিন্তু এরই মাঝে, দৈত্যকুলে জাত প্রহ্লাদের মতোই উঠে দাঁড়াল সেই অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানের ছেলে। শান্ত, ভদ্র, এমনিতে নির্বিরোধী কিন্তু অন্যায়ের প্রতিবাদী মঙ্গলরূপ ভট্টাচার্য ভালোবেসে ফেলল দিওতিমাকেই! তারপর কী হল? দিওতিমা কি সব বাধা পেরিয়ে আদায় করে নিতে পারল এই অধিকার? জন্মে নয়, কর্মে ব্রাহ্মণত্বের এই দাবি কি স্বীকৃতি পেল? এই ছোট্ট উপন্যাসটি বরং পড়েই ফেলুন। বেশি সময় লাগবে না। স্বচ্ছন্দ নির্ভার গদ্য, স্পষ্ট ও বলিষ্ঠ আঁচড়ে আঁকা চরিত্র, ধারণার সংঘাত থেক প্রেম, ভুল-বোঝাবুঝি থেকে বেদের সুক্ত... সব মিলিয়ে কখন যে দিওতিমা'র কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আপনিও হাঁটতে শুরু করবেন, টেরই পাবেন না। সৌজন্যের প্রচ্ছদের ছবিটি দৃষ্টিনন্দন হলেও কাহিনিতে বর্ণিত চরিত্রদের সঙ্গে একেবারেই মানায় না। বইটার দামও আকার-আয়তন অনুপাতে কিছু বেশি। এ-বাদে এর বিরুদ্ধে বিশেষ কিছু বলার নেই। পাঠ শুভ হোক।
দেবরতি আপা আস্তে আস্তে প্রিয় হয়ে উঠছেন। তবে তার তৈরি নারী চরিত্র সকল একইরকম। এই কথাখান আবার খুব দ্রুত বলে ফেললাম কিনা জানিনা। বইই পড়েছি আপার মাত্র দুই খান।
মোটা দাগে একে প্রেমের উপন্যাস বললেও আমার কাছে উপন্যাসটিকে গতানুগতিক একপেশে প্রেমের উপন্যাস বলে মনে হয় নি একদমই । নির্ভার গদ্যটি সামাজিক বার্তাবহ একটি উপন্যাস বলেই মনে হয়েছে । সহজ বাচনভঙ্গি, ঝরঝরে প্রাঞ্জল ভাষা তবুও বলিষ্ঠ একটা আমেজ । তথ্য ও রোমাঞ্চের মেলবন্ধনে উনার লেখা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী । প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক এর নামে উপন্যাসের মুখ্য চরিত্রের নাম, "দিওতিমা" । দার্শনিক দিওতিমা ছিলেন সক্রেটিসের শিক্ষক, আর আমাদের দিওতিমা কলকাতার সাধারণ একটি মেয়ে । সাধারণ হয়েও সে অসামান্যা অনন্যা তার ব্যক্তিত্ব এবং মনোবলের কারণে । পশ্চিমবঙ্গে নারী পুরুষ এবং বর্ণ নির্বিশেষে পৌরহিত্যের অধিকার নিয়ে লড়াই করে দিওতিমা । বাবাহীন সংসারে মা মেয়ের অনেক সংগ্রামের পরে ছোটখাটো সরকারি চাকরি করা দিওতিমা সরস্বতী পূজার মণ্ডপে ভুয়ো ধর্মব্যবসায়ী দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার পরে পুরোহিতদের সম্মান আদায়ে সোচ্চার হয় । জনস্বার্থ মামলা করে পুরোহিতদেরকে পরীক্ষা দিয়ে নিজেদেরকে যোগ্য প্রমাণ করে তোলার আবেদন করে । কিন্ত বাদ সাধে সনাতনী সমাজ এবং পুরুষতান্ত্রিকতা । পদে পদে দমিয়ে রাখতে চায় দিওতিমা'কে । বাইরে থেকে শুরু করে নিজের ঘরেও তীব্র বাধার সম্মুখীন হলেও থেমে যায় না দিওতিমা । চেনা কলকাতা থেকে দূর দার্জিলিং পর্যন্ত সে তার লড়াই চালিয়ে যায় । প্রেমের