একজন মুসলমানের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু হলো তার ঈমান। আর এই ঈমান আমাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায় বা পরিস্থিতিতে এমনকি প্রতিদিনের নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের উপর বাড়ে বা কমে। আবার অনেকে এক পর্যায়ে গিয়ে ঈমান হারাও হয়ে যায়। এটাই আমাদের আক্বিদা। ঈমান কোনো স্থীর জিনিস নয়। এর পরিচর্যা করতে হয়, সংরক্ষণ করতে হয়।
এই চমৎকার ছোট্ট বইটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান এই সম্পদটি নিয়েই লিখা। বইটি লেখক তিন ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথম ভাগের নাম দুর্বল ঈমানের বহিঃপ্রকাশ। এতে আলোচনা করা হয়েছে নিজের মধ্যে কি কি বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেলে বুঝতে হবে যে বিপদ ঘণ্টা বেজে গেছে অর্থাৎ ঈমানের অবস্থা দুর্বল। এ বৈশিষ্ট্য গুলোর মধ্যে আছে হারাম কাজে নিমজ্জিত হওয়া, অন্তঃকরণে কাঠিণ্যতা অনুভব করা, ভালোভাবে ইবাদত না করে,মেজাজের ভারসাম্যহীনতা,কৃপণতা,মুসলমানদের সমস্যার ব্যাপারে গুরুত্ব না দেয়া ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্যগুলি অতি সংক্ষেপে ও সহজ ভাষায় কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথায় অলোচনা করা হয়েছে। যার মধ্যে ভাববার অনেক বিষয় আছে।
দ্বিতীয় ভাগে আছে ঈমানের দুর্বলতার কারণসমূহ। এখানে মোট আটটি কারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।যেমন-ঈমানী পরিবেশ থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকা,সৎ ও অনুকরণযোগ্য ব্যক্তি থেকে দূরে থাকা,শরীয়তের জ্ঞান ও ঈমানী বইপত্র থেকে দূরে থাকা,গুনাহগারদের মাঝে অবস্থান করা এবং এরকম আরো চারটি।
তৃতীয় ভাগে আছে দুর্বল ঈমানের চিকিৎসা করার কিছু উপয়ায়ের উপর আলোচনা। যেমন-কুরআন মাজীদ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা, মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর বড়ত্ব অনুভব করা, শরীয়তের জ্ঞান অর্জন করা, সর্বদা আল্লাহর যিকির,সর্বদা দুআ করা,কামনা-বাসনা কম করা, দুনিয়াকে নগন্য মনে করা, মুমিনদের সাথে সম্পর্ক গড়া ও কাফিরদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা ইত্যাদি।
বইটি সকলের জন্য অবশ্যপাঠ্য বলে আমি মনে করে। বইটি সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পড়া উচিত। আমার মতো দ্রুতগতিতে না। কেননা বইটির প্রতিটি বাক্যে প্রচুর চিন্তার খোরাক আছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন। আল্লাহ সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন।বিশেষ করে শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদকে এবং জালিমদের হাত থেকে মুক্তি দান করুন।
আমাদের ইমান খুব বেশি উঠা নামা করে। এইটাই স্বাভাবিক। তাই ইমান বৃদ্ধি করে এমন কাজে নিজেদের আবৃত করতে হবে। এই বইকে লেখক ৩ ভাগে ভাগ করেছেন। ১) ইমান কমার লক্ষণ ২) ইমান কমার কারণ ৩) রোগ সারানোর উপায়। খুউব সাবলীল আনুবাদ। পাঠক হৃদয় দিয়ে পড়লে ইন শা আল্লাহ হৃদয়ে ইমান নাড়া দিয়ে উঠবে। সবার পড়া উচিৎ। বেশ ছোট বই।
এরকম বই পড়লে বই পড়ার উৎসাহ বজায় থাকে। এখানে self-realization এর অনেক elements আছে, যা দিয়ে শুধু ঈমানের দুর্বলতাই না, নিজের ভিতরের কিছু খারাপ গুণও খুঁজে বের করতে পারবেন।
তবে কিছু জায়গায় মনে হয়েছে ব্য়খ্য়া একদম-ই ছোট হয়ে গেছে, যেকারণে কিছু পয়েন্ট আমি খুব ভালোমতো বুঝতে পারিনি।
কিন্তু দুর্বল ঈমান এর চিকিৎসা করার জন্য বইটা খুবই উপযুক্ত, point by point বলা আছে কী কী করতে হবে। Would recommend!
"Imaner Durbolota" is an amazing booklet by Sheikh Munajjid. Personally he is one of my six star rated scholars. The book is normally divided in 3 parts. The Syndromes, the cause and the cures. Some of them directly relate with me. I was really amazed while reading the book and just saying, " Astaghfirullah.. Astaghfirullah.." So I personally recommend this book to everyone to check your Imaam level. On this topic I wanna read another book "Imaam vonger karon", to check my Imaam level all the time, Insha'Allah.
