‘ইতু বৌদির ঘর’ উপন্যাসটির পটকেন্দ্র ‘সেন নিবাস’ বাড়ি। মনোজগতের আলো-আঁধারি এবং মন বিনিময় এখানেই শুরু। উত্তমপুরুষ বুলবুল চৌধুরী-চরিত্রে তাই ভিন্ন ধারা পরিলক্ষিত। কারণ লেখক হয়ে ওঠার তীব্র আকাক্সক্ষায় তিনি গোপন করেননি নিজেকে। অবলোকন করেন নির্লিপ্ততায় লেখক শেখ আবুল রায়হান ওমরকে। কেন আত্মহননই তার জরুরি ছিল! পাশাপাশি দেখা হয় ‘সেন নিবাসে’র উত্তরসূরি দেবাশীষকে, যে ভালোবাসার মেয়ে মিতুয়ারী দাসকে নিয়ে পালাতে গিয়ে মাঝপথে পৌঁছে দেখে ‘ভুল-মানুষ’ উঠে এসেছে গাড়িতে। এ যে প্রেমিকার যমজ বোন ইতুয়ারী দাস।
বদলে যেতে থাকে দেবাশীষ। তাই ‘সেন নিবাসের’র পুত্রবধূ হিসেবে ইতু স্বীকৃতি ও মর্যাদা পেলেও না-পাওয়ার হাহাকার নিয়ত দীর্ঘ হয়। সমাজপুরুষ ও পরমপুরুষ দ্বন্দ্ব তার মধ্যে জায়মান। তবু অবচেতন সে সাধন করতে চায় উত্তমপুরুষের হৃদয়। সরল স্বীকারোক্তিও অসামান্য কালো ওই বউটির কণ্ঠে, ‘পরজনমে তোমাকে চিনবো কেমনে বুলবুলদা?’