চট্টলাস্থ বাতিঘরে গিয়েছিলাম গতকাল। গত মানে মে ১৯, স্বীয় বিবাহবার্ষিকী, প্রথম। বৈবাহিক, সেও বইপড়ুয়া, পরিচয়-ও সেই সুত্রেই, বইবিচিত্রা নামের ঢাকার এক পুস্তক বিপণীতে। লিটারেলি, গ্রন্থাসক্তি সূত্রে পরিণয় যাকে বলা চলে।
উপহার প্রদানের ক্ষেত্রে সেই নীতিই এখনো চলমান, পুস্তক ক্রয় ও বিনিময়। বচ্ছর পেরুনো উপলক্ষে তাইই পেলাম, নিজের পছন্দমাফিক, তার মধ্যে খান দুয়েক আত্মজীবনী। উপন্যাস বা ছোট গল্প ছাপিয়েও যা পড়তে সবচেয়ে ভালবাসি। অবশ্য কবিতার হিসেব এর বাইরে।
রাতেই ফিরব দুজন, ভিন্ন শহরে, যার যার কাজের এবং বাসের জায়গায়, সেই সময়মতো বেরিয়ে পড়তে হলো। ট্রেন স্টেশনে অর্ধাঙ্গকে ছেড়ে এসে বাসকাউন্টারের অপেক্ষাগারে শেষ হয়ে গেল রেবা হোরের, 'আমার কথা, কিছু মিছু'। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী, বেশ কয়েকখানা পেইন্টিংও আছে লেখার শেষে। মন্দ লাগেনি পড়তে, তবে মুগ্ধতা জাগানিয়া কিছু নয়।
যা পড়ে মুগ্ধ, সেটি ক্রীত এবং পঠিত বইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়, সমীর সেনগুপ্তের আত্মজৈবনিক, 'অমল, আমার সময়?' শিরোনামেই প্রশ্নবোধক, যেন প্রশ্ন করেছেন নিজেকেই অথবা যে সময়ে ছিলেন নিজেই। কী ঝরঝরে বাংলা! কতোদিন পর অনামা কিন্তু এমন সুখপাঠ্য কোন গদ্যের খোঁজ পাওয়া গেলো!
সমীর ছিলেন কবিতাভবনভুক্ত, কৃত্তিবাস গোষ্ঠীর সমসাময়িক। সখেদে জানিয়েছেন কবি ছিলেন না, কৃত্তিবাসের কবিরা তাকে সহ্য করে নিতো কেবল দীপক মজুমদার এবং শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের বন্ধু ছিলেন বলে। সেই অমল বন্ধুতার কী চমৎকার স্মৃতিচারণ!
অবশ্য পাতা উল্টে ততটুকু যাবার আগেই বাস ছেড়ে যাবার ঘোষণা আসে। সিটে গুছিয়ে বসে আবার বই মেলে নেই। একসময় আলো নিভিয়ে দেয়া হয়, যতক্ষণ জেগে থাকি, পড়ি সেলফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে।
ভোর পাঁচটায় বাস গন্তব্যে পৌছায়। জনশূন্য রাজপথ ডিঙিয়ে আবাসস্থলে ঢুকে পথযাত্রাজনিত ক্লেদাক্ত পোশাক বদলে আবার বসে যাই বই নিয়ে। হাক্লান্ত ঘুম ঘুম চোখে শেষ করে তবে থামি। ভোরে অফিস যাওয়ার তাড়া, তাও টুকে রাখি দু'কলম।
এতো আগ্রহ জাগানিয়া বই প্রিয় পড়ুয়াদের ধরে ধরে পড়াতে ইচ্ছেই হয়।