অনেকদিন পর এক বসাতেই বইটা পড়ে শেষ করলাম আলহামদুলিল্লাহ।বইটির নামের ভেতরেই যেন পরিপূর্ণ অর্থ লুকিয়ে আছে।বইটা আমাদের জন্য নসীহা বললেও ভুল হবে না।ঈমান আমাদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ।কিন্তু আমাদের ঈমান স্হির নয়।অনেক বেশি উঠা-নামা করে।এজন্য দরকার ঈমানের পরিশুদ্ধতা।ঈমানের পরিচর্যা করতে হয়,সংরক্ষণ করে রাখতে হয়।পূর্ববর্তীতে কেউ পাপাচারে লিপ্ত হলে অনুশোচনায় ভুগত,বর্তমানে জাহিলিয়াত, ফিতনা-ফ্যাসাদের যুগে মানুষের নেই কোনো অনুশোচনাবোধ।বরং ফিতনাকে যেন সঠিক বলে গ্রহণ করছে।অনেকেই এভাবে এক পর্যায়ে যেয়ে ঈমানহারা হয়ে যায়।এটাই হচ্ছে আক্বিদা।বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ মানুষই ভুগছে ঈমানের দূর্বলতায়।
বইটিকে লেখক ৩ টি ভাগে ভাগ করেছেন।
১.দূর্বল ঈমানের বহিঃপ্রকাশ। এখানে লেখক আলোচনা করেছেন,কি কি বিষয় ঘটলে একজন মানুষ বুঝতে পারবে তার ঈমান দূর্বল।যেমন-পাপাচারে নিমজ্জিত হওয়া এবং হারাম কাজ করা,অন্তঃকরণে কাঠিন্যতা অবুভব করা,ভালোভাবে ইবাদত না করা,ইবাদতে অলসতা,মেজাজে ভারসাম্যহীনতা,দ্বীনের দায়িত্ব পালনে অনীহা,কথা কাজে গরমিল ইত্যাদি।
২.ঈমানের দূর্বলতার কারণসমূহ।এখানে আলোচিত হয়েছে-ঈমানী পরিবেশ থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকা,শরীয়তের জ্ঞান এবং ঈমানী বইপত্র থেকে দূরে থাকা দীর্ঘদিন,গুনাহগারদের মাঝে অবস্থান করা,দুনিয়ার মোহ,ধন-সম্পদ ও স্ত্রী সন্তান নিয়ে মেতে থাকা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
উচ্চাকাঙ্ক্ষার ফলে আমরা আমাদের রবের আনুগত্য ভুলে যাই।আমরা ভুলে যাই-স্হুূল দৃষ্টিভঙ্গি,বেশি বেশি আকাঙ্ক্ষা, দুনিয়ার প্রতি অধিক লালসাই দূর্ভাগ্যের কারণ।ধন-সম্পদের লোভ একজন মানুষকে দ্বীনের পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।রাসূল(সা:) বলেছেন-"প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফিতনা রয়েছে।আর আমার উম্মতের জন্য ফিতনা হলো-ধন-সম্পদ।"
৩.দূর্বল ঈমানের চিকিৎসা। এখানে অনেকগুলো বিষয় আলোচনা করা হয়েছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-কুরআন মাজীদ নিয়ে গবেষণা করা,শরীয়তের জ্ঞান অর্জন করা,বেশি বেশি নেক আমল করা,আল্লাহর বড়ত্ব অনুভব করা,পরকালের কথা স্মরণ করা,মুমিন ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক গড়া,আল্লাহর নিকট সর্বদা দুআ করা ইত্যাদি।এভাবে বিভিন্ন ইবাদত হতে ফায়দা নেওয়া সম্ভব ঈমানের দূর্বলতার চিকিৎসায়।
বইটি ছোট হলেও অধিক তথ্যবহুল।এখানের প্রতিটি কথা নিজের জীবনে প্রয়োগ করলে ঈমানের ভীত্তি আরও বেশি মজবুত হবে।আমাদের প্রতিটা সময় কাজে লাগতে হবে।আল্লাহর দেওয়া নির্দেশ এবং রাসূল(সা:) সুন্নাহ যথাযথ পালন করতে হবে।আল্লাহ প্রতিটি বান্দাকে ঈমানদার হওয়ার তাওফিক দান করুক আমিন🌸
পূর্ববর্তী মুসলিমদের মধ্যে কেউ কোনো অন্যায় অপরাধ করে ফেললে খুব অনুতপ্ত হত এবং নিজেদের সংশোধন করে নেওয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু বর্তমানে ফিতনা-ফাসাদ এত বেড়েছে যে, আজকের অধিকাংশ মানুষই এসব ব্যাপারে অনুভূতিহীন হয়ে উঠেছে। যারা নিজেদের মুমিন-মুসলিম দাবি করে, তাদের অবস্থাই বা কি? কোনো একটি গুনাহ ব্যাপক হচ্ছে তো অনেকেই এটাকে স্বাভাবিক ভাবতে শুরু করে। কেন এমন হচ্ছে? কারণ আজকের অধিকাংশ ঈমানদারই ঈমানের দুর্বলতায় ভুগছে। কোন কোন বিষয়গুলো দুর্বল ঈমানের বহিঃপ্রকাশ? ঈমানের দুর্বলতার কারণ গুলো কি কি? আর এসবের চিকিৎসা কি? এই বিষয়গুলো খুব সুন্দর ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এই বইটিতে।
বইটির কলেবর ছোট হলেও এর প্রতিটি বাক্য গুরুত্বপূর্ণ। অসম্ভব সুন্দর একটি ঈমান জাগানিয়া বই।আমি নিজের মধ্যে পরিবর্তন দেখেছি বইটি পড়ে। ঈমানকে মজবুত করতে এই বইটির কোন বিকল্প নেই।
ঈমান একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর দেয়া সবচেয়ে বড় নিয়ামত। এই নিয়ামত নিয়ে কি আমরা চিন্তা-ফিকির করছি? দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে আমরা আমাদের ধন-সম্পদ, পরিবার, সামাজিক স্টাটাস নিয়ে যেভাবে চিন্তিত সেভাবে ঈমানকে নিয়ে ভাবার সময় হয়ে উঠে না!
লেখক ঈমানের দুর্বলতার লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সংক্ষেণে আলোচনা করেছেন। এই বইটা খুবই যুগোপযোগী। পঠকের একটি মৌলিক বিষয়ে জ্ঞান বাড়বে বই অধ্যয়নের মাধ্যমে।