উপন্যাসের দিক থেকে গল্পটা বেশ চেনা । বোকা একটা ছেলের সাথে রণরঙ্গিনীর প্রেম । কিন্ত যেভাবে স্বাভাবিক ছন্দে বাস্তবধর্মী ভাবে গল্পটা এগিয়ে গেছে, তাতে করে মোটেও জোলো জোলো প্রেম কাহিনি বলে বিরক্ত হবেন না পাঠকরা একটুও । গল্পে ফিকশনের সাথে মিলে গেছে প্রাত্যহিক জীবনের ছোটখাটো ব্যাপার । ভেজা গামছায় লেগে থাকা জল কিভাবে শখের টবে লাগানো গাছকে সজীব সুন্দর করে তুলতে পারে - এই দৃশ্যটা আমার বেশ মনে ধরেছিলো । এছাড়াও মা দুর্গার পুজোতে পৌরহিত্য করতে চাওয়া দিওতিমা বিশ্বাসের সাথে অসুর রুপে সমাজের লড়াই বেশ উপভোগ্য ! বইটির মূল ধারণার সাথে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের প্রযোজনা সংস্থা উইন্ডোজ থেকে নির্মিত অরিত্র মুখার্জীর সিনেমা "ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি" এর অনেক সাদৃশ্য রয়েছে । বিষয়টি নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে এবং এখনো শেষ পর্যন্ত কোন সমাধান আসে নি । বইটির মূল গল্প নিয়ে কিছু পাঠকও আপত্তি তুলেছিলেন অব্রাহ্মণ এবং মেয়েদের পৌরহিত্য করা নিয়ে । কিন্ত বইয়ের ভেতরেই সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আছে । লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় সাধারণত থ্রিলার উপন্যাস লিখলেও নিটোল প্রেমের এই উপন্যাসটিতেও তার লেখনীশৈলীর নিপুণতা দেখিয়েছেন । সব বিতর্ক ভুলে বইটির রস আস্বাদনে যেকোন রকমের পাঠকের মনই তৃপ্ত হবে !
যে লেখকের থ্রিলার পড়তেই অভ্যস্ত মানুষ, তাঁর প্রেমের উপন্যাস কেমন হবে তা নিয়ে কৌতূহল ছিলই। রহস্যরোমাঞ্চ লেখকেরা সাধারণত খুনসুটি বা রোম্যান্স ফুটিয়ে তুলতে ছড়িয়েই ফেলেন। সেই কৌতূহল থেকেই ReadBengaliBook.com এ প্রি বুক করেছিলাম দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের দিওতিমা। বোম্বেতে বসে তিনদিনের মাথায় পেয়েও গেলাম বেশ। সুন্দর হার্ডকভার। প্রচ্ছদ অসামান্য। সাথে উপরি পাওনা লেখিকার স্বহস্তে লেখা একটি চিঠি।
এবার আসি দিওতিমা-র কথায়।
#সারসংক্ষেপ ( বইয়ের ব্যাক কভার থেকে) : উত্তরপাড়া সংলগ্ন নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে দিওতিমা। জীবনযুদ্ধে প্রতিনিয়ত সংগ্রামের মাঝেও ছোট থেকে তার ইচ্ছে, অব্রাহ্মণ এবং নারী হয়েও দুর্গাপুজোয় পৌরোহিত্য করবে সে। শাস্ত্রে সে পারদর্শী হওয়া সত্বেও নখদাঁত বের করে রে রে করে তেড়ে আসে সনাতনী সমাজ। অন্যদিকে হাওড়ার বিখ্যাত বনেদী ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান মঙ্গলরূপ। নম্র, ভদ্র। নিজের পরিবারের সবাই যখন ঝাঁপিয়ে পড়েছে দিওতিমার ক্ষতিসাধনে, সে কি যুগ যুগ ধরে বয়ে আসা নিয়মের হাত ধরবে নাকি তুলে আনবে সমাজের আসল রূপ?
