কলকাতা থেকে অনেক দূরে এক ছোট শহর। চোদ্দ পনের বছর আগে এক ভদ্রলোক এসে এখানে নামমাত্র মূল্য দিয়ে এক বিঘা জমি কিনে একজন ঠিকাদারকে বাংলো তৈরির প্ল্যান ও অর্থ দিয়ে আবার কলকাতায় ফিরে যান। বাংলো একসময় তৈরি হলেও বাংলোর মালিক বাংলো তে আসলেন না। এরকম অনেকদিন কেটে যাওয়ার পর একসময় মালিক আসলেন এবং এসেই একটা হৈচৈ বাধিয়ে দিলেন। আমন্ত্রণ জানাতে লাগলেন শহরের প্রবীন বুদ্ধিজীবিদের । সুতরাং ঐ বাংলো ই ওদের একটা আস্তানা হয়ে গেলো। যারাই আসে তাদের মনে একটা বিষয়ে কৌতূহল জাগে। বাড়ির যে মালিক সে তো পুরুষ তাহলে বাড়ির নাম মহিলার নামে কেন? এই মহিলাকে তো কখনো দেখা যায় নি। কে এই মহিলা?
দেবেশ রায়ের জন্ম ১৯৩৬ সালে অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পাবনা জেলার বাগমারা গ্রামে। ১৯৪৩ সালে তাঁর পরিবার জলপাইগুড়ি চলে আসেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার সময় প্রত্যক্ষ বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। রাজনীতির সূত্রে শিখেছিলেন রাজবংশী ভাষা। কলকাতা শহরেও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সে একজন গবেষণা সহকর্মী ছিলেন। তাঁর প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে জলার্ক পত্রিকায়। প্রথম উপন্যাস ‘যযাতি’। ১৯৭৯ সাল থেকে তিনি এক দশক পরিচয় পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ১৯৯০ সালে ‘তিস্তাপারের বৃত্তান্ত’ উপন্যাসের জন্যে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ২০২০ সালে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে দেবেশ রায়ের জীবনাবসান হয়।