যখন কোনো মানুষ তাঁর সোশ্যাল (মিডিয়া) অ্যাক্টিভিজম এবং সচেতনতা দিয়ে কিছু মানুষের জীবনে সদর্থক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন, তখন তাঁর ব্যক্তি-জীবনে কী পরিবর্তন আসে?
আগে কী হত জানি না, ফিলহাল...তিনি লেখক হন।
যেমন প্রিয়ম সেনগুপ্ত।
আলোচ্য মুক্তগদ্যের সংকলনটিকে যদি মাপকাঠি ধরি তাহলে মুক্তকণ্ঠে বলি, তাঁর লেখা সহজ, সরস, নির্ভার, এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে গভীরতর চিন্তার উদ্রেককারী।
এও স্বীকার্য যে আলোচ্য সুমুদ্রিত, তৌসিফ হকের অলঙ্করণে সুশোভিত, সর্বার্থে দৃষ্টিনন্দন বইটি দুটি মুদ্রণ সমাপান্তে ঘোষিত বেস্টসেলার।
কিন্তু আমি এখানে পদ্মপাতায় টলটল করা ভোরের শিশিরে রোদের আলোর ঠিকরে যাওয়া ছাড়া কিছু পেলাম না।
ভুল বুঝবেন না। ওই মুহূর্তগুলোয়, যখন প্রিয়মের লেখা প্রথমবার ইজাজত ফিল্মে শোনা গানের গায়ে কাঁটা দেওয়া অনুভূতি ফিরিয়ে আনে, বা সদাগম্ভীর মুখ্যমন্ত্রীর ফটোর সামনে বিরিয়ানির প্লেট রেখে ফটোতে এক চিলতে হাসি আবিষ্কার করা যায়... তখন সত্যিই স্বর্গের নাগাল পাই।
আর তারপরেই শিশিরবিন্দু গড়িয়ে যায়। নিভে যায় আলো। আমি ফিরে আসি সেখানে, যেখানে
"পা থেকে মাথা পর্যন্ত টলমল করে, দেয়ালে দেয়াল, কার্নিশে কার্নিশ,
ফুটপাথ বদল হয় মধ্যরাতে...
সে বড়ো সুখের সময় নয়।"
তাই, এই বই আমার কাছে নশ্বর কিছু মুহূর্তের স্মৃতিবাহী হল শুধু।
ভবিষ্যতে, কোনো এক ঘর্মাক্ত মধ্যরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে কান্না পেলে, আমি লাইটহাউস হিসেবে এই বইটার কাছে ফিরে আসতে পারব না।
তবু, বুকপকেটের নীচে এই বইকে আমি বহন করব।
হয়তো কোনো এক কোলেস্টেরল অধ্যুষিত গ্রন্থি বা দূষণে কাবু ভালভে।
কিন্তু করব। পাক্কা।