#প্রতিক্রিয়া : উপন্যাসে মিষ্টি প্রেম, খুনসুটি এবং ভাল লাগা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখিকা। সাথে এই আধুনিক সমাজেও আমরা কিভাবে চেতনে অবচেতনে বয়ে নিয়ে চলছি পুরুষতান্ত্রিকতার বীজ, তাও মনে প্রশ্ন জাগায়। দিওতিমার পুজো করার সিদ্ধান্তে রে রে করে আসা অধুনা মহিষাসুরের দল রাজনৈতিক নেতা অরূপ কাঞ্জিলাল, ঝন্টু বা বসন্ত ভট্টাচার্য যেন সেই বৈষম্য -রই প্রতিভূ। অন্যদিকে ছবি বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরিত্রটা যেন মূর্ত হয়ে উঠেছে স্বচ্ছতার ঔজ্জল্যে। মঙ্গলরূপ আর দিওতিমার নিজেদের জীবনযাত্রা, বাবা-মা, বনেদী পরিবারের বংশকৌলীন্য, বিনি আর তার বিয়ের ব্যাপার, সব মিলিয়ে এত আমুদে ( এই শব্দটাই পারফেক্ট মনে হল) ভঙ্গীতে তরতরিয়ে উ���ন্যাসটা এগিয়েছে, আপনি বুঝতেই পারবেন না কখন ব্যস্ত হাওড়া ব্রিজ থেকে চলে গেছেন কালিম্পং এর তিস্তা নদীর করোনেশন ব্রিজে।
আরো একটা ব্যাপার,প্রেমের উপন্যাসের নামে আজকাল যা লেখা হচ্ছে, সবেতেই যৌনতার ছড়াছড়ি, অনাবশ্যক পরকীয়া, সিরিয়াল মার্কা বিছানাপর্ব। দিওতিমা-তে যৌনতা তো দূর, একটা চুমু বা আলিঙ্গন অবধি নেই। না, আমি প্রাসঙ্গিক যৌনতা লেখার বিপক্ষে নই, কিন্তু প্যাঁচপয়জার এড়িয়ে নিটোল একটা সুন্দর প্রেমের গল্প ( সব বয়সের জন্য), তার চার্ম আলাদা। এইট নাইনের ছেলেমেয়েরাও স্বচ্ছন্দে পড়তে পারে বইটি। নিজেরও মনে পড়ে যায় প্রথমজীবনের ভাললাগাগুলোর কথা।
পরিশেষে বলব, দুর্গাপুজোর আমেজে আরো হাজার পুজোসংখ্যার ভিড়ে না হারিয়ে পড়ে ফেলুন এই স্লিম কিউট উপন্যাসটি। নেই কোন তথ্যের ভার, নেই কোন জ্ঞানভাণ্ডার, থেকে যাবে এক ছিমছাম ভাললাগা।
দেবারতির এই গ্রন্থটির গদ্য তার অন্য লেখা থেকে অনেকটাই আলাদা। বিশেষ করে ওর বইয়ে কর্পোরেট লাইফের একটা বড় অধ্যায় থাকে যা আমার কেন যেন ভালোই লাগে না। এই বইটা সেইসব বই থেকে আলাদা।
বইটা সম্পর্কে অনেক কিছু বলার আছে। বলা শুরু করি। একটা relatable কেবলাচরণের সাথে রণরঙ্গিনির প্রেমের গল্প হিসেবে দেখলে বেশ ভালো গল্প। কিন্তু গল্পের প্লটটা একদম খেলো। ধর্মের মধ্যে যুক্তি খুঁজতে যাওয়া যদি কারোর বৈপ্লবিক চিন্তা মনে হয় তাহলে তার থেকে বড় বোকা কেউ নেই। গল্পের প্লট হল - নায়িকা পুরোহিতদের একটা এলিজিবলিটি টেস্ট প্রচলন করতে চান। লিঙ্গ- ধর্ম- বর্ন নির্বিশেষে সবাই যাতে পুজো করতে পারে। 😂😂 মানে কুসংস্কার শুধু একটা জাতির একটা লিঙ্গ কেন ছড়াবে, চল আমরা সবাই মিলে লেগে পড়ি। 😂😂
যাই হোক এই অন্তঃসারশূন্য প্লটটা কে বাদ দিলে যা পরে থাকে তা অনেকটাই বেশ ভালো জিনিস।
এই যেমন রাজনীতি কিভাবে মানুষের পিছনে লাগে, একা মানুষের যুদ্ধ করা কী কষ্টকর, কত বিপত্তি তাকে সহ্য করতে হয় - তার এত সুন্দর representation দিয়েছেন। অতুলনীয় লেখার ক্ষমতা।
আর আছে এই দুষ্টু মিষ্টি প্রেমটা। গল্পের শেষ দিকে এটাই কেন্দ্রে থেকেছে। যুদ্ধ জাস্ট অন্যদিকে চলছে। এবং তাতে জয় ঘোষণা হল তাও এদের অনুপস্থিতিতে। এই জন্য বেশ ভালো লেগেছে।
সব মিলিয়ে বলব প্লটটা কে পাতের শুরুর নিম-বেগুনভাজার মত গিলে নামিয়ে ফেলতে পারলে বাকি বইতে রধবল্লভি, আলুর দম, পায়েস, চাটনি সবই সুন্দর ভাবে রান্না করা পাবেন। উপভোগ করুন। 🥰🥰
✨📖উপন্যাসের নাম - দিওতিমা📖✨ ✍️লেখিকা - দেবারতি মুখোপাধ্যায়
💫📚উত্তরপাড়া সংলগ্ন নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে দিওতিমা । জীবনযুদ্ধে প্রতিনিয়ত সংগ্রামের মাঝেও ছোট থেকে তার ইচ্ছে , অব্রাহ্মণ এবং নারী হয়েও দুর্গাপুজোয় পৌরোহিত্য করবে সে । শাস্ত্রে সে পারদর্শী হওয়া সত্ত্বেও নখদাঁত বের করে রে রে করে তেড়ে আসে সনাতনী সমাজ । অন্যদিকে হাওড়ার বিখ্যাত বনেদী ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান মঙ্গলরূপ । নম্র , ভদ্র । নিজের পরিবারের সবাই যখন ঝাঁপিয়ে পড়েছে দিওতিমার ক্ষতিসাধনে , সে কি যুগ যুগ ধরে বয়ে আসা নিয়মের হাত ধরবে নাকি যুক্তিতে ছানবিন করে তুলে আনবে সমাজের আসল রূপ ? বৈদিক যুগ থেকে কলিযুগ , সমাজে নারীর ক্রমঅধঃপতন কি আদৌ সভ্যতার অগ্রগতির পরিচায়ক ?📚💫
✨আজকের এই শ্রমসমতার যুগে কেন শুধু ব্রাহ্মণরাই পুজো করবেন ? কেন পুজোয় পৌরোহিত্যের ক্ষমতা শুধু পুরুষদেরই হাতে ? ভেবে দেখেছেন কখনো ? তবে আজও কি বর্ণাশ্রমের বীজ লুকিয়ে আছে আমাদের মনের ভেতরে ? জানেন কি , বৈদিক যুগে নারীদেরও উপনয়ন হত ? যা ধীরে ধীরে খর্ব করা হয়েছে পুরুষতান্ত্রিক অপভ্রংশে ? কী হবে যদি কোনো সুযোগ্যা তরুণী অব্রাহ্মণ , তায় নারী হিসেবে পৌরোহিত্য করতে চান এই যুগের দুর্গাপুজোয় ? আমাদের সমাজ কি মেনে নেবে তাঁকে ? সাদরে বসাবে শ্রদ্ধাসনে ? নাকি রে রে করে তেড়ে আসবে সনাতনী নিয়মের ভয় দেখিয়ে ? এমনই এক ব্যতিক্রমী কাহিনী নিয়ে দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের এই প্রেমের উপন্যাস দিওতিমা । রয়েছে দিওতিমা আর মঙ্গলরূপের এক মিষ্টি প্রেমকাহিনী , রয়েছে পুজোর গন্ধ মাখা শিউলি ফুল , ঢাকের কাঠি , আর্মেনিয়ান ঘাট আর হলুদ ট্যাক্সি । রয়েছে উত্তরবঙ্গ , পাহাড়ভেজা বৃষ্টি , মন ভাল করা আমেজ ।✨
পৌরোহিত্য যে শুধুমাত্র পিতৃদত্ত অধিকার আর ব্রাহ্মণ হলেই করা যাবে না, ধর্ম, বর্ণ এমনকি লিঙ্গ নির্বিশেষে সবাই করতে পারবেন তাই নিয়েই দিওতিমা অর্থাৎ গল্পের নায়িকা একটি জনস্বার্থ মামলায় আপিল করেন। সেখানে রীতিমতো একটি পরীক্ষায় পাস করে, ইন্টারভিউ দিয়ে তবেই পৌরোহিত্য করার লাইসেন্স পাওয়া যাবে। ছোট থেকেই ছবিদাদুর কাছ থেকে মন্ত্র শিখে, শাস্ত্র বিষয়ক বিভিন্ন বই পড়ে পুজো করার ইচ্ছা তার মধ্যে জেগে ওঠে। আর এখান থেকেই শুরু হয় তার লড়াই। বিরোধী দলের লোকজন ওরফে অল বেঙ্গল পুরোহিত এসোসিয়েশন এই কেস তুলে নেওয়ার জন্য দিওতিমা কে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করতে থাকে। মানসিক অত্যাচার, পার্টির গুন্ডা দের দিয়ে রাস্তাঘাটে তার সাথে অশালীন আচরণ করা , পার্টির প্রভাবশালী লোক খাটিয়ে সুদূর দার্জিলিং এ নায়িকার ট্রান্সফার, এমনকি দিওতিমা র উকিলের বাড়িতে হামলা করা কিছুই বাদ যায় না। এর মধ্যেই রয়েছে আবার দুস্টু মিষ্টি একটি প্রেম ও। নায়ক হলো স্বয়ং পুরোহিত এসোসিয়েশন র প্রধান বসন্ত ভট্টাচার্য র পুত্র মঙ্গলরূপ 😁। নায়িকা যেমন একদিকে জেদি,একগুঁয়ে, নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি অবিচল। আবার নায়ক হলো ঠিক বিপরীত মেরু। যে নিজের স্বাধীন মতামত টুকু রাখতে পর্যন্ত ভয় পায় অপরপক্ষের খারাপ লাগবে ভেবে। দার্জিলিং এ গিয়ে আবার এদের মোলাকাত হয় এবং তাদের কথাবার্তা আরো এগোয়। শেষপর্যন্ত এই কেসে আদেও কি দিওতিমা জয়ী হয়, এবং এই ঘটনায় পুরোহিত এসোসিয়েশনের উপরেই বা কি প্রভাব পড়ে তাই হলো দেখার।
উপন্যাসের মূল চরিত্র দিওতিমা বিশ্বাস। দিওতিমা নামটি আসলে এক গ্রীক মহিলা দার্শনিকের যিনি সক্রেটিসের গুরু ছিলেন। দিওতিমা এক অব্রাহ্মণ নারী যে সংকল্প করে বসে পৌরহিত্য করার এবং আরো দাবী করেন যে পুজো করার অধিকার তিনিই পাবেন যিনি পৈতৃক সূত্রে নয় চরিত্রে ও মননে ব্রাহ্মণ হবেন। তার জন্য সকল পুরোহিত বা পৌরহিত্যে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য এমন এক পরীক্ষা চালু হোক যাতে প্রকৃত ব্রাহ্মণ বেছে নেওয়া সম্ভব। তিনি প্রশ্ন করেন... আজও কি বর্ণাশ্রমের বীজ লুকিয়ে আছে আমাদের মনের ভেতরে? তার এই সংকল্প থেকেই সমাজে শুরু হয় প্��বল আলোড়ন এবং তার মূল বিরোধ বাধে অল বেঙ্গল পুরোহিত অ্যাসোশিয়েশনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। এরপর বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে এগিয়ে চলে দিওতিমার লড়াই এবং তার সঙ্গী হয় প্রেসিডেন্টের ছেলে মঙ্গলরূপ। দিওতিমার মধ্যে দিয়ে লেখিকা সমাজে বহুযুগ ধরে চলে আসা ব্রাহ্মণ্যতন্ত্রের অবসান ঘটাতে চেয়েছেন আর শুধুমাত্র তাই নয় তিনি আরো বলেছেন উপন্যাসে যে শুধু পিতৃকূল দ্বারাই কখনো ব্রাহ্মণ বা অব্রাহ্মণ বিচার করা উচিত নয়। প্রকৃত ব্রাহ্মণ তিনিই যিনি দেহে-মনে আচার-ব্যবহার সবদিক থেকে ব্রাহ্মণ। উপন্যাসে উঠে এসেছে দিওতিমা আর মঙ্গলরূপের এক মিষ্টি প্রেমকাহিনী, রয়েছে পুজোর গন্ধ মাখা শিউলি ফুল, ঢাকের কাঠি, আর্মেনিয়ান ঘাট আর হলুদ ট্যাক্সি আর আছে উত্তরবঙ্গ, পাহাড়ভেজা বৃষ্টি, সাথে ভালোবাসা। কি হবে শেষ পর্যন্ত? - দিওতিমা কি পারবে নারী হিসেবে পৌরোহিত্য করতে দুর্গাপুজোয়? সনাতনী নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে দিওতিমা কি পারবে তার দাবী প্রতিষ্ঠিত করতে? জানতে হলে পড়তে হবে এই উপন্যাসটি।
শ্রদ্ধেয় দেবারতি দিদি, আমার প্রনাম নেবেন।এইমাত্র আপনার লেখা "দিওতিমা" উপন্যাসটি পড়ে শেষ করলাম। একসাথে এত গুলি বিষয়ের একসাথে এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন সত্যি আমায় দারুন মুগদ্ধ করলো। একদিকে দিওটিমা র সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ওঠার গল্প, অন্য দিকে সমাজের গোঁড়ামি ভেঙে নতুন এক যুগ সৃষ্টি , সমাজের সেই বিকট কুৎসিৎ ভয়ঙ্কর সত্য রূপ উপস্থপন সাথে সমাজের শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পড়া রাজনীতির কুটিল ছবি এক জ্বলন্ত রূপ পেলাম এই উপন্যাস পথে। সাথে প্রেমের মিষ্টি ছোঁয়া লাগানো ও কলকাতার তথা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস এবং সংস্কৃতির এক মধুর মিলন যেন এক অন্য মাত্রা পেলাম এই উপন্যাসে।আমাদের মতো সাহিত্য প্রেমী পাঠককুলকে এত সুন্দর এক উপন্যাস উপহার স্বরূপ দেওয়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনার কাছে এই ধরণের আরো উপন্যাস পাওয়ার আবদার রইলো। আপনার আগামী লেখা গুলির অপেক্ষায় রইলাম।
"লক্ষ্য, গন্তব্য ঠিকমত না জেনেই শেষ নিঃশ্বাস অবধি ছুটে চলা এক অনির্দিষ্ট অভিমুখে, এরই নাম জীবন। এরই নাম সংগ্রাম।" - Debarati Mukhopadhyay, দিওতিমা
জাত-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ সবকিছুর ঊর্ধ্বে যোগ্যতা, জ্ঞান আর প্রতিভাই হোক পৌরোহিত্য অর্জন করে নেওয়ার সোপান - এই নিয়েই প্রিয় লেখিকার প্রিয় বই। একটা লড়াইয়ের গল্প - যোগ্যতার ভিত্তিতে সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। স্রোতের বিরুদ্ধে এগিয়ে চলা মানুষের সামনে সমাজ কী ভাবে প্রতিকূলতার পাহাড় চাপিয়ে দেয়, তার খুঁটিনাটি বর্ণনা আছে এই বইতে। মাথা উঁচু করে শিরদাঁড়া সোজা রেখে এগিয়ে চলা। অব্রাহ্মণ ও নারী হয়েও পুজোয় পৌরোহিত্য করার প্রেক্ষাপটে এই মিষ্টি প্রেমের উপন্যাস। একটা শ্রেণীহীন, লিঙ্গ-বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়ে দিলেন দিদি কী অনায়াস দক্ষতায়! অপার মুগ্ধতা। ভালো থাকুন, লিখতে থাকুন।
Arek ber dhonnobad janate chole elm... Ato din apner rudro priyom series porechi r nilambarer khide er moto horor porechilm, egulo pore to mugdho hyechilm e... aaj akhn ei boi ta pore ses korlm...eta akdm e onno dhoroner ekti boi...apner onno boi gulor thk akdm different akta bisoy... Prem bisoy tak ato sundor vabe dekhiechen j mugdho na hye parini... godo godo kore prem er line er poriborte simple othocho sundor kore likhechen... Khub valo legeche.... Pourohitter bisoy tao khub strong akta point.. Khub valo legeche... Sokol k porar onurodh roilo.... R apni ei vabei likge jan... Safoller uccho shikhore pouchon ei kamona kori... I jst ❤ ur books mam....
ভালোই লাগলো। 'ফিল গুড' বই। ট্রেনে বা বাসে যাত্রা করতে করতে সময় কাটানোর জন্য এই বইটা ধরতেই পারেন। লেখিকার লেখার মূল বৈশিষ্ট্য, ওনার লেখনীর মাধ্যমে উনি পাঠককে আটকে রাখতে জানেন। একঘেয়েমির জায়গাই নেই ওনার লেখায়, বিষয়বস্তু যাই-ই হোক না কেন। এই ব্যাপারটা খুব ভালো লাগে। আপনি চোখ বন্ধ করে ওনার যেকোনো বই নিয়ে পড়া শুরু করে দিতে পারেন। রেটিং একটু কম দেওয়ার কারণ, বইটা এত তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হলো। স্বচ্ছন্দে এটাকে ২৫০ পাতায় নিয়ে যাওয়া যেত। যাই হোক। আর প্রচ্ছদে ওগুলো কাদের ছবি? ছবির সাথে চরিত্রগুলির বিবরণের কোনো মিল নেই।
এই বইটা আমার পড়া দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের প্রথম বই। বইটা স্থানীয় বইমেলায় কিনে ফেলেই রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম নিছক কোন প্রেমের গল্প। তখনো আমার নতুন লেখকদের সম্বন্ধে কোন ধারনা ছিল না। কয়েক পাতা পড়ার পরেও আমার মনোভাব বদলায় নি। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রায় জোর করে বইটা পড়তে আরম্ভ করি। আর ব্রাহ্মন অব্রাহ্মন ব্যাপারটা এ যুগের নিরিখে আমার ক্লিশে মনে হতো। কিন্তু যখন বইটা শেষ হয় তখন একটা অদ্ভুত ভালো লাগায় মনটা ভরে যায়। লেখিকা আমার দেখার দৃষ্টিটাই বদলে দেয়।
এই বইটি ও কদিন আগে পড়ে ফেলেছি কিন্তু সময়ে অভাবে পাঠ প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি । বর্তমান বাংলা থ্রিলার কাহিনি লেখার ক্ষেত্রে লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় যে অন্যতম নাম সেটা আমরা সবাই জানি কিন্তু মিষ্টি প্রেমের কাহিনি লেখার ক্ষেত্রে ও যে তিনি সমান সচ্ছন্দ তা এ কাহিনি না পড়লে জানতে পারতাম না । লেখিকার যে দিকটা আমার সবচে ভালো লাগে তা হলো ওনার লেখার বিষয় বৈচিত্র , এই উপন্যাসটি ও তার ব্যতিক্রম নয় । এই কাহিনি আর পাঁচটা সহজ সরল মিষ্টি প্রেমের কাহিনির মত নয় এর মধ্যে দিয়ে লেখিকা বর্তমান সমাজে নারী পুরুষের সমান অধিকারে কথা বলেছেন , সেই সাথে বলতে চেয়েছেন বংশগত কৌলিন্যে নয় যে কোনো কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা কেই মাপকাঠি করা উচিৎ যা বর্তমান সমাজে অনেক ক্ষেত্রে মানা হয় না । এই গল্পের প্রধান চরিত্র দিওতিমা তার সামান্য ক্ষমতা নিয়ে ও সমাজের এই অন্যায় গুলো বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে তাই তাকে আটকাতে কখনো রাজনৈতিক দাদারা তার পেছনে গুন্ডা লেলিয়ে দিয়েছে কখনো বা তাদের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে চাকরি ক্ষেত্রে অন্যায় ভাবে দূরে বদলি করে দিয়েছে তবু দিওতিমা কারো কাছে মাথা নত করেনি । অপর দিকে এই গল্পের আরেক চরিত্র ভদ্র নরম মঙ্গলরূপ যে কিনা কখন কারোর মুখের উপর না বলতে পারে না যাকে বাবা থেকে বাড়ির সবাই দাবিয়ে রাখে সেও দিওতিমার সাথে আলাপের পর ধীরে ধীরে পাল্টে যায় এবং এক সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখে ।